সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বকুল বিছানো পথে

বসন্তের গানের সম্ভার জি ডি বিড়লা সভাঘরে। শুনলেন বিপ্লবকুমার ঘোষ

1

দু’চোখের স্বপ্ন নিয়ে সে ফিরে আসে বার বার ‘বকুল বিছানো পথে’। বসন্তের মন কেমন করা শুকনো ঝরা পাতায় কত রং ঝরে পড়ে রবিঠাকুরের বসন্তগানে। জিডি বিড়লা সভাঘরে রাহুল মিত্রের ৩৮টি গান শুনে মন ডেকে ওঠে ‘রং তুলি ডাক পাঠাল। রং লাগল বনে বনে। অশোক-পলাশ-শিরীষ-বকুল উঠল হেসে। আর মল্লিকা-মাধবী-চাঁপা-করবী হল আকুল। দক্ষিণা বাতাস চামর দুলিয়ে দিল। শাল পিয়ালের বন উঠল কেঁপে কেঁপে।’ শুরুতেই শিল্পীর দরাজ গলায় ‘এসো এসো বসন্ত ধরা তলে’ এবং ‘আজি বহিছে বসন্ত পবন’ বসন্তের রং ছড়াতে শুরু করল শ্রোতাদের মনে। বা পরের গানগুলিতেও। ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে’, ‘নীল দিগন্তে’, ‘আজি দক্ষিণ দুয়ার’, ‘ওরে বকুল পারুল’, ‘ও মঞ্জরী ও মঞ্জরী’। গানের ফাঁকে মন চলে যায় সেই দিগন্তে যেখানে বলতে ইচ্ছে করে, ‘এরা বসন্তেরই গান। একদল বলে ফুল ফোটার কথা, আরেক দল – ঝরার। এদের চলার পথ এক। কেউ একটু আগে চলে যায়। অন্য জন পরে। এদের সব খবর রাখে পথ। ... সে পথ দিয়ে অন্য বসন্তের গান চলে পাতা ঝরার মাঠে।’

মনের আকুলি বিকুলি প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে শিল্পীর কন্ঠে ‘এবার বিদায়বেলার সুর’, ‘ওরে পথিক, ওরে প্রেমিক’ বা ‘যায় নিয়ে যায়’। যেন পথ মনে মনে হাসে। আদর করে দেয় গানের চিবুকখানি ধরে।

প্রথমার্ধের এই আমেজ শিল্পী পুরোপুরি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তাঁর নির্বাচিত গানের সম্ভারে। যেখানে বিদায়বেলা সুনিশ্চিত জেনেও অশ্রুসজল চোখে আশার আলো ফুটিয়ে তোলেন ... কত বসন্ত আসবে, যাবে চলে। আকাশের পার থেকে পাতা ঝরার মাঠে। তোমার এই বকুল বিছানো পথে পথে।

শিল্পী গেয়ে ওঠেন ‘গান আমার যায় ভেসে’, ‘আকাশ আমায় ভরল’, ‘কাহার গলায় পরাবি’, ‘কার হাতে এই মালা’, ‘তুমি একটু কেবল’, ‘তুমি কোন পথে যে এলে’ প্রভৃতি গান।

অনুষ্ঠান যত এগোয় বসন্ত তার বিদায়ের বাণী শোনায়। বলতে ইচ্ছা করে ... ‘ভিতরের দমকা হাওয়ায় চোখ আসে ভিজে। ওকে কাছে ডেকে চুলে বিলি কেটে দেয়। ... বকুল ঝরে ঝরে পড়ে ভোর রাতে। সত্যিটুকু হয়ে।’

গানের গতিকে ত্বরান্বিত করে মনকে ভাসিয়ে নেয় সেই পলাশ শিমুলের দেশে যেখানে বসন্ত আসে, বসন্ত যায় চলে। শিল্পী সেই আবেগকে থামতে দিতে নারাজ। গাইলেন ‘জয়-যাত্রায় যাও গো’, ‘বারতা পেয়েছি মনে মনে’, ‘চলে যায় মরি হায়’, ‘ক্লান্ত বাঁশির শেষ রাগিণী’ বা ‘তার বিদায়বেলার মালাখানি’ প্রভৃতি।

এটা সত্যি, নতুন ঋতুর আহ্বানে বসন্তকে বিদায় দিতেই হয়। বকুল বিছানো পথে পথে।

‘তুমি কিছু দিয়ে যাও’, ‘ঝরা পাতা গো’, ‘কখন যে বসন্ত গেল’।

শিল্পীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন অম্লান হালদার, গৌতম দত্ত, গৌতম চৌধুরী, অচ্যুত বেহেরা, সুতনু সিংহ, সুমন সরকার, সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত নন্দী।       

 

 

যে গানে মন ভরে

 

