পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করলেও তিনি যে দাপুটে অভিনেত্রী, তা মালুম হয়েছিল ‘তারে জ়মিন পর’-এর পরেই। এর পরে সিনেমা, মঞ্চ, ওয়েবে নানা কাজ করেছেন টিস্‌কা চোপড়া। আবার তাঁকে দেখা যাবে টিভির পর্দায়। কিন্তু টিভিতে ফেরার জন্য টিস্‌কা বেছে নিয়েছেন ‘সাবধান ইন্ডিয়া’র মতো নন-ফিকশন শোয়ে সঞ্চালিকার ভূমিকা। ‘‘আসলে ধারাবাহিকটি আইকনিক। এটার মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কাছে পৌঁছনো যাবে। আর নিজেও টিভিতে নন-ফিকশনই করতে চাইছিলাম। আমার পরিবারের অনেকেই ‘সাবধান ইন্ডিয়া’ দেখেন। তাই সুযোগটা হাতছাড়া করতে চাইনি,’’ জবাব টিস্‌কার।

তবে শুধু অভিনয় কিংবা প্রযোজনাই নয়, এ বার নির্দেশক হতে চান টিস্‌কা। শুরু করে দিয়েছেন তাঁর ডেবিউ ডিরেকশনের কাজও। বললেন, ‘‘ছবিটা থ্রিলার। চিত্রনাট্য প্রায় শেষের মুখে। আমি যেমন উত্তেজিত, তেমন ভয়ও পাচ্ছি। প্রথম কাজ বলেই খুব সাবধানে এগোনোর চেষ্টা করছি।’’ এখনও তাই ছবিতে অভিনয় কারা করবেন, সেটা ঠিক করেননি নবাগতা পরিচালক। তবে তার মাঝেই চলছে অভিনয়। বললেন, ‘‘হালকা ধরনের ছবি ‘গুড নিউজ়’, তবে আবার পুরোপুরি কমিক নয়। ছবিটায় অক্ষয়কুমার, করিনা কপূরের মতো অভিনেতারা রয়েছেন।’’

কাস্টিং কাউচ, #মিটু আন্দোলনের প্রসঙ্গে বরাবরই সরব টিস্‌কা। ‘‘বছরের পর বছর ধরে মেয়েদের সঙ্গে যা খুশি করে যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ানো বা পালিয়ে বেঁচে যাওয়া যায় না... #মিটু-র মাধ্যমে এটা অন্তত সকলে বুঝতে পেরেছে। প্রকাশ্যে আসা, মিডিয়ার মুখে পড়া, কাজ থেকে বার করে দেওয়া... এ সবের ভয়টা আসলে মারাত্মক কাজ করছে। কিছু ক্ষেত্রে #মিটু সার্চলাইটের কাজ করেছে,’’ বলছেন টিস্‌কা। এত প্রতিবাদের মাঝে টিস্‌কা নিজেকে কি ফেমিনিস্ট মনে করেন? জবাব এল তাড়াতাড়ি, ‘‘বরং হিউম্যানিস্ট বলতে পারেন। আমি মনে করি, সমাজে মেয়েদের অস্বীকার করা বা না মানাটা বোকামো। ব্যালান্সের জন্য দু’পক্ষই জরুরি। আর প্রত্যেকেই তো নিজেদের মতো করে আলাদা।’’

টিস্‌কা সম্প্রতি শেষ করেছেন গুরিন্দর চড্ডার পরিচালনায় ‘নুরজাহান’। তা নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। বললেন, ‘‘নুরজাহানের চরিত্রে অভিনয় করেছি। কাজের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। মীরা নায়ার, গুরিন্দরের সঙ্গে আমি বরাবরই কাজ করতে চেয়েছিলাম।’’ মুক্তি পাবে ওয়েব সিরিজ় ‘হস্টেজেস’ও। ‘‘এই ওয়েব ওয়েভে এখন এত ভাল ভাল কাজ হচ্ছে যে, এই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে আছি বলে গর্ববোধ হয়।’’ সাক্ষাৎকারের মাঝেই বারবার মেয়ের আবদার। শেষ অবধি টিস্‌কা হেসে বলেই ফেললেন, ‘‘কাজ, পরিবার সামলানোটা আসলে স্ট্রাগল। রোজকার লড়াই। তবে স্বামী, সন্তান, পরিবার যদি আপনার কাজকে বোঝার চেষ্টা করে, লড়াইটা সহজ হয়।’’