কৃষ্ণের পুনর্নির্মাণ নান্দীকারে

বাংলা থিয়েটারে সংকট কিন্তু বিষয়বস্তুর’, মনে করেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, ‘আসলে থিয়েটারের তো একটা দায় আছে, সময়ের কাছে, চারপাশের মানুষের কাছে, সমাজের কাছে, ফলে প্রযোজনা যতই মঞ্চসফল হোক, কী বলতে চাইছি সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে।’  আর তাই জন্মদিনে যে নতুন নাটক পেশ করছে নান্দীকার, তাতে উঠে আসছে ব্যক্তি-সমাজ-রাজনীতির আখ্যান, শ্রীকৃষ্ণকে কেন্দ্র করে। মহাকাব্যের এই জটিল চরিত্রটির পুনর্নির্মাণের ভিতর দিয়ে তৎকালীন যুগভাষ্যকে সম্প্রতিকালের ওঠাপড়ায় লগ্ন করতেই এ-নাটক। দীর্ঘকাল ধরে পিরানদেল্লো, সোফোক্লেস, ব্রেশট থেকে প্রাচ্যের সাহিত্যনির্ভর বিবিধ প্রযোজনায় বাংলা তথা ভারতীয় থিয়েটারে ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছে নান্দীকার। ‘১৯৬০-এর ২৯ জুন আমাদের জন্মদিন, ৫৬ পেরিয়ে এ বার ৫৭-য় পা। যৌবন অতিক্রান্ত, প্রাজ্ঞতাই আমাদের অবলম্বন।’ রুদ্রপ্রসাদ জরাসন্ধের ভূমিকায় এ-নাটকে (বাঁ দিকের ছবি)। নতুন নাটক ‘পাঞ্চজন্য’-র রচয়িতা পার্থপ্রতিম দেব জানালেন, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রাধাকৃষ্ণ ছাড়াও মহাভারত, উপনিষদ তো বটেই, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী দীপক চন্দের রচনাও সাহায্য করেছে তাঁকে। শ্রীকৃষ্ণের মতো দূরদর্শী কূটনীতিকও কেন শেষ পর্যন্ত পারেননি যদুবংশ বা দ্বারকাকে বাঁচাতে, কৌরব-পাণ্ডবদের ধর্মযুদ্ধের পর রাষ্ট্রে প্রকৃত শান্তি ফেরাতে, ভালমন্দের দ্বন্দ্বে কেন নিজের মনের কাছেই হেরে গিয়েছিলেন তিনি— এ সব প্রশ্নই বুনে দিতে চেয়েছেন নির্দেশক সোহিনী সেনগুপ্ত। বললেন ‘গত দেড় বছর ধরে চলছে মহড়া। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের অধিকাংশই মঞ্চে এই প্রথম। মন ও শরীরের নানান স্কিল কাজে লাগিয়ে এ-নাটকের জন্যে শিখেছে ভারতীয় ও জাপানি মার্শাল আর্ট, বিভিন্ন ভারতীয় লোকনৃত্য। (সঙ্গের ছবিতে) পাশাপাশি আমাদের অভিজ্ঞতাটাও কাজে লাগাচ্ছে।’ সোহিনী দ্রৌপদী রাধা ও রুক্মিণীর ভূমিকায়। গান্ধারীর চরিত্রে স্বাতীলেখা। প্রবীণ কৃষ্ণ পার্থপ্রতিম, নবীন কৃষ্ণ সপ্তর্ষি মৌলিক। ২৯ জুন ৩টে ও সাড়ে ৬টায় পরপর দু’টি অভিনয় অ্যাকাডেমি’তে।

শ্রদ্ধার্ঘ্য

তিনি রবীন্দ্রভারতীর জন্মলগ্ন থেকেই জড়িত। পরে সংগীত বিভাগের প্রধান হন বিষ্ণুপুর ঘরানার শিল্পী, সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রাচীন বিষ্ণুপুর ঘরানা থেকে নব্য আধুনিক সংগীতে গবেষণা করে সৃষ্টি করলেন ‘সংগীতের সৌন্দর্য তত্ত্ব’। বাবা সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই তাঁর সংগীতে হাতেখড়ি। সাত বছর বয়সে প্রথম অনুষ্ঠান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম এ। ১৯৬৮-তে ‘সংগীতের শিল্প দর্শন’-এর ওপর ডক্টরেট। অল্প বয়স থেকেই বিখ্যাত সব সংগীত সম্মেলনে গাইবার সুযোগ পেয়েছেন। ২ জুলাই বিকেল ৫টায়, কামারহাটি নজরুল মঞ্চে ‘বৈঠকী’র উদ্যোগে নবতিপর শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানাবেন অনুরাগীজন ও ছাত্রছাত্রীরা।

