সেই সব ছবি এ বার সকলের জন্য

আশীষ বর্মন সন্ধান দিয়েছিলেন দুর্গার। সত্যজিৎ রায় উমা দাশগুপ্তকে (সেন) ‘দেখবামাত্র ঠিক করে ফেললাম যে, ছবিটা তোলা আদৌ যদি সম্ভব হয় তো দুর্গার ভূমিকায় একেই নামাব।’ (অপুর পাঁচালি, আনন্দ)। ৩১ এ লেক অ্যাভিনিউ-এর বাড়িতে তখন থাকেন সত্যজিৎ, ছাদে নিয়ে গিয়ে উমার বেশ কয়েকটি ছবি তুলেছিলেন তাঁর লাইকা ক্যামেরায়, একরকম স্ক্রিন-টেস্টই বলা যেতে পারে! ‘মেয়েটি একটু লাজুক প্রকৃতির। অথচ দুর্গা তো ওই যাকে বলে দস্যি-মেয়ে। উমাকে তাই ভেংচি কাটতে বলি। তা মুখবিকৃতি করতে মেয়েটির কোনও সংকোচ দেখা গেল না।’ সত্যজিতের তোলা এই দুর্গার ছবিগুলো (ডান দিকে তেমনই একটি) ঠাঁই পাচ্ছে প্রকাশিতব্য দ্য পথের পাঁচালী স্কেচবুক-এ। সত্যজিৎ রায় সোসাইটি আর হার্পার কলিন্স-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি বইটির সম্পাদক সন্দীপ রায়। ‘বাবা যে লাল খেরোর খাতা ব্যবহার করতেন, বাঁ দিকে ছোট-ছোট স্কেচ আর ডান দিকে চিত্রনাট্যের সংলাপ, অপরাজিত-র সময় থেকে শুরু সেটা, একেবারেই নিজের জন্যে। পথের পাঁচালী-র বিভিন্ন সিকোয়েন্সের স্কেচগুলো কিন্তু অন্যদের, মূলত প্রযোজকদের বোঝানোর জন্য এঁকেছিলেন, কিন্তু তাঁরা গোটা প্রক্রিয়াটা বুঝতেই পারেননি।’ জানান সন্দীপ, ‘জর্জ সাদুলের অনুরোধে প্যারিসের সিনেমাথেক-এ স্কেচবুকটা দিয়ে গিয়েছিলেন বাবা, এত দিনে তা সকলের হাতে পৌঁছবে। স্কেচগুলো ছাড়াও আরও দুর্লভ সব ছবি, চিঠি, লেখাপত্র রাখা হচ্ছে বইটিতে।’ বাঁ দিকে তেমনই একটি ছবি, কলকাতায় ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি জে কিমার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস-এ কর্মরত সত্যজিৎ— ‘পথের পাঁচালী’ তৈরিই হত না, যদি-না এদের কাজে লন্ডনে গিয়ে ডি সিকা-র ‘বাইসাইকেল থিভস’ দেখে প্রাণিত হতেন। তাঁকে সবেতন ছুটিও দিয়েছিল কিমার, চার বছর ধরে বহু বাধার ভেতর দিয়ে যখন ছবিটা তৈরি করছিলেন। ছবি দেখে তাঁর ‘ইমিডিয়েট বস’ জে বি আর নিকলসন কেঁদে ফেলেছিলেন, সত্যজিৎ-কৃত তাঁর একটা স্কেচও আছে এ-বইয়ে। আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ১ মে আইসিসিআর-এ সন্ধে ৬টায়, সত্যজিতের জন্মদিনের আগের দিন। প্রকাশের পর আড্ডা জমাবেন সত্যজিতের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

 

