ধরুন, আপনি বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খেতে গেলেন। তা সেই দলে এমন একজন-দু’জন তো নিশ্চয়ই আছেন, যাঁরা পারতপক্ষে পার্সে হাত ঠেকান না? এমন নয় যে তাঁরা কম রোজগেরে, কিন্তু খরচ করতে তাঁদের বড্ড বাধে। আমাদের বলিউডের সেলেবদের মধ্যেও এমন কয়েক জন আছেন, পিছনে যাঁদের সবাই কিপটে বলে ডাকেন। তাঁরা প্রতি অনুষ্ঠানে নতুন নতুন ডিজাইনার আউটফিটে শোভিত হয়ে, ফোটোগ্রাফারদের হাসিমুখে পোজ দেন। জুতো কি ব্যাগেও থাকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিচ্ছুরণ। বিলাসিতায় গা-ভাসানো এহেন সেলেবদের দেখে আপনি কি ভাবতে পারেন, আপনার সেই কিপটে বন্ধুটির মতো এঁরাও খরচ এড়িয়ে চলেন। এমনকী, বডিগার্ড বা মেকআপ ম্যানকেও মাসের মাইনেটা দিতে ভুলে যান!

আর ফিল্মি দুনিয়ার গল্প তো অসংখ্য কানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনেকেই আছে। সে ভাবেই কিছু গল্প আমাদের কানে এসে পৌঁছেছে। এর সত্যতা মাপার জন্য আমরা নিক্তি নিয়ে বসিনি। শুধু কী শুনলাম, সে ব্যাপারে অবগত করছি।

শুরুটা শ্রীদেবীকে দিয়ে। তখন শ্রী-র সঙ্গে সিনেমার যোগাযোগ ক্ষীণ। টুকটাক অনুষ্ঠানে দেখা যেত। তাঁর দুই মেয়ে জাহ্নবী, খুশি বেশ ছোট। খুশি-জাহ্নবীর দেখভালের জন্য যিনি ছিলেন, তাঁকে যে কোনও অনুষ্ঠানে দেখা গেলেই নাকি খুব খিটখিটে মেজাজে পাওয়া যেত। শোনা যায়, একবার মিডিয়ার সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানান, মালকিন ঠিক মতো মাইনে দেন না! প্রযোজক বনি কপূরের স্ত্রী, এক সময়ের বলিউডের এক নম্বর নায়িকা এমনটা করতে পারেন নাকি? ‘এরা কোনও ল’ মানে না, তাই এদের নাম ললনা!’

কর্ণ শিল্পা কপিল

এই দলেই পড়েন কপূর সিস্টার্সও। হ্যাঁ, করিশ্মা এবং করিনা। বড় বোন করিশ্মা সম্পর্কে নাকি একটা কথা প্রায় প্রবাদের পর্যায়ে চলে গিয়েছে। তিনি সঙ্গে পার্স ক্যারি করেন না! হ্যাঁ, সঙ্গে লুই ভিতো বা শানেল-এর লাখ টাকার ব্যাগ থাকতে পারে, কিন্তু তাতে টাকা থাকতে হবে, এমন আইন কে বানিয়েছে? বছর পাঁচ-সাতেক আগে একবার নাকি সুনীল শেট্টির স্ত্রী মানা শেট্টি ডিজাইনার গারমেন্টের এক চ্যারিটি এগজিবিশন অর্গানাইজ করেছিলেন। চাকচিক্য বাড়াতে সেখানে হাজির ছিলেন সেলেবরা। সেখানে প্রদর্শনী ভরা সূর্য-তারার মাঝে একজন ছিলেন কপূর নন্দিনীও। সেখানে তিনি কয়েকটি জিনিস পছন্দ করে, ব্যাগে ভরে যখন গুটিগুটি পায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসছেন, তখন দামের কথা বলা হলে তিনি নাকি বিনা সংকোচে বলে দেন, তিনি পার্স ক্যারি করেন না! যাহ বাবা! তাঁর বোন করিনা, যতই নবাব-গৃহিণী হোন, তিনি যে ‘কঞ্জুস’ নিজেই স্বীকার করেছিলেন এক টিভি শোয়ে এসে। বলেছিলেন, মালাইকা আর অমৃতার সঙ্গে বেরোলে কখনও টাকা নিয়ে বেরোন না। কারণ ওঁরা করিনার বাড়িতে এলেই খাইখাই করেন!

