সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বাংলা রঙ্গমঞ্চের শ্রেষ্ঠ সাজাহান অহীন্দ্র চৌধুরী

বাংলার সাধারণ রঙ্গালয় ও চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতাকে নিয়ে লিখেছেন সুদেষ্ণা বসু

Ahindra Choudhury

কলকাতার ভবানীপুর অঞ্চলে তখন প্রায়ই বসত শখের দলের যাত্রা, থিয়েটারের আসর। বাড়ির মেয়ে-বৌ ছিলেন তার উৎসাহী দর্শক। ওই রকম এক যাত্রার আসরে একবার মায়ের সঙ্গী হয়েছে শিশু অহীন্দ্র ওরফে খোকাসাহেব। অন্য মেয়েদের সঙ্গে মা বসেছেন চিকের আড়ালে, কোলের কাছে সে। পেটা ঘড়িতে ঘা পড়তেই একযোগে বেজে উঠল ঢোল, করতাল, হারমোনিয়াম, মন্দিরা, বেহালা, এস্রাজ, কর্নেট, ক্ল্যারিয়োনেট। খোকাসাহেব চিকের আড়াল থেকে একলাফে বেরিয়ে বসে পড়ল ক্ল্যারিয়োনেট বাদকের পাশে। মুগ্ধ বিস্ময়ে সারাক্ষণ লক্ষ করে গেল কী করে বাজছে ওই বাঁশি! 

পরদিন সকাল হতে না-হতে ছেলের বায়নায় সারা বাড়ি অস্থির। ওই রকম একটা বাঁশি তার চাই-ই-চাই। রাশভারী পিতৃদেব কড়া গলায় হুঙ্কার ছাড়লেন, “বাঁশি বাজালে ফুসফুসের দোষ হয়। ব্যাটাছেলে ক্রিকেট খেলুক, ব্যায়াম করুক, শরীরটা ভাল হবে।” কে শোনে কার কথা! শেষ পর্যন্ত ছেলের জেদের কাছে হার মানলেন মা। বাবাকে লুকিয়ে কিনে দিতে হল একটা জাপানি খেলনা বাঁশি। আর সেই বাঁশিতে ফুঁ দিতে দিতেই অহীন্দ্রভূষণ চৌধুরী ঢুকে পড়লেন স্বপ্নের রাজ্যে, যেখান থেকে বেরোনোর পথটি আর কোনও দিনই তিনি খুঁজে পাননি।

গিরিশোত্তর যুগে ১৯২৩ থেকে ১৯৫৭, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দাপটে বাংলার মঞ্চ কাঁপিয়ে গিয়েছেন অহীন্দ্র চৌধুরী। অভিনয় শিল্পের নানা মাধ্যম মঞ্চ, চলচ্চিত্র, রেকর্ড, রেডিয়ো— সর্বক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন সেরা। এমন এক প্রতিভা যাঁকে শুধু বাংলাদেশ নয়, অতি অল্প দিনে চিনে নিয়েছিল গোটা ভারতবর্ষের নাট্যপ্রিয় মানুষ। নাট্যকার মন্মথ রায় তাঁকে ‘নটসূর্য’ আখ্যায় অলংকৃত করেছিলেন। বলেছিলেন, “এমন সুদক্ষ পরিচালক, সুসংগঠক, সুশিক্ষক আমাদের দেশে বিরল।” আবার মঞ্চ থেকে অবসর নেওয়ার দিন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ড. বিধানচন্দ্র রায় দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন “সূর্য কখনও অস্ত যায় না। পৃথিবীর এক গোলার্ধে তার অস্ত, অন্য গোলার্ধে তার উদয়। নটসূর্য অভিনয়-জীবন থেকে বিদায় নিলেন, কিন্তু আর এক ক্ষেত্রে পদসঞ্চার করছেন তিনি। এখন তিনি নাট্যজগতের আচার্য।”

 

