কেন জানি না, লিখতে বসলে মাঝে মাঝে মন ভারী অবাধ্যতা করে; কিছুতেই বশে থাকতে চায় না। এই যেমন এখন, বেশ তো মনটাকে বাঁধন দিয়ে রেখেছিলুম, যাতে এদিক ওদিক ঘাড় ঘোরাতে না পারে। কিন্তু, যেই না কি লিখতে বসলুম, অমনি সে তেজি, গোঁয়ার ঘোড়ার মত অবাধ্যতা শুরু করল। উঁহু, কিছুতেই লাগাম পরাতে পারবে না। লাগাম পরিয়েছো তো আমারই একদিন কি তোমারই একদিন! মন বলল, ছুটতে দাও ছুটতে দাও আমায় ইচ্ছেমতো; বাধা দিও না; চাই কি আমার দুদিকে দুখানা পাখাও লাগিয়ে দাও – পংখীরাজ ঘোড়ার মত আমি উড়তেই থাকি উড়তেই থাকি।

আমি বললুম, বেশ, মন তোমাকে বাধা দেব না; তবে পাখা নয়। তোমাকে দিলাম চাঁদের সাম্পান। ঐ নীল আকাশে মেঘেদের মধ্য দিয়ে ভেসে চল তুমি।

সে বলল আমায়, ‘উঁহু, আমি একা কেন যাব? তুমিও চল আমার সঙ্গে’।

আমি অবাক হয়ে বললুম, ‘আমি? আমাকেও সঙ্গে নেবে তুমি?’

‘হ্যাঁ, এতে আশ্চর্য হওয়ার কি আছে! দ্যাখো চার দেওয়ালের মধ্যে নিজেকে আটকে না রেখে নিজেকে মুক্ত করে দিলে কেমন লাগে?’

ভাবলুম, বেশ, মন্দ তো বলে নি। আমারও তো হাত পা বাঁধা। ইচ্ছে করলেই যেখানে সেখানে চলে যেতে পারি না। তা মন যখন বলছে, যাই না ওর সাথে। আমারই তো মন।

গভীর রাতে চাঁদের ভেলায় চড়ে ভেসে পড়লাম মনের সাথে। পেঁজা তুলোর মত মেঘেদের পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় সে কি রোমাঞ্চ  - উফফ ভাবাই যায় না! ভাগ্যিস, মন সঙ্গে ছিল।

‘কোথায় তোমার যেতে ইচ্ছে করছে?’ মন প্রশ্ন করল আমায়।

উঁহু এখন আমি আর আমাতে নেই। সম্পূর্ণ মনের অধীন। তুমিই বলো, মনকে বললুম আমি।

‘বেশ, তবে চলো যাই বেশ কয়েকটা বছর পিছিয়ে, যখন মোবাইল ইন্টারনেটের যুগ শুরু হয় নি। কেউ আমাদের গতিবিধির ওপর নিয়মিত খবরদারি করতে পারবে না। ইচ্ছে করলেই হারিয়ে যাওয়া যাবে’।

সম্মতি জানালুম আমি আর হাসলুম, মনটা শুধুই হারিয়ে যেতে চায়!

সম্মতি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে এক অবাক কাণ্ড। চাঁদের সাম্পানটা হু-শ করে কোথা দিয়ে যে আমাদের নিয়ে গিয়ে ফেলল আমার সে-ই কতদিন আগের স্কুলবাড়িটায়। চারতলার হস্টেলের স্টাডিরুমে উঁকি দিয়ে দেখি, মেয়েরা কার্ড বানাতে ব্যস্ত। মুখগুলো স-ব চেনা। সেই নিষ্পাপ সরল মুখগুলো রবিবারের দুপুরবেলা কার্ড বানাচ্ছে গল্প করতে করতে। নানা রঙের চার্ট পেপার কেটে কার্ডের মত মুড়ে তাতে ছবি এঁকে বা নানারকম ছবি সেঁটে দেওয়া হচ্ছে। মিনি কার্ড, মাঝারি কার্ড, বড় কার্ড – সবই তৈরি হয়ে যাচ্ছে চটপট। স্কুলের ওয়ার্ক এডুকেশনেও এত একাগ্রভাবে কাজ করতে দেখা যায় না কাউকে। কেন এত তৎপরতা? ভাবছি সাতপাঁচ!

