বারান্দা জুড়ে সাধের বাগান। সেই বাগানের কোনও টবে নয়নতারা তো তার পাশেই চন্দ্রমল্লিকা পাপড়ি মেলেছে। আর তার পাশে লতায়-পাতায় বারান্দার গ্রিল জড়িয়ে ধরেছে কুমড়ো গাছ। বাড়িরই যেন সদস্য এই গাছ-পরিবার! সমস্যাও তাই অনেক। বাড়িতে সকলে থাকলে ওদের জল-খাবারের অভাব নেই। আলো-হাওয়ায় হেসে-খেলে বাড়তে থাকে ওরা। কিন্তু বাড়ির অভিভাবকেরা যদি বাড়ি না থাকেন, তখন? 

ঘুরতে যাওয়ার জন্য হোক বা অফিসের কাজে... বাড়ির বাইরে কয়েক দিন থাকার কথা উঠলেই বাগান নিয়ে চিন্তা শুরু হয়ে যায়। যে ক’দিন আপনি বাড়িতে থাকবেন না, সে ক’দিন গাছগুলোর কী হবে, কে জল দেবে সেটা তো আগে ভাবতে হবে। কারণ বেঁচে থাকার জন্য ওরা যে আপনার উপরেই নির্ভরশীল। তাই দায়িত্বও আপনার। আপনি বাড়িতে না থেকেও ওদের রসদ জোগাতে পারেন। সেই উপায়ই জানব এ বার...

বোতলবন্দি: গাছে জল দিতে বোতলকে অনেক ভাবেই কাজে লাগানো যায়। প্রথমে একটি বোতল নিয়ে তার গলা পর্যন্ত জল ভরে নিতে হবে। সেই জলেই কিছু সার গুলে দিতে পারেন। তার পর বোতলের মুখ বুড়ো আঙুল দিয়ে চেপে ধরে উলটে দিন। ধীরে-ধীরে বোতলের মুখ গুঁজে দিন টবের মাটিতে। বোতলটা উলটে থাকবে। এক দিকে একটু হেলে থাকলেও অসুবিধে নেই। এ বার বোতলের পিছন দিকে জলের মাত্রায় দাগ দিয়ে দিন। কয়েক ঘণ্টা বাদে দেখুন জল সেই লেভেল থেকে নীচে নেমেছে কি না। তা হলে বুঝতে পারবেন জল পাস করছে। কিন্তু জলের মাত্রা যদি না নামে, তার মানে বোতলের মুখে মাটি জমে জলের পথ আটকাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে বোতল তুলে নিয়ে তার মুখটা পরিষ্কার করে আবার গুঁজে দিতে হবে টবের মাটিতে। 

অথবা বোতলের গায়ে দু’-চারটে ফুটো করে, বোতলে জল ভরে নিন। এবং পুরো বোতলটাই মাটির মধ্যে পুঁতে দিন।

বোতলে জল ভরে আর অল্প মাটি দিয়ে তার মধ্যেও গাছ বসিয়ে রাখতে পারেন। তবে সব গাছ কিন্তু এই পদ্ধতিতে বাঁচে না।

রশির বাঁধনে: একটা বড় গামলায় জল ভরে নিতে হবে। এ বার যে গাছগুলোতে জল দিতে চান সেই গাছের টব এনে গামলার চারপাশে রাখুন। কয়েকটা দড়ি নিয়ে তার এক প্রান্ত গামলার জলের নীচ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ডুবিয়ে দিন। দড়ির অন্য প্রান্ত টবের মাটির মধ্যে গুঁজে দিন। খেয়াল রাখবেন, যাতে দড়িটি টবের নীচ পর্যন্ত চলে যায়। তবেই গাছ ভাল করে জল পাবে। জলভর্তি গামলার মুখ যেন টবের চেয়ে বেশি উচ্চতায় থাকে। এই পুরো পদ্ধতি শুরু করার আগে টবের মাটি জল দিয়ে ভাল করে ভিজিয়ে নিতে হবে। না হলে টবের মাটি প্রথমেই অনেকটা জল শুষে নেবে। 

জলভর্তি টাব: একটা বড় গামলা বা বাথটাব থাকলে তার মধ্যে জল ভরে ফেলুন। তার পর সেই জলনিকাশি বন্ধ করে দিতে হবে। সেই জলভর্তি টাবের মধ্যে একে একে সব গাছ বসিয়ে দিন। খেয়াল রাখবেন, গাছের টবের নীচে যেন জল পাস করার ফুটো থাকে। এই পদ্ধতিতে গাছেরা বেশ কিছু দিন পর্যন্ত জল পাবে এবং ভাল থাকবে। 

টুকরো টিপ্‌স 

• বাড়ির বাইরে থাকাকালীন গাছে জল দেওয়ার যে কোনও পদ্ধতি বাছতে পারেন। কিন্তু যে পদ্ধতিই প্রয়োগ করুন না কেন, গাছকে প্রত্যক্ষ সূর্যালোকে রাখবেন না। তা হলে গাছের গোড়ার জল গাছের কাজে লাগার আগেই বাষ্পীভূত হয়ে যাবে। তাই এমন কোনও জানালার ধারে গাছের টবগুলি রাখতে হবে যাতে গাছ আলো পায়, কিন্তু রোদ যেন না লাগে।

• এই পদ্ধতিতে চার দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত গাছে জল সরবরাহ করা যায়। আর গাছ তার নিজের জলধারণ ক্ষমতায় আরও তিন দিন হয়তো বাঁচতে পারে। কিন্তু তার বেশি দিনের জন্য যদি বাইরে থাকতে হয়, সে ক্ষেত্রে গাছের দায়িত্ব কোনও প্রতিবেশী বা বন্ধুকে দিয়ে যাওয়াই ভাল।

• গাছে জল দেওয়ার উপকরণ সাজিয়ে আগে দেখে নিন, সেই পদ্ধতিতে গাছের জলের চাহিদা মিটছে কি না! বাড়িতে থাকাকালীন সময়েই পদ্ধতিগুলি পরখ করে দেখে নিন, আপনার গাছের জন্য কোন পদ্ধতি সহায়ক।

বাড়িতে কোনও প্রাণী থাকলে তার যতটা যত্নের প্রয়োজন, গাছেরও ততটাই। তাই দরজায় তালা দিয়ে বেরোনোর আগে কিছুটা সময় দিন। তা হলে আপনার সাধের বাগানও আর শুকিয়ে যাবে না!