বলিউডে একটা অন্য ধারা যেখানে ক্রমশ গতি পাচ্ছে, সেখানে এখনও নিজের পুরনো স্টাইলই আঁকড়ে ধরে রেখেছেন রোহিত শেট্টি। গল্প, অ্যাকশন এবং লোকেশন সবই ছকে বাঁধা। রণবীর সিংহর ‘সিম্বা’ও তার বাইরে নয়। কিন্তু রোহিত জানেন, প্যাকেজিংয়ের জোরে কী ভাবে গড়পড়তা গল্পকেও ‘খাইয়ে’ দিতে হয়। ‘সিম্বা’র ট্রেলার দেখে যেটুকু বোঝা গিয়েছিল, ছবিটা তাই। শুধু দু’ঘণ্টা ঊনচল্লিশ মিনিট লেগেছে সেটা বলতে। মিনিট পনেরো কেটে দেওয়া হলে ছবি আরও উপভোগ্য হতে পারত। 

চুলবুল পাণ্ডে আর সিংহমের পরে দর্শককে সিম্বা নতুন কী দিতে পারে, সেটা প্রশ্ন ছিল। পরিচালক জানতেন, সলমন খান আর অজয় দেবগণের উচ্চতায় রণবীর সিংহকে আনতে গেলে খেলাটা খানিক ঘোরাতে হবে। যে কারণে তিনি রণবীরের চরিত্রটা কমেডির মোড়কে রেখেছেন। প্রথমার্ধে রণবীর প্রায় সারাক্ষণই ফাজলামি করে যান। তবে তাঁর ইমেজের সঙ্গে সেটা মানিয়ে গিয়েছে। 

সিম্বা ওরফে সংগ্রাম ভালেরাও টাকা আর ক্ষমতার জন্যই পুলিশ হয়। দুষ্টু লোকেদের তোল্লাই দিয়ে টাকা কামায়। কিন্তু এ ভাবে তো গল্প চলতে পারে না। একটা মোচড় দরকার। সিম্বার পাতানো বোন আকৃতি ড্রাগ ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে ধর্ষিত হয়। সিম্বার বিবেক জাগ্রত করার জন্য বহু ব্যবহৃত এই প্লটের শরণাপন্ন হয়েছেন রোহিত। কিন্তু সার কথা হল প্যাকেজিংটা তিনি জানেন। 

সিম্বা
পরিচালনা: রোহিত শেট্টি
অভিনয়: রণবীর সিংহ, সারা আলি খান, সোনু সুদ, আশুতোষ রানা
৫.৫/১০

যে পদ্ধতিতে ধর্ষণকারীদের শাস্তি দেয় সিম্বা, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ধর্ষক আইনি পথেই শাস্তি পাবে না কি তাকে স্রেফ ‘ঠুকে’ দেওয়া হবে? এই প্রশ্নটা ছবিতে রেখেছেন পরিচালক। জবাবটাও তিনি নিজেই দিয়েছেন। হল ভর্তি লোকের হাততালি বলে দিচ্ছিল আম আদমি আসলে কী চায়।  

ছবিতে বিনোদনের কোনও কমতি রাখেননি পরিচালক। কিন্তু পরপর একই ধরনের ছবি বানাতে গিয়ে সংলাপে নতুনত্ব আনতে পারছেন না তিনি। আর ভিলেন হিসেবে সোনু সুদ ছাড়া আর কাউকে কি আনা যেত না? একই চরিত্রে একই মুখ কত বার দেখা যায়! কিন্তু ‘সিম্বা’র হুঙ্কারে অনেক খামতিই ঢাকা পড়ে যায়।

ছবিতে রণবীরের বিপরীতে সারা আলি খান রয়েছেন। তাঁকে দেখতে ভারী ভাল লেগেছে। তবে মাত্র দুটো গানের মধ্য দিয়ে তাঁদের জুটির কেমিস্ট্রি ধরা সম্ভব নয়। 

রণবীর আলাউদ্দিন খিলজি হয়েছেন। বাজিরাও হয়েছেন। কিন্তু সলমন বা অজয়ের মস্তানি রপ্ত করতে তাঁর আর একটু সময় লাগবে। যে কারণে সিম্বাকে বাঁচাতে বাজিরাও সিংহমকে আসতে হয়।

শেষ চমকের জন্য পরিচালককে বাড়তি নম্বর। ‘সিম্বা’র সিকুয়েল আসবে কি না জানা নেই, কিন্তু ২০১৯এ ‘সূর্যবংশী’ অক্ষয়কুমারের জন্য দর্শক অপেক্ষা করবেনই।