সূচনা সব সময়ে সুন্দর হওয়া উচিত। তবেই গোটা ব্যাপারটা নান্দনিক হয়। তাই বাড়ির মূল প্রবেশপথও সাজাতে হবে যত্ন নিয়ে। ছোটখাটো কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই গুছিয়ে ফেলা যাবে সদর দরজার সামনেটা। বাড়ির বাইরে বলে হেলাফেলা করবেন না। অন্দরসজ্জার সময়ই মাথায় রাখবেন দরজার সামনের সাজ।

 

লেখা থাকুক নামে

নেমপ্লেটেও নজর কাড়া যায় অতিথির। বিভিন্ন ধাতুর, কাঠের, পেপারবোর্ডের নেমপ্লেট পেয়ে যাবেন বাজারে। আবার বাড়িতে বসে কার্ডবোর্ডের উপর রং করে নকশা তুলে নিজেও নেমপ্লেট বানিয়ে নিতে পারেন। অনেকে আবার ব্যক্তিগত বিষয় কাউকে জানাতে চান না। তাই নিজের পুরো নামও রাখতে চান না নেমপ্লেটে। সে ক্ষেত্রে নামের আদ্যক্ষরগুলো বেছে, বড় করে ঝুলিয়ে দিন সদর দরজায়। আগেকার দিনে বাড়ির নাম রাখা হত। এখনকার বর্গফুটে সে নামের বিলাসিতা গিয়েছে হারিয়ে। তাই চাইলে পুরনো এই কায়দাটাও কাজে লাগাতে পারেন। নিজের বাসার একটা সুন্দর নাম ভেবে সেটা লিখে টাঙিয়ে দিন দরজায়। 

 

‘কড়া’ পাহারায়

সিংহের মুখ বা বুদ্ধমূর্তি অথবা হাতের মুদ্রা... অনেক ধরনের দরজার কড়া কিনতে পাওয়া যায়। এ রকম কড়া লাগালে দরজার ভোল পাল্টে যাবে নিমেষে। আবার কলিং বেল বা কড়া না লাগিয়ে দরজায় লাগাতে পারেন ছোট পিতলের ঘণ্টা। যা-ই লাগান, যেন মজবুত হয়। না হলে খোয়া যাওয়ার ভয়।

সবুজের সমারোহ

দরজার দু’পাশে দুটো সুন্দর গাছ রাখতে পারেন। এতে সবুজের ছোঁয়া থাকবে। দেখতে ভাল লাগবে। যদি গ্রিলের দরজা হয়, তা হলে গ্রিলের উপর দিয়ে বোগেনভেলিয়ার মতো লতানে গাছ লাগাতে পারেন। সাধারণ কাঠের দরজা হলে দরজার দু’পাশে পাতাবাহার গাছের টব রাখতে পারেন। সুন্দর টবও শ্রীবৃদ্ধি করবে।

 

ফুলেল সাজ

বাঙালির তো বারো মাসে তেরো, চোদ্দো, পনেরো... পার্বণ। তাই দরজার দু’পাশে নকল ফুলের মোটা মালা বা আমপাতা দিয়ে সাজাতে পারেন। আবার দরজার দু’পাশে নীচে মঙ্গলকলসও বেশ সনাতনী রূপ তৈরি করবে।

 

চাই ভাল আলো

সদর দরজার সামনে যেন অন্ধকার না থাকে। তাই আলো থাকবে ঠিক সদর দরজার সামনে, উপরের দিকে। এখন বিভিন্ন রকম ও রঙের হ্যাঙ্গিং লাইট কিনতে পাওয়া যায়। বাড়ির দরজার সঙ্গে মানানসই আলো কিনে লাগিয়ে নিন।

জুতসই জুতোর তাক

দরজার সামনেই ছেঁড়া, আস্ত, নতুন... বিভিন্ন রকমের জুতোর পাহাড় না বানিয়ে, সুন্দর একটা জুতোর র‌্যাক বানান। দরকার হলে জুতোর র‌্যাকে তালা-চাবির ব্যবস্থা রাখুন। তা হলে জুতো রেখেও জায়গা থাকলে অন্যান্য জিনিস রাখতে পারবেন। জুতোর র‌্যাকের উপরেও ছোট বাহারি টবে গাছ দিয়ে সাজাতে পারেন।

 

পা রাখুন পাপোশে

রংবেরঙের হাতে বোনা পাপোশ এখন ট্রেন্ড। বিভিন্ন হস্তশিল্প মেলায় কিনতে পারেন এ রকম হাতে বোনা পাপোশ। সেখান থেকেই একটা-দুটো কিনে রেখে দিন সংগ্রহে। প্রয়োজনমতো পাল্টে পাল্টে ব্যবহার করুন। দরজার বাইরে যেহেতু রাখবেন, তাই একটু গাঢ় রঙের পাপোশ রাখাই ভাল।

এ ছাড়াও দরজার কাঠের কারুকার্য, ছবির ফ্রেম ব্যবহার করেও সুন্দর করে তুলতে পারেন আপনার ঠিকানার প্রবেশপথ। শুধু অতিথিই নয়, সুখ, শান্তি-স্বচ্ছলতাও আসবে সেই পথ ধরেই...