তাঁদের একসঙ্গে খুব বেশি দেখা যায়নি টলিউডে। এর আগে ‘অমানুষ’ ও ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’ এই দু’টি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন সোহম ও শ্রাবন্তী। ‘শুধু তোমারই জন্য’তে তাঁদের দেখা গেলেও তার মেয়াদ ছিল বেশ অল্পই। তার পরে দীর্ঘদিন দেখা যায়নি এই জুটিকে। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। অভিমন্যু মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘পিয়া রে’ ছবিতে ফের বড় পরদায় ফিরছেন সোহম-শ্রাবন্তী। নিজেদের জুটি সম্পর্কে সোহম জানালেন, ‘‘অভিনয়ের ক্ষেত্রে শ্রাবন্তী সব সময় কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। সেটা আরও ভাল অভিনয়ের তাগিদটাকে উসকে দেয়। আর এই ছবির জন্য শ্রাবন্তী একেবারে পারফেক্ট।’’ ছবিতে সোহম-শ্রাবন্তীর নাম রবি ও রিয়া। মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে রবির সঙ্গে বস্তির মেয়ে রিয়ার প্রেমই ছবির মূল বিষয়। তাদের সম্পর্কের উত্থান-পতনই তুলে ধরছেন পরিচালক।

এর আগে রাজ চক্রবর্তীর কিছু ছবিতে চিত্রনাট্য লিখেছেন অভিমন্যু। রাজকে অ্যাসিস্টও করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে চান তিনি। ছবির বিষয় নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী পরিচালক জানালেন, ‘‘আমিই ‘প্রেম আমার’-এর গল্প লিখেছিলাম। অনেক দিন সেই ধরনের লাভস্টোরি দেখা যায়নি। আমি সেই ঘরানাটাকেই ফের তুলে ধরতে চাইছি।’’

আর মুখ্য চরিত্রে সোহম-শ্রাবন্তী জুটি নিয়ে বললেন, ‘‘গল্পটা রিয়্যালিস্টিক। রবির চরিত্রে সোহমই সবচেয়ে মানানসই। আর টলিউডে নায়কদের মধ্যে সোহমের অভিনয় অন্যতম সেরা। ‘প্রেম আমার’-এর সময় থেকেই সোহমের সঙ্গে আমার দারুণ বন্ধুত্ব।’’

আর শ্রাবন্তীর অভিনয় নিয়ে তো উচ্ছ্বসিত পরিচালক। ছবিতে নায়িকার কোনও মেকআপ ব্যবহার করা হবে না। কারণ, পরিচালক বস্তির সাধারণ মেয়েদের মতোই তুলে ধরতে চান শ্রাবন্তীকে।

প্রসঙ্গত, এর আগে অভিমন্যু ‘নূর জাহান’ নামে একটি ছবি পরিচালনা করলেও সেটি এখনও মুক্তি পায়নি। সে দিক থেকে এ রকম নামী জুটি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রথমে বেশ চাপেই ছিলেন। তবে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক দিন শ্যুট হয়ে যাওয়ার পরে অভিমন্যু বেশ স্বস্তিতে। ছবির শেডিউল মোট ২৭ দিনের। যার কাজ শেষ হবে সম্ভবত ২৬ জানুয়ারি। অধিকাংশ অংশই শ্যুট করা হয়েছে কলকাতায়। সেখানে বস্তির অংশ শ্যুট করা হয়েছে রিয়্যাল লোকেশনেই। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গেও কিছু অংশ শ্যুট করা হবে। ছবিটি সম্ভবত মুক্তি পাবে আগামী বছরের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে।

সোহম-শ্রাবন্তী ছাড়া এই ছবিতে অভিনয় করেছেন সুপ্রিয় দত্ত, কা়ঞ্চন মল্লিক প্রমুখ। একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে সোমরাজ মাইতিকেও। ছবির মিউজিক করছেন জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মোট পাঁচটি গানে থাকছে জিতের সেই অনবদ্য সিগনেচার টিউন।