জ্যৈষ্ঠ শেষে ‘গুরু-গুরু’ বাদ্যিবাজনা বাজিয়ে আকাশের দরজা-জানলা খুলতে শুরু করেছে। গরমের ছুটি ফুরোতে স্কুল-কলেজেরও দরজাও খুলেছে, খুলছে। কেউ পরীক্ষায় পাশ দিয়ে নতুন উঁচু ক্লাশে উঠছে। কেউ বা রীতিমতন সাবালক হয়ে, স্কুলের গণ্ডি ডিঙিয়ে ঢুকে পড়েছে কলেজে। আমাদের সময় বেশির ভাগ ছাত্ররাই ‘বড়’ হবার স্বীকৃতি হিসেবে হাফপ্যান্ট ফুলপ্যান্টের অবাক দুনিয়ায় ঢুকে পড়ত। এখনকার তো কথাই নেই! বলতে গেলে এ রাজ্যের আধুনিকা মায়েরা তো ‘সখের প্রাণ-গড়ের মাঠ’ হিসেবে প্রসূতি সদনে থেকে বেরুলেই ‘দোনলা পেন্টুল’ পরিয়ে দেন সন্তানদের!

সে যাকগে!

স্কুল-কলেজের কথায় মনের তাজমহলে প্রকট হল শিক্ষা-দীক্ষার বিষয়। পাঠশালা, নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন না হয় ছেড়ে দেওয়া গেল। তার পরেই ভাবনা শুরু হয়, সন্তানকে কোন লাইনে ঠেলতে হবে? কোনও বিশেষ ব্যাপারে আগ্রহ থাকলে প্রথমে সে দিকে ঠেলে দেবার কথাই মাথায় আসে। আজকাল যেহেতু বালক-নাবালকদের কৌতূহল দিকবিদিকে, তাই, সকলেই প্রায় দিকভ্রান্ত হয়ে টেকনোলজি, ডাক্তারবিদ্যা, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং, ইত্যাদি লাইনের দিকে গুঁতো মারেন। কারণ, এদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল—রোজগার অধিকতর। সাদামাট সায়েন্স বা কমার্স লাইনের চাহিদা বেশ কম। ‘আর্টস’ তো প্রায় তপসিলি জাতির পর্য্যায়ে। সবচেয়ে কম নম্বরে পাশ করলে —আর কোথায় যাবি বাছা! ওই আর্টসই অগতির গতি।

দন্ত্য-‘স’ বাদ দিয়ে ‘আর্ট’ লাইনের দশা ছিল আরও রুগ্ণ। ইদানীং ‘শিল্পকলা’ মনে হয়, আগের থেকে উন্নত হয়েছে।

‘আই এ, বি এ পাশ করলে কোনও লাইন ধরা মুশকিল। আঁকার হাত ভাল। ঢুকে যাক আর্ট কলেজে।

বর্তমান যুগের আর্ট লাইন সম্পর্কে জ্ঞানগম্যি বেশি নেই। দু’চার দশক আগের দশা ব্যক্ত করা যাক।...

শিল্প-বিদ্যা-শিক্ষার দরজায় কড়া নাড়ার আগে কিঞ্চিৎ প্রস্তাবনা প্রয়োজন।

‘চিত্রকলাশিল্প’ বিষয়ে বিশদ হবার চেষ্টা করতে গেলে, প্রথমেই পাহাড়প্রমাণ প্রশ্নটি পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। কোথাকার চিত্রশিল্প বা ‘ছবি’ নিয়ে লেখা হবে? স্ব-প্রদেশের না বিশ্বের? নাড়ির টানে অথবা গভীর মমত্ববোধ থেকে যদি শুধু বঙ্গদেশের শিল্প প্রসঙ্গে আলোচনায় প্রবৃত্ত হই, তাহলে ‘একপেশে’ আখ্যায় ভূষিত হবার সম্ভাবনা। যা আদপেই বাঞ্ছনীয় নয়। অপর পক্ষে, নিখিল বিশ্বে দিগন্ত বিস্তৃত ক্যানভাসের ইতিহাস-ভূগোল তো অকুলপাথার! সেখানে থই পাবার জো নেই এক জীবনে। বরং বিষয়টির প্রস্তাবনা বা নান্দীমুখ হিসেবে সেই ইতিহাস বা প্রাক-ইতিহাস থেকে ‘সময়’ তুলে নেওয়া যাক—সাময়িক ধার হিসেবে।

