প্র: আপনার অভিনেতা সত্তা কি পরিচালক সত্তাকে পিছনে ফেলে দিল এই ছবিতে?

উ: কী যে বলেন! তবে এটা ঠিক যে, অভিনয় করতেই ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় আমি অভিভূত! দেবী শেঠি, পঙ্কজ চতুর্বেদীর মতো ডাক্তার যখন বলছেন, আমি যে পেশেন্ট নই সেটা ‘কণ্ঠ’ দেখে বোঝা যাচ্ছে না। এতটাই বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে পেরেছি। এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতে পারি।

প্র: ‘কণ্ঠ’তে আপনার চরিত্রর জন্য আর কোনও অভিনেতাকে কি পছন্দ হয়নি?

উ: ব্যাপারটা সে রকম নয়। চিত্রনাট্য অনেক বার বদলেছে। আমরা এত দিন ধরে এই বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করেছি যে, ভাবতে ভাবতে আমি চরিত্রটা করার মতো বয়সে চলে এসেছি। মূলত নন্দিতাদির (রায়) সিদ্ধান্ত ছিল এটা। আর একটি জিনিস ওয়র্ক করেছে। এই বিষয়টা নিয়ে চর্চা করতে গিয়ে ওই ভাবে কথা বলা, গলার স্বরের পরিবর্তন সবটা আমার শেখা হয়ে গিয়েছিল। স্পিচ থেরাপির রিদমগুলোও শিেখ নিয়েছিলাম। স্বাভাবিক ভাবে নন্দিতাদির মনে হয়েছে চরিত্রটা আমারই করা উচিত।

প্র: এর আগের ছবিগুলোর তুলনায় এই ছবিটি আলাদা। সেটা কি বক্স অফিসে সমস্যা তৈরি করল?

উ: কী বলছেন! ‘কণ্ঠ’ এই বছরের হায়েস্ট গ্রসার। ‘হামি’র চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। শুধু ন্যাশানাল মাল্টিপ্লেক্সে প্রথম সপ্তাহেই ৭১ লক্ষ টাকা। এখনও হলের সংখ্যা কমেনি। (একটু উত্তেজিত হয়ে) দেখুন, অনেক দিন ধরেই ছবির কালেকশন নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছি। জানি না কারা এই কথাগুলো বলে! আমাদের নতুন করে কিছু প্রমাণ করার নেই। আর কালেকশন নিয়ে তর্ক করার বদলে আমি বরং বলব, আমাদের কোনও ছবিই টাকা তুলতে পারেনি। তা হলে হয়তো লোকজন শান্তি পাবে।

প্র: ‘রসগোল্লা’র মতো এ বারও কি হল পেতে সমস্যা হয়েছিল? 

উ: হল পাওয়ার সমস্যা তো সব সময়েই আছে। সিনেমা হলের সংখ্যা কমেছে। তার উপর প্রতি সপ্তাহে পাঁচ-সাতটা ছবি মুক্তি পায়। সকলকেই জায়গা দিতে হবে। 

‘রসগোল্লা’র সময়ে ‘জ়িরো’ মুক্তি পেয়েছিল। তার পরেই ‘সিম্বা’। তা হলে জায়গা পাবে কোথা থেকে? 

প্র: এসভিএফ-এর সঙ্গে আপনার সমস্যার কারণে এটা ঘটেনি বলছেন? নবীনা থেকে তো ‘রসগোল্লা’ নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল!

উ: একেবারেই না। আর সমস্যাই বা কোথায়? ‘কণ্ঠ’তে এসভিএফ-এর নানা ছবি থেকে আমি পাঁচটা গান নিয়েছি। ওরা আমার কাছ থেকে তার জন্য একটা টাকাও চায়নি। অন্য কোনও মিউজ়িক স্টুডিয়োর কাছ থেকে গান নিলে টাকা দিতে হতো। আমি ওদের কাছে কৃতজ্ঞ। 

প্র: এসভিএফের সঙ্গে আপনার চুক্তি ভেঙে যায় এবং আপনার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ওঠে। সে সময়ে চুপ ছিলেন কেন? 

উ: ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে গেলে ও রকম অনেক কিছু ঘটে। নবীনা সিনেমায় এক সময়ে আমার ছবি চলেনি। প্রিয়াও ছবি চালায়নি। এখন দুটো জায়গাতেই চলছে। ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতি মুহূর্তে, প্রতি শুক্রবার পট পরিবর্তন হয়। সেই শুক্রবারের অঙ্ক অনুযায়ী সম্পর্কও বদলায়। চুক্তি হয়, ভেঙে যায়। মতের অমিল হওয়ায় আমিও অনেক চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছি।

প্র: শিবপ্রসাদ-নন্দিতার নামে দর্শক ছবি দেখতে যান। এটা কোথাও শ্লাঘা তৈরি করে?

উ: আমাদের নামে নয়। আমরা যে কনটেন্টগুলো নিয়ে এসেছি সেই ভরসায় দর্শক হলে যাচ্ছেন। ভাল কনটেন্ট না হলে স্টার ভ্যালু, পরিচালক কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। দশ বছর কী করেছি ম্যাটার করে না। ওই শুক্রবারে দাঁড়িয়ে কী করলাম সেটাই বিবেচ্য। 

প্র: এ বছর হয়তো আপনার পরিচালনায় তিনটি ছবি মুক্তি পাবে। শিবপ্রসাদ-নন্দিতাও কি তা হলে ফ্যাক্টরি চালাচ্ছেন?

উ: ঘটনাচক্রে এ বছর তেমনটাই দাঁড়িয়েছে। ‘গোত্র’ করলাম বিষয়টার জন্য। এখনকার সময়ের প্রেক্ষিতে উপযুক্ত ছবি। এ বছরের কোনও একটা সময়ে রিলিজ় করব। তার পর ‘বেলাশুরু’ আছে। কিন্তু এখন আর কাজ করছি না। নভেম্বর-ডিসেম্বরে আগামী ছবি। তবে বিষয় ঠিক হয়নি।

প্র: আপনারা কম টাকা দেন— এমন অভিযোগও কিন্তু আছে।

উ: কম টাকা দিতে পারি। কিন্তু কারও টাকা মেরে দিইনি কখনও। আমার ছবি করে তাঁরা বৃহত্তর ক্ষেত্রে সুবিধে পেয়েছেন।

প্র: এক নামী অভিনেত্রী বলেছিলেন, কম টাকা পাওয়া সত্ত্বেও ‘সুপারহিট’ তকমার লোভে আপনাদের ছবি করেছিলেন।

উ: আমি গর্বিত। আর কী বলতে পারি বলুন!