করিনা-করিশ্মা

এর পর আসি শিল্পা শেট্টির কথায়। খরচা না করার সুখ্যাতি এক সময় তাঁরও ছিল বলে শোনা যায়। অবশ্য সেটা বিবাহপূর্ব শিল্পা। সে সময় তিনি নাকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতেন এক মেকআপ আর্টিস্টের কাছে মেকআপ সেরে। তার জন্য সে বেচারার পারিশ্রমিক চাওয়া ছিল বারণ। শর্ত থাকত, শিল্পা যে ছবিতে অভিনয় করবেন, সেখানেও নাকি সে মেকআপ করার সুযোগ পাবে। তার পর সে পাওনাগন্ডা বুঝে নেবে প্রযোজকের কাছ থেকে। শিল্পার টাকাও বাঁচল, আবার মেকআপ আর্টিস্টও খুশ! এখন কিন্তু তাঁকে এমন বদনাম কেউ দিতে পারবে না। ধনী ব্যবসায়ী পত্নী মিসেস শিল্পা শেট্টি কুন্দ্রার আঙুলের হীরকখণ্ডের দ্যুতিতে পুরনো দিনের সে সব ঘটনা অন্ধকারে বিলীন!

তবে বলিউডে মেকআপ আর্টিস্ট ও ড্রাইভারদের প্রাপ্য টাকা না দেওয়ার খেলা নাকি বরাবরই চলে। ড্রাইভারদেরও নাকি অনেক তারকাই মাসমাইনে দেন না। ছবির সেটে যে তারকা যত দামের গাড়ি নিয়ে আসেন, তার উপর একটা ভাতা ধরা থাকে। যত দামি গাড়ি, তত বেশি ভাতা। ড্রাইভারের জন্যও আলাদা অ্যালাওয়েন্স থাকে। পুরো খরচ প্রযোজকের। ড্রাইভারদের প্রতি নাকি অলিখিত নির্দেশ থাকে, খরচ তুলে নিতে হবে সেখান থেকে।

এ বার আসি বাউন্সার প্রসঙ্গে। সলমন খান বা বরুণ ধবন কিংবা অক্ষয়কুমারের বাউন্সারদের দেখে ভাববেন না, সব তারকার বাউন্সাররাই অত ভাগ্যবান। এই যেমন মালাইকা অরোরার এক প্রাক্তন বাউন্সার। শোনা যায়, তিনি চাকরি ছেড়েছিলেন মালকিনের কাছ থেকে ঠিক মতো মাইনে না পাওয়ায় ও তাঁর খিটখিটে মেজাজের কারণে। তবে কিপটেমির দৌড়ে এঁদের চেয়ে অনেক এগিয়ে কপিল শর্মা। তিনি নাকি মাঝেমধ্যেই স্টুডিয়োয় আসতেন অটোতে, কিন্তু ভাড়া দিতেন না বলে শোনা যায়। না-না, অটোওয়ালাও ছেড়ে দিতে চাইতেন না। কিন্তু কপিল বলতেন, ‘আমি কপিল শর্মা, চেনো না!’

আরও পড়ুন: নিজেকে নিউকামার ভাবি

কর্ণ জোহরের প্রোডাকশন হাউস নিয়েও বহু কথা শোনা যায়। মাস গেলে মাইনে নাকি অনেকেই  পান না। বিশেষ করে যে সব বিগ বাজেটের ছবি ফ্লপ করেছে, তার সঙ্গে যুক্ত বহু কর্মী নাকি এখনও কাঁদেন টাকা না পাওয়ার দুঃখে। এ রকমই আর এক বড় প্রযোজক সঞ্জয় লীলা ভংসালী। তাঁর সেট যতই মহার্ঘ হোক, তা দেখে মানুষটাকে বিচার করবেন না যেন। আদতে তিনি কিন্তু প্রচণ্ড হিসেবি মানুষ। খাওয়াদাওয়া, পোশাক... নানা ব্যাপারে তাঁর মতোই সাধারণ প্রযোজক নিখিল আডবাণীও।

তবে ভাববেন না যেন ইন্ডাস্ট্রির সবাই এ রকম। এখানে সলমন, রণবীর সিংহ, রানি, দীপিকা, বরুণের মতো দিলদরিয়া অভিনেতারাও আছেন। যেখানে হাতের পাঁচ আঙুলই সমান নয়, সেখানে এত বড় ইন্ডাস্ট্রিতে মানুষে মানুষে ভেদ তো থাকবেই, তাই না!