বিস্মৃত শিল্পী

শৈল চক্রবর্তী একদা মন্তব্য করেছিলেন ‘বিনয় বোসের আঁকা যে কার্টুন বের হতো তা থেকে মনে হয় তার ছবির থেকে পরিহাস করার পরিকল্পনা অনেক শক্তিশালী ছিল।’ শিল্পী বিনয় কুমার বসু (১৮৯৪-১৯৫৯) বিজ্ঞাপনের প্রচারচিত্র, গ্রন্থ অলংকরণের সঙ্গে প্রায় সারা জীবন যুক্ত ছিলেন ব্যঙ্গচিত্র রচনায়। তাঁকে নিয়ে স্মরণ সংখ্যা বিষয় কার্টুন-এর (সম্পা: বিশ্বদেব গঙ্গোপাধ্যায়), ‘অবিভক্ত বাংলার ঊনবিংশ শতাব্দীতে স্ত্রী শিক্ষা ও নারীজাগরণের যে অধ্যায় আজ ইতিহাসে পর্যবসিত, সেই অধ্যায়েরই কিছু দৃশ্যরূপ তাঁর কার্টুন তথা কার্টুন ফিচারগুলিতে আমরা প্রত্যক্ষ করি।’ জানিয়েছেন সম্পাদক। গোটা পত্রিকা জুড়ে তাঁর সেই শিল্পকর্মের বিন্যাসে বিনয় বসুকে নতুন করে চিনতে পারবেন পাঠক। শুভেন্দু দাশগুপ্ত আর দেবাশীষ গুপ্তের নিবন্ধ আরও ঋদ্ধ করেছে তাঁর সেই পরিচিতি। সঙ্গে প্রচ্ছদ।

 

বিষ্ণুপুর ঘরান 

প্রাচীন বিষ্ণুপুর ঘরানার গায়কীর মধ্যে একটা অদ্ভুত পবিত্রতা ছিল, যা আজ নষ্ট হতে বসেছে। কী ভাবে তানসেনের এক বংশধর বিষ্ণুপুরে এসেছিলেন, আবার কী ভাবেই বা আজ এই ধ্রুপদী ঘরানা বিলুপ্তির পথে। এর পিছনে মল্লরাজাদের অবদান, তাঁদের জীবনযাপন এবং তাঁদের তৈরি টেরাকোটা মন্দিরের শৈল্পিক উৎকর্ষ। এই নিয়েই পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্র প্রযোজিত ‘দ্য বিষ্ণুপুর ঘরানা’ শীর্ষক পঞ্চান্ন মিনিটের তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন অশোক বিশ্বনাথন। এটি দেখানো হবে ২৭ এপ্রিল বিড়লা অ্যাকাডেমিতে, সন্ধে সাড়ে ৬টায়। পরিচালক-কাহিনিকার অশোক বললেন, ‘অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাই নীহার বন্দ্যোপাধ্যায়, মণিলাল নাগ, শিউলি বসু, দেবব্রত সিংহঠাকুর, সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়রা আজও এই ঘরানাকে টিকিয়ে রেখেছেন। এঁদের আমি তথ্যচিত্রে তুলে এনেছি। হেরিটেজের ক্ষেত্রে যেমন শৈল্পিক সুষমার দিকটাই তুলে ধরেছি, গানের দিকটা সাংগীতিক পর্যায়ে বি‌শ্লেষণ করেছি।’ সঙ্গের ছবিতে বিষ্ণুপুরের রাসমঞ্চ।

 

ধ্রুপদ সমারোহ

‘শুধুমাত্র পুরুষদের হাতে উঠবে শিবের বীণা, মেয়েরা রুদ্রবীণা স্পর্শ করবে না’— এমন অনেক সংস্কারই ছিল সে কালের অলিখিত নিয়ম। তাকে অগ্রাহ্য করে রুদ্রবীণা হাতে তুলে নেন আরতি বন্দ্যোপাধ্যায়। আরতিদেবীর স্বামী ধ্রুপদ ও রুদ্রবীণার শিল্পী ও শিক্ষক পণ্ডিত অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ও সচেষ্ট রুদ্রবীণার বাজনা টিকিয়ে রাখতে। শিক্ষক, শিল্পী, শ্রোতা সবেরই অভাবে প্রাচীন বাদ্যযন্ত্রগুলি আজ অবলুপ্তির পথে। এই দুই শিল্পীর উদ্যোগেই যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ডের কাছে স্বামী সত্যানন্দ আশ্রমে (৬-৭ মে, সন্ধে ৭টা থেকে) আয়োজিত হয়েছে উস্তাদ জিয়া মহিউদ্দিন খান, ফরিউদ্দিন খান এবং প্রমীলা ডাগরের স্মৃতিতে নিবেদিত ‘কলকাতা ধ্রুপদ সমারোহ’। শোনা যাবে ধ্রুপদের সঙ্গে রুদ্রবীণা বা পাখোয়াজের মতো ভারতীয় ঐতিহ্যশালী যন্ত্রের বাজনা।

