কঙ্গনা রানাউত যবে থেকে নেপোটিজ়মের বোমা ফাটিয়েছেন, তবে থেকেই বলিউডকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে এই শব্দটি। কিন্তু তাতে স্টার কিডদের প্রতিপত্তি কমেনি। কী ভাবে তাঁরা সব ছবিতে সুযোগ পাচ্ছেন, সেটা সকলের চোখের সামনে। কিন্তু এর আড়ালেও কিছু গল্প আছে, কিছু সমীকরণ রয়েছে। ছেলেমেয়ের কেরিয়ার তৈরির জন্য বাবা-মা নিজেরাই নেমে পড়েন পিআর করতে। সন্তানকে গ্রুম করেন ইন্ডাস্ট্রির জন্য। কী ভাবে তারকা বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের কেরিয়ার তৈরির জন্য উঠেপড়ে লাগেন, সেই গল্পও বেশ রঙিন!

অভিভাবক যখন পিআর ম্যানেজার

সম্প্রতি মেয়ে আথিয়া শেট্টির ‘মোতিচুর চকনাচুর’ ছবিতে নাক গলানোর জন্য নির্মাতারা আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন সুনীল শেট্টিকে। চিত্রনাট্যে রদবদলের দাবি করেছিলেন সুনীল। কাজে তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি মানতে নারাজ ছিলেন নির্মাতারা। সলমন খানের ক্যাম্পে মেয়ের ডেবিউ নিশ্চিত করেছিলেন সুনীলই। 

এই প্রজন্মের একাধিক তারকার উত্থানে তাঁদের বাবা-মায়ের হাত রয়েছে। অভিভাবকেরাই প্রযোজক-পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন, সন্তানকে পার্টিতে নিয়ে যান। যেমন ধরুন, শুরু থেকেই ঠিক ছিল সারা আলি খান ডেবিউ করবেন কর্ণ জোহরের ক্যাম্পে। কিন্তু সারার মা অমৃতা সিংহের সঙ্গে কর্ণের মতানৈক্য হয়। অমৃতা তখন অন্যান্য প্রযোজকের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করতে শুরু করেন। সারার প্রথম ছবি ‘কেদারনাথ-এর পরিচালক অভিষেক কপূরের সঙ্গে মিটিংগুলো অমৃতা একাই করেছিলেন। 

জাহ্নবী কপূরকে নিজের হাতে গ্রুম করেছিলেন শ্রীদেবী। জাহ্নবীও বলেন, মা কী ভাবে তাঁর স্টাইলিং, পোশাকের খেয়াল রাখতেন। বাবা বনি কপূর প্রযোজক হওয়া সত্ত্বেও জাহ্নবীকে অন্যান্য প্রযোজকের সঙ্গে আলাপ করাতে নিয়ে যেতেন শ্রীদেবী। স্ত্রীর মৃত্যুর পরে সেই দায়িত্ব পালন করছেন বনি। কেরিয়ারের দৌড়ে জাহ্নবীর চেয়ে খানিক এগিয়েই রয়েছেন সারা। সে কারণে সম্প্রতি জাহ্নবীর পাবলিসিটি ম্যানেজারের সঙ্গে বনির নাকি তুমুল বচসা হয়। শ্রীদেবীর ছোট মেয়ে খুশিও ইন্ডাস্ট্রিতে আসবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বনির ওভার পোজ়েসিভনেস নিয়ে মন্তব্য করেন খুশি। ‘‘বাবা এক বার আমার এক বান্ধবীকে ফোন করে বলেন, ‘বেটা তোমার আর খুশির একটা সেলফি পাঠাও আমাকে’। বাবা কার্ফু জারি করে রেখেছেন আমাদের জন্য।’’ সন্তানকে বিতর্ক থেকে দূরে রাখতেই হয়তো বনির এমন আচরণ।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

