শান্ত পরিবেশে এবং বাঁশির অপূর্ব সুরমূর্ছনায় অনুষ্ঠানের শুরু। প্রথম গানটি ছিল ‘ভুবনেশ্বর হে, মোচন কর বন্ধন সব মোচন কর হে’। গানের মধ্যে বাঁশির ইন্টারলিউড অত্যন্ত মনোগ্রাহী হয়ে উঠেছিল। এর পরে শান্তনু গাইলেন হিন্দিতে রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘জ্যায়সে জ্যায়সে সুর লাগায়ে অ্যায়সে তুম আয়ে’ (‘দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে’র অনুবাদ)। গানটি বিশেষ রেখাপাত করেনি। তৃতীয় গান স্বামী বিবেকানন্দ রচিত ‘জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই, কোথা হতে আসি, কোথা ভেসে যাই’। এত সুন্দর ভাবে এটি পরিবেশন করেন শিল্পী যে, প্রকৃতই মর্মস্পর্শী হয়ে উঠেছিল।

এ ছাড়া ‘মেরে প্যায়ারে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমভক্তি মুক্তিদাতা’, ‘ওই বধির যবনিকা তুলিয়া মোরে দেখাও আলোক লোক’, ‘অব হমে দিল কা তরানা শুনায়ে’, ‘চিরসখা হে, ছেড়ো না মোরে ছেড়ো না’, ‘তাহারে আরতি করে চন্দ্রতপন’, ‘আমার চেতনা চৈতন্য করে দে মা চৈতন্যময়ী’ ইত্যাদি। এরই মাঝে আরও একটি গান খুব ভাল লাগল। সেটি স্বামী পুণ্যাত্মানন্দের লেখা—‘যে তৃষা জাগিলে তোমারে হারাব/সে তৃষা আমার জাগায়ো না’।

অনুষ্ঠানের শেষ নিবেদন ছিল শান্তনু রায়চৌধুরীর সঙ্গীতগুরু পণ্ডিত সুধীর চক্রবর্তী সুরারোপিত ‘তুম আদি শক্তি’ গানটি দিয়ে।

শিল্পী শান্তনু রায়চৌধুরীর সুরসমৃদ্ধ কণ্ঠে এক অসাধারণ আবহ সৃষ্টি হয়েছিল, যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। এই অনুষ্ঠানে বাঁশিশিল্পী সৌম্যজ্যোতি ঘোষের বাঁশি অনুষ্ঠানটিকে যে ভাবে আগাগোড়াই ভরিয়ে রেখেছিল, তাও মনে রাখার মতো। তবলা এবং পাখোয়াজে ছিলেন অমিত গোস্বামী, কি-বোর্ডে কুণাল চক্রবর্তী, গিটারে রাজু ঘোষাল, পারকাশনে অরিন্দম ভট্টাচার্য। এঁদের সকলেই যথাযথ।