এলোমেলো

ছোটদের নিজেদের হাতে গড়া ঝলমলে রঙিন পত্রিকা এলোমেলো (প্রকাশক: রুচিরঙ্গ) পাঁচ বছরে পড়ল। দুই খুদে— রুচিরা ও রঙ্গিতা মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত দশম সংখ্যাটি সম্প্রতি বিড়লা অ্যাকাডেমিতে কবি প্রণবকুমার মুখোপাধ্যায় এবং অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার প্রকাশ করলেন। এই সংখ্যায় কচিকাঁচাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করেছেন চণ্ডী লাহিড়ী, প্রণবেশ মাইতি, দেবাশীষ দেব, তৃণা লাহিড়ী, কৃষ্ণেন্দু চাকীর মতো শিল্পী। অনুষ্ঠানে ছিল, ‘দক্ষিণ রুচিরঙ্গ’ নাট্যদলের ছোটদের নাটক ‘আলি-শোলে-বাবা’, সঙ্গে নানা অনুষ্ঠান।

ভাষা চর্চা

‘‘মনে হয় ‘ভাষার অত্যাচার’ প্রবন্ধের ভাষাভাবনা তার সমসাময়িক রচনা ‘খিচুড়ি’ কবিতার পরিপ্রেক্ষিত রচনা করেছিল... লক্ষ্যণীয়, কবিতার প্রথম পঙ্‌ক্তিতে বন্ধনীর মধ্যে উত্তম পুরুষে রচয়িতার আবির্ভাব উপস্থিতি: ‘ব্যাকরণ মানি না’।’’ — পুষ্কর দাশগুপ্তের রচনা সুকুমার রায়ের লিখনশৈলী নিয়ে। এবং মুশায়েরা-র (সম্পা: সুবল সামন্ত) ‘ভাষা বিশেষ সংখ্যা’টি সম্পাদনা করেছেন মৃণাল নাথ। উদয়নারায়ণ সিংহ তন্ময় ভট্টাচার্য প্রবাল দাশগুপ্ত সহ বিশিষ্ট জনেদের রচনা প্রথম পর্বে। দ্বিতীয় পর্বে বাংলার বিখ্যাত ভাষাচর্চাকারীদের রচনার নির্বাচিত পুনর্মুদ্রণ। সেকাল একাল মিলিয়ে এ-পত্রের প্রবন্ধাদি পাঠ করলে বাঙালির ভাষা নিয়ে চর্চা ও তত্ত্ব তৈরির প্রয়াসের একটা রূপরেখা পাওয়া যায়।

একলব্য

তিনি যেমন শিরদাঁড়া বা মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারও করেন, তেমনই হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান শোনাতেও পারেন শ্রোতাদের! নিউরোসার্জন অমিতাভ চন্দর কাছে মান্না দে’র গান অক্সিজেনের মতো। মঞ্চে মান্না দে’র গান শুনিয়ে বহু বার তিনি শ্রোতাদের মন ছুঁয়েছেন। এ বার, মান্না দে’র ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে সেই গানেরই সিডি ‘মন ছুঁয়ে যায়’ প্রকাশিত হতে চলেছে (১ মে উত্তম মঞ্চে) মান্না দে সংগীত আকাদেমি ও সারেগামা-র যৌথ উদ্যোগে। কলেজ জীবনের পর মান্না দের সান্নিধ্য পাওয়া অমিতাভবাবুর কথায়, ‘এটি একলব্যের শ্রদ্ধার্ঘ্য গুরু দ্রোণাচার্যরূপী মান্না দে’র প্রতি’। সিডি বিক্রির পুরো অর্থই দুঃস্থ শিল্পী এবং রোগীদের জন্য ব্যয় করা হবে।

 

এক থেকে বহু

 

