প্রতি বছর ঘরের দেওয়াল রং করানোর প্রয়োজন পড়ে না ঠিকই, কিন্তু রঙেরও তো একটা মেয়াদ থাকে। অনেক দিন ধরে ব্যবহার করার পরে দেওয়ালে জমতে থাকে ধুলো, ময়লার পরত। ঘরের ইন্টিরিয়রের মূল কথা কিন্তু দেওয়ালের রংই। তাই যদি দেওয়াল রাঙানো থাকে সুন্দর রঙে, অতি সাধারণ আসবাবেও ঘরের সাজ হয় খোলতাই।

চার দেওয়ালের মধ্যে একটা দেওয়ালে গাঢ় রঙের পোঁচ বুলিয়ে বাকি তিনটে দেওয়ালে সেই রঙেরই হালকা শেড করা— এই ভাবনাটা এখন হারিয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে বদলাচ্ছে রঙের শেডও। তা হলে নতুন কী কী আসছে দেওয়াল রঙের তালিকায়, এখন সেটাই দেখে নেওয়ার পালা।

সাদা-কালোর বৈপরীত্য: কোনও রং থাক বা না থাক, সাদার মাহাত্ম্য রয়েছেই। সেই পথ থেকে এ বারও সরবে না ট্রেন্ড। তবে কালো রং আবারও ফিরে আসছে। দেওয়ালের একটা গোটা দিক গা়ঢ় কালো রং করতে পারেন। তবে বাকি তিনটে দেওয়াল কিন্তু থাকবে পুরোপুরি সাদা। সেই সাদা দেওয়ালে কালো রঙের সামান্য ডিজ়াইন চলতে পারে। তবে কালো দেওয়ালে অবশ্যই আলোর ব্যবস্থা বেশি রাখতে হবে।

মাটির টানে: হিসেব মতো এ বারের রং হতে চলেছে আর্দি। অর্থাৎ মেঠো, ধূসর রঙের নানা শেড মাত করবে দেওয়ালের কালার প্যালেট। তাতে যেমন গাঢ় ধূসর বা সফট ক্লে আছে, তেমনই আছে সাদার সঙ্গে ধূসরের প্যাটার্ন।

নীলের কাছাকাছি: এ নীল কিন্তু চারপাশে যেমন চোখে পড়ে, তেমন নয়। অর্থাৎ নীলের সঙ্গে মিশে আছে অন্য রং, কিন্তু তা চেনা দায়— এই শেডও আসতে চলেছে দেওয়াল জুড়ে। ধূসর লেপা লাইল্যাক ব্লু, সবজেটে নীল, চারকোল ব্লু, বরফসাদা নীল থাকছে এই তালিকায়।

সরষেরঙা ঔজ্জ্বল্য: বেশির ভাগ রং যদিও হালকা এবং প্যাস্টেল শেডের দিকে ঝুঁকছে, তবে উজ্জ্বলতা যোগ করতে থাকছে মাস্টার্ডও। কিন্তু সেখানে চোখে লাগার মতো গাঢ় ঔজ্জ্বল্য থাকবে না। অর্থাৎ সরষের হলদে রং থাকলেও, তা হবে মেদুর।

সার্বিক ভাবে হালকারঙা দেওয়ালের উপরে থাকছে নানা কাজের ভাবনা। অর্থাৎ ফার্নিচারে থাকছে বোহো ছোঁয়া কিংবা একটি সাদা দেওয়াল জুড়ে কালো তুলির অ্যাবস্ট্রাক্ট ছিটেই নজর কাড়বে এ বার। তাই এই নতুন বছরটা চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার নয়। বরং ঘরের দেওয়াল জুড়ে থাক নরম, পেলব শান্তির ছোঁয়া।