প্র: এ বার পুজোয় নতুন ব্যোমকেশ। প্রত্যাশার চাপ অনুভব করছেন?

উ: দেখুন, লোভ জিনিসটা খুব খারাপ। অঞ্জনদা (দত্ত) যখন ফোন করে বলেছিলেন, ‘আমি তো আর ব্যোমকেশ করব না, তুমি করো,’ তখন কি লোভ সামলানো যায়? 

প্র: অঞ্জন দত্তের সঙ্গে তর্ক হয়নি?

উ: একসঙ্গে কাজ করতে গেলে মতের অমিল হবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এই ছবিটার পুরো দায় আমার এবং আমার টিমের। অঞ্জনদা আমার চেয়ে অনেক সিনিয়র। ওঁর ব্যোমকেশকে আমার মতো করে ইন্টারপ্রেট করেছি।

প্র: ক্লাইম্যাক্স শুট করার সময়ে আপনাদের নাকি ঝগড়া হয়েছিল?

উ: ঝগড়া নয়, ডিবেট। ছবিটা তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে হচ্ছিল কারণ বৃষ্টির দিনগুলো একেবারেই আমাদের সঙ্গ দিচ্ছিল না। অঞ্জনদা সে দিন একটা আইডিয়া দিয়েছিলেন, যা সেই মুহূর্তে মেনে নিতে পারিনি। কারণ উনি যেটা বলছিলেন, তার চেয়ে স্ক্রিপ্টটা অনেক বেশি সিনেম্যাটিক ছিল। শেষে নিজেই বললেন, ‘ছাড়ো, অন্য দিন করব। সময় লাগুক।’ তবে যত তর্কই হোক, অঞ্জনদাকে ছাড়ছি না!

প্র: অনির্বাণ ভট্টাচার্যের (ওয়েব সিরিজ়ে) চেয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে কতটা আলাদা ভাবে ট্রিট করলেন?

উ: অনেকটাই। এখানে পরমব্রত-রুদ্রনীল (ঘোষ) জুটিটাকে এনক্যাশ করাই ছিল আমার লক্ষ্য। ওদের ১৭ বছরের বন্ধুত্বটাই তো ইউএসপি।

প্র: পরের বছর কোন গল্পটা করবেন?

উ: ‘দুর্গরহস্য’। সবচেয়ে সিনেম্যাটিক ব্যোমকেশ। ওটার স্বত্ব আমাদের কাছেই রয়েছে। অঞ্জনদার লেখাও হয়ে গিয়েছে। মধ্যপ্রদেশে শুটিং করার ইচ্ছে রয়েছে।

প্র: ‘সাগরদ্বীপে যকের ধন’ আটকে রয়েছে কেন?

উ: এই কাহিনিতে ভিস্যুয়াল এফেক্টের বড় ভূমিকা রয়েছে। সেটা ইমপ্রুভ করতে মুম্বই থেকে অনেকটা কাজ করাতে হয়েছে। দেরি হওয়ার এটাও একটা কারণ। এখন দর্শক অনেক বুদ্ধিমান। তাই দুর্বল ভিএফএক্স দেখিয়ে নিজেদের হাস্যাস্পদ করে তোলার মানে হয় না। উৎসবের মরসুমেই ট্রেলার আসছে।

প্র: অ্যাডভেঞ্চার-থ্রিলার জ়ঁর ভেঙে বেরোতেই কি টেনিদা করলেন?

উ: এখনও পর্যন্ত যত শুট করেছি, সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি এই কাজটা। পরের বছরের শুরুতে টেনিদা আসছে। আর এ বছরের শেষে অন্য একটি মৌলিক গল্প নিয়ে প্ল্যান করছি লার্জ স্কেলে। অ্যাকশন অ্যাডভেঞ্চার। 

প্র: ‘হেডকোয়ার্টার্স লালবাজার’ সিরিজ়ের কাজ কেমন চলছে?

উ: নাগাড়ে শুট চলছে। সত্যি ঘটনা অবলম্বনে ক্রাইম ড্রামা।  লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগের কয়েকটি চরিত্রের সম্পর্ক, পলিটিক্স, পারিবারিক জীবন নিয়েই সিরিজ়।

প্র: পুজোয় নিজের ছবি ছাড়া কোনটাকে এগিয়ে রাখবেন?

উ: ‘সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’ ছাড়া ‘মিতিন মাসি’ই একমাত্র গোয়েন্দা ছবি। আমি চাই, ওই ছবিটাও ভাল চলুক, কারণ কোয়েল মল্লিক আমার পরের ছবির নায়িকা! তবে কোনটা বেশি ব্যবসা করবে, সেটা নির্ভর করছে ছবির কোয়ালিটির উপরে।