• logo
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘যারা পাল্টিবাজ বলে তারা গোপনে কী করে খোঁজ নিন’

লোকে বলে ‘পাল্টিশীল’। তবে তাতে তাঁর থোড়াই কেয়ার। ‘ঈগলের চোখ’‌য়ের দুর্ধর্ষ সাফল্যের পর বিস্ফোরক পরিচালক অরিন্দম শীল। মুখোমুখি ইন্দ্রনীল রায়

Arindam
ছবি: সুব্রত কুমার মণ্ডল
  • logo

বাইরে সত্তর কিলোমিটার বেগে ঝড় চলছে। গাছ পড়ার শব্দের মধ্যেই ফিশ ফ্রাই আর কাসুন্দি খেতে খেতে তিনি একটার পর একটা গোলা বর্ষণ করছেন। সামনে রেকর্ডার...

 

আপনার ঘরে ঢুকেই দেখলাম তিনটে কাউচ...

হা হা হা হা।

 

একটা নয়, তিন-তিনটে। এগুলোই কি সেই বিখ্যাত কাস্টিং কাউচ?

কাউচ থাকতে গেলে একটা কোচ থাকতে হয়...

 

অরিন্দম শীলের থেকে বড় ‘কোচ’ কে আছেন ইন্ডাস্ট্রিতে?

একটাও কাস্টিং কাউচ নয়। সব ক’টাই বন্ধুদের বসার জন্য। এই ঘরে আমরা সবাই মিলে আড্ডা মারি। সুতরাং  কাউচগুলো একেবারে সেফ।

 

সেফ-টা কি আমি ইনভার্টেড কমার মধ্যে রাখব?

ভগবান! একটুও ইনভার্টেড কমার মধ্যে রাখবেন না। আর এই কাউচগুলোতে শুধু হিরোইনরা বসেন না, হিরোরাও বসেন। আমি কাজ করি, বাড়ি যাই। আমার ঈগলের চোখ আমার বৌয়ের দিকে। এ সব প্রেমট্রেমের প্রশ্ন আপনার সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে করা উচিত, সৃজিতবাবু প্রেমিক মানুষ...

 

ওই প্রসঙ্গে পরে আসছি। চারটে ছবি করলেন। ‘ঈগলের চোখ’ ভাল চলছে, এর আগে ‘হর হর ব্যোমকেশ’ আর ‘এ বার শবর’ও মানুষের ভাল লেগেছিল। পরিচালক অরিন্দম শীল হ্যাজ অ্যারাইভড তো?

হ্যাঁ, অনেকেই ফোন করে বলছে, ‘একেই বলে সাফল্য’। তবে এটা বোধহয় আমার থেকেও বেশি বাংলা ছবির সাফল্য। সেই দশ বছর আগে ‘এক মুঠো ছবি’ নিয়ে যে মুভমেন্টটা  শুরু করেছিলাম, এই সাফল্যগুলো দেখে মনে হচ্ছে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। ভাল বাংলা ছবি করার যে জেদ আমাদের সবার ছিল, আমার-কৌশিেকর (গঙ্গোপাধ্যায়)-সৃজিতের-শিবুর (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) — এগুলো তারই ম্যানিফেস্টেশন।

 

আপনার প্রথম ছবি দেখেই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় টুইটারে আপনার নাম দিয়েছিলেন ‘যত্নশীল’। এত যত্ন নিয়ে আপনি ছবি করেন বলে…

এ রকম এক-একটা টুইট পেলে মন ভাল হয়ে যায়। ‘আবর্ত’ হয়তো বক্স অফিসে সে রকম চলেনি, কিন্তু ক্রিটিকদের ভাল লেগেছিল ছবিটা।

 

এটা যেহেতু আনন্দplus-এ আপনার প্রথম ইন্টারভিউ, তাই আপনাকে কিছু শক্ত প্রশ্ন করতে চাই।

আমি প্রস্তুত।

‘ঈগলের চোখ’‌য়ে পায়েল

আপনার একটা ইমেজ আছে...

যেমন?

 

একটা সময় ফিল্মের লোক মানেই ইমেজ ছিল তারা মদ খায়, প্রচুর গার্লফ্রেন্ড। বাবা-মা-পাড়াপড়শিরা বলতেন ফিল্মলাইনের লোক, চরিত্র খারাপ। অরিন্দম শীলেরও কিন্তু সে রকম একটা ইমেজ ছিল।

আমার মজা লাগত এটা...

