ফোনের পিছনের ক্যামেরা ১২ মেগাপিক্সেল। সামনের সেলফি ক্যামেরাটাও আবার ৭ মেগাপিক্সেলের।

টেকনোলজিতে তেমন সড়গড় না-হলেও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, এ ফোনে তোলা ঝকঝকে ছবি টেক্কা দিতে পারে দামি ক্যামেরার সঙ্গে।

আর হ্যাঁ, এ ফোন কিন্তু ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট। ভিজলেও ফোনের কোনও ক্ষতি হবে না, তাই বৃষ্টিতে বান্ধবীর সঙ্গে সেলফিও নো প্রবলেম।

তবে এই দিওয়ালির মরসুমে যদি ভাবেন — যাব, দেখব, কিনব... উঁহু, অতটা সহজ হবে না।

মধ্য কলকাতার এক ইলেকট্রনিক মলের চারটে ফ্লোর তন্নতন্ন করে যেমন কিনতে পারলেন না এক মাঝবয়সি ব্যবসায়ী। কিনবেন কী করে? শুধু কলকাতা নয়, গোটা বিশ্বজুড়েই যে আইফোন সেভেন আর সেভেন প্লাসের স্টক প্রায় শেষ।

দাম আকাশছোঁয়া, সবথেকে নীচের মডেলই পড়বে সাতান্ন হাজার। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা নিয়ে আবার ঠাট্টার ‘মেম’: আইফোন সেভেন কিনতে এ বার বেচতে হবে কিডনি!

তবু চাহিদার শেষ নেই! কেন?

 

দু’মাসে স্টক শেষ

‘‘দেখুন, আইফোন সেভেনের আগে প্রায় সাত-আট মাস ফোনের নতুন কোনও মডেল বের করেনি অ্যাপেল। বাজারে নতুন ফোনের চাহিদাটা তাই ছিলই। ফলে নতুন মডেল বাজারে আসতেই নিমিষে উধাও হয়ে যায় বাজার থেকে। তার ওপর যোগ হয়েছে ফেস্টিভ সিজন। অনেকেই গিফট দেওয়ার জন্য ফোন কেনেন। দু’য়ে মিলে এই অবস্থা। আইফোন সেভেনের অল্প কিছু স্টক থাকলেও, আইফোন সেভেন প্লাস আমার কাছেও নেই। এত চাহিদা, আমি তো চেনাজানা ফোন নম্বর ছাড়া আর ফোনও তুলছি না,’’ হাসতে হাসতে বলছিলেন আরজি সেলুলারের কর্ণধার রবি গুপ্ত।

ডিএসএলআরের সঙ্গে টেক্কা তো দিতেই পারে। আর একটা সুবিধা হল, ফোনেই যেখানে ক্যামেরা, ইন্সটাগ্রামে লাইকের ঝড় ওঠা তো শুধু সময়ের অপেক্ষা।

 

আইফোন ছাড়া অসম্ভব

আইফোন কেনার হিড়িকে তাই সামিল সেলিব্রিটিরাও। অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর যেমন স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, ‘‘হ্যাঁ, আমি কিনে নিয়েছি আইফোন সেভেন। ভাবতে পারেন, মাত্র দু’মাস আগে আইফোন সিক্স প্লাস কিনেছিলাম। কিন্তু কী করব! নতুন মডেলের আইফোন আমার চাই-ই-চাই।’’ স্লো মোশন ভিডিয়ো, ফিল্টার, এফেক্টস — এগুলোই আইফোনের দিকে টেনেছে নায়িকাকে। বলছিলেন, ‘‘আমার তো সব মুডের জন্য ভিডিয়ো তোলা থাকে। এই তো দিওয়ালির জন্য বেশ কিছু তুলছি। ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করব এ বার। আর আইফোন ব্যবহার করা ভীষণ সহজ। এখন আর অন্য কোনও ফোন ব্যবহার করতে পারব না।’’

ভিডিয়োও তেমনই। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় ফোর-কে রেকর্ডিং, অর্থাৎ এই ফোন দিয়ে সিনেমা রেকর্ড করে সিনেমা হলের পর্দায় ফেললেও ছবি একটুও পিক্সেলেটেড হবে না বা ফেটে যাবে না। আগের মডেলের আইফোন দিয়েই যখন সানডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাওয়া ‘ট্যাঞ্জেরিন’, কিংবা অস্কার পাওয়া ‘সার্চিং ফর সুগারম্যান’ বানানো হয়েছে, তখন বুঝতেই পারছেন আইফোন সেভেন কেমন বিপ্লব এনে দেবে।