বাবাকে লুকিয়ে মায়ের সঙ্গে থিয়েটার দেখা

১৮৯৫ সালের ৬ অগস্ট শুঁড়ো-নারকেলডাঙার মাতুলালয়ে অহীন্দ্র চৌধুরীর জন্ম। যদিও আত্মজীবনী অনুযায়ী, তাঁর জন্ম সালটি ১৮৯৭। বাবা চন্দ্রভূষণ ছিলেন বর্ধিষ্ণু বঙ্গজ কায়স্থ জমিদার বংশের সন্তান। মা পঙ্কজিনীদেবী উত্তর কলকাতার এক সচ্ছল পরিবারের কন্যা। চৌধুরী পরিবারের আদি নিবাস ছিল কৃষ্ণনগর থেকে হাঁসখালির পথে তেঘরিয়া বা তেঘর গ্রামে। পরে তাঁরা চলে আসেন শান্তিপুরের কাছে বাঘ-আঁচড়া গ্রামে। কলকাতার ভবানীপুরে কাঁসারিপাড়ার চন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে চন্দ্রভূষণ বসবাস শুরু করেন কাজের সূত্রে। অহীন্দ্র হলেন বাবার জ্যেষ্ঠ সন্তান। ভাই পঞ্চানন ও বোন প্রতিমা অপর দুই সন্তান। পঞ্চানন পরবর্তী কালে ফোটোগ্রাফি শিখে মুম্বই চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হন এবং খুব সুনামের সঙ্গে তাঁর কর্মজীবন শেষ করেন।

স্ত্রী সুধীরা দেবী

শিশু বয়স থেকেই অহীন্দ্র ছিলেন অসম্ভব জেদি। লেখাপড়ার চেয়েও খেলাধুলো, গান-বাজনা, যাত্রা-থিয়েটারের প্রতি বেশি উৎসাহী। অথচ চন্দ্রভূষণ ছিলেন এ সবের ঘোর বিরোধী। যদিও থিয়েটারের সঙ্গে কাজের সূত্রে একটা যোগ তাঁর ছিলই। তিনি রিসিভারের অফিসে কাজ করতেন। কলকাতায় তখন চারটি রঙ্গালয়। এই সব রঙ্গালয়ে বৈষয়িক কারণে মামলা-মোকদ্দমা লেগেই থাকত। ফলে মাঝেমাঝে চন্দ্রভূষণকে ওই সব থিয়েটারে রিসিভার হিসেবে নিযুক্ত করা হত। থিয়েটার জগতে ‘ভূষণবাবু’ বলে তিনি বিশেষ পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। এই কারণেই ‘নতুন পালা ধরা বা খোলা’ উপলক্ষে থিয়েটারের লোকেরা কালীঘাটে পুজো দিতে এসে ফেরার পথে ভূষণবাবুর বাড়ি ঘুরে যেতেন। এ ভাবেই ছোট থেকে অনেক নাটকের মানুষ চিনেছিলেন অহীন্দ্র। 

চক্রবেড়ে শিশু বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে বিশ্বস্ত কাজের লোক তারাপদ কোঙারের কাঁধে চড়ে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়া-আসা করতেন। পথে পড়ত জগুবাবুর বাজার। সেই বাজারের দেওয়াল এবং মোড়ের সব দেওয়ালগুলোয় লাগানো থাকত থিয়েটারের প্ল্যাকার্ড। সাদা কাগজের উপরে লাল নীল-হলদে হরফে লেখা থাকত অভিনেতাদের নাম— গিরিশচন্দ্র ঘোষ, অমরেন্দ্রনাথ দত্ত, অর্ধেন্দু মুস্তাফি, সুরেন্দ্রনাথ ঘোষ। সেই সঙ্গে থিয়েটারের নাম ‘ক্ল্যাসিক’, মিনার্ভা’, ‘স্টার’। সবে তখন তাঁর অক্ষর পরিচয় হয়েছে। কাঁধে চড়া অবস্থায় উঁচু থেকে বানান করে পড়তেন সেই সব বিজ্ঞাপন। এ ছাড়া নতুন নাটক মঞ্চস্থ হলে সে কালে কলকাতার বাড়ি-বাড়ি মহিলা কর্মীদের পাঠানো হত হ্যান্ডবিল বিলি করতে। বালক অহীন্দ্রর কাছে ওই সব হ্যান্ডবিল ছিল আকর্ষক বস্তু। যা বাড়িতে এলেই হস্তগত করে পড়ে ফেলতে চেষ্টা করতেন। থিয়েটারের মায়াময় এক জগৎ কল্পনার সঙ্গে মিশে যেত অহীন্দ্রর মনে। কিন্তু ছেলের হাতে সেই সব হ্যান্ডবিল দেখলেই চন্দ্রভূষণ খেপে লাল হয়ে যেতেন। অহীন্দ্র লিখেছেন, “সেই হ্যান্ডবিল যদি কোথাও কিংবা আমার হাতে বাবা দেখতে পেতেন, তো রাগের আর সীমা-পরিসীমা থাকত না। ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলতেন। এমনই ছিল থিয়েটারের প্রতি বাবার বিরাগ।”