তিনি এক থেকে বহু হতেই চেয়েছিলেন’, বলছিলেন অনিল রেলিয়া। শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের দীর্ঘদিনের কাজের সহযোগী। ‘বাবা বলতেন’, অনিলের কথায়, ‘আমার একটা ছবি বিত্তবানের ঘরেই শুধু থাকবে কেন! সস্তায় যদি ছবি ছাপা যায়, একেবারে আসলের মতো করে, তবে তো হিন্দুস্তানের কোনে কোনে পৌঁছে যাবো আমি।— এই ভাবনা থেকে ওঁর আঁকাগুলি সেরিগ্রাফিতে ছাপার চেষ্টা।’ হুসেন ঘন রঙে ছবি আঁকতেন বলে সেটি সেরিগ্রাফি করার ক্ষেত্রে সুবিধে হয়েছিল। আবার কখনও পছন্দ না হওয়ায় ছবির আংশিক রঙও বদলেছেন তিনি। এই পদ্ধতিতে একসময় বিশাল বড় বড় কাজ বিদেশেও প্রদর্শিত হয়েছে। ‘শুধু প্রতিটি ছাপা ছবিতে একটা ক্রমিক নম্বর থাকত আর নিজের অনবদ্য স্বাক্ষরটি নিজে হাতে করতেন হুসেনসাব।’ বডোদরার এম এস ইউনিভার্সিটি থেকে অনিল ফাইন আর্টসে স্নাতক হন ১৯৭৮-এ। সে বছরেই জীবিকার তাগিদে শুরু করেন িস্ক্রন প্রিন্টিং-এর ব্যবসা। শুধু গতানুগতিক কাজই নয়, বরং ওঁর বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রতিভা সে সময় নজর কেড়েছিল শিল্পরসিকজনের। ফলে হুসেনের সঙ্গে ওঁর পরিচয় এবং অন্তরঙ্গতা। কিছুদিনের মধ্যে তিনি হয়ে ওঠেন অনিলের পরিবারের একজন। হুসেন ছাড়াও তিনি এস এইচ রাজা, কে জি সুব্রহ্মণ্যম, মনজিৎ বাওয়া বা যোগেন চৌধুরীর মতো শিল্পীদের কাজও করেছেন যত্নে। সম্প্রতি এসেছিলেন এই শহরে, হুসেন ১০০ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে।

ছবি: গোপী দে সরকার

 

শিল্প ও জীবন

মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কত না খুঁটিনাটির প্রয়োজন। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে এই সব সামগ্রীর সংখ্যাও। এর মধ্যে যেমন বাসস্থান রয়েছে তেমনই রয়েছে রন্ধন, শয়ন, উপবেশন বা অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা। সমকালীন সাহিত্য, চিত্র–ভাস্কর্য বা উৎখননে প্রাপ্ত নিদর্শনে আছে এ সবের ইতিবৃত্ত। এই নিয়েই খোঁজ শুরু করেছিলেন ভারতীয় সংগ্রহশালার প্রত্নতত্ত্বের বরিষ্ঠ আধিকারিক দীপা মজুমদার। সেই কাজই এ বারে দুষ্প্রাপ্য চিত্র সহ গ্রন্থিত হল ভারত শিল্পে জীবনযাপনের সামগ্রী-তে (কাজল প্রকাশনী)। ২৮ এপ্রিল সন্ধে ৬টায় জীবনানন্দ সভাগৃহে প্রকাশিত হবে বইটি। থাকবেন পবিত্র সরকার, রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্যামলকান্তি চক্রবর্তী এবং নূপুর দাসগুপ্ত। সঙ্গে বইটির প্রচ্ছদ।

 

আছেন, থাকবেন

১৫টি দেশের ১৮ হাজার মানুষকে নিয়ে সমীক্ষা হয়েছিল, উইলিয়াম শেক্‌সপিয়রকে ভাললাগা মন্দলাগা নিয়ে। সেই ‘অল দ্য ওয়ার্ল্ড’স’ রিপোর্টের শুরুতেই জ্বলজ্বলে ভারতীয় অংশগ্রহণকারীরা, ৮৯%-এর পছন্দের লেখক শেক্‌সপিয়র, আর শেক্‌সপিয়র বোঝেন ৮৩% মানুষ। প্রবাদপ্রতিম কবি-নাট্যকারের মৃত্যুর চারশোতম বছর চলছে, বিশ্ব জুড়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও বিবিসি-র আয়োজনে ‘শেক্‌সপিয়র লিভ্‌স ইন ২০১৬’ অনুষ্ঠানমালায় শামিল কলকাতাও। ব্রিটিশ কাউন্সিলে শনিবার শেক্‌সপিয়রের জন্মদিনে হয়ে গেল দিনভর অনুষ্ঠান, তাঁর নাটকের মোনোলগ অভিনয়ে ছিলেন ঋদ্ধি সেন, আলোচনায় কৌশিক সেন, মালবিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীজাত, দেবজ্যোতি মিশ্র ও মৌসুমী ঘোষ। ছিল শেক্‌সপিয়রের বিচিত্র সব চরিত্রের মুখোশ তৈরির কর্মশালা, ব্লগ প্রতিযোগিতা। ২৬-২৭ এপ্রিল সন্ধেয় ম্যাক্সমুলার ভবনে আছে ইয়ং অ্যাডাল্টস রিপার্টরি অভিনীত ‘আ মিডসামার নাইট’স ড্রিম’। মে-জুন জুড়েও আছে নানাবিধ আয়োজন, ৮-১৫ বছর বয়সিদের জন্য শেক্‌সপিয়রের নাটক অভিনয়ের শিবির। সঙ্গে বিদেশে ম্যাকবেথ অভিনয়ের ছবি, ব্রিটিশ কাউন্সিলের সৌজন্যে।

