বরুণ ধবন

শাহরুখ খান তাঁর সম্বন্ধে বলেন, নিজের দেখা সবচেয়ে পরিশ্রমী আর নিষ্ঠাবান অভিনেতা। অনিল কপূরের মতে, ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ থেকে আজ পর্যন্ত অভিনেতা হিসেবে তাঁর বেড়ে ওঠা অবিশ্বাস্য। সলমন খান তো ‘জুড়ুয়া’ ছবির সিক্যুয়েলে অন্য কাউকে ভাবতেই পারছেন না।

এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন কার সম্বন্ধে বলা হচ্ছে? সত্যিই হিন্দি ছবিতে পরের প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে বাকিদের পিছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন ডেভিড ধবন পুত্র। ডেবিউ ছবি ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’-এর পর বরুণকে কেউ তেমন প্রতিশ্রুতিবান বলে মনে করেননি। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন বরুণ। সবচেয়ে বড় কথা, তিরিশ বছর বয়স হতে না হতেই সব ঘরানার ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছেন তিনি। ‘হাম্পটি শর্মা কী দুলহনিয়া’র মতো কমেডিতে যতটা স্বচ্ছন্দ, ততটাই ‘বদলাপুর’-এর মতো রিভেঞ্জ ড্রামায়। ‘এবিসিডি টু’তে আবার দেখিয়ে দিয়েছেন, নাচেও কম যান না।

ছ’বছরের কেরিয়ারে ফ্লপ মাত্র একটা। ‘দিলওয়ালে’। কিন্তু তাতে তাঁকে দোষ দেওয়া যাবে না। ছবিটা প্রায় পুরোটাই ছিল শাহরুখের কাঁধে ভর করে। এ বছর তো চমকে দিয়েছেন ‘বদ্রিনাথ কী দুলহনিয়া’তে। বিয়াল্লিশ কোটি বাজেটের ছবিকে বক্সঅফিসে একশো কোটির মুখ দেখিয়েছেন। বক্স অফিসে বাজি রাখতে এখন অনেকেই তাই ভরসা করছেন বরুণের উপর।

আরও পড়ুন: গুলির শব্দ আর যৌনতার গন্ধ

সুশান্ত সিংহ রাজপুত

অভিনয়ের দিক থেকে বিচার করলে বরুণের চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে থাকবেন না সুশান্ত। ছোট পরদা থেকে উঠে আসা এই অভিনেতার অভিনয় নিয়ে কেউ কখনও বিরূপ মন্তব্য করেননি। বরং একবাক্যে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ‘কাই পো চে’ থেকে ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’র। মিডিয়ার বিরাগভাজন হয়েছেন নিজের ব্যবহারে। ‘পবিত্র রিস্তা’ ধারাবাহিক থেকেই সুশান্তকে চেনা এক সাংবাদিক দুঃখ করে একবার বলছিলেন, ধোনির বায়োপিক পরবর্তী সুশান্তকে যেন আর চেনাই যায় না!

‘রবতা’ নিয়ে যত গুঞ্জনই থাকুক না কেন, বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে ছবিটা। বলিউডে তাই একটু পিছিয়েই পড়েছেন উদ্ধত সুশান্ত। সঙ্গে যোগ হয়েছে কম ছবিতে অভিনয়। পাঁচ বছরে ছবি মাত্র পাঁচটা। মুম্বইয়ে অনেকেই মজা করে সুশান্তকে আমির খানের সঙ্গে তুলনা করা শুরু করেছিলেন। অবশ্য পরের বছর সে পরিস্থিতিটা আশা করি বদলাবে। ২০১৮য় তাঁর হাতে তিনটে ছবি। ‘চন্দামামা দূর কে’, ‘ড্রাইভ’ আর ‘কেদারনাথ’। তবে বরুণকে হারাতে হলে সুশান্তকে ছবির সংখ্যা বাড়াতেই হবে।

 

সিদ্ধার্থ মলহোত্র

সিদ্ধার্থের ডেবিউও বরুণের সঙ্গে। ২০১২ সালে। তখন তাঁকেই বেশি প্রমিসিং মনে করেছিল ইন্ডাস্ট্রি। কমবয়সি মহিলা ফ্যানদের মধ্যে সিদ্ধার্থকে টেক্কা দেওয়ার লোক পাওয়া শক্ত। তবে অভিনয়ের দিক থেকে ক্রমশই পিছিয়ে পড়েছেন এই সুদর্শন অভিনেতা। একার কাঁধে কোনও সিনেমাকে বয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। সবচেয়ে সমস্যা হল, তাঁর শেষ দু’টো ছবির বক্স অফিসে মারাত্মক ভরাডুবি হয়েছে। ‘বার বার দেখো’ এবং ‘আ জেন্টলম্যান’। ভিন্ন ঘরানার ছবি করলেও সাফল্য আসেনি। অনেক নিবেদিতপ্রাণ ভক্তও রাগ করে ‘ক্যাবলা’ বলা শুরু করেছেন। কারণ, অভিনয়ে দুষ্টুমি ব্যাপারটা একেবারেই আনতে পারছেন না তিনি। হিট ছবি ছাড়া ভক্ত সমাগম ধরে রাখা যে কঠিন, সেটা নিজেও এত দিনে বুঝেছেন সিদ্ধার্থ। পরের বছর রিলিজ করবে নীরজ পাণ্ডের ‘আইয়ারি’। সেটায় যদি ভাগ্য ফেরে!

 

টাইগার শ্রফ

টাইগারের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হল, তিনি খবরে বেশি থাকেন, ছবিতে নয়। কেরিয়ারের প্রথম দুটো ছবি হিট করলেও, সেই আগুনে নিজের গা সেঁকতে পারেননি জ্যাকি শ্রফ-পুত্র। ফলে মুম্বইয়ের ছবির বৃত্ত থেকে ক্রমশ দূরে সরে যেতে থাকেন। হাতে ভাল ছবি থাকলেও, তাঁর ছবি নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না মিডিয়ায়। তাঁকে দেখা যায় গসিপ কলামে। দিশা পটানির সঙ্গে টাইগারের প্রেমকাহিনিই ইন্ডাস্ট্রির মুচমুচে খবর। টাইগারের আস্তিনে সেরা অস্ত্র তাঁর নাচ। টাইগারকে পছন্দ না করলেও অনেকেই মনে করেন, এই মুহূর্তে বলিউডে নাচের দিক থেকে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তার জন্য ছোট ছেলেমেয়েদের মধ্যে টাইগারের আলাদা ক্রেজ রয়েছে। কিন্তু লাভের অংশ ঘরে তুলতে পারলেন কই!  এক নৃত্যশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করলেও
‘মুন্না মাইকেল’-এর ভরাডুবি হল বক্স অফিসে।