এই বাবাকে লুকিয়েই ন’-দশ বছর বয়সে জীবনের প্রথম থিয়েটারটি দেখার সুযোগ ঘটেছিল অহীন্দ্র চৌধুরীর, তাঁর ছোটমামার বিয়ে উপলক্ষে। তিনি লিখেছেন, “তখনকার রীতি ছিল ছেলে পাস করল, কী নতুন বিয়ে করল অমনি সপরিবারে থিয়েটার দেখতে যাবে। অথবা জামাইষষ্ঠী হল, জামাই যাবে শালিদের নিয়ে থিয়েটার দেখতে। ছোটমামা বিয়ে করলেন, অতএব নবপরিণীতা মামিকে নিয়ে ছোটমামাকে থিয়েটারে যেতে হবে। মামার বাড়ির সবাই যাবে। মা’র সঙ্গে আমিও গেলাম।” ক্ল্যাসিক থিয়েটারে সে দিন ছিল ‘প্রফুল্ল’ নাটকের অভিনয়। প্রথম থিয়েটার, প্রথম প্রফুল্ল আর প্রথম দেখার আলোকে ‘যোগেশ’রূপী গিরিশচন্দ্র। অহীন্দ্র দেখছেন মেয়েদের সিটে বসে। সামনে জালের বেড়া। তার মধ্য দিয়েই দেখলেন, মঞ্চে প্রবেশ করলেন গিরিশবাবু। স্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশ। “ওই রাশভারী ভাব, ওই গম্ভীর কণ্ঠস্বর, কেমন যেন একটা অদ্ভুত ভীতির সঞ্চার করেছিল মনে। আমি মায়ের কোলের কাছে জড়োসড়ো হয়ে বসে ছিলুম। ...কিন্তু শেষের দিকে যখন খালি গায়ে ছেঁড়া কাপড়ে এসে মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন, বলছেন নাটকের শেষতম সংলাপ— ‘আমার সাজানো বাগান শুকিয়ে গেল’, তখন মনে হচ্ছিল মানুষের বুকের ভিতরটা বুঝি প্রবলভাবে গুমরে-গুমরে উঠছে।”

সেই নেশা লাগল থিয়েটারের। বাবাকে লুকিয়ে মায়ের সঙ্গে আরও দু’-একটা থিয়েটার দেখার সুযোগও ঘটে গেল। ‘বিল্বমঙ্গল’, ‘আলিবাবা’, ‘পাণ্ডব গৌরব’। কিন্তু পড়াশোনার চাপে আর থিয়েটার দেখা হল না। কারণ তত দিনে তিনি ভর্তি হয়ে গিয়েছেন লন্ডন মিশনারি সোসাইটি স্কুলে। এই স্কুলে জুনিয়র, সিনিয়র কেমব্রিজের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পাঠ্যসূচিও অনুসরণ করা হত। অহীন্দ্রভূষণ প্রবেশিকা পাঠ্যসূচিই নিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত প্রবেশিকা পরীক্ষায় তাঁর বসা হয়নি। তত দিনে অহীন্দ্র ঢুকে পড়েছেন বাংলা রঙ্গমঞ্চের অপেশাদার শখের নাটকের বৃত্তে। যদিও ছাত্র হিসেবে যথেষ্ট সুনাম ছিল তাঁর। কিন্তু স্কুলে পড়াকালীন থিয়েটারে অভিনয়ের  সুযোগ ছিল না। এক দিকে স্কুলের বাধা, অন্য দিকে বাবার আপত্তি। জেদি অহীন্দ্র ভাল ছাত্র হয়েও প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসলেন না। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দিলেন।

 

