ঠিক এক বছর আগের একটি সন্ধে। রাজ চক্রবর্তী-শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের রিসেপশন পার্টি। মূল মঞ্চে নবদম্পতি অতিথি আপ্যায়নে ব্যস্ত। এ দিকে নিমন্ত্রিতদের মধ্যে গুঞ্জন... ওই যা হয়, বিয়ে নিয়ে কিছু নেতিবাচক আলোচনা। রাজ-শুভশ্রী কিন্তু জানতেন, তাঁদের বিয়ে নিয়ে অনেক রকম আলোচনা-বিতর্ক চলবে। কিন্তু কোনও কিছুকেই তাঁরা আমল দেননি। শুধু নিজেদের নিয়ে মগ্ন থেকেছেন। এখন তাঁদের দেখলে যে কেউ বলবেন, ‘মেড ফর ইচ আদার’। 

আগামিকাল রাজ আর শুভশ্রীর বিয়ের এক বছর পূর্ণ হবে। অ্যানিভার্সারিতে কী প্ল্যান? ‘‘পরিবার আর অল্প কয়েক জন বন্ধু নিয়ে ছোট একটা গেট টুগেদার করছি। এর বেশি কিছু নয়,’’ বললেন রাজ। লার্জার দ্যান লাইফ ছবি করতে ভালবাসেন আর প্রথম বিবাহবার্ষিকীতে ছোট গেট টুগেদার? হাসতে হাসতে রাজের জবাব, ‘‘আমরা জীবনটাকেই বড় করে দেখছি। অনুষ্ঠানগুলোকে নয়।’’ 

বিয়ের পর জীবন কতটা বদলে গেল? ‘পরিণীতা’ ছবির সেটে শুভশ্রীকে প্রশ্নটা করতেই হাতের মুদ্রায় দেখিয়ে দিলেন, তিনি তোফা আছেন। ‘‘পুরো ক্লাউড নাইনে আছি। মাটিতে পা-ই পড়ছে না! রাজের বাড়ির সকলে আমাকে ভীষণ ভালবাসে। সারাক্ষণ প্যাম্পার করে। আমাদের বাড়িতে প্রতিযোগিতা চলে, কে কাকে সবচেয়ে বেশি প্যাম্পার করতে পারে...’’ শুভশ্রীর মুখের দ্যুতি বলে দিচ্ছিল, তিনি সত্যিই ক্লাউড নাইনে!

বিয়ের পরে কাজ থেকে এক বছরের ব্রেক নিয়েছিলেন শুভশ্রী। রাজও ওই সময়টায় খুব বেশি কাজ করেননি। দু’জনে দু’জনকে সময় দিয়েছিলেন। প্রচুর ঘুরেছেন। বিয়ের পরেই আমেরিকা গিয়েছিলেন। লাস ভেগাস, আটলান্টা, লস অ্যাঞ্জেলেস। তার পর লন্ডন, দুবাই। ‘‘আমাদের কাজ না থাকলে বাড়ির সবাই মিলে আড্ডা দিই। নেটফ্লিক্স, অ্যামাজ়ন চালিয়ে কিছু দেখি। ওয়েব সিরিজ় নিয়ে আমরা দু’জনেই অ্যাডিকটেড। হলে গিয়ে সিনেমা, নাটক দেখি,’’ বলছিলেন শুভশ্রী। 

আগের মতো রান্নাবান্না করেন? ‘‘এই বাড়িতে কেউ আমাকে রান্না করতেই দেয় না। আমার শাশুড়ি মা বলেই রেখেছেন, আমাকে দিয়ে যেন কাজ না করানো হয়,’’ লাজুক হেসে বললেন নায়িকা। শুটিংয়ে আসার আগে রাজকে তাঁর মা সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, আদরের বৌমাকে যেন রোদের মধ্যে শুটিং না করানো হয়। পরিচালক অবশ্য সে বারণ মানতে পারেননি!

গত এক বছরে শুভশ্রীর মধ্যে বদল না এলেও, রাজ কিন্তু আগের চেয়ে অনেক ধীরস্থির হয়েছেন। তাঁর ইউনিটের সহকর্মীরাই জানালেন, রাজ আগের মতো মাথা গরম করেন না। পরিচালকের কাছে প্রশ্ন করতে পুরো কৃতিত্ব বেটার হাফকে দিলেন, ‘‘এটা শুভশ্রীর জন্য হয়েছে। ওর মধ্যে ভীষণ পজ়িটিভিটি আছে। সেটা বাড়ির সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে। ও সবাইকে নিয়ে চলতে ভালবাসে। শুভর সঙ্গে থেকে আমিও অনেক শান্ত হয়ে গিয়েছি। খিটখিটে ব্যাপারটা কমে গিয়ে আমার মধ্যেও একটা ‘কিউট’ ব্যাপার এসেছে! আমি ভাগ্যবান যে, শুভর মতো জীবনসঙ্গী পেয়েছি।’’ 

রাজ-শুভশ্রীকে যাঁরা কাছ থেকে চেনেন, তাঁরা জানেন এর কোনওটাই অত্যুক্তি নয়। রাজের বাড়ির সকলের সঙ্গে দিব্যি মিলেমিশে গিয়েছেন শুভশ্রী। যে কমপ্লেক্সে তাঁরা থাকেন, সেখানে শুভশ্রীর আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। জানালেন, সেটা নিজের বাবা-মায়ের জন্য রেখেছেন। বন্ধুবান্ধব এলে পার্টি করেন। বিবাহবার্ষিকীর পার্টিও সেখানেই হবে।

এক বছরের দাম্পত্য জীবনে মিঠে স্বাদের সঙ্গে কিছু টক-ঝাল মুহূর্ত যোগ হয়নি? ‘‘এই তো মোটে এক বছর হল। এর মধ্যে ঝগড়া কী হবে! কেনই বা হবে?’’ পাল্টা প্রশ্ন তুললেন শুভশ্রী। একে অপরের ফোনের পাসওয়ার্ড জানেন? ‘‘আমাদের মধ্যে গোপন কিছু নেই,’’ স্পষ্ট জবাব রাজের। একটু থেমে যোগ করলেন, ‘‘সম্পর্কে বিশ্বাস আর শ্রদ্ধাটাই আসল। ভালবাসা কম-বেশি হলেও চলে যায়।’’

রাজের কথা মনে করিয়ে দেয় এক বছর আগের একটি সকাল, যে দিন আনন্দ প্লাসকে জানিয়েছিলেন, শুভশ্রীর সঙ্গে এনগেজমেন্ট সারছেন। চারপাশের নেগেটিভিটিকে দূরে রাখার জন্য বিষয়টা প্রাথমিক ভাবে গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। নেগেটিভিটিকে কিন্তু সত্যিই তাঁরা নিজেদের জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন। হ্যাপি কাপলের আদর্শ সংজ্ঞা হতে পারেন রাজ আর শুভশ্রী।