জীবজগতের শ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ বোধহয় সর্বপ্রথম নানান অঙ্গভঙ্গি ও ধ্বনির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের চেষ্টায় প্রবৃত্ত হয়। যাকে ইংরাজিতে এককথায় ‘কমিউনিকেশন’ বলা যায়। গোষ্ঠীবদ্ধ আদি-মানব বাস করত গুহায়। দলপতি তথা সাঙ্গোপাঙ্গরা দিবসান্তে শিকার করে ফিরে এসে উত্তেজিত ভঙ্গিতে শিকার-কাহিনি প্রকাশের চেষ্টা করত দলের অন্যান্যদের। প্রাক-ইতিহাস মতে সেই সময়েই সম্ভবত প্রথম ‘কমিউনিকেশন’-এর উন্নততর মাধ্যম সৃষ্টি হয়। ‘কথা’ ও ‘বুলি’ নয়। ‘ছবি’। ছবি এঁকে এঁকে আপন বীরত্বের, সাহসের তথা উত্তেজনাময় ঘটনাবলির গল্প শোনাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ত আদি-মানব। সুতরাং গুহাচিত্রে গল্প বা কাহিনি একদিকে যেমন পৃথিবীতে প্রাথমিক চিত্রশিল্পকলার নিদর্শন বলে গ্রাহ্য, অপর দিকে, তেমনই এই ‘ছবি’ বা ‘ইলাস্ট্রেশন’ই কমিউনিকেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ধরে নিতে কোনও বাধা নেই। এই প্রসঙ্গে লক্ষণীয়, পাশাপাশি আরও একটি বা দুটি শিল্পের প্রাথমিক সূত্রপাত ঘটেছে সমসময়ে। গল্পরচনা ও অভিনয়। সে আবার অন্য পৃথিবী।

স্বদেশের বা ‘মেরা ভারত মহান’-এর চিত্রশিল্প ইত্যাদি বিষয়ে ভাবতে গেলে দিশেহারা দশা হওয়া স্বাভাবিক। এ যেন, সেই মধ্য যুগের পঞ্চান্ন-ব্যঞ্জন-পরিবৃত্ত ভাতের থালা। না। ঠিক বোঝানো গেল না। বরং বলা যায়, ‘লাবড়া’ বা নানাবিধ ব্যঞ্জন-সমৃদ্ধ ‘জগাখিচুড়ি’! ভারতীয় কলার বর্তমান চেহারাটিকে একটি মস্ত ক্যানভাস বা পট কল্পনা করুন, দেখবেন কেমন যেন বিশৃঙ্খল দৃশ্যাবলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মনে হতেই পারে, একটি বহু বর্ণে রঞ্জিত, বহু রাজ্য বা প্রদেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির তালগোল পাকানো চেহারা। তাবৎ ভারতীয় ভাষাগুলিকে যদি সহসা একযোগে শুনতে হয়, তাহলে যে গোলমাল শ্রুতিগোচর হবে, সেই রকমই অনেকটা।

আজকের ভারতীয় শিল্পকলা হয়তো রেগেমেগে পিছন ফিরে দেখতে চাইছে, চোখে যথেষ্ট রাগ,   কিড়বিড় করছে দাঁত— অথচ একই সঙ্গে বোকা-বোকা হাসি দিয়ে বলতে হচ্ছে—‘থ্যাংক ইউ’। যেন, অতীত মুচকি হেসে বলেই ফেলেছে, ‘খোকা, তোমার ইজেরের বোতাম খোলা’।

