এখন সময়টা শুধুই স্বাস্থ্য সচেতনতার নয়। বরং আর এক ধাপ এগোনোর  পালা। বাড়তে থাকা ধুলো-ধোঁয়ার পরিবেশকে বাসযোগ্য করে তোলার সচেতনতাও দরকার। দুটোকে মিলিয়ে দিলে স্বাস্থ্যরক্ষা, পরিবেশরক্ষা দুটোই হবে। এখানেই আসে হার্ব গার্ডেনিংয়ের ধারণা।

নুডলস, পাস্তা, পিৎজ়া বা বার্গার খাওয়া মানেই শরীরে নানা রোগের বাসা বাঁধা— ধারণাটা পুরোপুরি ঠিক নয়। বাড়িতে নিজে হাতে এগুলো বানানো গেলে পুষ্টিকরও হয়, আবার স্বাদেও অতুলনীয়। ধরা যাক পিৎজ়ার কথাই। হোল গ্রেন আটার পিৎজ়া তৈরি করে যদি বাড়িতে ফলানো হার্ব, টম্যাটো ব্যবহার করা হয়, তা হলে তা হয় অর্গ্যানিক। জেনে নেওয়া যাক পিৎজ়া হার্ব গার্ডেনিংয়ের খুঁটিনাটি। বাড়িতেই চাষ করতে পারেন সুইট বেসিল, অরিগ্যানো, পার্সলে, রোজ়মেরি।

সুইট বেসিল: দিনে অন্তত ছ’ঘণ্টা সরাসরি সূর্যের আলোয় রাখতে হবে বেসিল গাছ। মাটি থাকবে ভেজা। হার্বের জন্য গাছে ফুলের কুঁড়ি ফুটলেই ছেঁটে ফেলুন। না হলে গাছ বেশি বেড়ে যাবে।

অরিগ্যানো: এই গাছের অতিরিক্ত জলের প্রয়োজন নেই। বীজ থেকে চারা জন্মে চার ইঞ্চি মতো হলে ছাঁটতে থাকুন। না কাটলে অরিগ্যানো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেখানে সূর্যের আলো আসে, সেখানেই রাখুন গাছ।

পার্সলে: পার্সলের ক্ষেত্রে বীজ না কিনে চারা গাছ পুঁতেই শুরু করুন। কারণ, বীজ থেকে এই গাছ জন্মায় দেরিতে। রোজ অল্প করে গাছে জল ছিটিয়ে দিন। কারণ ভেজা মাটি পার্সলের জন্য আদর্শ। ডাল থেকে সরাসরি পাতা কেটে পিৎজ়ায় ব্যবহার করুন। গাছের ডালের বাইরের দিকে পাতা কাটতে পারেন। তাতেই স্বাদ বেশি। কাণ্ডের দিকের পাতা বাড়তে সময়ও লাগে খানিক।

রোজ়মেরি: রোজ়মেরি ঝোপজাতীয় গাছ। এই গাছ বাড়তে বাড়তে প্রায় চার ফুট পর্যন্ত হয়। তাই আলাদা টবেই পুঁততে পারেন রোজ়মেরি। রোজ জল দেওয়া প্রয়োজন। তবে খেয়াল রাখবেন, টবে যেন জল না জমে। আর নির্দিষ্ট সময় অন্তর গাছ ছাঁটতে থাকুন।

কী কী খেয়াল রাখবেন:

• জায়গার অভাব থাকলে একটি বড় ট্রে কিংবা আয়তাকার টবেই পাশাপাশি পুঁততে পারেন বিভিন্ন হার্ব। সে ক্ষেত্রে আইসক্রিমের চামচ কিংবা কাঠের ট্যাগ লাগিয়ে দিন। 

• ঝোপ জাতীয় গাছ হওয়ার কারণে রোজ়মেরির জন্য থাকুক আলাদা টব।

• প্রতি টবেই জল নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা আছে কি না, দেখে নিন।

• প্রত্যেক হার্বের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ, চারা অনলাইনে, নার্সারিতে কিংবা বাজারে কিনতে পাবেন।

• শুধু তরতাজা হার্বই নয়, বেসিল-অরিগ্যানো-রোজ়মেরি-পার্সলে অনেক সময়ে ড্রায়েড বা শুকনো অবস্থায়ও খেতে ভাল লাগে। গাছ থেকে পাতা বা ডাল কেটে সূর্যের আলোয় শুকিয়ে নিতে পারেন। বাষ্পনিরোধক পাত্রে ভরে রাখলে ড্রায়েড হার্ব অনেক দিন ভাল থাকে।

পিৎজ়া হার্ব গার্ডেনিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হল, নিজের হাতে গাছ ফলিয়ে তা খাবারে মেশানো। তাতে ভেজাল থাকবে না। তাই কীটনাশক ব্যবহার না করাই ভাল। সামান্য যত্নআত্তিতেই গাছ ভাল থাকবে!