 

প্রাণের ঠাকুর

গুঁড়ো মশলা আর হাওয়াই চটির বিজ্ঞাপনের গানই তাঁকে চিনিয়ে দিয়েছিল। মানসিকতায় সব সময় আলাদা কিছু করার তাগিদ। ছেলেবেলা থেকেই বাংলার চেয়ে হিন্দিতে বেশি সাবলীল। গজল দিয়েই গায়ক জীবন শুরু করেছিলেন প্রতীক চৌধুরী। ১৯৮৫ সাল থেকে নিয়মিত গজলের অনুষ্ঠান করেছেন। ‘আদাব’ নামে একটা গজলের অ্যালবামও করেছেন। ১৯৯৫ থেকে প্লেব্যাক গায়ক। সম্প্রতি অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের ‘শঙ্করমুদি’  ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। ২০০১ সালে তাঁর প্রথম বাংলা গানের অ্যালবাম বেরোয় ‘স্বপ্ন বিক্রি আছে’। সম্প্রতি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দশটি গান সমৃদ্ধ তাঁর প্রথম একক রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম ‘প্রাণের ঠাকুর’ প্রকাশ করল ভাবনা রেকর্ডস।

 

বঙ্কিমের মঞ্চগান

 যদুভট্টের কাছে নিয়মিত শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিতেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বান্ধব নবীনচন্দ্র সেনের সাক্ষ্যে মেলে, বঙ্কিম হারমোনিয়াম বাজিয়ে দলনী বেগমের মতো গুনগুন করে গান গাইতেন। সে চর্চাতেই বঙ্কিমের উপন্যাসে বহু চরিত্রের কণ্ঠে শোনা গিয়েছে নানা গানের কলি। পূর্ণাঙ্গ নাট্যরচনা না করলেও বঙ্গরঙ্গমঞ্চে তাঁর উপন্যাসের নাট্যরূপ জনপ্রিয় হয়েছে বারবার। মঞ্চনাট্যে গীত হয়েছে বঙ্কিম রচিত উপন্যাসেরই গীতাবলি। কখনও ভিন্ন নাটকেও শোনা গিয়েছে তাঁর লেখা গান। তাঁর ১৭৮তম জন্মবর্ষপূর্তিতে বঙ্কিমচন্দ্র তুলনামূলক ভারতীয় সাহিত্যচর্চা কেন্দ্র (পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নৃত্য, নাটক, সংগীত ও দৃশ্যকলা আকাদেমির সহযোগিতায়) উপস্থাপন করছে দেবজিত্‌ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা ও নির্মাণে ‘বঙ্কিমের মঞ্চগান’। গানে দেবজিত্‌ এবং ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় থাকছেন গোপা দত্ত ভৌমিক, অর্পিতা সাহা, সত্যবতী গিরি ও সুমিতা চক্রবর্তী। ২৮ জুন বেলা ১২টায়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বি টি রোড ক্যাম্পাসে। উদ্বোধন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী। অন্য দিকে আজ বিকেল ৪টেয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম স্নাতক বঙ্কিমচন্দ্রকে নিয়ে অনুষ্ঠান দারভাঙ্গা হলে। এটি তাঁর দুর্গেশনন্দিনী রচনারও সার্ধশতবর্ষ। আলোচনা-গান-পাঠের সঙ্গে প্রকাশ পাবে বিশিষ্ট জনের রচনায় ঋদ্ধ বঙ্কিমচন্দ্র: কালের ভাবনায় (এবং মুশায়েরা), সম্পাদনা: তাপস বসু। আয়োজনে বিবেকানন্দ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স। এ ছাড়াও বাংলা আকাদেমি গতকাল প্রকাশ করল বঙ্কিমচন্দ্র রচনাবলী-র পঞ্চম খণ্ড। শাঁওলী মিত্রের সভাপতিত্বে সে অনুষ্ঠানে ‘রহস্যরসিক বঙ্কিম’ বিষয়ে বললেন পিনাকেশ সরকার, প্রাক্‌কথনে ছিলেন অলোক রায়।

