ফ্ল্যাটের ব্যালকনি হোক বা বাড়ির কোর্টইয়ার্ড বা ছাদ... বাগানের জন্য সাধারণত এই জায়গাই বরাদ্দ হয়ে থাকে। আর সমস্যাও শুরু হয় সেখান থেকেই। প্রথমেই মনে রাখবেন, আপনার বাড়ির বা ফ্ল্যাটের জমি কতটা। তার মধ্যেই আপনার বাগানকে সীমিত রাখার চেষ্টা করুন।

 

সমস্যা ও সমাধান

•গাছের জন্য প্রত্যেক দিন জল দেওয়া আবশ্যিক। কিন্তু আপনার ব্যালকনির নীচেও নিশ্চয়ই অনেক ফ্ল্যাট আছে। গাছে জল দিতেই সেই জল টবের গা বেয়ে মাটি মেখে কাদাজল হয়ে পড়তে পারে নীচের ফ্ল্যাটে। হতেই পারে তাদের বাগানের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ নেই। সেখানে হয়তো তাদের বাড়ির বাচ্চার জামা শুকোতে দেওয়া রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এই ছোট ছোট সমস্যা থেকেই কিন্তু অশান্তির সূত্রপাত হয়।

যা করা যায়: টবের নীচে একটা করে ছোট বাটি রাখুন। তা হলে গাছে জল দিলে তা বাইরে পড়বে না। হ্যাঙ্গিং টব রাখলে তাতে জল না ঢেলে দিনে বেশ কয়েক বার ওয়াটার স্প্রে করতে পারেন। এতে অতিরিক্ত জল নীচে পড়বে না। আবার গাছও তার প্রয়োজনীয় খাবারের জোগান পাবে নিয়মিত।

•আপনার ব্যালকনির গাছ বেড়ে গিয়ে উপরের ব্যালকনি পর্যন্তও পৌঁছে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের ঘরে আলো-হাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাদের জামাকাপড় শুকোতে দিতেও সমস্যা হতে পারে।

যা করা যায়: গাছ বেশি বেড়ে যাওয়ার আগেই তা ছেঁটে দিতে পারেন। বড় গাছ ব্যালকনির মেঝেতেও নামিয়ে রাখা যায়।

•পোকামাকড়ও কিন্তু একটা সমস্যা। গাছের মাটিতে পোকা হওয়া স্বাভাবিক। কিছু গাছে আবার ভিড় জমায় বোলতা ও প্রজাপতি। ফুলের মধু খেতে আসে তারা। এ বার সেই পোকামাকড় যদি প্রতিবেশীর বাড়িতে হানা দেয়, তা হলে তারা দোষ দেবে আপনাকেই।

যা করা যায়:  গাছের মাটিতে ওষুধ দিতে হবে, যাতে পোকামাকড় না হয়। প্রয়োজনে মালির সাহায্য নিতে পারেন।

•বাড়ির চারপাশ দিয়ে বাগান হলেও সমস্যা আছে। কমন বাউন্ডারি ওয়ালের গা ঘেঁষে যদি নতুন গাছ লাগান, তা-ই নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে সমস্যা হতে পারে। গাছ বাড়ার সঙ্গে-সঙ্গেই তাদের ঘরের আলো-হাওয়া আটকাতে পারে। আবার গাছের শিকড় বেড়ে গিয়ে তা পাঁচিলে ফাটল ধরাতেও পারে। গাছের পচা বা শুকনো পাতা উড়ে গিয়ে পাশের বাড়ির চৌহদ্দি নোংরা করতে পারে।

যা করা যায়: পাঁচিলের ধার এড়িয়ে অন্য কোনও জায়গায় গাছ লাগাতে পারেন। প্রতিবেশীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেই সেখানে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

 

নিয়মিত যা করবেন

•গাছের ডালপালা কাটবেন।

•পচা বা শুকনো পাতা পরিষ্কার করবেন।

•বাগানের সুরক্ষায় নিয়মিত পেস্ট কন্ট্রোল করাও জরুরি।

মনে রাখবেন, আপনার শখের বাগান অন্যের প্রিয় না-ও হতে পারে। তাই বাগান সুন্দর থাকুক আপনার চৌহদ্দির মধ্যেই।