মন হঠাৎ বলে উঠল, ‘ভুলে গেলে বুঝি? আর তিনদিন বাদেই তো একটা বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে’।

বছর শেষ হয়ে যাচ্ছে! ও, ঠিক তো একটা বছর চলে গেল প্রায়, হ্যাঁ হ্যাঁ, বাংলা নববর্ষ আসছে! হ্যাঁ, এইবার মনে পড়েছে। স্কুলে পড়ার সময় আমরা তো এভাবেই কার্ড বানাতাম নববর্ষের সময়। না হয় অনেকগুলো বছর পিছিয়ে গেছি। কিন্তু সে-ই তো একই নববর্ষ; প্রতি বছরই সে আসে; সেটা তো বদলায় নি। একটু বড়বেলায় স্কুলের হস্টেলে যখন ছিলাম, সেই সময় কার্ডের ওপর হাত আর মনের কারিকুরি দুটোই সমান তালে চলত। কার্ডের ওপরে হাতের নকশা আর ভেতরে কবিতা। এই সময় কার কবিত্বশক্তি কত বেশি তার প্রমাণ পাওয়া যেত। যারা অবিশ্যি সেরকম প্রতিভাধর ছিল না, তারা ধার করেই কাজ চালিয়ে দিত। এতে দোষের কিছু ছিল না কারণ কার্ড দেওয়া বা পাওয়াটাই মুখ্য ছিল। আবার কে কটা কার্ড পাবে, তার ওপরেই নির্ভর করত গ্রহীতার জনপ্রিয়তা। সুতরাং, নববর্ষ আসছে অথচ কার্ড বানানো হচ্ছে না – এ ছিল গর্হিত অপরাধ!

সত্যি, কতদিন আগেকার সেই হারিয়ে যাওয়া নববর্ষের দিনগুলোর কথা ‘মন’ আবার নতুন করে মনে পড়িয়ে দিল।

আরে, ওই যে, চারতলায় ওঠার সিঁড়িটার এক কোণে বসে কে যেন একমনে কি করছে! দেখা যাক কাছে গিয়ে। এ তো আমাদের থেকে এক ক্লাস সিনিয়র এক দিদি। কিন্তু ও করছেটা কি এত মনোযোগ দিয়ে? হাতে ওটা কি? একটা কার্ড! কেনা কার্ড মনে হচ্ছে। হুঁউউউ, যা ধরেছি তা-ই। কেনা কার্ড। তার ওপর দুটো রাজহংস রাজহংসীর ছবি ঝলমল করছে। ভেতরে কি লিখছে দিদি, গোটা গোটা অক্ষরে? ‘শেষের কবিতা’র উদ্ধৃতি? কাকে পাঠাবে কার্ডটা?

সে-ই প্রথম টিন এজ লভের ছোঁওয়া! সিনিয়র দিদি তখন ক্লাস এইট। নববর্ষে যাকে ভালবাসে; সে-ই ছেলেটিকে লভ লেটার পাঠাবে কার্ড দিয়ে। তখন থেকেই ভালবেসে উজাড় করে দিতে ইচ্ছে করে নিজেকে – ভালবাসা পেতেও ইচ্ছে করে  খু-ব। ‘লভ’ বা ‘প্রেম’ এই দুটো শব্দ যে পৃথিবীতে সব কিছুর চেয়ে দামি – তা কি ভাল করে বুঝতাম তখন? তবু ভালবাসার জন্য কাঙালপনা বোধহয় তখন থেকেই ছিল!

