পনেরো বছর আগেই ছবিটি বানাতে চেয়েছিলেন কর্ণ জোহর। ছবির গল্প তখনই তাঁর মাথায় ছিল। তবে সেই প্রজেক্ট পিছিয়ে যায়। ছবিতে মাধুরী দীক্ষিতের চরিত্রটি করার কথা ছিল শ্রীদেবীর। কিন্তু তাঁর অকাল প্রয়াণে চরিত্রের মুখ পাল্টে যায়। সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে দীর্ঘ একুশ বছর পরে স্ক্রিন শেয়ার করলেন মাধুরী। সেটাও সম্ভব হয়েছে কর্ণের মধ্যস্থতায়। তাই ধর্মা প্রোডাকশনের ‘কলঙ্ক’ আর পাঁচটা বিগ বাজেট ছবির চেয়ে আলাদা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। টিজ়ার লঞ্চে হাজির ছিলেন আলিয়া ভট্ট, বরুণ ধওয়ন, সোনাক্ষী সিংহ, আদিত্য রায় কপূর, সঞ্জয় দত্ত, মাধুরী দীক্ষিত ও পরিচালক অভিষেক বর্মণ। তাঁরা পোশাক পরেছিলেন রং মিলিয়ে। সাদা পোশাকে আলিয়া-বরুণ, কালোয় সঞ্জয়-মাধুরী আর লাল রঙের পোশাকে মঞ্চে দ্যুতি ছড়াচ্ছিলেন আদিত্য-সোনাক্ষী। তবে রঙের এই বিভাজন চরিত্রদের সম্পর্কের সমীকরণে স্পষ্ট নয়। অন্তত টিজ়ার সেই আভাস দিচ্ছে। বরুণের প্রেমিকা আলিয়া বিয়ের পিঁড়িতে বসছে আদিত্যের পাশে...

তবে আলিয়া-বরুণ-আদিত্যের ত্রিকোণ রসায়নের চেয়েও দর্শকের নজর থাকবে ‘সাজন’ জুটির উপরে। ছবির ঘোষণার সময়ে শোনা গিয়েছিল, সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর বেশি দৃশ্য থাকবে না, এই শর্তেই কাজ করতে রাজি হয়েছেন মাধুরী। টিজ়ার দেখে তা আন্দাজ করার উপায় নেই। তবে এখন এ-ও শোনা যাচ্ছে, ছবিতে সঞ্জয়-মাধুরীর বেশ কিছু দৃশ্য থাকবে, যা এই ছবির ইউএসপি। কোনটা সত্যি তা জানতে মুক্তি অবধি অপেক্ষা করতে হবে। তবে সাংবাদিকদের সামনে মাধুরী-সঞ্জয়কে একটু অপ্রস্তুতই মনে হল। মঞ্চে সঞ্জয়ের আসার কথা ঘোষণা হতেই মাধুরীর মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়। পাপারাৎজ়ি অনুরোধ করলেও একসঙ্গে ছবি তোলেননি দু’জনে। তবে পরিস্থিতি হালকা হয়, যখন মাধুরীকে ‘ম্যাম’ বলে সম্বোধন করেন সঞ্জয়।

ধর্মার ব্যানারে এটি প্রথম পিরিয়ড ছবি। তবে ছবির মূল সুর যে বাঁধা প্রেমের সম্পর্কে, তা টিজ়ারে স্পষ্ট। ‘কস্টিউম ড্রামা’ তাই পোশাকের আড়ম্বর থাকবেই। নজর কাড়ছে সেটের বাহুল্যও। তবে সেট ও পোশাকের আতিশয্য সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ম্যাগনাম ওপাসকেও মনে করিয়ে দিচ্ছে। যে ঘরানায় ভন্সালী সিদ্ধহস্ত, সেখানে কর্ণ ও তাঁর টিম কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, অপেক্ষা এখন তারই।