শ্রাবন্তী

মাসিক কিস্তিতেও তো হয়

আইফোন সেভেন বাজারে আসার আগে অনেকেই দুঃখ করছিলেন, কোনও হেডফোন জ্যাক না থাকায়। তবে সেটাকে তেমন কোনও অসুবিধাই মনে করছেন না অনেকে। ‘‘আরে অনেক দিন থেকেই তো ব্লু টুথ হেডফোন ব্যবহার করছি। হেডফোন জ্যাক না থাকলে কিচ্ছু এসে যাবে না,’’ বলছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় চাকুরিরত এক তরুণ।

ফোন যতই ভাল হোক না কেন, দামও কিন্তু আকাশ ছোঁয়া! এক্সচেঞ্জ অফারও তেমন নেই। অনলাইনে আইফোন সিক্স দিলে হাজার ছয়েকের মতো টাকা পাওয়া যেতে পারে। এমন অবস্থায় সব থেকে নীচের মডেল কেনাও তো সম্ভব নয় কলেজ পড়ুয়াদের? ‘‘স্টোরে কিন্তু মাসিক কিস্তিতেই পাওয়া যায় আইফোন সেভেন। মাসে পাঁচ হাজার টাকাতেই হবে। ক্রেডিট কার্ডও লাগবে না। আর ক্রেডিট কার্ড থাকলে তো আরও অল্প টাকার কিস্তিতেই পেয়ে যাবেন,’’ বলছিলেন এক মোবাইল স্টোরের মালিক। তবে আইফোনের প্রতিদ্বন্দ্বীও এসে গেছে বাজারে। গুগল এনেছে পিক্সেল। ফিচারের দিক থেকে টেক্কা দিতে পারে আইফোনকে।

ফার্স্ট ডে, ফার্স্ট বায়ার

তবে সেলিব্রিটিদের মধ্যে আইফোন সেভেন নিয়ে মাতামাতি চোখে পড়ার মতো। ভারতে ফোন রিলিজের দিনই কিনতে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী। ‘‘আইফোন ব্যবহার করে এমন অভ্যাস হয়ে গেছে যে, আর অন্য কোনও ফোন আমি ব্যবহার করতে পারব না। এখনও একটা অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে আমার সঙ্গে, সেটাও লেটেস্ট মডেল কিন্তু আইফোন সেভেনের সঙ্গে কোনও তুলনাই চলে না। ছবির কোয়ালিটি বলুন, কী ব্যবহারের স্বাচ্ছন্দ্য — কোনওটাতেই আইফোনের বিকল্প হতে পারে না। আইফোনের ব্যাপারে আমি একেবারে ফার্স্ট ডে, ফার্স্ট বায়ার,’’ মজা করে বলছিলেন নায়িকা।

কলকাতায় আইফোন সেভেনের প্রথম ব্যবহারকারীদের মধ্যে অন্যতম নায়ক দেব। তবে তিনি কিন্তু একটু অন্য কথা বলছেন। ‘‘একদম পয়সা নষ্ট,’’ স্পষ্ট জবাব। তাঁর মতো টেক স্যাভির মুখে এমন কথা শুনে তো চমকে যাবেন সবাই! ‘‘এমন কিছু নতুন তো নেই আইফোন সেভেনে। ওজন কম আর ক্যামেরাটা একটু ভাল — তা ছাড়া আর কী আছে! আইফোন সিক্স এস থাকলে, সেভেন কেনার কোনও মানে হয় না। আমি পরের বছর আইফোন এইটের জন্য মুখিয়ে আছি,’’ বললেন দেব। 

এখনও আইফোন সেভেন পকেটস্থ না করে থাকলে, ক্যাম্প খাটাবেন দোকানের সামনে? নাকি দেবের মতো অপেক্ষা করবেন আইফোন এইটের জন্য?

যাই হোক, আইফোনকে ‘মাই’ফোন করতে এটুকু কষ্ট করতে হবে বইকী!