শীত মানে কারও কাছে নরম রোদের ওম নেওয়া, তো কারও কাছে শীতকালীন পোশাকে কেতাদুরস্ত হওয়া। কেউ জমিয়ে পিঠে-পুলিতে পেটপুজো করেন, তো কেউ আবার ডুবে যান আড্ডায়।

 

ঠান্ডা হাওয়ার পরশ

শীতের আবহাওয়া যে কলকাতার জন্য একেবারে আদর্শ, সেটাও তারকাদের শীতপ্রেমের অন্যতম কারণ। প্রিয়ঙ্কা সরকার যেমন বলছেন, ‘‘এমনিতেই ৩১ ডিসেম্বর আমার জন্মদিন। ফলে শীতকে ঘিরে আলাদা ভাল লাগা তো আছেই। তার পাশাপাশি ওয়েদার এতটাই ভাল থাকে যে, কাজ করে ক্লান্ত হই না। বরং অনেক বেশি এনার্জি পাই।’’একই কথা মানছেন অঙ্কুশও। বলছেন, ‘‘গরম আর শীতের মধ্যে তুলনা করতে হলে অবশ্যই শীতকে এগিয়ে রাখব ওয়েদারের জন্য। আবহাওয়া এতটাই মনোরম থাকে যে, শীতকালে সারাদিন শুটিং করতে অসুবিধে হয় না।’’

 

ফ্যাশনের গল্প

শীত আবার অনেকের কাছে একেবারে হিট ফ্যাশনের জন্য। যিশু সেনগুপ্ত বলছেন, ‘‘আমি জ্যাকেট পরতে ভীষণ ভালবাসি। এই সময়টায় নানা ধরনের জ্যাকেট পরা যায়। সেটা শীতপ্রেমের একটা কারণ অবশ্যই।’’ আবার অঙ্কুশের মতে, ‘‘জামাকাপড় বাছার জন্য এই সময়টায় সচেতন হতে হয় না। অথচ টিশার্টের উপরে জ্যাকেট, স্কার্ফ সব মিলিয়ে নানা লেয়ারে পোশাকও পরা যায়। ’’

 

পিঠে, পেস্ট্রি আর আচার...

শীত মানেই নলেন গুড়, রকমারি পেস্ট্রি আর হরেক খাবার। ডায়েট ভুলে টলি সেলেবরা এই সময়টা কিন্তু খাবারের দিকেই বেশি মনোযোগ দেন। নুসরত যেমন নিজে হাতেই পায়েস বানিয়েছেন এ বার। তা শেষও করে ফেলেছেন! এ বার অপেক্ষা পিঠেপুলির জন্য। অভিনেত্রী বলছেন, ‘‘ছোটবেলায় দুপুরবেলা ভাত খেয়ে ছাদে চলে যেতাম। তক্তপোশ পেতে ঠাকুমা-বোন সকলে মিলে রোদ পোহাতে পোহাতে কমলালেবু খেতাম। এখন ব্যস্ত শিডিউল থাকার জন্য ঠিক মতো খাওয়া হয় না। কিন্তু শীতকালে রসেবশেই থাকি।’’ প্রিয়ঙ্কাও এই মরসুমে মেতে থাকেন পিঠে-পুলিতে। আবার সারা শীতকালটা জুড়ে কমলালেবুর প্রেমে থাকেন কোয়েল। তিনি বলছেন, ‘‘আমি আর ছোড়দি মিলে ছাদে নানা রকম আচার শুকোতে দিতাম। আর দু’জনেরই জিভে জল আসত। তাই আচার ঠিক মতো হল কি না দেখার জন্য চাখতে চাখতেই শেষ! তাই আজও কারও বাড়িতে আচারের কথা শুনলে ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে যায়। আর এখন দেদার পেটপুজোর পরেই ক্যালরি কাউন্টটা মনে মনে শুরু হয়ে যায়। তা বলে কি আর শীতে না খেয়ে থাকা যায়?’’

 

খেলাধুলো, হুল্লোড়, আড্ডা অন্তহীন

যিশু বরাবরই ক্রিকেটপ্রেমী। শীত প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে স্মৃতিমেদুর হয়ে গেলেন। বললেন, ‘‘শীত বলতেই আমার মনে পড়ে যায় ক্রিকেটের কথা। নব্বইয়ের দশকে ক্রিকেটটা মূলত শীতকালেই হতো। এখন যেমন সামার ক্রিকেট হয়, তখনও সেটা তেমন ভাবে চালু হয়নি। তাই আমি শীতের ক্রিকেটটা খুব মিস করি।’’ কোয়েলও আবার মিস করেন নানা রকম আউটডোর গেম। বললেন, ‘‘ছোটবেলায় চড়ুইভাতি আর চিড়িয়াখানায় যাওয়া হতই। বাস্কেটে করে কমলালেবু, চিকেন স্যান্ডউইচ, মাটন চপ নিয়ে গিয়ে খাওয়া, হই-হুল্লোড়, আরও কত কী! সেগুলো এখন আর হয় না। তবে আড্ডাটা হারিয়ে যায়নি। এই তো বর্ষশেষে সব ভাইবোন মিলে পটলাক পার্টি করলাম।’’ অঙ্কুশও চড়ুইভাতির স্মৃতির রেশ টেনে বললেন, ‘‘২৫ ডিসেম্বর আমার জেঠুর জন্মদিন। আগে পরিবারের প্রায় ৩৫-৪০ জন মিলে ওই দিনটায় পিকনিকে যেতাম, কেক কাটতাম। এখন সকলেই নানা জায়গায় ছড়িয়ে গিয়েছে। ফলে একসঙ্গে হুল্লোড়টা মিস করি। এখন আমাদের অনেক শো থাকে এই সময়টা জুড়ে। অবসর পেলে হয়তো কাছের বন্ধুরা মিলে হাউস পার্টি করি, কোনও ফিল্ম দেখি।’’ নুসরত বলছেন, ‘‘সকালবেলা ঘুম থেকে উঠব উঠব করেও উঠতে ইচ্ছে করে না। লেপটা টেনে যতক্ষণ বিছানায় থাকা যায়! আর বিকেলে হলরুমে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ভাল সিনেমা দেখা।’’

শীতের প্রেমে পড়ার হাজারো কারণ।  রুপোলি পর্দা ছেড়ে আর পাঁচজনের মতোই  শীত উপভোগ করেন তারকারা।

মেকআপ: অভিজিৎ চন্দ; স্টাইলিং: ঐন্দ্রিলা বসু পোশাক ও অ্যাকসেসরিজ়: ম্যাঙ্গো, ফোরাম কোর্টইয়ার্ড 
১৯৪৮ বিএসএ ব্যান্টাম মোটরসাইকেল সৌজন্য: অরিজিৎ ভট্টাচার্য