জিভ ও স্বরের সঙ্গে শারীরচর্চা

তখন দেশে স্বাধীনতা আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে। সেই উদ্দীপনায় পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠেছে ব্যায়ামাগার, জিমন্যাস্টিক ক্লাব, ফুটবল ক্লাব। বাংলার নাট্যশিল্পেও লেগেছে জাতীয়তাবাদের ছোঁয়া। নাটকের অভিনয় জাতীয় নেতাদের সমর্থনে গৌরবের আসন পেয়েছে। পৌনে সাত ফুট লম্বা ব্যায়াম করা সুঠাম দেহ, টকটকে ফরসা গায়ের রং, এক মাথা কোঁকড়ানো কালো চুল নিয়ে ষোলো বছরের যুবক অহীন্দ্রভূষণ ভবানীপুরের প্রগতি নাট্যসংস্থা রয়্যাল ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হলেন ১৯১০ সালে। এই ক্লাবেই শখের থিয়েটারে ‘রিজিয়া’ নাটকে জীবনে প্রথম তিনি মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন সমরেন্দ্রর ভূমিকায়। তাঁর বয়স তখন সতেরো। জীবনীকার গণেশ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নাটকটি হয়েছিল ভবানীপুরের দেবেন্দ্র ঘোষ স্ট্রিট ও হরিশ মুখার্জি স্ট্রিটের মোড়ে প্রিয়শঙ্করবাবুর বাড়িতে। এই রয়্যাল ক্লাবে অহীন্দ্র আরও কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন। ‘চন্দ্রগুপ্ত’ নাটকে চাণক্য, ‘সাজাহান’ নাটকে নামভূিমকায়, ‘গৃহলক্ষ্মী’ নাটকে উপেন্দ্র। এই সব অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অহীন্দ্রর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে। এই খ্যাতিই তাঁকে সাহায্য করেছিল আরও বড় ক্ষেত্রে এসে পৌঁছতে।

পদ্মশ্রী গ্রহণ করছেন

ভবানীপুর বান্ধব-সমাজ তখনকার কলকাতায় অত্যন্ত অভিজাত একটি শখের যাত্রাদল হিসেবে পরিচিত ছিল। এই দলে ছিলেন তিনকড়ি চক্রবর্তী, ইন্দু মুখোপাধ্যায়, হরিমোহন বসু, ভুজঙ্গভূষণ রায়, পঙ্কজভূষণ রায় বা ফণী রায়ের মতো নামী অভিনেতারা। এঁরাই অহীন্দ্রকে নিয়ে এলেন বান্ধব-সমাজে ‘অভিমন্যু’ নাটকে নামভূমিকায় অভিনয় করার জন্য। এখানে অহীন্দ্র চার বছর যুক্ত ছিলেন এবং কয়েকটি যাত্রাপালায় অভিনয় করেন। তখনই নিজেকে অভিনেতা হিসেবে ক্রমশ তৈরি করে নিতে থাকেন তিনি। গান গেয়ে স্বরচর্চা যেমন চলত, তেমনই রোজ ভোরে ময়দানে গিয়ে অ-আ-ই-ঈ প্রভৃতি স্বরবর্ণ উঁচু, নিচু, মধ্যম স্বরে উচ্চারণ করে জিভ ও স্বরের জড়তা কাটাতেন। পাশাপাশি চলত শারীরচর্চা।

 

মঞ্চে অভিনয় শুরু স্টপগ্যাপ হিসেবে

পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দেওয়ার কারণে পিতা চন্দ্রভূষণ বিশেষ চিন্তিত ছিলেন। তিনি চাইতেন, ছেলে অন্তত কিছু রোজগারের চেষ্টা করুক। ১৯১৮-১৯ নাগাদ নানা রকম ব্যবসার চেষ্টা করেও অহীন্দ্র সফল হননি। ১৯২০ সালে চন্দ্রভূষণ ছেলের বিয়ে দিলেন।  স্ত্রী সুধীরা ছিলেন কলকাতার এন্টালি অঞ্চলের মেয়ে। অত্যন্ত গুণী, বুদ্ধিমতী। ১৯২৩ সালে তাঁদের প্রথম সন্তান মীরার জন্ম। দু’বছর পরে ছেলে প্রীতীন্দ্র। এর পরে রোজগারের প্রয়োজনটা আরও বেড়ে গেল। কিন্তু সারা দিন অহীন্দ্রর সময় কাটে সকালে স্বর ও শারীরচর্চায়। দুপুরে ধর্মতলার ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে। বিকেলে ময়দানে খেলাধুলো আর সন্ধেয় শৌখিন থিয়েটার বা যাত্রার রিহার্সাল দিয়ে। বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হয়। এর মধ্যে রোজগারের কোনও সময় বা সুযোগ কোথায়?