 

কাম অন। সব সময় মজা লাগতে পারে নাকি এ রকম একটা ইমেজে?

না, সব সময় মজা লাগত না। খারাপও লাগত। আমি হয়তো সবার সঙ্গে বেশি বন্ধুবৎসল হয়ে মিশতাম বলেই লোকে এমন বলত। হয়তো যখন লোকে আমার মুখের ওপর এ রকম বলছে, আমি হেসে হেসে মেনে নিয়েছি বলেই এই ইমেজটা তৈরি হয়ে গিয়েছিল।  আমি এখানে একটা কথা বলতে চাই। তোমরা আমাকে গালাগাল দিচ্ছ, মদ কি আমি একা খাই? তোমরা খাও না? তোমরা পার্টি করো না? তোমাদের অ্যাফেয়ারের কথা বললে তো ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হয়ে যাবে।

 

থামবেন না। বলুন…

আমি প্রথম দিন থেকে ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং করেছি। সব ব্যাপারেই। আমি জানি ছবির মার্কেটিংটা কী করে করতে হয়। আমি প্রোডাকশনটা বুঝি ভাই। আমি পার্টি কী করে করতে হয় সেটা জানি।

 

মিডিয়াটাও বুঝি? সবাইকে খুশি রাখি?

হ্যাঁ, সবাইকে যখন খুশি রাখছি মিডিয়াও বাদ যাবে কেন? তবে মিডিয়াতে সব এক্সক্লুসিভ খবর তো সবাইকে একসঙ্গে দেওয়া যায় না। মিডিয়াও সেটা বুঝেছে। আমি যেটা পারি অনেকেই সেটা পারে না, বস...

 

এ রকম করে বললে তো আপনার প্রতি হিংসে আরও বাড়বে।

সে তো না বললেও বাড়বে...

 

এটা কতটা সফল পরিচালক বলে আর কতটা এই হিংসায় যে, অরিন্দম ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছের লোক, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

সে হিংসে তো আছেই। ভাই, বামফ্রন্ট চলে যাওয়ার পরে সবাই তৃণমূলে আসতে চেয়েছিল। দোষ হল আমার। পাল্টিবাজ, পাল্টিশীল বলা হল শুধু আমাকে। তার পর যখন নারদা কাণ্ড হল, দিদির যারা খুব কাছের সেলিব্রিটি, তারা ফোন করে করে বলত এ বারের ইলেকশনে যেন তাদের না রাখা হয়। তার পর যে দিন ২১১ হল, সে দিন দেখি তারা দিদির পায়ে গিয়ে পড়ছে। এই তো স্বভাব। আর আমাকে নাকি বলে পাল্টিবাজ।

 

বেশ খারাপই লেগেছিল আপনার?

হ্যাঁ, লেগেছিল তো বটেই। আমাকে শিখণ্ডী খাড়া করা হয়েছিল। কিন্তু শিখণ্ডীরও তো কিছু গুণ ছিল রে ভাই। ৩০ বছর কাজ করছি ইন্ডাস্ট্রিতে। এমনি এমনি তো নয়। বলুন না আমাদের ব্যাচটার কথা। ইন্দ্রাণী, কৌশিক, চূর্ণী, আমি, বেণুদা। শুধু শুধু টিকলাম নাকি আমরা! আমি তো এসেছিলাম উৎপল দত্ত, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে দেখে। বাকিরাও তাই। আমাদের সবার একটা বেসিক পড়াশোনা ছিল। শুধু মেক আপ রুমে নোংরামো করব ভেবে তো আসিনি। যখন এ দিকটা না দেখে শুধু বদনাম করা হয়, তখন খুবই খারাপ লাগে...

 

খুব সুন্দরভাবে দেখলাম আপনি রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের নামটা নিলেন না...

(হেসে) আরে, রূপা তো এখন আর অভিনয় করে না সে ভাবে। বাট ইয়েস রূপা অলসো। আমি অভিনেত্রী রূপাকে আজও সম্মান করি।

 

ওঁর সঙ্গে ঝামেলাটা রিগ্রেট করেন?

হ্যাঁ, করি।

 

স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঝামেলাটা রিগ্রেট করেন?

আমি অভিনেত্রী স্বস্তিকাকে সম্মান করি। প্লিজ লেটস লিভ ইট অ্যাট দ্যাট।

 

আজকাল তো অনেককেই নানা কথা বলা হয় সোশ্যাল মিডিয়াতে...