 

বছরভর

সকলের জন্য, সব রকম দামের হালিম এখন শহরের প্রতি পদক্ষেপে। তবে যতই জিজ্ঞেস করুন, কলকাতার নামকরা হালিম রাঁধিয়েরা আসল ‘প্রিপারেশন’ কিছুতেই বলবেন না। খানিক জানিয়ে বাকিটা চেপে যাবেন। অনেকক্ষণ নাড়াঘাঁটার পর মুখ খুললেন মল্লিকবাজারের মকসুদ মিঞা। ‘যদি সত্যিই হালিম খেতে হয়, তবে ছত্রিশ রকমের মশলা লাগে।’ আর রান্না করতে? ‘হ্যাঁ, প্রায় সারা দিনের প্রস্তুতি।’ পুষ্টিবিজ্ঞানী-চিকিৎসকদের কথায়— সারাদিন উপোসের পর বারো রকমের ডালের সঙ্গে ছোট ছোট মাংসের জুস মিলে মশলাপাতি দিয়ে শরীরটাকে চাঙ্গা রাখে। হালিম যেমন উপাদেয়, তেমনই পুষ্টিতে ভরপুর। কিন্তু বছরের অন্য সময় পাওয়া যাবে তো? ‘কে বলল বছরভর মিলবে না, আমিই তো বছরভর বিক্রি করি এই ধর্মতলার মোড়ে’, বললেন মকসুদ।

অন্য গল্প

কলকাতার বাইপাসের ধারের বস্তি দত্তাবাদ। মেয়েটি হঠাৎ এক ভোরে দেখলেন তাঁর পুরুষসঙ্গীটি নিরুদ্দেশ! কোলের ছেলেটা তখন তিন মাসের। তিনি হার মানেননি। দিনে ঠিকে কাজ ও রাতে সেলাই করে দিন গুজরান করেছেন। অথবা, মুম্বইতে কাজ করতে গিয়ে দিনমজুর স্বামী বাধিয়ে এল এডস। সেই রোগ সঞ্চারিত হল স্ত্রীর শরীরে। স্বামীর মৃত্যু হল। এই মেয়েটিও হারেননি। এ রকম মোট ন’জন মেয়ের গল্প নিয়ে ‘বিন্দুবৎ’-এর নতুন প্রযোজনা ‘কয়েকটা মেয়ের গল্প’। এ বার এই আখ্যানই অডিয়ো-ভিজুয়াল মাধ্যমে সরাসরি প্রথম বার ২৮ জুন ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে, সন্ধে সাড়ে ৬টায়। এমন কয়েক জন মেয়ের গল্প যাদের জীবনের হালহদিশ সাম্প্রতিক বাংলা গানে পাওয়া যায় না। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই গানগুলো তৈরি করছেন বিপুলজিৎ বসু।

 

উজ্জ্বল

দুর্ভিক্ষ ও প্লেগে সে কালের বোম্বের সাধারণ মানুষের দুর্দশা দেখে শান্তিপুরের আনন্দমোহন বিশ্বাস ঠিক করেন, কলকাতায় জাতিধর্মনির্বিশেষে পীড়িত, নিরাশ্রয় এবং বাচ্চাদের শিক্ষাদানের জন্য কিছু করবেন। তাই ১৯০১ সালে বউবাজার স্ট্রিটে প্রতিষ্ঠা করলেন ‘দ্য রেফিউজ’ অনাথ আশ্রম। এখানকার প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, স্যর গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্ব। এই শতবর্ষ-প্রাচীন অনাথ আশ্রম থেকেই এ বছর (২০১৬) ৩৪ জন ছাত্রছাত্রী মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। প্রত্যেকেই কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে শুভ্রদীপ অধিকারী তিনটি লেটার সহ ৭৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে সর্বোচ্চ স্থানাধিকারী। ‘বিগত বছরগুলিতেও মাধ্যমিকে ফল ভাল করেছিল এখানকার ছাত্রছাত্রীরা। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম হল মাধ্যমিক পাশ করলেই আশ্রম ছেড়ে দিতে হয়। ফলে, সরকারি ভাবে কোনও সাহায্য না পেয়ে দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রছাত্রীগুলো উচ্চশিক্ষার পথে কোথায় যেন হারিয়ে যায়।’ বলছিলেন অনাথ আশ্রমের সম্পাদক বিশ্বরূপ দে।

