ছবির একটা দৃশ্যেরও টেক হয়নি। কিন্তু তার মধ্যেই বহু বার শিরোনামে চলে এসেছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘চৌরঙ্গী’। যার নাম বদলে এখন ‘শাহজাহান রিজেন্সি’। শংকরের উপন্যাস ‘চৌরঙ্গী’ আগেই পর্দায় ইতিহাস তৈরি করেছে। সৃজিত এ বার সমকালীন দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই গল্প বলতে চলেছেন।

কিন্তু ছবিতে কে থাকছেন আর কে বাদ যাচ্ছেন তা নিয়েই গল্প লিখে ফেলা যায়। স্টার কাস্টের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ এখন আলোচনার বিষয়। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এক ছবিতে। যাঁদের সম্পর্ক নিয়ে এক সময় সরগরম ছিল টলিউড। সেই ছবির পরিচালক আবার সৃজিত। যাঁর সঙ্গেও স্বস্তিকার সম্পর্ক ছিল। ছবির সেটের রসায়ন নিয়েই হয়তো একটা সিনেমা হয়ে যেতে পারে।

সিনেমা হতে পারে নেপথ্যের গল্প নিয়েও। সৃজিতের লাকি চার্ম প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পুরনো ‘চৌরঙ্গী’র স্যাটা বোসের চরিত্র করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বয়সে মানাবে না, সেই যুক্তি দিয়ে ছবি থেকে নাম কাটিয়ে নেন প্রসেনজিৎ।

পরমব্রত ও স্বস্তিকা

নাম কাটিয়ে নেন সৃজিতের আর এক ফেভারিট যিশু সেনগুপ্তও। ডেটের সমস্যা ছাড়া যিশুর সাম্প্রতিক শারীরিক অসুস্থতাও একটা কারণ। জয়া আহসানের অভিনয় করার কথা ছিল। তিনিও করছেন না। শোনা যাচ্ছে, সৃজিতের সঙ্গে তাঁর ঝামেলার কারণেই নাকি জয়া করছেন না। তাঁর জায়গাতেই স্বস্তিকা এসেছেন।

ঘোষণার পর কোনও ছবির সব কেন্দ্রচরিত্রের মুখ বদলে যাচ্ছে, এমন কমই ঘটে। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এব‌ং অনিবার্ণ ভট্টাচার্যকে দেখা যাবে মুখ্য দুই চরিত্রে। এ ছাড়াও রয়েছেন আবির চট্টোপাধ্যায়। তিনি অবশ্য শুরু থেকেই এ প্রজেক্টে আছেন। কে কোন চরিত্র করছেন, তা খোলসা করতে চাইছেন না সৃজিত। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি এই সময়ের গল্প বলছি। পুরনো ‘চৌরঙ্গী’র সেই নামগুলো এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়।’’ তুলনা আসার কারণেই কি চরিত্রের নাম বদল? সৃজিত অবশ্য তুলনার বিষয়টা একেবারেই উড়িয়ে দিলেন। তবে শংকরের কাহিনি অনুযায়ী চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন সৃজিত। শাহজাহান হোটেলের রিসেপশনের দায়িত্বে তাই পরমব্রত এবং আবির।

সৃজিতের আগের পরিকল্পনায় যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে অঞ্জন দত্ত, মমতা শংকর রয়েছেন। নতুন চমক কিন্তু ‘বেগমজান’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এ ছাড়াও রয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয়, ঋত্বিকা সেন, সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।