হ্যাঁ, এটা একটা  নতুন ট্রেন্ড। আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই, কিন্তু যারা কিছু অ্যাচিভ করেনি তারা যখন বলে তখন খারাপ লাগে। শুধু আমি কেন, কৌশিককে টার্গেট করা হয়নি? কৌশিক একটার পর একটা ভাল ছবি করে মুখ বন্ধ করেছে সবার। শিবুকে

 

হয়নি? সৃজিত সে দিন দুঃখ করে বলছিল, ‘‘আমি কারও ক্ষতি করি না, তাও কেন আমাকে খারাপ বলে?’’

আর দুঃখটা কারা দিচ্ছে? দিচ্ছে যারা একটা মাত্র টেলিফিল্ম করেছে তারা। আরে ‘অটোগ্রাফ’‌য়ের পর একটা ‘২২শে শ্রাবণ’ বানা না। একটা ‘সিনেমাওয়ালা’ বানা না। বানিয়ে কথা বল। একটা ‘বেলাশেষে’র বক্সঅফিস কর, তার পর ক্রিটিসিজম করবি।

 

আপনি বেশ মেজাজে আছেন...

আমি সব সময়ই সোজাসাপ্টা। ়আজকে ক্রিটিসিজমটা সহজ হয়ে গেছে। দশ বছর আগেও এমনটা ছিল না। একটা কালচার ছিল ক্রিটিসিজমে। অপর্ণা সেনের ছবি খারাপ লাগলেও আমরা মুখের ওপর বলতাম না। কিন্তু আজকে সোশ্যাল মিডিয়া আসাতে ব্যাপারগুলো বদলে গেছে। আজকে সবাই খোলাখুলি বলতে পারে। রিমেক ছবির জন্য কি কম গালাগালি হয়?

 

আপনিও তো রিমেক ছবির বিরুদ্ধে?

১০০ পারসেন্ট বিরুদ্ধে। রিমেক ছবি ইন্ডাস্ট্রির কোনও ভাবে ভাল করতে পারে না।

 

রিমেকের বিরোধী বলেই কি এক সময় ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের বিরোধী ছিলেন?

ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের বিরোধিতা করাটা আমার চলচ্চিত্রের একটা কালচার।

 

আপনি তো সেই দলের নেতা ছিলেন এক সময়?

হ্যাঁ, ছিলাম। সে সময় আমাদের কানে ফিড করা হত যে, ভেঙ্কটেশ পোস্টার ছেঁড়ে, ভাল ভাবে ছবি রিলিজ করতে দেয় না।

 

নিজেও এগুলো বলতেন, কিন্তু যেই ওদের ছবি করলেন পাল্টে গেলেন।

আমি ভুলটা বুঝলাম। এটা বুঝলাম, ওরা কোনও দিন কোনও ছোট প্রোডিউসারের ক্ষতি করে না। বরং কেউ ওদের কাছে সাহায্য চাইলে ওরা সাহায্য করে। দেখুন ভাই, আমি যা যা ভুল করেছি সেটা শোধরানোর সাহস আমার আছে। সেটা সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসাই হোক, কী অ্যান্টি-ভেঙ্কটেশ থেকে প্রো-ভেঙ্কটেশ...

 

১২ অগস্ট দুটো ছবি রিলিজ হয়েছিল। আপনার ‘ঈগলের চোখ’। অঞ্জন দত্তর ‘হেমন্ত’। ‘হেমন্ত’ একেবারেই চলেনি। মনে মনে নিশ্চয়ই একটা ‘দ্যাখ কেমন লাগে’ ফিলিং হচ্ছে?

আমার কম্পিটিশন আমি নিজেই...

 

প্লিজ, এ সব বললেই পাঠকরা বুঝে যান ডিপ্লোম্যাটিক উত্তর...

(হাসি) না, সত্যি। আমার কাউকে কিছু দেখানোর নেই।

 

অন্য ভাবে জিজ্ঞেস করি। অঞ্জন আর আপনি তো ঠিক বন্ধু নন। অঞ্জনের ছবি না চলাতে আপনি কতটা খুশি?