কিন্তু এই রোজগারের সন্ধানেই অহীন্দ্রভূষণ নির্বাক বাংলা চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়লেন। ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরিতে একদিন আলাপ হয়ে গেল সে কালের প্রখ্যাত চিত্রপরিচালক প্রফুল্ল ঘোষের সঙ্গে। তাঁর সহযোগিতায় ও বাবার দেওয়া টাকায় অহীন্দ্র ‘ফোটো প্লে সিন্ডিকেট’ নামে নিজের প্রযোজনা সংস্থা খুললেন। ১০ ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান স্ট্রিটে অফিস নেওয়া হল। বেহালায় একটা বাগানবাড়ি লিজ় নিয়ে সেখানে স্টুডিয়ো তৈরি করাও শুরু করলেন। অল্প কয়েক জন কর্মী নিয়োগ করে, বিদেশি একটি গল্প থেকে চিত্রনাট্য লিখে শুরু হয়ে গেল নির্বাক ছবি ‘সোল অফ ইন্ডিয়া’র কাজ। ম্যাডান কোম্পানির সাহায্যে ছবির কাজ হল। তারাই পরিবেশক হিসেবে ১৯২০ সালের ৩ মার্চ ছবিটি রিলিজ় করল। মুম্বই-সহ বিভিন্ন শহর এমনকি বিদেশে আফ্রিকা, ফিজি দ্বীপপুঞ্জ, বর্মা ইত্যাদি জায়গায় ছবি মুক্তি পেল। কিন্তু ব্যবসা হল না, ছবি ফ্লপ করল। পরবর্তী তিন বছরও ছবি বানিয়ে সাফল্য পেতে খুব চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ১৯২৩ সালের আগে পর্যন্ত তাঁর জীবনে পেশাগত সাফল্য আসেনি। তা এসেছিল বাংলার পেশাদার রঙ্গমঞ্চে এসে।

১৯২৩ সালে অহীন্দ্র চৌধুরী যখন বাংলার রঙ্গালয়ের দুনিয়ায় প্রবেশ করছেন, তত দিনে গিরিশ-যুগের অবসান ঘটছে। সেই বিগত যুগের প্রতিনিধি হিসেবে তখনও টিকে আছেন রসরাজ অমৃতলাল বসু, গিরিশপুত্র সুরেন্দ্রমোহন ঘোষ বা দানীবাবু, তারাসুন্দরীদেবী, পরিচালক অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় আর নাট্য প্রযোজক ও ব্যবস্থাপক প্রবোধচন্দ্র গুহর মতো কয়েক জন বিরাট মাপের মানুষ। নিয়মিত চলছে মাত্র তিনটি থিয়েটার— স্টার, মনোমোহন আর মিনার্ভা। এই পরিবেশেই বাংলা রঙ্গমঞ্চে দু’টি ধারার সূচনা হয়েছিল। একটি শিশিরকুমার ভাদুড়ীর এবং অন্যটি অপরেশচন্দ্রের হাত ধরে। এই দুই ধারার মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজটি করেছিলেন এক দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অন্য দিকে ঠাকুরবাড়ির শিল্পচর্চার প্রভাব। গিরিশচন্দ্রের তৈরি বাংলা নাটকের জমির উপরে রবীন্দ্র নাট্যভাবনা নব্য বাংলা থিয়েটারের ‘বারিসিঞ্চন’ করেছিল, অনেকে দাবি করেন। এই ভাবেই শুরু হয়েছিল বাংলা থিয়েটারের শিশির-অহীন্দ্র স্বর্ণযুগ।

অহীন্দ্র চৌধুরী বাংলা রঙ্গমঞ্চে নিজের অভিনয় প্রতিভার প্রমাণ রেখেছিলেন হঠাৎ অনুপস্থিত অভিনেতাদের চরিত্রে অভিনয় করে নাটকের শো সামাল দিতে দিতে। যাঁদের ‘স্টপগ্যাপ’ বা ‘স্ট্যান্ড বাই’ অভিনেতা বলা হত। তবে যখনই তিনি সেই সুযোগ পেতেন, সেই চরিত্র রূপায়ণে মিশিয়ে দিতেন নিজের ভাবনা। ফলে দর্শক পরিচিত চরিত্রকে নতুন চেহারায় দেখতে পেয়ে মুগ্ধ হত। ১৯২৩ সালের ৩০ জুন রথযাত্রার দিন আর্ট থিয়েটার অপরেশচন্দ্রের ‘কর্ণার্জ্জুন’ নাটক তাঁরই পরিচালনায় মঞ্চস্থ করল স্টার থিয়েটারে। এই নাটক গিরিশ ঘোষ পরবর্তী পর্বে নতুন এক নাট্যরীতি নিয়ে এসেছিল। যদিও নাট্যাচার্য শিশিরকুমার এই রীতির বীজ বপনের কাজটি করেছিলেন। এই নতুন নাট্যপ্রযোজনার আবহে ‘কর্ণার্জুন’ নাটকের মধ্য দিয়ে বাংলার রঙ্গালয় পেল তিনকড়ি চক্রবর্তী (কর্ণ), নরেশ মিত্র (শকুনি), ইন্দু মুখোপাধ্যায় (শ্রীকৃষ্ণ), দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় (বিকর্ণ) ও অহীন্দ্র চৌধুরীর (অর্জুন) মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের। ‘কর্ণার্জুন’-এ অর্জুনের ভূমিকায় অহীন্দ্র চৌধুরীকে দর্শকের মনে ধরেছিল। কয়েক রাত অভিনয় করে তিনকড়িবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন অবস্থা সামাল দিতে পরিচালক অপরেশচন্দ্রের নির্দেশে মাত্র কয়েক ঘণ্টার প্রস্তুতিতে অহীন্দ্র চৌধুরীকে কর্ণের ভূমিকায় মঞ্চে নামতে হয়। সেই অভিনয় দেখে তৎকালীন নাট্য সমালোচকরা মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।

