‘শান্তি’ ধারাবাহিকে শান্তি, ‘কহি কিসি রোজে’ রমোলা সিকান্দর, ‘কসৌটি জিন্দেগি কি’র কমলিকা — মনে আছে তো এই চরিত্রগুলো? আসলে হিন্দি ধারাবাহিকের এই মুখগুলো ভুলে গেলেও কখনওই ভুলতে পারবেন না সিরিয়ালে এদের পরা ‘সিগনেচার’ টিপ বা বিন্দি। সাবেকি বিন্দিকে ‘ট্রেন্ডি’ করে তুলেছিল কিন্তু এই জনপ্রিয় ধারাবাহিকগুলি। বলাই বাহুল্য, হিন্দু সংস্কৃতির ধারা অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে নিজস্ব স্টাইলে বিন্দি পরার রীতি বহু পুরনো। তবে বিন্দি এখন আর ‘কালচারাল সিম্বল’ নয়। চাকুরিরত টেকস্যাভি জেন-ওয়াই বাঙালি মহিলাদের কাছে বিন্দি হয়ে উঠেছে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট।’ সৌজন্যে ‘পিকু’ ছবির পিকু বা ‘লুটেরা’ ছবির পাখি।

হ্যাঁ, বঙ্গতনয়াদের মধ্যে টিপ পরার নতুন করে ঝোঁক বেশ চোখে পড়ার মতো। আগে শুধু কোনও বিশেষ দিনে শাড়ির সঙ্গেই সীমাবদ্ধ ছিল টিপের সাজ। কিন্তু শাড়ির চৌহদ্দি থেকে টিপকে অফিসে কর্মরত বা কলেজ-পড়ুয়া যুবতীদের রোজকার সাজে জনপ্রিয় করে তুলেছে ‘পিকুর’ দীপিকা। জিন্‌স-কুর্তি, কুর্তি-স্কার্ট-এই সবের সঙ্গে ছোট্ট ডট গোল টিপ আপনার সৌন্দর্যকে সম্পূর্ণ করতে পারে। ‘‘সেক্ষেত্রে ব্রাউন ছোট গোল টিপ সবচেয়ে ভাল। সব বয়সের সব মহিলাকেই এবং সব ফেসকাটিংয়েই এটা মানায়,’’ বললেন মেক-আপ শিল্পী স্বরূপ সরকার।

তবে টিপ পরা মানেই কিন্তু ‘বং’ সাজা নয়। বিশ্বায়নের যুগে বাঙালির নিজস্ব টিপ এখন অবাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যেও সমান ভাবে জনপ্রিয়। ‘‘অবাঙালি মেয়ে-বউরা ট্র্যাডিশনালের সঙ্গে বেশির ভাগ সময়ে টিপ পরেন,’’ বললেন মেক-আপ শিল্পী শর্মিলা সিংহ ফ্লোরা।

আর টিপ পরা মানেই ‘রেট্রো’ লুকসও নয়। সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন করিনা কপূর। হ্যাঁ, ‘হিরোইন’ ছবিতে ‘হলকট জওয়ানি’ গানটায় করিনার সাজটা মনে করুন এক বার। খাটো করে পড়া কলকা পাড়ের গোলাপি রঙের শিমারিং শাড়ি, কালো শর্ট-স্লিভ নেটের ব্লাউস। আর ছোট্ট কালো গোল টিপ। অসম্ভব লাস্যময়ী লাগছিল তাঁকে। আর সম্প্রতি ‘পিকু’ ছবিতে কাজল-নয়না দীপিকাকেও তো দেখেছেন শাড়ির সঙ্গে কালো টিপ পরতে। তাই টিপ পরেও সমান ভাবে ‘সেক্সি’ ও ‘বোল্ড’ দেখাবে আপনাকে। শুধু চাই রাইট অ্যাটিটিউড।

 পুজোর দিনগুলিতে টিন-এজারদের জন্য ‘গুঁড়ো টিপ’ বা ‘ডাস্ট টিপ’ পরার পরামর্শ দিলেন শিল্পী স্বরূপ সরকার। খানিকটা আবিরের মতো, বিভিন্ন রঙের এই টিপ দেশলাই কাঠি দিয়ে বিভিন্ন নকশা করে পরা যায়।

তবে যাঁরা বেশি ওয়েস্টার্ন পরেন, তাঁরা কি ভাবছেন? টিপ বা বিন্দি তাঁদের জন্য নয়? একেবারে ভুল। গুগল করে একবার হলিউড ইয়ুথ আইকন সেলেনা গোমসের বিন্দি স্টাইলটা দেখুন। সমান ভাবে চর্চিত-সমালোচিত হলেও এই বিন্দি স্টাইল কিন্তু বেশ ট্রেন্ডি। একটা দাঁড়ি, বা দু’টো সমান্তরাল দাঁড়ি বা একটা ত্রিভুজ—‘‘এমন কিছু ‘অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট’ বিন্দি স্টাইল পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গে করতেই পারেন,’’ বললেন শিল্পী শর্মিলা সিংহ ফ্লোরা। সঙ্গে নো-মেকআপ বা নুড-মেকআপ। পুজোর ভিড়ে আপনার এই সিগনেচার স্টাইলই হয়ত নতুন ট্রেন্ড সেট করবে।

তবে এসবের আগে কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে। পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেমন স্থান-কাল-পাত্র দেখেন, টিপ বাছার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। আর তার সঙ্গে মেক-আপ ও ফেসকাটিং- এ দু’টি বিষয়ও কিন্তু খুব জরুরি। আর সবচেয়ে জরুরি আত্ম-বিশ্বাস। ‘‘ট্রেন্ডে আছে বলেই নয়, যদি আপনি কনফিডেন্ট হন, তবেই ট্রাই করবেন,’’ বললেন মেক-আপ শিল্পী কৌশিক ডান্ডা।

তা হলে, ‘ছোট্ট টিপ, হাল্কা লিপস্টিক’ আর মনের মতো শাড়ি শুধুই নয়। এ বারের পুজোর সাজে ট্র্যাডিশনাল বা ওয়েস্টার্ন- টিপ পরতে ভুলবেন না কিন্তু।

 

কোন মুখে কেমন টিপ

গোল- বড় গোল টিপ একেবারে নয়, ছোট গোল টিপ চলতে পারে। লম্বা টিপ বেশি ভাল মানাবে।

ডায়মন্ড- চওড়া কপাল, পয়েন্টেড চিবুক- বড় টিপ একেবারে নয়। ছোট গোল টিপ।

ডিম্বাকার- সব টিপই মানাবে। তবে বেশি লম্বা টিপ না পরাই ভাল।

বর্গাকৃতি- ভি-শেপড বিন্দি বা ছোট গোল টিপ

আয়তাকার- সব সাইজ ও শেপের টিপ মানাবে।

এ বার পুজোয়

• সকাল- কুর্তির সঙ্গে ছোট গোল টিপ, মেক-আপ নমিনাল বেস, চোখে কাজল আর হাল্কা লিপস্টিক।

• অষ্টমীর সকাল-লাল-পাড় সাদা শাড়ির সঙ্গে লাল টিপ। চোখে ঘন করে কাজল। কপাল চওড়া হলে টিপটা সাবেকি স্টাইলে একটু উঁচু করে পরা যেতে পারে। তবে মুখের শেপ ও সাইজ অনুযায়ী টিপ নির্বাচন করতে হবে।

• নবমী বিকেল- সিকুইন শাড়ির সঙ্গে গ্লিটারিং বিন্দি।

• ওয়েস্টার্ন- অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আর্ট বিন্দি স্টাইল

• বিন্দি ট্যাটু- ট্রেন্ডে নেই, কিন্তু করতে চাইলে প্রফেশনাল শিল্পীকে দিয়ে করালে ভাল।