অঞ্জনদা তো নিজেই বলেছেন কোনও সাধারণ ট্যালেন্ট শেক্সপিয়রকে ডেসট্রয় করতে পারবে না। এর পর আর আমি কী বলব। অ়ঞ্জন দত্ত এক সময় আমার গুরু ছিলেন। ‘বং কানেকশন’ থেকে ‘চলো লেটস গো’ অবধি। তার পর একদিন হঠাৎ ওঁর মনে হল আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছে ওঁর জীবনে। তার পর আর পার্টিতে আমাকে চিনতে পারতেন না। অবশ্য আমি একা নই। এ রকম অসভ্যতা উনি করেই থাকেন। রজতাভ, কাঞ্চন — সবার সঙ্গে উনি করেছেন।

সে দিন দেখলাম কোথাও উনি বলছেন, ‘এ বার শবর’ দেখেননি। আরে, অঞ্জনদা যে দিন দেখতে গিয়েছিলেন, সে দিন হলের কর্তৃপক্ষ আমাকে ফোন করে জানিয়েছিল। বয়স তো হল, এত মিথ্যের কী প্রয়োজন আর? নিজের ছবিকে ভাল করার জন্য অন্যের ছবিকে ছোট করাটা এ বার ছাড়ুন তো অঞ্জনদা। আর একটা কথা বলব কি না ভাবছি...

 

ভাবছেন কেন? এতটা তো বলেই ফেললেন। বাকিটাও বলুন।

সে দিন শুনলাম অঞ্জনদার ছেলে বেনিয়াপুকুরের বাড়িতে বসে আমাকে সলিড খিস্তি করে নাকি। আমাকে বলেছে ‘পোজার ডিরেক্টর’। মানে আমি নাকি ‘ডিরেক্টরের ভান করি’। আরে ভাই, ডিরেক্টরের ভান করে তিনটে বক্স অফিস সফল ছবি বানালাম তো।

 

কিন্তু নীল দত্ত আপনাকে গালাগালি দেবেন কেন? লাভ কী?

সে তো নীল দত্ত বলতে পারবে। দিচ্ছে যে, সে খবর আমার কাছে আছে। আরে ভাই, ও নিজে মিউজিকটা করে জায়গাটা বানাক আর একটু, তারপর ওর কথা শুনব । অনেক ছোট দেখেছি। আশীর্বাদ করছি ।

 

‘ঈগলের চোখ’‌য়ের সাফল্যের পর অনেকে বলছে অরিন্দম শীল ইন্ডাস্ট্রিকে আর একটা হিরো উপহার দিল। অনির্বাণ ভট্টাচার্য।

থ্যাঙ্ক ইউ। অনির্বাণ ইজ আউটস্ট্যান্ডিং। জাত অভিনেতা।

 

অনির্বাণ কখনও শাশ্বতকে ইনসিকিওর্ড করেছিলেন?

অ্যাক্টর হিসেবে তো অফ কোর্স করেছিল। কিন্তু অপুও পাক্কা অভিনেতা। দু’দিনের মাথায় অপুও নিজের গিয়ারটা চেঞ্জ করে নেয়। এটাই হেলদি কম্পিটিশন। দু’জনে এত ভাল করল যে সিনেমাটা দাঁড়িয়ে গেল। শুধু অনির্বাণ কেন বলছেন, জয়া এহসানকেও তো ইন্ডাস্ট্রিতে আমি ইনট্রোডিউস করেছিলাম।

 

অনেকে বলে আপনার আর সৃজিতের নাকি খুব কম্পিটিশন?

একদমই নয়।

 

মানে, গার্লফ্রেন্ডস নিয়ে নাকি প্রচুর কম্পিটিশন আপনাদের?

(হাসি) সৃজিত বাচ্চা ছেলে। ব্যাচেলর। সৃজিতের কাছে যারা ‘এক্সট্রা স্পেশাল’ বন্ধু — তারা আমার পারিবারিক বন্ধু।

 

যেমন জয়া এহসান?

হা হা হা হা হা...

 

আনন্দplus-এ আমরা গত বছর প্রথম পাঁচ পরিচালক নিয়ে একটা প্রচ্ছদ কাহিনি করেছিলাম। সৃজিত, শিবপ্রসাদ, কৌশিক, আপনি আর অনিন্দ্য। আপনি এঁদের কী ভাবে অ্যাসেস করেন?

যদি কনসেপ্টের দিক থেকে বলেন, তা হলে কৌশিকের ধারে কাছে কেউ নেই। বক্স অফিসের দিক থেকে বললে শিবু আমাদের সবার ওপরে। শিবু ফিল্মের টেকনিক্যাল দিকে অত নজর দেয় না, কিন্তু ওর চোখ থাকে গল্প বলাতে। সেখানে ও মাস্টার। বক্স অফিসের সবচেয়ে সফল পরিচালকের নাম শিবপ্রসাদ। অনিন্দ্য প্রথম ছবিতে ফাটিয়ে দিয়েছিল, এ বার তাড়াতাড়ি পরের ছবিটা করুক।

 

আর সৃজিত?

