ব্যক্তিগত জীবন আর পেশাগত জীবন আলাদা রাখা খুব সোজা কথা নয়। সমান্তরাল চলতে থাকা দুটি লাইন কোথাও যেন এসে মিলে যায়। সেলেব্রিটির জীবনও বোধহয় খানিকটা তেমনই। স্বাভাবিক ভাবেই তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকিঝুঁকিটা অনেক বেশি হয়। কিন্তু খবর প্রকাশ হওয়া এবং সেই প্রেক্ষিতে কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে অহেতুক নিন্দের ঝড় বইয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। 

শ্রাবন্তীর তৃতীয় বিয়ের খবর প্রকাশিত হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নায়িকা ট্রোলড হতে থাকেন। ফেসবুক ছেয়ে যায় তাঁর মিমে। গোটা বিষয়টি নিয়ে শ্রাবন্তী মুখ না খুললেও টলিউড কিন্তু তাঁর পাশেই রয়েছে।

শ্রাবন্তীর তৃতীয় বার বিয়ে করা নিয়েই মেতে উঠেছে ট্রোলরা। কিন্তু কারও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অহেতুক এই নিন্দেমন্দ কেন?  ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই শ্রাবন্তীর পক্ষে সওয়াল তুলেছেন। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী নিজের ফেসবুকে নায়িকার ট্রোল হওয়া নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছেন। শ্রাবন্তী তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নন, এমনটাই নিজের পোস্টে লিখেছেন সুদীপ্তা। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথম দু’দিন সব দেখেও চুপ ছিলাম। তার পর আর পারলাম না। এ কী অসভ্যতামি!’’ 

শ্রাবন্তীর বন্ধু এবং সহকর্মী তনুশ্রী চক্রবর্তীও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেয়ে থাকা মিমগুলো দেখে অবাক! ‘‘শ্রাবন্তীর জন্য আমার অনেক শুভেচ্ছা। ও যেটা ভাল মনে করেছে, সেটা করেছে। অনেক মানুষই একাধিক বার বিয়ে করেছেন। কিন্তু শুধু নায়িকা বলেই হয়তো শ্রাবন্তীকে জাজ করা হচ্ছে, ট্রোল করা হচ্ছে। কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে টানাটানি কেন হবে?’’ প্রশ্ন তনুশ্রীর।

মিমি চক্রবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকে অনেক বার ট্রোল হয়েছেন। শ্রাবন্তীর বন্ধু হিসেবে মিমির বক্তব্য, ‘‘অভিনেত্রী বলেই হয়তো এগুলো সহ্য করতে হচ্ছে ওকে। কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই নোংরামো এ বার বন্ধ হোক। পর্দার আড়ালে থেকে যা খুশি বলা খুব সোজা।’’ 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রাবন্তীর সমর্থনে আওয়াজ তুলেছেন রাজর্ষি দে, সৃজিত মুখোপাধ্যায়ও। রাজর্ষির একটি ছবিতে শ্রাবন্তী ছিলেন। নায়িকার সঙ্গে ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করে রাজর্ষি লিখেছেন, ‘ও যেমন এক জন ভাল মা, তেমনই ভাল সন্তান, ভাল অভিনেত্রী... ও ডিজ়ার্ভ করে এক জন ভাল জীবনসঙ্গী। সেটা এক বার না হয়ে দু’বার, তিন বার, চার-পাঁচ বারেও হতে পারে। তাতে আমার কোনও আপত্তি নেই... ওর ভাল থাকাটাই আসল।’

তারকারা কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন, প্রেম করছেন কি না— এ সব নিয়ে চর্চা চলে। কিন্তু কারও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে কাঠগড়ায় তোলার প্রসঙ্গে আপত্তি টলিউডের অধিকাংশের।