অনেকদিন আগে পড়া একটা কবিতার কথা মনে পড়ে গেল...। কবিতাটি বাংলাদেশের এক কবি মহম্মদ মনিরুজ্জামান এর লেখা। আমি অবশ্য মূল কবিতাটি পড়ি নি। পড়েছিলাম ইংরেজি অনুবাদ। সমীর দে এবং অভিজিৎ ঘোষের সম্পাদনায় ভারত ও বাংলাদেশের কবিদের কবিতা নিয়ে প্রকাশিত এক সংকলন গ্রন্থে ‘টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি অফ বেঙ্গলি পোয়েট্রি’। কবিতাটির নাম ছিল ‘দ্য লভ লেটার’। বাংলায় তর্জমা করলে ‘প্রেমপত্র’ই তো হওয়া উচিত, মূল কবিতাটির নাম কি তা আমার জানা নেই; কবিতাটা ভাল লেগেছিল কেন...তাহলে বলি একটু নিজের মত করে...ভাসা ভাসা যেটুকু মনে আছে...।

‘আজও তুমি আর আমি বেঁচে আছি...কারণ সূর্যের জ্বলন্ত হৃদয়ে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম আমাদের মুখ। কত কত আলোকবর্ষ পরে এই মদমত্ত সভ্যতার শক্তির আস্ফালন ধুলোয় মিশে যাবে......আমরা – তুমি আর আমি ঐ গুঁড়িয়ে যাওয়া সভ্যতাকে পায়ে দলে প্রবেশ করব ভালবাসার বৃত্তে...গায়ে মেখে নেবো চাঁদের কলংক-আগুন’!...কি সুন্দর কবিতাটির মূল অভিব্যক্তি!

মনে হয়, ভালবাসার জন্য যুগ-যুগান্ত ধরে অপেক্ষা করা যায়...বারবার ফিরে আসা যায় এই পৃথিবীতে...। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার লাইন মনে পড়ে, ‘ভালোবাসা মানে ঘুম, শরীর-বিস্মৃত পাশাপাশি/ ঘুমোবার মতো ভালোবাসা’।

মনকে প্রশ্ন করি আমি, তুমি এ কোন সময়ের আবর্তে নিয়ে এসে ফেললে আমায়?

আজ এই নববর্ষের প্রাক্কালে নতুন করে কেন মনে করিয়ে দিলে জীবনের খুব ছোট ছোট চাওয়া পাওয়াগুলোকে...বুকের মধ্যে কেমন হু হু করে উঠল...আবার ফিরে যেতে ইচ্ছে করল সেই কিশোরিবেলায়...নতুন করে অনুভব করতে ইচ্ছে করল আমার সেই অস্পষ্ট স্বপ্নগুলোকে।

মন বলল আমায়, ‘আমি তো এটাই চেয়েছিলাম যে, তুমি আজ নিজেকে হারিয়ে ফেলো। এতদিন ধরে তোমার জীবনে যত নববর্ষ এসেছে, কত ছোট ছোট ভাল লাগা, ভালোবাসা একটু একটু করে সঞ্চিত হয়ে রয়ে গেছে তোমার ভেতরে। আজ এই নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে ঐ ছোট ছোট চাওয়া-পাওয়াগুলোই তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে’।

আমি বললুম, ঠিকই বলেছো মন, আমাকে বাঁচিয়ে রাখা মানে তুমিও মরবে না। তুমি মরে গেলে কি নিয়ে থাকব বলো। আমরা যে একে অপরের পরিপূরক।

মন হাসল, ‘এবার চল তোমাকে তোমার চার দেওয়ালের ঘেরাটোপে ফিরিয়ে দিয়ে আসি। তোমার সঙ্গে আমিও এবার বন্দী হয়ে যাই’।

না মন, এখনি আমরা বাঁধা পড়ব না। আর একটু থাকতে দাও তোমার সাথে, ভেসে বেড়াতে দাও চাঁদের সাম্পানে। তোমার সাথে কাটাবার মত এমন মূহুর্ত আবার কবে পাবো জানি না। নতুন বছরের প্রথম দিনটা অন্ততঃ আমার সঙ্গে থাকো।