সৃজিতের মধ্যে একটা নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা আছে। ওর প্রত্যেকটা ছবি ট্রানসেন্ড করে। একটা ঝাঁপ মারার চেষ্টা থাকে সৃজিতের মধ্যে, সেটা আমারও আছে। কৌশিকের মধ্যে অতটা ঝাঁপ মারার প্রবণতা নেই। এ ছাড়া সৃজিতের একটা মডার্ন স্টোরিটেলিংয়ের  ঝোঁক আছে, যেটা আমার দারুণ লাগে। কত লোক ওর ছবি ভাল বলল, সেটা পরের কথা। কিন্তু হি ইজ ট্রাইং সামথিং নিউ। আর সবচেয়ে বড় কথা আমরা সবাই মৌলিক ছবি বানাই। আর সবাই সবার কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখি। কম্পিটিশনও আছে, আবার নিজেরা এক টেবিলে বসে আড্ডাও মারি ।

 

নিজেকে কী ভাবে অ্যাসেস করবেন?

আমি এটুকু জানি, আমি যে বাজেটে ছবি করতে পারব তা বাংলাবাজারে কেউ পারবে না। আমি ছবিটা বানাতে পারি, গল্পটা বলতে পারি — এ বিষয়ে আমি কনফিডেন্ট। এবং অনেকের থেকে ভাল পারি। আর আমি কোনও ঔদ্ধত্য ছাড়াই বলছি কথাটা।

 

কমলেশ্বরের থেকে ভাল ছবি বানান?

হ্যাঁ... মানে...

 

‘হ্যাঁ... মানে...’ কী?

মানে কমলেশ্বর আজ অবধি যেটা বানিয়েছে সেটা আমি বানাতে পারব, সে কনফিডেন্সটা আমার আছে। বেটার ফিল্মমেকার বলার চেয়ে কনফিডেন্ট বলাটা বোধহয় ঠিক।

 

শুধুই গোয়েন্দা করেছেন। শবর, ব্যোমকেশ। লোকে তো ‘গোয়েন্দা শীল’ বলা শুরু করবে এ বার?

‘ব্যোমকেশ...’‌য়ের পর আমি শীর্ষেন্দুদার একটা গল্প নিয়ে ছবি করছি। ওটা আর্বান ক্ষয়িষ্ণুতা নিয়ে। গোয়েন্দা নয়।

 

আবীর আপনার ব্যোমকেশ । অঞ্জনের যিশু। কোনও দিন যিশুকে কাস্ট করবেন না?

‘ব্যোমকেশ’‌য়ের পর যে ছবিটা করছি সেটাতে আই হ্যাভ সাইনড যিশু। যিশু দুর্দান্ত অভিনেতা। ও নিজে জানত না ও কত ভাল অভিনেতা, যদি না ঋতুদা (ঋতুপর্ণ ঘোষ) ওকে বলত। যিশু আর আবীর দু’জনে আলাদা। যিশু ক্যাজুয়াল। আবীর ভীষণ সিরিয়াস আর অ্যাম্বিশাস। আর আবীরের মধ্যে একটা সায়লেন্ট অ্যাগ্রেশন আছে।

 

যিশু, আবীর, আর পরমব্রতকে কী ভাবে রেট করবেন?

আবীর আর যিশু এই মুহূর্তে পরমের থেকে এগিয়ে। পরম ভাল অভিনেতা কিন্তু পরমের নিজেকে ভাঙতে হবে। কোথাও ওর অভিনয়টা একঘেয়ে হয়ে গেছে। ওকে ওর আইডেন্টিটি-টাও ঠিক করতে হবে। ডিরেক্টর হবে না অ্যাক্টর — এই কনফিউশনটা ওর অভিনয়ের ক্ষতি করছে।

 

এই ইন্টারভিউয়ের পর কিন্তু প্রচুর রিঅ্যাকশন আসবে।

এলেই তো ভাল। না এলেই বরং আশ্চর্য হব। কী বলবে? অরিন্দম শীল এতটা স্টেপ আউট না করলেই পারত! এটাই বলবে তো। এত দিন ওই খেলাটাই খেললাম, কোনও মতেই ওই স্টাইলটা চেঞ্জ করছি না।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন