আজ তাঁকে এক ডাকে চেনেন খুব কম লোকই। তিনি লিখে রেখে যাননি নিজের কোনও জীবনী। তাঁকে নিয়ে কোনও বই লেখারও উদ্যোগ নেননি কেউ। কিন্তু শান্তিনিকেতনে  রবীন্দ্রনাথের ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ বিদ্যালয়ের প্রথম বছরের ছাত্রদলের একজন, ভারতীয় সিনেমার পুরোধা এই আশ্চর্য বাঙালি চলচ্চিত্রকার তথা উদ্যোগপতিকে ভুলে থাকা একেবারে উচিত হয়নি। কারণ তিনিই হলেন আজকের বলিউডের জন্মদাতা প্রথম পুরুষ। ‘বম্বে টকিজ়’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিমাংশুনাথ রায় ওরফে হিমাংশু রাই।

শান্তিনিকেতনের দিনগুলি  

হিমাংশু রায়ের জন্ম ২৮ জুলাই ১৮৯১, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা বলে জানিয়েছেন তাঁর নাতি পিটার ডাইট্‌জ। মতান্তরে, কটক, ১৮৯২। বাবার নাম হেমেন্দ্রনাথ। তিনি কর্মসূত্রে ম্যানেজার হিসেবে হয়তো নিযুক্ত ছিলেন টেগোর এস্টেটে। ওড়িশার কটকে। জমিদারি কাজের দেখাশোনার জন্য রবীন্দ্রনাথ জলপথে যে ওড়িশা যাতায়াত করতেন, তা ‘ছিন্নপত্র’র পাঠক মাত্রেই জানেন। সময়টা ঊনবিংশ শতকের শেষ দশক। 

বিংশ শতাব্দীর প্রথম বছরেই ‘জমিদার’ রবীন্দ্রনাথ শিক্ষাব্রতীর পরিচয় নিয়ে পৌঁছেছিলেন শান্তিনিকেতনের আশ্রমে। ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে তিনি শুরু করেছিলেন ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’। পরে যার নাম হয় ‘পাঠভবন’। বিদ্যালয়টি শুরু হয় ১৯০১ সালের ২২ ডিসেম্বর মাত্র পাঁচজন ছাত্রকে নিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ও ব্রহ্মবান্ধব নিজেদের চেনাজানার মধ্য থেকেই ছাত্রদের বেছে নিয়েছিলেন। নিজপুত্র রথীন্দ্রনাথ (বয়স ১৪), বন্ধু শ্রীশচন্দ্র মজুমদারের পুত্র সন্তোষচন্দ্রের (বয়স ১৬) সঙ্গে আরও যারা ছিল, তাদেরই একজন হল টেগোর এস্টেটের কর্মচারী হেমেন্দ্রনাথের পুত্র হিমাংশু, বয়স ১১। জানা যাচ্ছে, পরের বছর ১৯০২ সালে বিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিলে রবীন্দ্রনাথের ‘বিসর্জন’ নাটক অভিনয় করছেন আশ্রমে। সেই নাটক করার গল্প রথীন্দ্রনাথ লিখে গিয়েছেন তাঁর ‘পিতৃস্মৃতি’ গ্রন্থে। এই নাটকে হিমাংশুও অভিনয় করেছিলেন বলে জানিয়েছেন ইতিহাসবিদ ও শিল্প বিশেষজ্ঞ প্রাণ নেভিল। 

বম্বে টকিজের লোগো

প্রসঙ্গত, কটক শহরে বসবাসের কারণে জানকীনাথ বসুর পরিবারের সঙ্গে হিমাংশুদের হৃদ্যতা ছিল খুব। শৈশব থেকেই বন্ধু হিসেবে হিমাংশু পেয়েছিলেন শরৎচন্দ্র ও সুভাষচন্দ্র বসুকে। শরৎচন্দ্র বসু ব্যারিস্টারি পড়তে ইংল্যান্ডে যান ১৯১১ সালে। সুভাষচন্দ্র বসু আইসিএস হতে ১৯১৯ সালে। আর তার পরের বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাশ করে হিমাংশু ইংল্যান্ডে যান ১৯২০ সালে। তাঁরও হওয়ার কথা ছিল ব্যারিস্টার। 

