বিড়লা অ্যাকাডেমির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘জেন্ডো’ শিরোনামে প্রবীর পুরকায়স্থ-র ৪৬টি আলোকচিত্র নিয়ে প্রদর্শনী।

‘জেন্ডো’ কথাটির অর্থ উপাসনা বা ধ্যান। বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শনের আধ্যাত্মিক পথ। ‘জেন’ হচ্ছে চিনের বৌদ্ধ ধর্মের বিশেষ একটি ধারা। উদ্ভব হয়েছিল খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতকে। ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের উদ্ভব ও বিকাশের প্রায় বারোশো বছর পরে। ভারতে বৌদ্ধধর্মের সূচনা হয়েছিল ষষ্ঠ-পঞ্চম খ্রিস্টপূর্বাব্দে। চিনে তাওবাদের উন্মেষ ভারতে বুদ্ধবাদের উন্মেষের প্রায় সমসাময়িক। ‘তাও!’ অর্থ পথ। প্রকৃতির বিকাশের পথ, যা জীবনের পথকেও নিয়ন্ত্রণ করে। চিন থেকে ‘জেন’ প্রসারিত হয়েছিল জাপান ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে। জেন-ধ্যানের ভিতর দিয়ে আলো ও উজ্জীবনের সন্ধান। একজন সাধক এই আলো-আঁধার মগ্নতা দেখতে পান প্রকৃতি ও জীবনের সমস্ত প্রকাশে। প্রবীর পুরকায়স্থ তাঁর আলোকচিত্রের মধ্য দিয়ে তন্ময় ধ্যানেরই সন্ধান করেছেন।

শ্রীপুরকায়স্থর জন্ম মধ্যভারতে। ১৯৭৩-এ তিনি থাইল্যান্ডে যান। ১৯৮০ সালে দেশে ফিরে তিনি আলোকচিত্রে মগ্ন আছেন। লাদাখ ও অসমের হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে আলোকচিত্র তুলেছেন। এ ছাড়া কাজ করেছেন মায়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ইত্যাদি দেশেও। বহু প্রদর্শনী করেছেন। জেন-বুদ্ধবাদের দর্শনকে তিনি উপলব্ধি ও প্রকাশ করতে চান আলোকচিত্রের মধ্য দিয়ে।

আলোকচিত্রের প্রতিক্রিয়ায় চিত্রকলা তার রূপায়ণ-পদ্ধতি পাল্টে নেয়। আলোকচিত্র সঙ্গে চিত্রের গড়ে ওঠে এক দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক। লাদাখের হিমালয় অঞ্চলের কিছু ছবি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। রাতের অন্ধকারে তিনি যখন ধরেন কোনও পর্বতশৃঙ্গে জমাট বাঁধা বরফ, অন্য দিকে প্রবাহিত কোনও জলধারার গতিপথ, তখন নিবিড় কালোর মধ্যে বিমূর্ত চিত্রের আবহ তৈরি করে। থাইল্যান্ডের একটি ছবিতে দুটি শিকড়ের এক কোটরে বুদ্ধের মুখ। অন্য ছবিতে পাহাড়ে পাথরে খোদিত একটি হাত। বিনতি জানাচ্ছে সবুজ লতানো গাছের উপরে মুখ তুলে থাকা ছোট ফুল।