 

পুরনো ছবি

বাঙালির বড় সুদিন ছিল সে সময়। কলকাতার বেশ কিছু সিনেমা হলে নিয়মিত বিদেশি ছবি দেখানো হত মর্নিং শো-তে। ইউরোপ তো বটেই, হলিউডের দিকপাল পরিচালকদের ছবিও আসত। তেমনটাই ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় নন্দন আনছে ‘সানডে মর্নিং হলিউড’। ‘বড় পর্দায় প্রতি রোববার সকালে ক্লাসিক দেখে যাতে সপরিবার নস্টালজিয়ায় ফিরে যেতে পারেন দর্শক।’ জানালেন অধিকর্তা যাদব মণ্ডল। ৩ জুলাই প্রথম ছবি, উইলিয়াম ওয়াইলারের ‘বেন হার’, ১৯৫৯, ১১টি অস্কার জিতেছিল সে বার। আজও কেউ ভুলতে পারেনি তার ‘চ্যারিয়ট রেস’। সঙ্গে তারই ছবি।

 

বোনফোঁটা

তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘জামাইষষ্ঠীতে জামাই খাওয়াও। ভাইফোঁটায় ভাইকে ফোঁটা দাও। রাখি উৎসবে ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধো। তোমার জন্য কী? তোমার জন্য সতীদাহ। তোমার জন্য সিঁদুরখেলা। তোমার জন্য করভা চৌথ। তোমার জন্য শিবরাত্রি। তোমার জন্য যা কিছু, তা আসলে তোমার জন্য নয়। সবই পুরুষের জন্য, পুরুষের মঙ্গলের জন্য।’ সত্যিই, মেয়েদের কল্যাণের জন্য আমাদের সমাজে কোনও আচারঅনুষ্ঠান নেই। তাই, তিথি-নক্ষত্র না মেনে বিগত বছরগুলির মতো এ বছরও মিতা চক্রবর্তীর উদ্যোগে ‘আনন্দম’ ২ জুলাই বিকেল ৫টায়, ৩৭ নং রিপন স্ট্রিটের লোকায়ত সভাগৃহে আয়োজন করেছে বোনফোঁটা-র অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রথম ফোঁটাটি দেবেন অধ্যাপক মইদুল ইসলাম। এবং এই প্রথম বাংলাদেশ থেকে ফোঁটা দিতে আসছেন তিন বিশিষ্টজন। দাদাদের কাছে ফোঁটা নেবেন আমন্ত্রিত অধ্যাপক, বাড়ির কাজের লোক ও যৌনকর্মীরা।

রাহুল-অমিত

রাহুল দেব বর্মনের কম্পোজিশনে মোট একশো সত্তরটা গান বাংলা, হিন্দি, ওড়িয়া মিলিয়ে গেয়েছেন অমিতকুমার। এই সব গান থেকে নির্বাচিত একত্রিশটি গান নিয়ে অমিতকুমার ফ্যান ক্লাবের উদ্যোগে ‘নস্টালজিক নোটস’ শীর্ষক দুটো সিডি বেরোচ্ছে সারেগামা থেকে ৩ জুলাই অমিতকুমারের জন্মদিনে। সিডিতে ‘বালিকা বধূ’ থেকে ‘লাভ স্টোরি’-র মতো ছবির সুপারহিট গানগুলো সংকলিত হয়েছে। সংকলন করেছেন সুদীপ্ত চন্দ। প্রসঙ্গত, আজ (২৭ জুন) রাহুল দেব বর্মনের জন্মদিন। এ শহরে অমিতকুমার ফ্যান ক্লাবের জন্ম ২০০৫-এ, তারা এখানেই প্রথম রাহুল দেবের মূর্তিও বসিয়েছে।

 