মন কথা দিয়েছে আমাকে বাংলা নববর্ষের দিনটা মানে পয়লা বৈশাখ অর্থাৎ ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত আমরা মুক্ত আনন্দে যেখানে ইচ্ছে সেখানেই ঘুরে বেড়াবো। তার পরদিন থেকে আমাদের পায়ে আবার বেড়ি পড়বে।

এই দেখুন পয়লা বৈশাখ নিয়ে লিখতে বসে কি সব লিখে ফেললাম – মন সম্পূর্ণ অন্য পথে নিয়ে গেল আমায় – লেখাটা কেমন যেন এ্যাবস্ট্রাক্ট বা বিমূর্ত হয়ে গেল। এ যেন হয়ে গেল বিমূর্ত ছবি লেখা। মনের অনুভূতিগুলোকে ক্যানভাসে যদি কেউ রঙ দিয়ে ফুটিয়ে তোলে, তাহলে যেমন হয়; সেরকম।

সে যাই হোক, আপনারা কিন্তু বাংলা নববর্ষ একদম আপনাদের মতন করেই কাটান। আগামী চোদ্দই এপ্রিল পয়লা বৈশাখ, বাংলা ১৪২৩ সালের শুরু। ঐদিন বাবাসাহেব আম্বেদকরেরও জন্মদিন, কাজেই ছুটি। যেহেতু ছুটি, তাই দিনটা নিজের মত করে কাটানোর সুযোগ অবশ্যই আছে।

বাবাসাহেব আম্বেদকরের কথা যখন উঠলই, তখন ওঁর সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়, কারণ মহারাষ্ট্রে যখন রয়েছি, মহারাষ্ট্রের প্রবাদপ্রতিম এই ব্যক্তিত্বকে নিয়ে না লিখলে লেখা অসম্পূর্ণই থেকে যাবে।

ভীমরাও রামজী আম্বেদকরের জন্ম ১৮৯১ সালের ১৪ই এপ্রিল। তিনি বৃটিশদের তৈরি মিলিটারি ক্যান্টনমেন্ট মহাও –এ (বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে এই স্থানটি) জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা রামজী মালোজী সাকপাল ঐ মিলিটারি ক্যান্টনমেন্টে সুবেদার পদে কর্মরত ছিলেন। আম্বেদকরের মায়ের নাম ছিল ভীমাবাঈ। আম্বেদকর ছিলেন বাবা মায়ের চৌদ্দতম এবং কনিষ্ঠ সন্তান। তাঁর পরিবারের আদি বাসস্থান ছিল মহারাষ্ট্রের রত্নগিরি জেলার অম্বাওয়াড়ে শহর। তৎকালীন হিন্দুদের মধ্যে তাঁরা  মাহার শ্রেণীভুক্ত ছিলেন এবং মাহার শ্রেণীকে সে সময় অস্পৃশ্য বলে গণ্য করা হত। সামাজিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রামজী সাকপাল মারাঠি ও ইংরেজীতে শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন এবং নিজের সন্তানদেরও শিক্ষার আলো দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলেন। আম্বেদকর স্কুলে ভর্তি হলেও কিন্তু অস্পৃশ্যতার বৈষম্যমূলক সামাজিক অনুশাসন তাঁকেও সহ্য করতে হয়েছিল। অন্যান্য অস্পৃশ্য বাচ্চাদের সঙ্গে তাঁকেও আলাদা বসতে হত এবং জলতেষ্টা পেলে উঁচু জাতের কেউ তাঁদের উঁচু থেকে একটা পাত্র করে হাতে জল ঢেলে দিত যাতে ওই পাত্রে তাদের স্পর্শ না লাগে। এই জলদানের জন্য সাধারণত একজন পিওন ছিল। যেদিন ঐ পিওন স্কুলে আসত না, তাঁদের জল খাওয়াও হত না।

আম্বেদকরের বাবা চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তারা সকলে মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলায় চলে আসেন। সেখানে আসার কিছুদিন বাদেই আম্বেদকরের মায়ের মত্যু হয়। আম্বেদকরের ভাইবোনেদের মধ্যে আম্বেদকরই ছিলেন সবথেকে মেধাবী এবং তিনিই সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে হাই স্কুলে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। তাঁর গ্রাম অম্বাওয়াড়ে এই নাম অনুসারে তাঁর পদবী নির্ধারণ করেন তাঁরই এক শিক্ষক মহাদেব আম্বেদকর। ছাত্রের পদবী পরিবর্তিত হয়ে হয় ‘আম্বেদকর’। অনতিকাল পর আম্বেদকর বম্বে (মুম্বই) আসেন এবং এলফিনস্টোন হাই স্কুলে তিনি ভর্তি হন, যেখানে তিনিই ছিলেন প্রথম অস্পৃশ্যশ্রেণীভুক্ত ছাত্র। আম্বেদকর অত্যন্ত মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে নিরন্তর সম্মুখীন হতে হয়েছে নানা সামাজিক গোঁড়ামির। ১৯০৭ সালে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে প্রবেশ করেন। ভারতবর্ষে তিনিই প্রথম অস্পৃশ্যশ্রেণীভুক্ত ছাত্র, যিনি কলেজে পড়ার সুযোগ পেলেন। এলফিনস্টোন কলেজে পড়ার সময় তিনি বরোদার মহারাজা তৃতীয় সয়াজী রাও গায়কোয়াড়ের প্রদত্ত স্কলারশিপ পান উচ্চশিক্ষার জন্য। এরপর শুরু হয় বিদেশে তাঁর বিস্তৃত পড়াশোনা। আমেরিকার কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি, লণ্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স  থেকে তিনি ইকনমিক্সে ডক্টরেট অর্জন করেন এবং আইন নিয়েও শিক্ষাগ্রহণ করেন। তিনি কিছুদিন শিক্ষকতা করেন এবং পরে ব্যরিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। আজীবন তিনি অস্পৃশ্যতা, জাতিভেদ প্রথা, কুসংস্কার ইত্যাদির বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন এবং তিনি বুঝেছিলেন যে, এই জগদ্দল পাথরের মত ভারতবর্ষের ঘাড়ে চেপে বসা অস্পৃশ্যতাকে হঠাতে গেলে দরকার উপযুক্ত শিক্ষা। নিজের পায়ে দাঁড়াতে না শিখলে মানুষ নিজের কথা কিভাবে বলবে?

১৯৩৭ সালে তিনি তাঁর ‘The Annihilation of Caste’ বইতে কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে কলম ধরেন এবং পরে তাঁর আর একটি বই ‘Who were the Shudras?’ বইতে কিভাবে অস্পৃশ্যতার জন্ম হল, তা ব্যাখ্যা করেন। স্বাধীন ভারতে তিনি ছিলেন প্রথম আইনমন্ত্রী এবং তিনি ছিলেন ভারতীয় সংবিধানের ড্রাফটিং কমিটির চেয়ারম্যান। তাই তাঁকে ভারতীয় সংবিধানের রূপকার বলা হয়। ১৯৫৬ সালে তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করে কারণ বৌদ্ধধর্ম তাঁকে বরাবর আকৃষ্ট করেছে সমদর্শীতার জন্য। তাঁর আহবানে বহু দলিত মানুষ বৌদ্ধধর্মকে গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৬ সালের ৬ই ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় তাঁর ‘The Buddha and His Dharma’ বইটি। ১৯৯০ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘ভারতরত্ন’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। বাবাসাহেব আম্বেদকরকে মহারাষ্ট্রের মানুষ দেবতা জ্ঞান করে। তাঁর জীবনের উত্থান বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তিনি কতখানি দৃঢ় ও স্বাধীন উন্মুক্ত চিন্তাধারার মানুষ ছিলেন যে, নিরন্তর প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের মানুষের জন্য আজীবন কাজ করে গিয়েছেন। আগামী ১৪ই এপ্রিল তাঁর জন্মদিনে তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।