হেলিকপ্টার ইলা

পরিচালনা: প্রদীপ সরকার

অভিনয়: কাজল, ঋদ্ধি, টোটা

৪/১০

 

যাঁর চোখ কথা বলে, হাসিতে মুক্তো ছড়িয়ে পড়ে, যাঁর খোলা চুলে পাগল হয়েছে কত রাজ, রাহুল... সেই কাজল তিন বছর পরে বড় পর্দায়। ভক্তদের উত্তেজনার পারদ তো বাড়বেই, কিন্তু সে পারদে বরফজল। কাজল মন ছুঁতে পারলেন না। গোটা ছবিতে তিনি নিজেকে দেখানোর জন্য ব্যস্ত। সহ-অভিনেতারা যেন তাঁকে ছাপিয়ে না যেতে পারেন, সেই প্রচেষ্টায় এত ওভার অ্যাক্টিং করে ফেলেছেন, যা বিরক্তিকর।

ইলার (কাজল) জীবন আবর্তিত হয় ছেলে ভিভানকে (ঋদ্ধি সেন) কেন্দ্র করে। তার স্বামী অরুণ (টোটা রায়চৌধুরী) তাদের ছেড়ে চলে যায়। ফলে ছেলে মানুষ করতে ব্যবসা শুরু করে ইলা। তার গায়িকা হওয়ার স্বপ্ন মিলিয়ে যায়। মা-ছেলের সম্পর্কের টানাপড়েনই এই ছবির ইউএসপি, কিন্তু তা শুরু হয় বিরতির পরে। নব্বইয়ের দশক রিক্রিয়েট করে তা জোর করে গুঁজে দেওয়া হয়েছে ছবির প্রথমার্ধে, ইলার যৌবনের গল্পে। শান, ইলা অরুণ, অনু মালিক, মহেশ ভট্টের মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিও ছবির জন্য খুব একটা সহায়ক হয়নি।

ছোট্ট ভিভান ও ইলাকে ছেড়ে অরুণের চলে যাওয়ার কারণ খুব একটা যৌক্তিক মনে হয়নি। চিত্রনাট্যের মতোই দুর্বল পরিচালনা। পরপর দৃশ্যগুলো যেন কাট-পেস্ট করে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ছবির গল্পের স্রোতে দর্শকের বয়ে যাওয়ার কোনও অবকাশ নেই। বরং ইলার পাশের ফ্ল্যাটে টিভি চালিয়ে দরজার দিকে তাকিয়ে বসে থাকা ভদ্রমহিলার মতো অন্য দিকে মুখ করে বসে থাকতে ইচ্ছে করে, কখন ছবি শেষ হবে তার অপেক্ষায়।

এ ছবির প্রাপ্তি বলতে ঋদ্ধির অভিনয়। শুধু অভিব্যক্তি দিয়ে কী ভাবে অভিনয় করা যায়, তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। টোটার অবশ্য তেমন কিছু করার ছিল না। বরং তার মায়ের চরিত্রে কামিনী খন্না বেশ সাবলীল। আর বাহবা দিতে হয় ছবির কস্টিউম ডিজ়াইনারকে। যুবতী ইলার পোশাক নির্বাচন মনে করিয়ে দেয় ‘বাজ়িগর’-এর প্রিয়াকে বা ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’র সিমরনকে। অতি নাটকীয়তা ছেঁটে পরিচালক যদি মা-ছেলের সমীকরণে আর একটু জোর দিতেন, তা হলে হয়তো এই উড়ান আকাশ ছুঁতে পারত।