আগামী মাসে শাহিদ কপূরের পরিবারে আসছে নতুন সদস্য। মুক্তি পাবে তাঁর নতুন ছবি ‘বাত্তি গুল মিটার চালু’। পেশাদারি ও ব্যক্তিগত, দু’দিক থেকেই ঘটনাবহুল অভিনেতার জীবন।

প্র: ‘বাত্তি গুল মিটার চালু’র শুটিংয়ে নাকি চুটিয়ে মজা করেছেন?

উ: উত্তরাখণ্ডের তেহরিতে শুটিং করেছি। দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার শহরের মধ্যে অন্যতম এটি। ওখানকার লোকজন খুব সাদাসিধে। আমাদের শুটিংয়ে যে নিরাপত্তারক্ষীদের মোতায়েন করা হয়েছিল, তাঁদের আসলে কাজই ছিল না। জনতার ভিড় থাকলেও তাঁদের যেখানে দাঁড়াতে বলা হতো, সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকতেন। ওখানকার জল-হাওয়াতেও দূষণ নেই। এই ছবি করার আরও একটা কারণ, ছোট শহরের গল্প। প্রথমে মুম্বইয়ে শুটিং হবে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, তা মুম্বইয়ে দেখানো যেত না। ছবির পরিচালক শ্রীনারায়ণ সিংহও ছোট শহরে বড় হয়েছেন।

প্র: অভিনেতা হিসেবে কি মনে করেন, আপনার কোনও সামাজিক দায়িত্ব আছে? সেই মতোই ছবি বাছেন?

উ: ‘বাত্তি গুল...’-এর আগে আমি ‘হায়দর’ এবং ‘উড়তা পঞ্জাব’-এর মতো ছবি করেছি। ‘হায়দর’-এ মানবাধিকার আর ‘উড়তা পঞ্জাব’-এ মাদক সেবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখানো হয়েছে। এই ধরনের ছবি আমি মিশার সঙ্গে দেখতে পারব না। তবে ‘বাত্তি গুল...’ পরিবারকে নিয়ে দেখার মতো ছবি। বিদ্যুৎ বাঁচানো নিয়ে আগে আমি এত সজাগ ছিলাম না। এখন ঘর ছেড়ে বেরোনোর আগে দেখে নিই, সুইচ অফ করেছি কি না। বড় শহরে থেকে ছোট শহরের মানুষের সমস্যাগুলো আমরা ঠিক উপলব্ধি করতে পারি না।

প্র: শুরু করেছিলেন রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে। এখন বিষয়ভিত্তিক ছবি করেন। দশ বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

উ: দর্শক যদি আমাকে মুখ হিসেবে মনে রাখেন, তবে স্টার হয়ে বেঁচে থাকব। অভিনেতা হিসেবে নয়। অভিনেতা হিসেবে মনে রাখতে চাইলে আমাকে যেন কোনও ইমেজের মধ্যে বেঁধে ফেলা না হয়। আমার কথা ভাবলেই যেন বৈচিত্রপূর্ণ ও বহুমুখী প্রতিভার কথা মনে আসে।

প্র: অভিনেতা হিসেবে চাওয়া-পাওয়ার হিসেব করেন?

উ: ১৫ বছরে যা পেয়েছি, তাতে আমি খুশি। কিন্তু সন্তুষ্ট নই। মীরা এবং মিশা— দু’জনেই যেন আমার জন্য গর্ব অনুভব করে। আমার মা নীলিমা আজ়িম এবং বাবা পঙ্কজ কপূর অপরিসীম প্রতিভাশালী ব্যক্তিত্ব। কিন্তু আমার মতে, তাঁরা বেশি সুযোগ পাননি। অভিনেতা হিসেবে সেই সুযোগ আমার কাছে আছে। আমার মা-বাবা যেন বলতে পারেন, আমার ছবি নির্বাচন দেখে তাঁরা খুশি।

প্র: আপনার কেরিয়ারে পরিচালকদের প্রভাব কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

উ: অভিনেতাদের কাছে পরিচালক অভিভাবকের মতো। তাঁরা আমাদের বাচ্চাদের মতো ভালবাসেন, শেখান, ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দেন। ভাল অভিনেতার জীবনে এক জন যোগ্য পরিচালক বড় ভূমিকা পালন করেন।

প্র: দ্বিতীয় বার বাবা হতে চলেছেন। মীরা আর আপনি এখন কনফিডেন্ট পেরেন্টস?

উ: আমি আর মীরা ভীষণ খুশি, অভিভূত! আমাদের পরিবার সম্পূর্ণ হতে চলেছে। সেটা একটা বিশেষ অনুভূতি। মিশা আন্দাজ করছে, কিছু একটা ঘটতে চলেছে। আমি আর মীরা নতুন সদস্যর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

প্র: বাবা হিসেবে মিশার মধ্যে আপনার আর মীরার কোন কোন গুণ দেখতে চান?

উ: জেনেটিক্যালি আমার আর মীরার অনেক কিছুই মিশার আছে। বাবা হিসেবে চাই, মিশার স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব তৈরি হোক। প্রত্যেক বছর ও আমাকে সারপ্রাইজ় দিক।