ফলে আমরা মডার্ন আর্টিস্টরা বোতাম-টোতাম শক্ত করে লাগিয়ে, পশ্চিমকে অথবা দূরতর প্রাচ্যকে নকল করতে তৎপর হই দ্রুত পরিচিতি তথা অর্থনৈতিক লাভের আশায়। আমাদের কলকাতার সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে একটি বিভাগ ছিল— এখনও আছে,— ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেইন্টিং। বিভাগটির প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা সহকারে প্রণাম জানিয়ে ব্যক্ত করা যায় যে, প্রতি বছর নতুন ছাত্রছাত্রী ভর্তির সময়ে ইনি চাতক পাখির মতো তৃষ্ণার্ত নয়নে চেয়ে থাকেন অন্যান্য বিভাগগুলির দিকে। কারণ বাকি বিভাগগুলির চাহিদা ভাবী শিল্পীদের মহলে অনেক বেশি। ব্যবহারিক শিল্প বা অ্যাপ্লাইড তথা কমার্শিয়াল আর্ট বিভাগটির চাহিদা  তখন তুঙ্গে। পাশ-টাশ দিয়ে বেরুলে অন্তত বিজ্ঞাপন কোম্পানিগুলিতে চাকরি পাবার সমূহ সম্ভাবনা বা আশা থাকে।

দু’ নম্বরে ঠাঁই ফাইন আর্ট বা চারুকলা বিভাগের। প্রথম প্রথম আর্ট কলেজের বছরগুলিতে আমরা সবাই লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি বা মাইকেল অ্যাঞ্জেলো। গোগ্যাঁ, ভানগঘ বা পিকাসো। সেই চোখ দিয়ে দেখলেই পরিষ্কার বোধগম্য হবে— ফাইন আর্ট বিভাগটির কদর। তা ছাড়া, দশক দুই তিন আগেও ভারতীয় চিত্রকলার যথেষ্ট আকর্ষণ ছিল সাগরপারে, পশ্চিমে। যদিচ, বিষয়বস্তু ছিল সীমিত। যথা, সাপুড়ে বা সাপখেলা, দড়ির ভোজবাজি, ডেকোরেটিভ হাতি বা মুঘল মিনিয়েচার অথবা যামিনী রায়, নন্দলাল বসু জাতীয় জল রং, টেম্পারা ছবি। তৃতীয় নম্বরে থাকে ভাস্কর্য বিভাগ। ভাবী ভাস্কররাও মনে মনে স্বপ্ন দেখে থাকেন ছাত্রজীবনে রোদ্যাঁ, মাইকেল অ্যাঞ্জেলো অথবা নিদেন পক্ষে দেশজ দেবীপ্রসাদ, রামকিংকর হবার। ফলে চারে বা তালিকার সবশেষে প্রায় তলানি হিসেবে ঊর্ধ্বমুখে চেয়ে থাকেন ইন্ডিয়ান স্টাইল অফ পেইন্টিং। ক’টি ছাত্র উক্ত তিন বিভাগ থেকে বাতিল হল—তারই প্রতীক্ষায়।

শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে পাঠান্তে পুরোদস্তুর শিল্পী হয়ে, ডিগ্রি-ডিপ্লোমা-সার্টিফিকেট বগলদাবা করে তো বেরোনো গেল সদর্পে। তার পর? অতি প্রাচীন একটি আধুনিক গান মনে পড়ে। ‘তার আর পর নেই, নেই কোনও ঠিকানা’। সত্যিই ঘটনা অনেকটা সেই রকম। আলগা হিসেব করলেই চেহারাটি স্পষ্ট হবে।  কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গে খান সাতেক শিল্পশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আর্ট স্কুল-কলেজ রয়েছে। সরকারি আর্ট কলেজ, ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজ, রবীন্দ্র ভারতী আকাদেমি, বিশ্বভারতী, বিড়লা আকাদেমি, বর্ধমান আর্ট কলেজ। এ ছাড়াও মধ্যপ্রদেশের  খয়রাগড় আর্ট ইউনিভার্সিটির একটি বড়সড় শাখা কলকাতায় শুরু হচ্ছে শোনা গেল। গোটা বিশ্বের হিসেবে গিয়ে খেই ধরবার সাহস নেই, স্রেফ ভারতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে আন্দাজ করা যাক। ‘মেরা ভারত মহান’ –এর মাটিতে কমবেশি বিশ পঁচিশটি রাজ্যের প্রতিটিতে গড়ে যদি নিদেন তিন চারটিও আর্ট স্কুল-কলেজ বা শিল্পশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে থাকে, তাহলে, বালাই ষাট থেকে শ’খানেক ছবি–আঁকা-বিদ্যে শেখার আখড়া স্রেফ এ দেশেই বর্তমান। প্রত্যেকটি বিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর গড়ে অন্তত ৫০ জন কৃতী ছাত্র ডিগ্রি-ডিপ্লোমা-সির্টিফিকেট নিয়ে রীতিমতন পাশ করা শিল্পী আখ্যার প্রমাণ-পত্র সমেত বের হন।

কথা হচ্ছে, শিল্প শিক্ষায়তনগুলি ফি বছর এই যে হাজার হাজার শিল্পীদের বিদ্যে গিলিয়ে উগরে দিচ্ছে বাজারে—তাঁরা কোথায়?

জোছন দস্তিদারকে মনে পড়ে। ওঁর পিতৃদত্ত নাম জ্যোৎস্নাময় ঘোষ দস্তিদারকে ছোট, সহজপাচ্য করা হয়েছিল। আর্ট কলেজের ভাস্কর্য বিভাগের ফাইনাল ইয়ারে ছিলেন, যখন বর্তমান কলমচি ফার্স্ট ইয়ারে নিতান্তই কিশোর। সেই জোছনদার কাছেই পরে একটি ঘটনা বা গল্প শুনেছিলুম ওঁর সহপাঠীর বিষয়ে। যদ্দুর মনে পড়ে তাঁর নাম ছিল বোধহয় সত্যসাধন। তা, এই সত্যবাবুর নাকি বিয়ে হতে হতেও ভেঙে যায়। পাত্র ছবি আঁকে শুনেই কন্যাপক্ষ আঁতকে ওঠে বেঁকে বসেন। তাঁদের মোদ্দা দুশ্চিন্তাই ছিল যে, শিল্পীদের রোজগারপাতি সাধারণতই নেই। চাকরি-টাকরি জুটলেও বড় জোর হাইস্কুলের ড্রইং মাস্টার। আর স্কুল মাস্টারদের চিরন্তন ছবি সেই মধ্যযুগ থেকে প্রায় এক রকম। জীবনযুদ্ধে হা-ক্লান্ত, বিধ্বস্ত সৈনিক। নাকের ওপর নিকেল ফ্রেমের চশমা, বগলে জীর্ণ ছাতা—হেটমুণ্ড হেঁটে চলেছেন সেই কবে থেকে। সুতরাং স্কুলের ড্রইং মাস্টারদের মাস মাইনেতে নিজের খোরাকই জোটে না, বিয়ে করলে বউকে খাওয়াবে কি?

দূরে যাওয়ার দরকার নেই। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। উকিল পিতৃদেবের মতে, আইনের ব্যবসা ভাল। ইচ্ছে ছিল প্রথম পুত্রকে না পারলেও দ্বিতীয়টিকে ল’ পড়াবেন। স্কুল ফাইনালের পর যখন শুনলেন, ‘আমি ছবি আঁকা শিখব’— হতভম্ব চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে দেখলেন। কারণ গত ষাটের দশকের গোড়ায় মধ্য বয়সি উকিল-ডাক্তাররা সকলেই তেমন ওয়াকিবহাল ছিলেন না এই বিষয়ে। অর্থাৎ, ‘ছবি আঁকবে, আঁকো, ভাল কথা। কিন্তু কাজকর্ম বা রোজগারের লাইন কোনটা নেবে? সায়েন্স না কমার্স? বড় হয়ে কী হবে?’ 