আজ নটসূর্য অহীন্দ্র চৌধুরীর সমগ্র অভিনয় জীবনের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেই ১৯২৩ সালের ৩০ জুন আর্ট থিয়েটারের অর্জুনের ভূমিকায় অভিনয়ের প্রথম রজনী থেকে শুরু করে ১৯৫৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মিনার্ভায় ‘সাজাহান’ নাটকে নামভূমিকায় শেষ অভিনয়ের দীর্ঘ যাত্রাপথে অহীন্দ্র চৌধুরী বাংলা নাটকে অভিনয়ের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। এক দিকে নাট্যাচার্য শিশিরকুমার আর অন্য দিকে নটসূর্য অহীন্দ্র চৌধুরী, সেই ৩৪ বছর বাংলা নাটকের দর্শকদের যে অভিনয় উপহার দিয়েছিলেন, তার স্মৃতি আজও অম্লান। মোট ১১৪টি নাটকে ১৩৮টি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অহীন্দ্র চৌধুরী। সেই সব চরিত্রের কথা দর্শকদের মুখে মুখে ফিরত। আজ একশো বছর পার করেও বাংলা নাটকের অভিনেতা ও দর্শকরা ভুলতে পারেন না তাঁকে, তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলিকে। আজও অমর হয়ে আছেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’। ‘কর্ণার্জুন’ নাটকের মতো এই চরিত্রেও তিনি অভিনয় করতে নেমেছিলেন পরিবর্তিত অভিনেতা হিসেবে। অভিনেতা নরেশ মিত্র আগের দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ নাটকে অহীন্দ্রবাবুর কোনও চরিত্র ছিল না। শো যে দিন, সে দিন সকালে তাঁর কাছে নির্দেশ আসে। মাত্র একদিন সময় পেয়েছিলেন প্রস্তুত হতে। কিন্তু কে জানত এই সাজাহানই অহীন্দ্র চৌধুরীর জীবনের এক শ্রেষ্ঠ কীর্তি হয়ে থাকবে! 

 

শিশির-অহীন্দ্র শিবিরভাগ

সারা জীবনে ১৯০০ বার সাজাহান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। সাধারণ রঙ্গালয়ে এই চরিত্রকে অহীন্দ্র এতটাই জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন যে, নাট্যকার দেবনারায়ণ গুপ্তর কথায়, “এই নাটকটিকে থিয়েটারের লোকরা ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ বলত। যখনই কোনও থিয়েটার খরচ-খরচা বা মাস মাহিনা দিতে অসুবিধায় পড়ত তখনই তারা চোখ বুজে লাগিয়ে দিত সাজাহান।” আর অনিবার্য ভাবে সে কালের ভাষায় ‘এক বাড়ি বিক্রি’ বা হাউসফুল হয়ে যেত।

অভিনেতা হিসেবে তাঁকে পেতে সে কালের থিয়েটারগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। অহীন্দ্র চৌধুরীকে নিয়ে থিয়েটার কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গিয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে। তাঁকে লুকিয়ে রেখে চুক্তিপত্র সই করাতে চেষ্টা করেছেন। তাঁকে পেতে মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। ফলে স্টার, মিনার্ভা, নাট্য-নিকেতন, রঙমহল, শ্রীরঙ্গম (শিশিরকুমারের আহ্বানে), ফার্স্ট এম্পায়ার ইত্যাদি বিভিন্ন মঞ্চের সঙ্গে তিনি যুক্ত থেকেছেন। নাটক নিয়ে দেশ ও বিদেশ ভ্রমণ করেছেন।