সম্প্রতি যে ক’জন তারকা সন্তান বলিউডে এসেছেন, তাঁদের অনেকেরই বাবা-মায়ের উমেদারির গল্প শোনা যায়। সূরজ পাঞ্চোলি, টাইগার শ্রফ, অনন্যা পাণ্ডে থেকে একটু পিছন দিকে তাকালে করিশ্মা কপূর, হৃতিক রোশন, সোনম কপূরও রয়েছেন সেই তালিকায়। কপূর পরিবারে মেয়েদের অভিনয় করার প্রথা ছিল না। সেই নিষেধ ভেঙে মেয়ে করিশ্মার জন্য জমি প্রস্তুত করেছিলেন ববিতা। ‘সাওরিয়া’ সোনমের কেরিয়ারে উত্থান ঘটাতে না পারায় অনিল নিজের প্রযোজনা সংস্থা খোলেন। রাকেশ রোশন যেমন নিজেই হৃতিককে লঞ্চ করেছিলেন। ছেলের ছবি নির্বাচনের বিষয়ে যথেষ্ট প্রভাব খাটাতেন বলেও শোনা যায়। মসৃণ ছিল বরুণ ধওয়নের রাস্তাও। স্টার কিড হিসেবে প্রথম পদক্ষেপে আলিয়ার সমস্যা না হলেও, বাবার কোনও সাহায্য তিনি অবশ্য পাননি।

টলিউডের নজির

সন্তানের কেরিয়ারে বাবা-মায়েদের প্রভাবের ঘটনা টলিউডেও আছে। তবে ব্যতিক্রমও দেখা গিয়েছে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় স্টার কিড হলেও তিনি বাবা বিশ্বজিতের কাছ থেকে কোনও সুবিধেই পাননি। মুনমুন সেনের অভিনয় করার বিরুদ্ধে ছিলেন সুচিত্রা সেন। মুনমুন ছবিতে অভিনয় করা শুরু করলে, মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন বাক্যালাপ বন্ধ রাখেন সুচিত্রা। রিয়া আর রাইমার গল্প কিন্তু আলাদা। মুনমুনের নিজস্ব পিআর স্কিলের মাত্রাই অন্য। সেই প্রভাব তিনি মেয়েদের কেরিয়ারে খাটিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। তবে সেটা একেবারেই প্রথম দিকে। 

সম্প্রতি এক ঝাঁক নতুন মুখ এসেছে টলিউডে। ইন্দ্রাণী দত্তর মেয়ে রাজনন্দিনী দু’টি ছবি করে ফেলেছেন। মেয়েকে গ্রুম করায় ইন্দ্রাণীর অবদান রয়েছে। কী ভাবে সাক্ষাৎকার দিতে হবে এবং কোথাও মেয়েকে নিয়ে নেতিবাচক কিছু প্রকাশিত হলে, সে ক্ষেত্রে ইন্দ্রাণীই সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। 

সব উমেদারিই ব্যর্থ

বাবা-মা যতই প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করুন, প্রতিভাই শেষ কথা বলে। তাই অনেক স্টার কিডই কেরিয়ারে সুবিধে করতে পারেননি। মিঠুন চক্রবর্তী ছেলে মিমোর জন্য সাধ্যের বাইরে গিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মিমোর কেরিয়ারে গতি আনতে পারেননি। জিতেন্দ্র চেষ্টা করেছিলেন তুষার কপূরের জন্য। নিজের প্রযোজনা থেকে পরপর ছবি করেছেন ছেলেকে হিরো করে। সবই ব্যর্থ। যশ রাজ ফিল্মস ব্যর্থ ঘরের ছেলে উদয় চোপড়ার ভাগ্য খুলতে। মেয়ে এষার জন্যও হেমা মালিনী চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি। তবুও পালে হাওয়া লাগেনি। 

সারা, জাহ্নবীদের উদাহরণ যেমন আছে, তেমনই মিমো, তুষাররাও আছেন। অভিভাবকদের ছত্রছায়ায় প্রথম সুযোগ হয়তো সহজে মিলে যায়। কিন্তু কেরিয়ারে লম্বা দৌড় দিতে হলে প্রতিভা বিনা গতি নেই।