সারাদিন বাড়িতে কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে গিয়েছেন? অফিসে বসের হাজার প্রশ্নবাণের মুখোমুখি হতে হতে ক্লান্ত? বাড়ির খুদেদের পিছনে ছুটতে গিয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন? আপনার সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে পারে রং।

না, তার জন্য আপনাকে ঘরের দেওয়াল বা পরদার রং বদলাতে হবে না। শুধু দরকার সামান্য একটু সময়। সেই সঙ্গে হাতে তুলে নিন মোম রং, কাঠ পেনসিল অথবা তুলি। আর তা দিয়েই ভরিয়ে তুলুন পাতার পর পাতা। এতে আপনার মন শান্ত হবে, বাড়বে ধৈর্য। আবার পরবর্তী সমস্যা মোকাবিলার জন্য ঝাঁপাতে পারবেন নতুন উদ্যমে।

‘অ্যাডাল্ট কালারিং বুক’-এ রং করে মানসিক নানা সমস্যার সমাধান করার চলটা নতুন নয়। বহু বছর আগে এক বিখ্যাত সাইকোলজিস্ট নিজের রোগীদের বিভিন্ন মণ্ডল বা চক্র রং করতে দিতেন। দেখা গিয়েছিল, এতে রোগীদের মন শান্ত হচ্ছে। তাঁদের সমস্যাও দূর হচ্ছে আস্তে আস্তে। সম্প্রতি রং করার ট্রেন্ড বেড়েছে। মেট্রোয় যাওয়ার ফাঁকে, অফিসে লম্বা মিটিংয়ের পর কিংবা বাচ্চাদের পড়ার রুটিন তৈরির শেষে আপনিও হাতে তুলে নিতে পারেন ‘অ্যাডাল্ট কালারিং বুক’।

বিজ্ঞান বলছে:

• রং দুশ্চিন্তা আর ক্লান্তি থেকে মুক্তি দেয়। যে কোনও উজ্জ্বল রং দেখলে একঘেয়েমি থেকে বেরোনো যায় সহজেই।

• রং করলে বাড়তে পারে মনঃসংযোগও। মন দিয়ে রং করা আসলে ধ্যানের মতোই। তাই ধ্যান করলে যেমন মনঃসংযোগ বাড়ে, তেমনই একটি বিশেষ বিষয়ে মন দিয়ে রং করলে আপনার মনঃসংযোগ বাড়তে বাধ্য।

• আপনার রঙের বইটা আপনারই। আপনি সেটা কীভাবে রাঙাবেন, তা-ও নির্ভর করছে আপনার উপরই। ফলে কে কী বলল বা ভাবল, এ সব কথার তোয়াক্কা না করে আপনি নিজের মনের মতো রং করতে পারেন। রং উস্কে দিতে পারে আপনার সৃজনশীলতাও।

• স্প্রে পেন্ট দিয়ে ঘরের দেওয়াল সাজাতে ইচ্ছে নাও করতে পারে। আপনি বরং একটা ৬০ পাতার বই তুলে রং করুন। সেই রঙিন পাতাই দেওয়ালে সেঁটে সাজিয়ে ফেলুন পছন্দের গৃহকোণ।

• রং করার সুযোগ আপনাকে এক লহমায় নিয়ে যেতে পারে আপনার শৈশবে। সে সময় দুশ্চিন্তা তো ছিলই না। বরং বর্তমানের বেঁচে থাকা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছিল প্রখর। চাইলে রং করার এক
টুকরো পাতা আপনার কাছে ফিরিয়ে দিতে পারে ফেলে আসা একচিলতে শৈশব।

• রং করার মাধ্যমে আপনি খুঁজে পেতে পারেন নিজেকেও। অর্থাৎ অফিসের চাপ, বাড়ির কাজ সামলে যখন সামান্য অবকাশে রং করতে বসেন, আপনার ভিতরে লুকিয়ে থাকা সমস্ত ইচ্ছে, অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা ফুটে ওঠে।

• বহু রোগের সমাধান এই রং। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মৃগী রোগের ক্ষেত্রে এই ‘কালারিং থেরাপি’ বেশ কাজে দেয়। যেমন কোনও মৃগী রোগীর  অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। দেখা গিয়েছে, সেই রোগীরা ঠিকমতো পেন বা পেনসিল ধরতে পারেন না। তাঁদের দিয়ে রং করালে প্রথম দিকে বিস্তর অসুবিধে হলেও, রং করার অভ্যেস চলে এলে রোগ সারতে থাকে।

• রং আসলে মানুষের লজিক আর সৃজনশীলতা, দুইয়ের উপরই নির্ভর করে। অর্থাৎ কোনও বিশেষ আকার বা প্যাটার্ন রং করতে যেমন লজিকের দরকার হয়, তেমনই রং বাছার ক্ষেত্রে সৃজনশীল হওয়াটাও জরুরি। ফলে রং মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্সকে উদ্দীপ্ত করে।

তবে এই ‘কালারিং থেরাপি’-র জন্য বই নয়, বেছে নিতে পারেন আপনার ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটারও। অর্থাৎ প্লে স্টোর কিংবা আইস্টোর থেকে রং করার নানা অ্যাপ্লিকেশন বিনামূল্যে ডাউনলোড করে রং করতে পারেন।

তা হলে আর দেরি কেন? এখনই হাতে তুলে নিন রং। আর বানিয়ে ফেলুন চিন্তামুক্ত নিজের এক টুকরো জগৎ।