রণবীর সিংহ-দীপিকা পাড়ুকোনের লাভ স্টোরি নায়িকার ভারী পছন্দের। নায়িকার ইচ্ছে, রণবীরের মতোই অপলক দৃষ্টিতে তাঁর চোখে চোখ রাখবে মিস্টার পারফেক্ট। কিন্তু নায়ক যে একটু চাপা স্বভাবের। ‘‘চাইলেও আমি রণবীর সিংহের মতো হতে পারব না,’’ স্পষ্ট বলছেন তিনি। ভাবছেন, কোনও নতুন ছবির চিত্রনাট্য! তা নয়। বাংলা ছবির হিট জুটি বনি সেনগুপ্ত ও কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের পরদার বাইরের লাভ স্টোরির কথা বলছি। আনন্দ প্লাসের জন্য শুটে এসে লাভবার্ডস শেয়ার করলেন তাঁদের ভাল লাগা ও পারফেক্ট ডেটের মধুর স্মৃতি।

কে বেশি রোম্যান্টিক? প্রশ্নটা শুনেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন কৌশানী। ‘‘অবশ্যই আমি। যে কোনও রোম্যান্টিক অভিব্যক্তি দেখে আপ্লুত হই। তা একটা ছোট সুন্দর কথাও হতে পারে। বনিও রোম্যান্টিক। আরে, পার্টনারের কিছু প্রভাব তো পড়বেই,’’ ক্রেডিট নিতে ছাড়লেন না নায়িকা। পাশ থেকে বনির টিপ্পনী, ‘‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে একে অপরের প্রশংসা করবে। তা নয়। নিজেই বলছে নিজের কথা!’’ আড্ডা জুড়ে ছিল খুনসুটির কাঁচা-মিঠে রোদ।

এই দিনে পাওয়া সেরা উপহার কী? এ বার আগে বললেন বনি। ‘‘গত বছর আমার ল্যাপটপটা খারাপ হয়ে যায়। কৌশানী সারপ্রাইজ দেবে বলে ওর বাবাকে দিয়ে ল্যাপটপ কিনিয়েছিল। আমি জানতামও না। এ দিকে ল্যাপটপের ফিচারস কী কী হবে সেটা কাকুকে আমিই বলেছিলাম। রাতে দেখলাম ওটা আমার জন্যই।’’ গার্লফ্রেন্ডের মনমতো উপহার খুঁজে আনতে বনিও এতটুকু কম যান না।

‘‘অনেক দিন ধরেই বনি জানত, আমার খুব ইচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ঘড়ি কেনার। গত বছর তাইল্যান্ডে শুট করতে গিয়ে বনি সেটা কিনে দেয়। আমি কিছু চাইলে বনি ‘না’ বলে না,’’ বলছেন কৌশানী। এটা শুনে বনি শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘‘আমি শুধু আমার বুকে হাত রাখি।’’

দু’জনের পছন্দের রোম্যান্টিক ছবি ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ ও ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’।

এ বার ভ্যালেন্টাইন্স ডে নিয়ে প্ল্যান হয়নি বনি-কৌশানীর। তবে চেকলিস্টে ডিনার ডেট অবশ্যই আছে। রায়চকের এক রিসর্টে তাঁদের ড্রিমডেট ছিল বনির প্ল্যানিং। ‘‘জায়গাটা পুরো মোমবাতি দিয়ে সাজানো হয়েছিল। আর ছাদে জলের উপর হাইটেব্‌ল ও চেয়ার দিয়ে একটা সেটআপ করা হয়েছিল। সেখানে মিউজিকের সঙ্গে নাচ। পরে ক্যান্ডল-লাইট ডিনার,’’ কথা বলতে বলতে কৌশানীর দু’চোখেই উপচে পড়ছিল খুশি। এ বার ক্রেডিট নেওয়ার পালা বনির। মুচকি হেসে তিনি নিলেনও।

কৌশানী ‘লীলা’ হলেও বনি এখনও ‘রাম’ হয়ে উঠতে পারেননি। তবে বনি শাহরুখ-ভক্ত। শাহরুখের সিগনেচার পোজে হাত বাড়িয়ে সব সময়ই তিনি কৌশানীকে বলতে রাজি, ‘পারব না আমি ছাড়তে তোকে।’

পোশাক: বহুরূপী বাই রায়

মেকআপ ও হেয়ার: প্রসেনজিৎ বিশ্বাস

ছবি: তথাগত ঘোষ, লোকেশন: দ্য অ্যাস্টর হোটেল