আর যাই হোক সে সময় পর্যন্ত অন্তত ছবি-আঁকাকে কোনও মতেই সিরিয়াস উপার্জনের পথ হিসেবে ধরা হত না। ফলে ফি-বছর শিল্প-বিদ্যাপীঠগুলি যে হাজার হাজার প্রফেশনাল আর্টিস্ট বিয়োচ্ছে, তাদের হদিস স্রেফ আর্ট লাইনে পাওয়ার সম্ভাবনাও কম। ইদানীং যদিচ, শিল্প তথা শিল্পীদের চাহিদা যথেষ্ট বেড়ে গেছে। এককথায় বলতে গেলে সাধারণের ধরা-ছোঁয়ার ঊর্ধ্বে উঠে গেছে বাজার। তথাপি, যাঁরা তলায় ছিলেন, তাঁদের শতকরা নব্বুই জন তলানিতেই রয়ে গেছেন। তবে আমার সবাই জানি, মানুষের ‘সৃষ্টি’ যে কোনও শিল্পেরই ভালমন্দ বিচার  নির্ভর করে ‘সময়ের’ হাতে। ‘সময়ে’র কষ্টিপাথরে যে ছবি টিকে গেল সেটিকেই আমরা শুদ্ধ ভাল ছবি বলে ধরে নেব। কিন্তু আজ এই নব্য যুগে ভালমন্দ নির্ভর করছে ‘চিৎকারে’র ওপর। স্বকণ্ঠে নয়, পরের মারফত ব্যান্ড বাজিয়ে। অর্থাৎ কিনা প্রচারমাধ্যম। ইংরিজিতে বলে ‘হাইপ’ সৃষ্টি করে। আহা! তা না হলে যে জীবিত অবস্থায় খেতেও পাব না। পরিশ্রম করলুম আমি, না খেতে পেয়ে মরেও গেলুম—মরণোত্তর মেডেল কি আমার ফটোর গলায় ঝোলাবে পরবর্তী প্রজন্ম!...

কোনও একজনের মৃত্যুর পর কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত লাইন মনে পড়ে,

মৃত্যুর আগের দিন তাহাকে কি সুন্দর দেখালো—!’

কবরে শব হয়ে, শ্মশানে চিতাভস্ম হয়ে তো আর দেখতে যাব না। ‘ক্রিস্টিজ’ বা ‘সথবিজে’র নিলামে আমার আঁকা একটি ছবি বিক্রি হয়ে গেল কত কোটি টাকায় বা ডলারে!? সুতরাং হে শিল্পীবন্ধুগণ! সামান্য আড়াল নিয়ে নিজের ঢাক নিজেই পেটান। আপন স্বাক্ষরটিকে একটি ‘ব্র্যান্ড’ হিসেবে বাজারে ছাড়ুন, তবেই তো বাড়ি-গাড়ি-এরোপ্লেন আপনার দোরের গোড়ায় অহোরাত্র অপেক্ষায় থাকবে। ক্রেমে ক্রেমে দেখবেন পাবলিক আপনার ‘সই’ খাচ্ছে। বাজারে চড় চড় করে চড়ছে আপনার ‘সই’ করা ছবির দাম।

...ভিন্ন রূপে ফিরে যাওয়া সেই অরণ্যে, সেই গুহায়। গুহা-মানবরা বুক চাপড়ে পাথুরে দেওয়ালে ছবি এঁকে অহঙ্কার প্রকাশ করত!

এ যুগে আসুন, ব্যান্ডপার্টির বাজনা-বাদ্যি পিটিয়ে বাজার জয় করি—এই পৃথিবী, হে ক্রেতা ভাই, ‘‘করছো তুমি কি?  এই দ্যাখো না কেমন আমি ছবি এঁকেছি’’!!