অহীন্দ্র চৌধুরী ও শিশিরকুমার সমসাময়িক ছিলেন। দু’জনের অভিনয় প্রতিভা নিয়ে দর্শকমনে কোনও প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু যেটা ছিল, তা হল পারস্পরিক শ্রদ্ধা মেশানো এক সুস্থ প্রতিযোগিতা। কে বেশি ভাল অভিনেতা, তা নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে শিবির ভাগ ছিল। অহীন্দ্রবাবু লিখেছেন, “যদি পুরনো দিনের পত্র-পত্রিকা দেখেন তবে দেখতে পাবেন যে শিশিরকুমার ভাদুড়ী ও অহীন্দ্র চৌধুরীকে নিয়ে যেন তুলনামূলক সমালোচনা শুরু হয়ে গেছে।” দেবনারায়ণ গুপ্ত লিখেছেন, “শিশিরবাবুর মধ্যে উন্নাসিকতা ছিল। এ আমি কেন, যারা তাঁর সংস্পর্শে এসেছে তারাই জানে। যেটা অহীনদার মধ্যে ছিল না। সাধারণ দর্শকদের টেনে রাখার ক্ষমতা বেশি ছিল অহীন্দ্র চৌধুরীর। নাট্যাচার্যর গুণগ্রাহীদের বেশির ভাগই ইনটেলেকচুয়াল। কিন্তু দু’জনেই দিকপাল ও পণ্ডিত। ওঁরা প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেন গিরিশ ঘোষের ‘প্রফুল্ল’ নাটকে। শিশিরকুমার যোগেশ, অহীন্দ্র চৌধুরী রমেশ।”

অহীন্দ্র বিভিন্ন রকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ৩৪ বছরের অভিনয় জীবনে। সে তালিকা দীর্ঘ। তাঁর নাতনি গৌরী মিত্র জানালেন, “মায়ের কাছে শুনেছি, দাদুর সমকালীন এমন কোনও নাট্যকার বা সাহিত্যিক নেই, যাঁদের সৃষ্ট চরিত্রে দাদু অভিনয় করেননি। নাটকের সব বিভাগের সঙ্গেই তিনি যুক্ত থাকতেন। মূল্যবান পরামর্শ দিতেন। পরিচালক না হয়েও পরিচালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নাটকটিকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিতেন তাঁর মেধা, শিল্পজ্ঞান ও পাণ্ডিত্য দিয়ে। পরিচালকরা বলতেন, ‘বই রইল। রিহার্সাল আপনি শুরু করে দিন।’ তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরিটি ছিল দেখার মতো।”

তাঁর এই পাণ্ডিত্যের পরিচয় রয়েছে ভারতে প্রথম নাট্যবিদ্যা পাঠ্যসূচি প্রণয়নের মধ্যে। ১৯৫৫ সালে তাঁরই হাত ধরে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অ্যাকাডেমি অব ডান্স, ড্রামা অ্যান্ড মিউজ়িেকর গোড়াপত্তন হয়েছিল বিধানচন্দ্র রায়ের অনুরোধে। পরবর্তী কালে এই অ্যাকাডেমি ‘রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫৮ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গিরিশ লেকচারার’ পদে মনোনীত হন। ১৯৬৩ সালে ‘পদ্মশ্রী’ পান। ১৯৭০ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট উপাধি দেয়।

 

তাঁর দৃষ্টি এড়ায়নি নবাগত উত্তম-সুচিত্রার প্রতিভাও

বেশ কয়েকটি রবীন্দ্র-নাটকে অহীন্দ্র অভিনয় করেছেন। প্রযোজনার স্বার্থে বারবার ছুটে গিয়েছেন কবির কাছে বিভিন্ন পরামর্শ নিতে। রবীন্দ্রনাথ যত্ন করে তাঁর নাটকের খাতায় কলম চালিয়ে প্রয়োজনীয় বদল করে দিয়েছেন। কখনও নতুন গান যুক্ত করে দিয়েছেন। গগনেন্দ্রনাথকে দিয়ে মঞ্চসজ্জা করিয়েছেন। রবি বর্মা বা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি দেখে চরিত্রের পোশাক বানিয়েছেন। তাঁর অভিনয় দেখতে রবীন্দ্রনাথ একাধিক বার থিয়েটারে এসেছেন। ‘চিরকুমার সভা’র প্রযোজনা ও চন্দ্রবাবু চরিত্রে অহীন্দ্রর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, “ওটি অহীন্দ্রের সৃষ্টি; ওই সৃষ্টি আর্টিস্টের বড় ক্ষমতা।” ‘গৃহপ্রবেশ’ দেখে তাঁর মন্তব্য ছিল, “এটি আর্ট থিয়েটারের একটি দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা।”

কিন্তু এত করেও অহীন্দ্র চৌধুরী নিজেকে কখনওই অভিনেতার পরিধির বাইরে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেননি। তিনি ছিলেন মনেপ্রাণে একজন অভিনেতা। বিংশ শতাব্দীর চার-চারটি দশক জুড়ে মঞ্চ, চলচ্চিত্র, বেতার, রেকর্ড— সর্বত্র যাঁর উপস্থিতি ছিল প্রকাণ্ড। খ্যাতির মধ্যগগনে থেকে অভিনয় করতে করতেও তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি নবীন মঞ্চাভিনেতা শম্ভু মিত্র, উৎপল দত্ত বা চলচ্চিত্রে নবাগত সুচিত্রা সেন, উত্তমকুমারের মতো প্রতিভার উপস্থিতি। আত্মজীবনীতে সে কথা লিখেও গিয়েছেন তিনি।

চলচ্চিত্রের সঙ্গে অহীন্দ্র চৌধুরীর যোগাযোগ ঘটেছিল মঞ্চেরও আগে ১৯২০ সালে। ১৯২১ সালের ‘সোল অফ আ স্লেভ’ থেকে শুরু করে ‘প্রেমাঞ্জলি’ অবধি মোট আটটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। ১৯২৭ সালে অরোরার ‘কৃষ্ণসখা’ একমাত্র ছবি, যেখানে তাঁর নাম পরিচালক ও অভিনেতা হিসেবে প্রচারিত হয়। সেই প্রথম ও সেই শেষ। এর পরে সবাক যুগের প্রথম দিকে মঞ্চসফল নাটকের নির্বাচিত দৃশ্যের চিত্ররূপ দেওয়া হত। ‘আলমগীর’, ‘ইরানের রাণী’, ‘জামাইষষ্ঠী’ ইত্যাদি। তাঁর অভিনীত প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি ‘ঋষির প্রেম’ মুক্তি পায় ১৯৩১ সালে। ১৯৩১ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত তিনি বাংলা ও হিন্দি এ দু’টি ভাষার অনেক ছবিতে অভিনয় করলেও মুক্তি পেয়েছিল মোট ১০৭টি ছবি। এই মাধ্যমেও অহীন্দ্রবাবু তাঁর যোগ্যতা প্রমাণ করেছিলেন। তাঁর অভিনীত শেষ ছবি ‘নীলাচলে মহাপ্রভু’।

রেকর্ডনাট্যে তিনি অভিনয় শুরু করেন ১৯২৪ সাল থেকে। তাঁর অভিনীত মোট রেকর্ডনাট্য ২৫টি। ১৯২৯ সালে শুরু করে শেষ বারের জন্য ‘সাজাহান’ করেন ১৯৫৬ সালে । পরের বছরে ১৯৫৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মিনার্ভা থিয়েটার মঞ্চে তিনি এসে দাঁড়িয়েছিলেন। সে নাটকও ছিল ‘সাজাহান’। সে দিনের দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে অনবদ্য অভিনয়ের পরে তিনি জীবনে শেষ বারের মতো উচ্চারণ করেছিলেন নাটকের শেষ সংলাপ, “...আর ভাবতে চেষ্টা কর এ সংসারকে যত খারাপ ভাবিস— সে তত খারাপ নয়। জাহানারা...”

শোনা যায়, সে রাতে নাটক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে মিনার্ভার দিকে তাকিয়ে বলে উঠেছিলেন, “গুড নাইট, সুইট প্রিন্স।” যে চরিত্র ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ও সফল, সেই সাজাহানের প্রতি ছিল তাঁর এই উক্তি।

১৯৭৪ সালে ৩ নভেম্বর অহীন্দ্র চৌধুরী আমাদের ছেড়ে চলে যান।

 

ঋণ: ‘নিজেরে হারায়ে খুঁজি’, অহীন্দ্র চৌধুরী; ‘নটসূর্য অহীন্দ্র চৌধুরী’, গণেশ মুখোপাধ্যায়, ছবি: নির্মলেন্দু চট্টোপাধ্যায়, গৌরী মিত্র, শ্রীপর্ণা মজুমদার

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন