ওজন ঝরানোর জন্য জমিয়ে ওয়র্কআউট করছেন। তার সঙ্গে ডায়েটও নিয়ম মেনে। ভাবছেন, আর কী! এতেই হবে কেল্লা ফতে! কিন্তু জানেন কি, এই দুইয়ের মাঝে আরও একটা ধাপ আছে, যেটা আপনি বাদ দিয়ে যাচ্ছেন? সেটা হচ্ছে ওয়র্কআউট পরবর্তী রুটিন। তাতেই এ বার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

• প্রথম কথাই হল, এক্সারসাইজ় রুটিন শেষ করার পরও হুট করে তা বন্ধ করে দেবেন না। পোস্ট ওয়র্কআউট এক্সারসাইজ় এই সময় জরুরি। যেমন, স্ট্রেচিং। অন্তত ১৫ সেকেন্ড করে স্ট্রেচ ধরে রাখুন। অথবা ওয়র্কআউট শেষ হওয়ার পর লিফ্‌ট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠুন। ব্যাগ কাঁধে নিন। তবে তার পরেই নিজের কাজে লেগে পড়ার আগে সময় নিন।

• এক্সারসাইজ়ের সময় ঘামের কারণে অনেকটাই জল বেরিয়ে গিয়েছে শরীর থেকে। তাই আপনি তখন কিছুটা ডিহাইড্রেটেডও বটে। তাই তা পূরণ করার জন্য খেতে হবে প্রচুর জল বা ডাবের জল কিংবা লেবুর শরবত। এর মধ্যে বিশেষ করে ডাবের জলের কথা বলব। ইলেকট্রোলাইটিসে ভরপুর এই পানীয় কিন্তু ব্যায়ামের পর শরীর হাইড্রেটেড রাখতে ভীষণ কার্যকরী। এর ফলে মাসল ক্র্যাম্প, ক্লান্তি বা বমি-বমি ভাব... এ সব এড়িয়ে যাওয়া যায়। এর সঙ্গে বাড়তি পাওনা উজ্জ্বল ত্বক। বেশি পরিমাণে ফ্লুয়িড নেওয়ার ফলে আপনারও অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স খাওয়ার ইচ্ছেটা কিন্তু পালানোর পথ পেয়ে যাবে।  

• গ্লাইকোজেন ও পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ এবং পেশির জন্য ওয়র্কআউটের পরে শরীরে প্রোটিনে ভরপুর খাবারের প্রয়োজন হয়। এতে কিছুটা পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম ও সোডিয়ামও থাকবে। খাবার অবশ্যই নিজের কাছে রাখবেন। গ্রিল্‌ড চিকেন বা ফিশ, ছানা, হোল গ্রেন ব্রেড, অ্যাভোকাডো, মিষ্টি আলু খেতে পারেন। বিশেষ করে কলা এ সময় খুব উপকারী। পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ এই ফল মাসল ক্র্যাম্প যাতে না হয়, তা বিশেষ ভাবে দেখে।

• শারীরচর্চার পর স্নান করাটা কিন্তু ভীষণ জরুরি। সেটা যে শুধু হাইজিনের কারণেই প্রয়োজন, তা নয়। মুক্ত রোমকূপের মুখ বন্ধ করে, ত্বকও উজ্জ্বল রাখে। তা ছাড়া টুকটাক ব্যথা, আঘাত, এ সবের থেকেও রেহাই পেতে ওয়র্কআউটের পর স্নান জরুরি।

• ভাল ফল পেতে যোগাসনের পর যেমন শবাসন জরুরি, তেমনই ওয়র্কআউটের পরেও বিশ্রাম ভীষণ প্রয়োজন। এ সময় পেশির কাজ বেশি হয় বলে, ভারী এক্সারসাইজ়ের পর আপনার শরীর বিশ্রাম চাইলে তা দেওয়াটাও দরকার। হাই এনার্জি ওয়র্কআউটের পর অন্তত মিনিট পনেরো শুয়ে বা বসে রিল্যাক্স করুন। এতে শরীরও ফিরে পাবে সতেজতা।