সিনেমা তৈরির নেপথ্যেও অনেক গল্প লুকিয়ে থাকে। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগামী ছবি ‘সাঁঝবাতি’র নেপথ্যেও রয়েছে বাস্তব থেকে ধার করে নেওয়া কিছু ঘটনা। মহিলা কমিশনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে অনেক ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন লীনা। ‘‘সিনিয়র সিটিজ়েনদের সমস্যা, তাঁদের একাকিত্ব... এ সব দেখে মনে হয়েছে এই গল্পগুলো বলা যায়। প্রথমে ভাবিনি সিনেমা করব। পরে ছবির বিষয় বাছতে গিয়ে ভাবনাটা উস্কানি পায়,’’ বলছিলেন লীনা।

‘সাঁঝবাতি’তে অন্যতম চরিত্রে দেব, পাওলি এবং অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। তবে ছবির প্রোটাগনিস্ট লিলি চক্রবর্তী। তাঁকে ঘিরেই গল্প। তিনি একা থাকা এক প্রবীণ নাগরিকের চরিত্রে। দেখাশোনা করার জন্য একটি মেয়ে রয়েছে। বাড়তি সাপোর্টের জন্য একটি ছেলেকে রাখা হয়। চরিত্রটি খুব কট্টর এবং নিজস্ব কিছু ধ্যানধারণার বাইরে যেতে চায় না। লীনার কথায়, ‘‘যে বয়সে সম্পর্ক গড়ার জায়গা থাকে না, সবটাই ভাঙার খেলা... সেখানে নতুন করে কী ভাবে সম্পর্ক তৈরি হয়, ‘সাঁঝবাতি’ তারই গল্প। যে কারণে ছবির ক্যাচলাইন রাখা হয়েছে ছকভাঙা সম্পর্কের গল্প।’’

লীনা এবং শৈবাল যখন ‘সাঁঝবাতি’র পরিকল্পনা করছেন তখন ঘুণাক্ষরেও জানতেন না, এই নামে বিধাননগর কমিশনারেটের একটি সংস্থা রয়েছে। এবং সিনিয়র সিটিজ়েনদের নিয়েই কাজ করে তারা। ‘‘এটা একেবারেই কাকতালীয়। ছবির সব কিছু ঠিক হয়ে যাওয়ার পরে আমাদের প্রযোজক অতনু রায়চৌধুরী জানতে পারেন এটা। বিধাননগর এলাকায় সিনিয়র সিটিজ়েনদের নিয়ে আমি অনেক কাজ করেছি। কিছু ছেলেমেয়ে ঠিক করেছিলাম, যাঁরা এই নিঃসঙ্গ মানুষগুলোর সঙ্গে গিয়ে কথা বলবেন, হাসপাতালে নিয়ে যাবেন... কিন্তু তখনও সাঁঝবাতি নামে ওই সংস্থার কথা জানতাম না। জীবন সায়াহ্নের গল্প বলছি বলে আমরা এই নামটা দিয়েছিলাম,’’ বক্তব্য লীনার। 

দেব অনেক দিন ধরেই অন্য রকম ছবি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি এত দিন যে চরিত্রগুলো করেছেন, ‘সাঁঝবাতি’ তার চেয়ে পুরোপুরি আলাদা। ঠিক কোন চরিত্রে তিনি রয়েছেন সেটা খোলসা না করলেও, মাটির এতটা কাছাকাছি চরিত্র দেব আগে করেননি বলে জানালেন লীনা। নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততার কারণে প্রথমে চিত্রনাট্য পড়া হয়নি অভিনেতার। কিছু দিন আগে পুরো চিত্রনাট্য শুনেছেন। তার আগে কাহিনির কাঠামো শুনেই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। নির্মাতারা জানালেন, তাঁরা দেবকে চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য খানিক সময় দিতে চান। তাই জুন মাসের মাঝামাঝি শুরু হবে ‘সাঁঝবাতি’র শুটিং।