আত্মশক্তি

শহুরে শিক্ষিত মেয়েদের নিয়েই আমার ছবি। নিজের জীবনের সমস্যাকে মিলিয়ে নিতে পারছেন মেয়েরা, এ-ছবির বিষয়বস্তুর সঙ্গে। যে ক’টা ফেস্টিভ্যালে ঘুরেছি ছবিটা নিয়ে, একই রকম অভিজ্ঞতা হল।’ মধুরিমা সিংহ বলছিলেন তাঁর প্রথম ছবি, দশ মিনিটের কাহিনিচিত্র ‘দ্য থার্ড আই’ নিয়ে, গল্প-চিত্রনাট্য-পরিচালনা সবই তাঁর। উদ্বোধনী ছবি হিসেবে সম্প্রতি সেটি দেখানো হল স্টকহলম-এ, ভারতীয় সিনেমার ফেস্টিভ্যালে। সাইপ্রাস, এথেন্স, টরন্টো, হিউস্টন, ঢাকা, কলকাতা, যেখানেই দেখানো হয়েছে এ-ছবি, মেয়েদের আত্মশক্তির অনুষঙ্গই বার বার উঠে এসেছে দর্শক-সমালোচকদের আলোচনায়। শুভা মুদ্গল, সুজিত সরকার, অপর্ণা সেনের মতো মানুষজনের সাধুবাদও পেয়েছেন মধুরিমা। সহকারী হিসেবে অপর্ণার ‘গয়নার বাক্স’-এ কাজ তাঁকে প্রাণিত করে তোলে এ-ছবি করায়। চিত্রনাট্য লেখার অভ্যেস বয়ঃসন্ধি থেকে, তখন থেকেই পরিচালনার কথা ভাবেন। ভিস্যুয়াল-এ আসক্তি থেকে ফোটোগ্রাফি সংক্রান্ত পত্রিকা সম্পাদনা, কলকাতার পুরনো বাড়ির স্থাপত্যের ছবি তোলার কাজ। ছোট থেকে ছবি আঁকায় রপ্ত, যে পাঁচতারা হোটেলে যুক্ত কর্মসূত্রে, সেখানেও নিয়মিত গ্যালারি গড়ে তুলেছেন চিত্রকলা প্রদর্শনীর, বইও আছে তাঁর এ দেশের শ্রেষ্ঠ শিল্পীদের নিয়ে। ধ্রুপদী সঙ্গীত, সিনেমা ও নাটকের মধ্যে বেড়ে-ওঠা মধুরিমা ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী। তাঁর হয়ে-ওঠার পিছনে বাড়ির পরিবেশ, বিশেষত মা— রবীন্দ্রনাথ-স্নাত সাহিত্যের শিক্ষিকা মীনাক্ষী সিংহ। পূর্ণদৈর্ঘ্যের কাহিনিচিত্র তৈরিতে আপাতত ব্যস্ত তিনি।

সংগীতগুণী

মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, অজয় চক্রবর্তী, পিন্টু ভট্টাচার্য, অরুণ ভাদুড়ী, সুকুমার মিত্র, ভারতী করচৌধুরী, অনসূয়া মুখোপাধ্যায় প্রমুখ শিল্পী তাঁর কথায় ও সুরে গান গেয়ে রাগপ্রধান বাংলা গানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন। কণ্ঠসংগীত শিল্পী, বিশেষত রাগপ্রধান বাংলা গানের গবেষক ও রচয়িতা অমলেন্দুবিকাশ করচৌধুরীর জন্ম ১৯২৮ সালের ৪ জুলাই, তৎকালীন পূর্ববাংলার নোয়াখালি জেলার পুকুরদিয়া গ্রামে। সূচনা পিতামহ শরৎচন্দ্র করচৌধুরীর রচিত ও সুরারোপিত বিভিন্ন গানের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে। উৎসাহ পান জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পিতা যোগেশচন্দ্রের কাছে। রাসমোহন দত্ত ও যামিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের দুটি শাখায় স্নাতকোত্তর। বিশ্বভারতী, রবীন্দ্রভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত থেকেছেন। কর্মজীবন আকাশবাণীতে, অবসর নেন শিলিগুড়ি কেন্দ্র অধিকর্তার পদ থেকে। বারোটি গবেষণামূলক বই সহ তাঁর রচিত ও সুরারোপিত রাগপ্রধান গানের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। উল্লেখযোগ্য বই ট্রাইবাল সংস অব নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া, রাগপ্রধান গানের উৎস সন্ধানে, বাংলা গানের কথার কথা, সংগীত-সমীক্ষা ইত্যাদি। ৮৭ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন তিনি। অনুরাগীরা শিল্পীর জন্মদিন উপলক্ষে ৪ জুলাই বিকেল ৫টায় কামারহাটি নজরুল মঞ্চে (বড়) একটি স্মরণসভার আয়োজন করেছেন।