হিমাংশু রায় বড় হয়ে উঠেছিলেন রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যে। তাঁকে তিনি পেয়েছিলেন শিক্ষক হিসেবে। তাঁর মধ্যে নাটকে অভিনয়ের নেশা জারিত হয়ে ওঠে শান্তিনিকেতনের রুক্ষ প্রান্তরের ব্রহ্মচর্যাশ্রমের রবীন্দ্র শিক্ষা ভাবনার আবহে। যদিও হিমাংশুর শান্তিনিকেতনের দিনগুলির কোনও খবর জানা যায় না। কেবল জানা যায়, এই বিদ্যালয় থেকেই ম্যাট্রিক পাশ করে তিনি কলকাতায় আইন পড়তে আসেন ১৯১০/’১১ সালে।  ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান। এই পুরস্কারের কারণে বিদেশে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে আগ্রহ ছড়িয়ে পড়ে। বিদেশে প্রবাসী ভারতীয় ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথ ও প্রাচ্যের শিল্প সংস্কৃতিকে আরও বেশি করে পাশ্চাত্যের মানুষদের কাছে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী হন। এই আবহের মধ্যেই ছাত্র হিসেবে হিমাংশু পা রাখেন ইংল্যান্ডে, ১৯১৬ সালে। 

বার্লিনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে হিমাংশু ও দেবিকারানি

লন্ডনে এলেন আইন পড়তে, পরিচয় হল নিরঞ্জন পালের সঙ্গে 

আইন পড়তে হিমাংশু লন্ডনে গিয়েছিলেন বটে, কিন্তু পড়ার থেকেও তাঁর ঝোঁক ছিল নাটকে অভিনয়ের দিকে। লন্ডনের রঙ্গালয়ের প্রতি তিনি আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন প্রযোজনায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। ‘ভারতী’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা কেদারনাথ দাশগুপ্তের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে ১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথের ‘ডালিয়া’ নাটকের অনুপ্রেরণায় ইংরেজ লেখক জর্জ লেসলি ক্যালডেরনের নাটক ‘মহারানি অফ আরাকান’-এ অভিনয় করেন। আর সেই সূত্রেই তিনি পরিচিত হন বিপ্লবী বিপিনচন্দ্র পালের বড় ছেলে নিরঞ্জনের সঙ্গে। তিনিও ওই প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ১৯১৭ সালে ‘আলিবাবা ও চল্লিশ চোর’ নাটক অবলম্বনে অস্ট্রেলিয়ার প্রখ্যাত অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক অস্কার অ্যাশের ‘চু চিন চাও’ গীতিনাট্যেও হিমাংশু রায় অভিনয় করেছিলেন বলে জানা যায়। 

১৯২০ সালে ‘দ্য গডেস’ নাটক মঞ্চস্থ করতে গিয়ে নিরঞ্জন পালের সঙ্গে আলাপ হয় ইংল্যান্ডের স্বনামধন্য নাট্য পরিচালক গাই ব্র্যাগডেনের। তাঁরই পরিচালনায় নিরঞ্জনের লেখা এই নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছিল লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডের নাটকপাড়ায়। কিন্তু শর্ত ছিল, প্রথম অভিনয়টি হবে ইংল্যান্ডের অপেশাদার ভারতীয় অভিনেতাদের নিয়ে। ভারতীয় অভিনেতাদের খোঁজে নিরঞ্জন যোগাযোগ করেন লোকেন পালিতের বিধবা স্ত্রী মেবেল পালিতের সঙ্গে, যাঁকে লন্ডনের ভারতীয়রা ‘আন্টি মেবেল’ বলে ডাকত। মেবেলের একটি বোর্ডিং হাউস ছিল, যেখানে থাকতেন ভারতীয় ছাত্ররা। তাঁর উদ্যোগে সেই ছাত্রদের মধ্য থেকেই জড়ো করা হল অপেশাদার ভারতীয় অভিনেতাদের। যাঁদের মধ্যে ছিলেন আইনের ছাত্র হিমাংশুও। নাটকে হিমাংশু প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন এবং তাঁর অভিনয় দেখে সকলেই মুগ্ধ হন। 

‘কর্মা’ ছবিতে হিমাংশু-দেবিকা

আইন ছেড়ে অভিনয়ে

নিরঞ্জন পাল লিখেছেন, এই নাটকে অভিনয় করে সাফল্য পাওয়ার কারণে হিমাংশু লেখাপড়া ছেড়ে নাটককেই তাঁর পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লক্ষ করলে দেখা যাবে, এই সব নাটকের বিষয় ছিল প্রাচ্যকেন্দ্রিক, যা তখন পাশ্চাত্যের দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছিল রবীন্দ্রনাথের নোবেলপ্রাপ্তির কারণেই। নিরঞ্জনও এডউইন আর্নল্ডের ভগবান বুদ্ধের জীবনকেন্দ্রিক কাব্য ‘লাইট অফ এশিয়া’ থেকে চিত্রনাট্য লিখে তাকে চলচ্চিত্রে রূপ দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সফল হননি। দর্শকরুচির এই প্রবণতাকে হিমাংশুও চিনতে ভুল করেননি। প্রাণ নেভিল জানিয়েছেন, হিমাংশু রায় এর পরে দেশে ফিরে এসে কয়েক জন ভারতীয় অভিনেতাকে নিয়ে ‘ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্স’ নামে একটি পেশাদার নাট্যদল তৈরি করেন। যার উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় জীবন ও সংস্কৃতির আসল ছবিটা নাটকের মধ্য দিয়ে পাশ্চাত্যের সামনে তুলে ধরা। এই ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্সের মধ্য দিয়েই পরবর্তী পনেরো বছরে গড়ে ওঠে নিরঞ্জন ও হিমাংশুর মধ্যকার সৃজনশীল সম্পর্ক। যার চূড়ান্ত পরিণতি ‘লাইট অফ এশিয়া’ নামের নির্বাক চলচ্চিত্রটি! যা আজও ভারতীয় নির্বাক চলচ্চিত্র যুগের একটি ক্লাসিক হিসেবে গণ্য হয়। 

রায় ও পালের চেষ্টায় ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্স দল ‘দ্য গডেস’ নাটকটি নিয়ে সারা ইংল্যান্ড ভ্রমণ করতে শুরু করে। ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্সের প্রাণপুরুষ ছিলেন হিমাংশু রায়। তাঁর মতো উদ্যোগী পুরুষ খুব কমই দেখেছেন বলে জানিয়েছেন নিরঞ্জন তাঁর আত্মজীবনী ‘সাচ ইজ় লাইফ’-এ। নাটকের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে তাঁর জুড়ি কেউ ছিলেন না। তৎকালীন লন্ডনের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাঁদের ভারতে ব্যবসা ছিল, তাঁদের কাছ থেকে ছ’হাজার পাউন্ড জোগাড় করতে হিমাংশুর খুব বেশি দিন লাগেনি। বাণিজ্যিক ভাবে এই নাটক সফল হলেও, হিমাংশু তাঁর স্বভাবের কারণে লাভবান হতে পারেননি। দল নিয়ে ইংল্যান্ডের নানা প্রান্তে ভ্রমণের খরচে তিনি কার্পণ্য করতেন না। মনে করতেন, একবার যদি নাটকটিকে ভারতে নিয়ে যাওয়া যায়, আর্থিক ভাবে লাভ হবে অনেক বেশি। তারই প্রাথমিক ব্যবস্থা করতে তিনি ভারতে ফেরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু দেখা যায়, ভারতে আসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তখন তাঁর কাছে নেই। 

প্রথম স্ত্রী মেরি হাইলিনের সঙ্গে হিমাংশু

ভারতে ফেরার জাহাজ চলে গেল, হিমাংশু পড়ে রইলেন নেপলসে

নিরঞ্জন লিখেছেন, “হিমাংশু কখনওই বড়লোক ছিলেন না। কিন্তু তিনি বরাবরই সচ্ছল ভাবে বাঁচতেন।” যা ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। ফলে অর্থাভাবের মধ্যেও কী ভাবে হিমাংশুকে ভারতে পাঠানো যায়, তা নিয়ে ইংল্যান্ডে তাঁর ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্সের সদস্যরা চিন্তাভাবনা করতে শুরু করেন। ঠিক হয়, সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে জাহাজের ডেকের টিকিটেই ভারতে যাবেন তিনি। কিন্তু হিমাংশু সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে যাবেন, না কি তাঁর মোহময় ব্যক্তিত্বকে কাজে লাগিয়ে প্রথম শ্রেণির কেবিনে জায়গা করে নেবেন, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন বন্ধুরা। তাই তাঁরা একটা বাজি ধরেন এবং হিমাংশু সেই বাজিতে রাজি হন। ‘রেফারি’ হিসেবে ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্সের সদস্য অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা জয়গোপাল পিল্লাইকে সঙ্গে দেওয়া হয় হিমাংশুর উপরে নজর রাখতে। শেষ পর্যন্ত যা ঘটেছিল, তা যেমন রোমহর্ষক তেমনই কৌতুকময়। নেপলস অবধি ট্রেনে এসে জাহাজে ওঠার কথা ছিল। মাত্র কুড়ি পাউন্ড পকেটে নিয়ে হিমাংশু ও পিল্লাই যখন নেপলসে পৌঁছলেন, দেখা গেল জাহাজ বন্দর ছেড়ে চলে গিয়েছে। সেই সঙ্গে নিয়ে গেছে তাদের মালপত্তর, টাকাপয়সা সবই। এমন অবস্থায় যে কেউ বিচলিত হয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু হিমাংশু রায় অনন্য। তিনি বিন্দু মাত্র ঘাবড়ে না গিয়ে পিল্লাইকে সঙ্গে নিয়ে উঠলেন এক নামীদামি হোটেলে। হোটেলে ঢুকেই তিনি রিসেপশনিস্টকে জানালেন, যত শীঘ্র সম্ভব কলকাতায় টেলিগ্রাম পাঠাতে যাতে প্রয়োজনীয় অর্থ তাঁদের হোটেলের ঠিকানায় পাঠানো হয়। হোটেলে কর্তৃপক্ষকে জানতেই দিলেন না যে, সেই মুহূর্তে তাঁদের পকেটে একটি টাকাও নেই। ওই টেলিগ্রাম পাঠিয়ে তাঁরা সেই হোটেলে থাকতে শুরু করলেন। বেশ কিছু দিন পরে যখন টাকা এসে পৌঁছল, দেখা গেল হোটেলের বিল আকাশ ছুঁয়েছে। সেই বিল মিটিয়ে হাতে যা থাকল, তা খুবই সামান্য। ফলে আবার কলকাতায় টেলিগ্রাম গেল আরও টাকা পাঠানোর জন্য। অবশেষে প্রায় তিন মাস নেপলসে বসে থেকে সে যাত্রায় কলকাতায় পৌঁছতে পেরেছিলেন হিমাংশু রায়। 

এই স্বদেশ যাত্রাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

সে বার ভারতে এসে ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্সের জন্য হিমাংশু কোনও আর্থিক সাহায্য জোগাড় করতে পারেননি। কিন্তু হাল ছাড়ার পাত্র তিনি ছিলেন না। কলকাতার কাগজে তখন নাট্যকার হিসেবে নিরঞ্জন পালের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর নাটকে প্রখ্যাত অভিনেতা চার্লস উইন্ডামেয়ার অভিনয় করেছেন। ফলে নিরঞ্জন পালের বন্ধু হিসেবে তিনি ভারতের অর্থবান ও খ্যাতিমান মানুষদের সামনে নিরঞ্জনের চিত্রনাট্য নিয়ে একটি সিনেমা তৈরির প্রস্তাব রাখতে শুরু করলেন। এই উদ্যোগে তিনি সফল হলেন। লাহোর হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারক মোতি সাগর পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেন। 

জীবন নাইয়া’ ছবিতে দেবিকারানি ও অশোককুমার

সময়টা ১৯২৪ সাল। নিরঞ্জন লিখেছেন, তিনি ও তাঁর স্ত্রী লিলি তাঁদের সদ্যোজাত সন্তান কলিন আর লন্ডনে পড়তে আসা দেবিকা চৌধুরী লন্ডনের পেডিংটনের বাড়িতে গভীর ঘুমে মগ্ন। মধ্যরাতে সেই বাড়ির দরজায় আকস্মিক বেল বাজার শব্দ। দরজা খুলে নিরঞ্জন হতভম্ব। হাসিমুখে দাঁড়িয়ে হিমাংশু! ভিক্টোরিয়া স্টেশন থেকে সোজা হাজির। সেই যে তিনি ট্রেনে করে নেপলসের উদ্দেশে পিল্লাইকে নিয়ে রওনা হয়েছিলেন, তার পর থেকে কোনও খবরই পাননি নিরঞ্জন। কয়েক মাস পরে মধ্যরাতে ওই ভাবে হিমাংশুকে দেখে অবাকই হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর আরও অবাক হওয়া তখনও ছিল বাকি।

সেই রাতেই নিরঞ্জনকে নিয়ে হিমাংশু উঠলেন লন্ডনের সবচেয়ে বিলাসবহুল পাড়ার কেনসিংটন হোটেলে। নিরঞ্জনের ঘোর কাটছিল না। যে লোক অর্থাভাবে মাত্র কুড়ি পাউন্ড পকেটে নিয়ে জাহাজের ডেকে চড়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল, সেই লোকই কয়েক মাসের ব্যবধানে তাঁকে ডেকে নিয়ে এসেছে বিলাসবহুল কেনসিংটনে! এক সময়ে হোটেলে নিজের ঘরে শান্ত হয়ে বসে হিমাংশু বলতে শুরু করেন তাঁর ভারত অভিযানের কাহিনি এবং সবশেষে জানান, নিরঞ্জনের বহু দিনের স্বপ্ন ‘লাইট অফ এশিয়া’ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথা। নিরঞ্জন যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। আনন্দে ও উত্তেজনায় পরদিনই তাঁরা দৌড়লেন মিউনিখ শহরে। কারণ অর্থের ব্যবস্থা হলেও দরকার ছিল জার্মানির এমেলকা ফিল্ম কোম্পানির প্রযুক্তিগত সাহায্য।  

প্রথম বিয়ে, সন্তান, ‘লাইট অফ এশিয়া’র প্রস্তুতি শুরু

এডউইন আর্নল্ডের ‘লাইট অফ এশিয়া’ নিয়ে ১৮৮৫ সালে গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচনা করেছিলেন  নাটক ‘বুদ্ধচরিত’, যা কলকাতার স্টার থিয়েটারে অভিনীত হয়। নিরঞ্জন ও হিমাংশু সেই গৌতম বুদ্ধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চলেছেন সারা পাশ্চাত্য দুনিয়াকে। নিরঞ্জন জানতেন, তাঁর দায়িত্ব কতখানি। তাই মিউনিখে পৌঁছেই তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন চিত্রনাট্যের চূড়ান্ত রূপ দিতে। সারা দিন নিজেকে হোটেলের ঘরে বন্দি রেখে চিত্রনাট্য লিখে যেতেন। আর হিমাংশু পড়ে থাকতেন এমেলকা স্টুডিয়োয়। সেই কাজের সূত্রেই তিনি পরিচিত হয়েছিলেনট জি ডাব্লিউ পাব্‌স্ট, ফ্রিৎজ লাংয়ের মতো সে কালের দিকপাল পরিচালকদের সঙ্গে। এই ভাবেই হিমাংশুর সঙ্গে জার্মান চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলীদেরও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এরই ফলে ফ্রান্‌জ অস্টেনের মতো পরিচালক ও জোসেফ উইরশিংয়ের মতো চিত্রগ্রাহক পরবর্তী কালে ভারতীয় সিনেমা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। 

এই সময়ে হিমাংশু আরও একটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, যা আজীবন তিনি গোপন রেখেছিলেন। মিউনিখে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল মেরি হাইলিনের। সুন্দরী এই জার্মান অভিনেত্রী ডয়েশ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনও হতে পারে, থিয়েটারের সূত্রেই মেরি হয়তো ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। ১৯২৪ সালে মেরি ও হিমাংশুর বিয়ে হয়। 

এই বিয়ের কথা নিরঞ্জনকে জানিয়েছিলেন হিমাংশু। কিন্তু শর্ত ছিল, নিরঞ্জন তা গোপন রাখবেন। নিরঞ্জন িনজের আত্মজীবনীতে হিমাংশুর এক বান্ধবীর কথা উল্লেখ করলেও বিয়ের প্রসঙ্গ উহ্যই রেখেছেন। শুধু জানিয়েছেন, হিমাংশু কথা দিয়েছিলেন ‘লাইট অফ এশিয়া’র কাজ শেষ করে তিনি মিউনিখে ফিরে আসবেন মেরিকে নিয়ে যেতে। সেই অপেক্ষায় মেরি দীর্ঘ দিন কাটান। ১৯২৬ সালের ১৫ মে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন মেরি। হিমাংশু তাঁর নাম রাখেন নীলিমা। এই মেরিই হিমাংশুকে নাৎসি জার্মানির প্রখ্যাত চলচ্চিত্র কোম্পানি ‘উফা’র (ইউনিভার্সাল ফিল্ম এ জি) সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। যারা ‘লাইট অফ এশিয়া’র (‘প্রেম সন্ন্যাস’) পরে ‘সিরাজ’ ও ‘থ্রো অব ডাইস’ ছবি দু’টির সঙ্গেও যুক্ত হয়েছিল। 

১৯২৫ সালে হিমাংশু তাঁর গ্রেট ইন্ডিয়ান ফিল্ম কোম্পানি তৈরি করে এমেলকার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ‘প্রেম সন্ন্যাস’ ছবির শুটিং করতে নিরঞ্জন ও জার্মান পরিচালক ফ্রান্‌জ অস্টেন-সহ ছবির কলাকুশলীদের নিয়ে ভারতে এসে পৌঁছন। অবিভক্ত ভারতের জয়পুর, রাজস্থান ও লাহোরে শুটিং হয়। লোকেশন ও অভিনেতাদের খোঁজে অস্টেন, হিমাংশু ও নিরঞ্জন সারা দেশ চষে ফেলেছিলেন। ছবিতে গৌতম বুদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করেন হিমাংশু নিজে। গোপার চরিত্রে সীতাদেবী ছদ্মনামে রেনি স্মিথ, রাজা শুদ্ধোদনের চরিত্রে সারদা উকিল, রাণীবালা কুইন মেরি ও দেবদত্তের ভূমিকায় প্রফুল্ল রায়। ছবির শিল্প নির্দেশনার কাজ করেছিলেন দেবিকা চৌধুরী (রানি)। এ ছাড়া পরবর্তী কালে ‘আলিবাবা’ ছবি করে বিখ্যত হওয়া পরিচালক মধু বসুর সিনেমায় হাতেখড়ি হয়েছিল হিমাংশু রায়ের এই ছবিতেই। 

ভারতীয় নির্বাক চলচ্চিত্র যুগে তৈরি হওয়া ক্লাসিক ছবিগুলির খবর আমরা বেশি রাখি না। হিমাংশু রায়ই হলেন প্রথম ভারতীয় নায়ক, পরিচালক ও প্রযোজক, যিনি নির্বাক ভারতীয় চলচ্চিত্রকে বিশ্বের আঙিনায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ‘প্রেম সন্ন্যাস’ সারা ইউরোপে হইচই ফেলে দিয়েছিল। আজকের পরিভাষায় যাকে বলে ডকু-ফিকশন, সেই আদলে ভারতীয় জীবন ও সংস্কৃতি, গ্রাম, শহর, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনচর্চা, রাজন্যবর্গের বৈভব দেখাতে দেখাতে গৌতম বুদ্ধের জীবনের কথা পাশ্চাত্যের মানুষের সামনে বিশ্বাসযোগ্য ভাবে হাজির করা হয়েছিল। 

'প্রেম সন্ন্যাস’ ছবির একটি দৃশ্যে সীতাদেবী ও হিমাংশু

দেবিকারানি, বিয়ে, বম্বে টকিজ়...  

হিমাংশু কথা রাখেননি। ১৯২৫ থেকে ১৯৩৩— এই সময়ের মধ্যে প্রযুক্তিগত দিক থেকে সিনেমা যেমন বদলে গিয়ে সবাক হয়েছিল, হিমাংশুও উধাও হয়ে গিয়েছিলেন মেরি হাইলিনের জীবন থেকে। তিনি আর কোনও দিন ফিরে যাননি। কারণ তত দিনে দেবিকারানি চৌধুরী তাঁর জীবনে এসে গিয়েছেন। দেবিকার রূপে মুগ্ধ ‘রমণীমোহন’ হিমাংশু তাঁকে সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তাব দিয়েছেন। উত্তরে উদ্ভিন্নযৌবনা দেবিকা সুপুরুষ হিমাংশুকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। হিমাংশু এর পরে প্রেমের জোয়ারে ভেসে গিয়েছিলেন। এই আকর্ষণের নেপথ্যে কেবল যে দেবিকার শিল্পীমন ও রূপ ছিল, এমন হয়তো নয়। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ ছাত্র ও অনুরাগী হিমাংশুর কাছে দেবিকার বংশ পরিচয়ও হয়তো কাজ করেছিল। দেবিকা বাবা ও মায়ের দিক থেকে ছিলেন রবীন্দ্রনাথের আত্মীয়। সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরী ছিলেন তাঁর কাকা। দেবিকা নিজেও শান্তিনিকেতনের প্রাক্তনী।

রবীন্দ্রনাথের নোবেল জয়ের উল্লাসে রঞ্জিত প্রবাসী ভারতবাসীর দল পাশ্চাত্যের দর্শকদের সামনে ভারতবর্ষকে প্রকৃত আলোয় পৌঁছে দিতে উঠে পড়ে লেগেছিল। ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্স গোষ্ঠী গঠন ও ১৯২৬ সালে গৌতম বুদ্ধের জীবন নিয়ে সিনেমা তৈরির নেপথ্যে কাজ করেছিল সেই ভাবনাই। হিমাংশু এর পর যে ছবিগুলি বানাতে শুরু করেন, সেখানে বিষয় হিসেবে এসেছে ভারতের রাজা-বাদশাদের প্রেমকাহিনি। শাহজাহান ও মুমতাজ বেগমের প্রেম এবং তাজমহল তৈরির প্রেক্ষাপট কাজ করেছে ‘সিরাজ’ ছবিতে। ‘থ্রো অব ডাইস’ বা ‘প্রপঞ্চ পাশা’ ও ‘কর্মা’ (সবাক) ছবির প্রেক্ষাপট ভারতীয় রাজন্যবর্গের বিলাস বৈভব ও ভালবাসার কাহিনি। এর কারণ হিমাংশুর জীবনে দেবিকারানির প্রবেশ।

কিন্তু ‘প্রপঞ্চ পাশা’ থেকে হিমাংশু ও দেবিকাকে পাওয়া গেল প্রধান চরিত্রে, প্রণয়ী যুগল হিসেবে। মধু বসুর বয়ানে, “এই ছবি তৈরির সময়ে হিমাংশু ও দেবিকা বিবাহ করেন। দু’জনের ভালবাসার আবেগ চূড়ান্ত রূপ পেয়েছিল ‘কর্মা’ ছবিতে।” সেখানে ভারতীয় সিনেমার সব সীমা ভেঙে দিয়ে হিমাংশু ও দেবিকার দীর্ঘ চুম্বন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল ভারতীয় সিনেমার পর্দায়। যা এক আইকনিক ইমেজ। ‘কর্মা’ই হল প্রথম ইংরেজি ভাষার ভারতীয় ছবি। 

বম্বে টকিজ়ের উজ্জ্বল অধ্যায়

হিমাংশু ও দেবিকার ছবিগুলি খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল দেশ-বিদেশে। ফলে এই প্রচেষ্টাকে বাঁচিয়ে রাখতে হিমাংশু রায় ১৯৩২ সালে ভারতে ফিরে আর্থিক লগ্নি জোগাড় করতে উঠে পড়ে লাগেন। কিন্তু এ বারও তাঁর অভিজ্ঞতা সেই ইন্ডিয়ান প্লেয়ার্সের মতোই হয়েছিল। মুষড়ে পড়েছিলেন। এমনকি আত্মহত্যা করার কথাও ভেবেছিলেন! শেষে বহু চেষ্টায় ভারতের প্রথম হিন্দি টকি ‘আলম আরা’ ছবির লগ্নিকারী কলকাতার কালীঘাটের বাসিন্দা রাজনারায়ণ দুবের থেকে লগ্নি সংগ্রহ করে ১৯৩৪ সালে মুম্বই শহরের অদূরে মালাডে একটি স্টুডিয়ো গড়ে তোলেন হিমাংশু। নাম দেন ‘বম্বে টকিজ়’। এ দেশে তখন পুণের প্রভাত ফিল্ম কোম্পানি (১৯২৯) ও কলকাতার নিউ থিয়েটার্স স্টুডিয়ো (১৯৩১) কাজ শুরু করেছে। এমনই পরিবেশে হিমাংশু তাঁর বিদেশের যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে যে স্টুডিয়ো গড়লেন, সেই স্টুডিয়োই আজকের পরাক্রমশালী বলিউড শিল্পের গোড়াপত্তন করে। আর দেবিকারানি হিন্দি ভাষার সিনেমার প্রথম তারকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। বম্বে টকিজ় হিমাংশু রায়কে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল।

প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে সেরা বম্বে টকিজ় স্টুডিয়োয় এমন সব হিন্দি বাণিজ্যিক সিনেমার জন্ম হয়েছিল, যা কিংবদন্তি। এই স্টুডিয়োয় এক দিকে দেবিকারানি, মধুবালা, মুমতাজ শান্তি, লীলা চিটনিসের মতো নায়িকার আবির্ভাব ঘটেছে, অন্য দিকে অশোককুমার, দিলীপকুমার, রাজ কপূরের মতো নায়কের। হিমাংশুর ডাকে সাড়া দিয়ে জার্মানি থেকে ফ্রান্‌জ অস্টেনের মতো পরিচালক, জোসেফ উইরশিংয়ের মতো ক্যামেরাম্যান-সহ অন্যান্য কলাকুশলীরা হাল ধরেছিলেন স্টুডিয়োর। প্রায় চারশো কর্মী কাজ করতেন। এঁদের সঙ্গেই ছিলেন শশধর মুখোপাধ্যায়, অমিয় চক্রবর্তী, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্ঞান মুখোপাধ্যায়, নীতিন বসু, বিমল রায়, ফণি মজুমদার, মান্না দে, শচীন দেববর্মণ, তিমিরবরণের মতো দিকপাল বাঙালিরা! সিনেমার সবাক যুগের শুরুতে বীরেন সরকার ও হিমাংশু রায়— এই দুই বাঙালির প্রতিষ্ঠান নিউ থিয়েটার্স আর বম্বে টকিজ় ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে রীতিমতো শাসন করত। 

শেষের সে দিন

হিমাংশু রায় সারা জীবনে মাত্র চারটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। পরিচালনা করেছিলেন একটি। আর প্রযোজনা করেছিলেন ৩২টি ছবি। যার মধ্যে বম্বে টকিজ় যুগের আগে প্রযোজিত ‘প্রেম সন্ন্যাস’, ‘সিরাজ’, ‘প্রপঞ্চ পাশা’ ও ‘কর্মা’ও আছে। বম্বে টকিজ়ের নিজস্ব ইতিহাস লেখা হয়েছে। সে ইতিহাস এক দিকে যেমন ভারতীয় সিনেমার উজ্জ্বল এক অধ্যায়ের সন্ধান দেয়, তেমনই হিমাংশু ও দেবিকার সম্পর্কের খতিয়ানও তুলে ধরে। দেবিকা-হিমাংশুর সম্পর্ক কখনওই খুব মসৃণ ছিল না। তার কারণ দু’জনেই ছিলেন উদ্দাম প্রেমিক। যে দেবিকাকে ভালবেসে হিমাংশু তাঁর স্বপ্নের বম্বে টকিজ় গড়ে তুলেছিলেন, সেই দেবিকাকে সামলাতে তিনি হিমশিম খেয়েছেন। দেবিকা তাঁর রূপ, যৌবন ও জনপ্রিয়তা নিয়ে বম্বে টকিজ়ের সংসারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সে আগুন থেকে বাঁচতে পারেননি অনেকেই, এমনকি হিমাংশুও। বিব্রত হিমাংশুকে পরিস্থিতির সামাল দিতে হত নানা ভাবে। স্টুডিয়োর কাজের চাপ ও দেবিকার বেপরোয়া জীবনযাপন হিমাংশুর মনে ও শরীরে ছাপ ফেলেছিল। ১৯৪০ সালের ১৬ মে মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে তাঁর অকালমৃত্যুর পিছনে সেই মানসিক চাপ একটা বড় কারণ বলে অনেকেই মনে করেন। 

হিমাংশুর পরে দেবিকা বম্বে টকিজ়ের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু বেশি দিন সেই কাজ তিনি করতে পারেননি। মামলা মোকদ্দমায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। চিত্রকর নিকোলাই রোয়েরিখকে বিয়ে করে তিনি বম্বে টকিজ় ছেড়ে চলে যান কর্নাটকের টাটাগুনি বাগানে। সঙ্গে নিয়ে যান হিমাংশু রায় সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র। এর পরেই বম্বে টকিজ়ে ভাঙন ধরতে শুরু করে। গড়ে ওঠে আরও নতুন নতুন স্টুডিয়ো। সেই সব স্টুডিয়োয় তৈরি হতে থাকে বক্স-অফিস সফল বিভিন্ন হিন্দি সিনেমা। যা বলিউডকে তার আজকের পূর্ণতায় পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু ভুলিয়ে দিয়েছে হিমাংশু রাইকেই!   

ঋণ স্বীকার: 

‘সাচ ইজ লাইফ’: নিরঞ্জন পাল

ছবি সৌজন্যে: পিটার ডাইট্‌জ