প্র: ক্যাটরিনা কাইফ বলেছেন, ‘ভারত’-এর জন্য আপনার জাতীয় পুরস্কার পাওয়া উচিত। আপনি কী বলবেন?

উ: যখন দেশের সকলে মিলে বড় পর্দায় আমার ছবি দেখবেন, সেটাই হবে আমার জাতীয় পুরস্কার। ছবি বানানো হয় দর্শকের জন্য। ছবি নিয়ে চর্চা করে তা হিট করানো যায় না। ছবি দেখে দর্শকের মনোরঞ্জন হলেই আমি খুশি।

প্র: কোরিয়ান ছবি ‘ওড টু মাই ফাদার’-এর অফিশিয়াল রিমেক ‘ভারত’। দেশজ সেন্টিমেন্টকে চিত্রনাট্যে কী ভাবে বোনা হয়েছে?

উ: ছবিতে আমার অনেক লুক। প্রসেসটা উপভোগ করে শুট করেছি। অল্পবয়সের লুক করাটা টাফ ছিল। এক বার ওজন বাড়ানো আর এক বার কমানো... অনেক পরিশ্রম। অনেকে জিজ্ঞেস করেন, আমি হার্ড ওয়র্ক করেছি কি না? আমি বলি, যে কাজটা স্বাভাবিক ভাবেই আসে, সেটা অনায়াসে হয়ে যায়। যেটা আসে না, তার জন্য পরিশ্রম করতে হয়।

প্র: বছর দুয়েক আগে ইদে মুক্তি পাওয়া ‘টিউবলাইট’-এর ব্যর্থতা এখনও আপনাকে তাড়া করে?

উ: ইদ সেলিব্রেশন টাইম। তখন যদি আমরা দেখাই, সলমন খানকে ধরে পেটানো হচ্ছে, তা হলে কী করে চলবে? দর্শক থিয়েটার থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়েছেন। যদিও টেলিভিশনে ‘টিউবলাইট’-এর রেসপন্স ভাল। ‘ভারত’-এ এমন কিছু নেই, যা দর্শককে হতাশ করবে।

প্র: প্রিয়ঙ্কা চোপড়া ছেড়ে দেওয়ার পরে সেই চরিত্রটি ক্যাটরিনা করেন। সম্প্রতি প্রেস কনফারেন্সে ক্যাটরিনাকে প্রিয়ঙ্কা সম্বোধন করে কথা বলে যাচ্ছিলেন আপনি...

উ: আসলে প্রিয়ঙ্কাকে ধন্যবাদ দিচ্ছিলাম। ও ‘না’ বলায় ক্যাটরিনা চরিত্রটি করেছে। ক্যাটরিনার করা সেরা কাজের মধ্যে অন্যতম এটি। প্রিয়ঙ্কার সঙ্কোচের কথা প্রথম অর্পিতা (সলমনের বোন) বলে আমাকে। কোনও প্রশ্ন না করেই রাজি হয়ে গিয়েছিলাম। প্রিয়ঙ্কা যে কারণে ছবি ছেড়েছিল, সেটা খুবই স্পেশ্যাল। সকলের ধারণা, হয়তো ওর সঙ্গে কোনও দিন কাজ করব না। সেটা সম্পূর্ণ ভুল। সে রকম গল্প আমার কাছে এলে নিশ্চয়ই একসঙ্গে কাজ করব।

প্র: ‘ভারত’ বাবা আর ছেলের সম্পর্কের গল্প। আপনার বাবার সঙ্গে‌ সম্পর্কে বদল এসেছে?

উ: নাথিং হ্যাজ় চেঞ্জড! যখন ছোট ছিলাম, বাবার সঙ্গে সময় কাটাতে পারিনি। ইন্ডাস্ট্রির ব্যস্ততম লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আমার বাবা। আবার দেখেছি, দীর্ঘ চার বছর বাবার হাতে কাজ ছিল না। কিন্তু বাবা এক দিনের জন্যও আমাদের সেটা বুঝতে দেননি। এখন উনি চিলড আউট! ওঁর আর আমার বন্ধু সার্কল এখন একই। এখন তো আমরা ডাবল মিনিং জোকসও শেয়ার করি। আমি শহরে না থাকলেও বাবার সঙ্গে আমার বন্ধুরা গিয়ে গল্প করে। ড্রিঙ্ক শেয়ার করে।

প্র: ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু ছবির প্রচার করেন। মিম ফলো করেন?

উ: আমার এত সময় নেই যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লিখে আবার সেটা চেক করব। তা হলে ছবিতে কখন কাজ করব? একটা সময়ে আমি খুব লিখতাম। অনেক দিন হল কিছু লেখা হয় না।

প্র: এত বছর ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার রহস্য কী?

উ: জনপ্রিয়তাকে কোনও দিন সামলাইনি। আমার মতো অনেকেই এই পেশায় আছেন। আমি ভাগ্যবান, জনপ্রিয়তা পেয়েছি। এর কোনও মন্ত্র নেই।

প্র: এই অস্থির সময়ে দেশভক্তি নিয়ে আপনার কী মত?

উ: দেশভক্তি সহজাত। সততার সঙ্গে কাজ করা আমার কাছে দেশভক্তির সংজ্ঞা।

প্র: এমন কোনও চরিত্র আছে, যা করার ইচ্ছে অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে আপনার কেরিয়ারে?

উ: কোনও দিন সুযোগ পেলে চেঙ্গিজ় খানের চরিত্রটা পর্দায় তুলে ধরতে চাইব।