                               বংশতালিকা

দক্ষিণ ভারতীয়রা নাম বলার সময় তাঁরা পদবি হিসেবে যেটা বলেন ঠিক তার পরেই তার সঙ্গে জুড়ে দেন বাবার নাম। তার পরে ঠাকুরদার নাম, তার পরে ঠাকুরদার বাবার নাম— এ ভাবেই যিনি যত পূর্বপুরুষের নাম বলতে পারেন তাঁর নামের সার্থকতা নাকি তত গুণ বেড়ে যায়! এ প্রথা বঙ্গে প্রচলিত হলে? ‘আগামী দিনে জিনিয়োলজিকাল ব্যাঙ্ক সহজেই স্থাপন করা যাবে। ফলে বিজ্ঞানীদের অনেক সুবিধে হবে।’ বলছিলেন দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়, যিনি দীর্ঘ দিনের গবেষণায় এক পৃষ্ঠায় বাংলার মুখোপাধ্যায় বংশের বংশতালিকা তৈরি করেছেন। এতে নবম শতক থেকে বর্তমান পর্যন্ত শুধু পুরুষদের নাম রয়েছে, ব্যতিক্রম শুধু শ্রীমা সারদা। আছেন কৃত্তিবাস, ভারতচন্দ্র, আশুতোষ, বাঘা যতীন থেকে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, আরও নানা বিশিষ্টজন।

জীবনবাদী

বাংলা কবিতায় চিরাচরিত দশক বিভাজনের রীতিতে তিনি ষাটের দশকের কবি। কিন্তু তাঁর কবিতা আজও অন্য রকম ও সমান আধুনিক। অথচ গোটা কবি-জীবনটাই কোনও দলাদলি, কবিতাপাঠ, পুরস্কার এ সবের বাইরে কাটিয়ে গেলেন সজল বন্দ্যোপাধ্যায়। সদা প্রফুল্ল স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্ব, ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি আর পাইপ তাঁকে চিনিয়ে দিত। ১৯৪২-এ জন্ম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে পড়িয়েছেন গোটা কর্মজীবনটাই। তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাইবেল অনুবাদ করেন। এই কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তখনকার পোপ তাঁকে রোম-এ আমন্ত্রণ জানান। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ তৃষ্ণা আমার তরী, স্বপ্নে উপকূলে, পিকাসোর নীল জামা, মীড়, ব্রায়ার পাইপ। সজল ছোট ছোট কবিতা লিখতেন, দীর্ঘ কবিতা লেখা তাঁর পছন্দও ছিল না। সমকালীন সামাজিকতা, বেকারত্ব, যৌথ পরিবারের ভেঙে যাওয়া, এ সব বিষয় তাঁর কবিতায় স্থান পেত। বাংলা কবিতায় প্রকৃত অর্থে যে ক’টি আন্দোলন হয়েছে তার মধ্যে ‘শ্রুতি’ অন্যতম, সজল ছিলেন তার অন্যতম পুরোধা। আত্ম-অন্বেষণের কবিতা, খুব সহজ ভঙ্গিতে বলব— এমনটাই ছিল তাঁর প্রকল্প। ‘আমি সারাদিন আমি’ কবিতায় তিনি লিখছেন, ‘আমার মা সারাদিন মালা জপেন/ আর আমি/ আমার বোন সারাদিন উল বোনে/ আর আমি/ আমার বন্ধুরা সারাদিন লিফটে চড়ে/ আর আমি/ আমি সারাদিন শুধু আমি শুধু আমি’। জীবনের একটা বহমান জলছবি যেন তাঁর কবিতা। গত ১২ এপ্রিল চলে গেলেন কবি সজল বন্দ্যোপাধ্যায়।