সম্প্রতি কলামন্দিরে গান শোনালেন সঞ্চারী। বেশ কয়েকটি গানের পর মঞ্চে এলেন ঊষা উত্থুপ। তিনিও কয়েকটি গান শুনিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করলেন। বাদ গেলেন না জয় সরকারও। শ্রীজাত-র লেখা ‘ছোট্ট একটা মন’ গানটির সঙ্গে গীটার নিয়ে মঞ্চ মাতালেন জয় সরকার। সঙ্গে সঞ্চারী। অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই কিছুটা ব্যতিক্রমী ছিল। জন্মসূত্রে প্রবাসী হলেও এই কিশোরী শিল্পী দর্শকদের মন জয় করলেন গণেশ স্তোত্র ও পরে রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘বড় আশা করে এসেছি’ শুনিয়ে। পরে পুরনো দিনের জনপ্রিয় গানগুলিও ছিল। যেমন- ‘ফুলে গন্ধ নেই’, ‘ও মোর ময়না গো’, ‘এই মন জোছনায়’। তবে অনুষ্ঠানের ফাঁকে পঙ্কজ নাহাটার সঙ্গে সঞ্চারীর ডুয়েটও মনে রাখার মতো।

 

 

মঞ্চগানের রঙ্গযাত্রা

 

মঞ্চের নাটকে সংলাপের পাশাপাশি গানের ধারাবাহিকতা গড়ে উঠেছে শুরুর দিন থেকেই। কখনও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধারায়, কখনও পাশ্চাত্য বা লোকজ ধারায়। আর সে সব মঞ্চগানের পরম্পরায় তিন দশক ধরে গবেষকের মননে নিয়মিত গাইছেন দেবজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। গায়নের সঙ্গে পারিপার্শ্ব ইতিহাস। মনে হয়, এ সব মঞ্চগান আজও কত আধুনিক। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’ নাটকের ‘আজি এসেছি’ গানে মাতিয়ে দিলেন দেবজিত। দেশি-বিদেশি সুরের গঠনে শ্রোতার মন জয় করে নিলেন শিল্পী। পরের নিবেদন অমৃতলাল বসুর নাটক ‘নবজীবনে’ রবীন্দ্রনাথের গান ‘অয়ি ভুবন মনোমোহিনী মা’। পরের গান শচীনদেব বর্মনের সুরে ‘জননী’ নাটকের গান ‘ভোগ করে নাও’। শোনালেন মালকোষের বন্দিশে ‘স্বয়ম্বরা’ নাটকের ‘ফিরে চলো, ফিরে চলো’। পরের গান ‘পরদেশি’ নাটকের ‘আমি সাগরপারের হরবোলা-য়। বিস্মিত শ্রোতারা। বৈচিত্রের বিস্তারে গেয়ে চলেন ‘মহুয়া’ নাটকে নজরুলের ভাটিয়ালি ‘আমার গহীন জলের নদী’, মুকুন্দদাসের চারণগান ‘কর্মক্ষেত্রে’র করমের যুগ এসেছে’, আর ‘অ্যান্টনি কবিয়ালের’ ‘ভজন পূজন জানিনে মা’। দেবজিত ইতি টানলেন মনোজ মিত্রর নাটক ‘নরক গুলজারের’ গান ‘কথা বলো না, কেউ শব্দ করোনা’-তে। অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যামন্দিরের ছাত্ররা পরিবেশন করলেন নাটক ‘মুড়কির হাঁড়ি’।

 

 

অন্বেষা-সন্ধ্যায়

 

সম্প্রতি বাংলা অ্যাকাডেমিতে অনুষ্ঠিত হল শুধু মাত্র বসন্তের গান ও কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন সময়ের লেখা গান ও কবিতাগুলি শোনালেন এই প্রজন্মের শিল্পীরা। শুরুতেই সুপ্রকাশ মুখোপাধ্যায় শোনালেন ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি। কঙ্কনা সরকার শোনালেন মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘মাধবী জন্ম’। তবে অনুষ্ঠানে নজর কেড়েছেন সুলগ্না বসু। চর্চিত কণ্ঠে নির্বাচিত কবিতাটি অন্য মাত্রা পায়। এ ছাড়াও অন্যান্য শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন তরুণ সাহা, সুমিতা পাল, মহুয়া দাস, শ্রীপর্ণা দাশগুপ্ত রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানের আয়োজক অন্বেষা।

 

 

কাছে ডেকে লও

 

‘বড় আশা করে’, ‘বধূ মিছে রাগ কোরো না’, ‘গ্রামছাড়া ওই রাঙামাটির পথ’, ‘তুমি রবে নীরবে’, ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’ প্রভৃতি ১৪টি রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রকাশিত হয়েছে গাথানি থেকে। ‘কাছে ডেকে লও’ শীর্ষক সংকলনে। শিল্পী সুস্মিতা গোস্বামী। গানগুলো বহুশ্রুত  হলেও পরিবেশনার গুণে অন্য মাত্রা পেয়ে যায়। গানে-গানে প্রেমের আবেশ, বিরহ  বা মুক্তির প্রকাশ। তবে সংকলনে শিল্পী চেনা গানগুলোর সঙ্গেই মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছেন শ্রোতাদের। সঙ্গীতায়োজনে রামকৃষ্ণ পাল।

 

 

দরদ দিয়ে

 

তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী’ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গাইলেন বেলা সাধুখাঁ। পরের গানগুলিও ছিল সুনির্বাচিত। ‘সেই ভাল সেই ভাল’, ‘না চাহিলে যারে পাওয়া যায়’, ‘অগ্নিবীণা বাজাও’ প্রভৃতি ছ’টি গানই অত্যন্ত দরদ দিয়ে গাওয়া।

 

 

ব্রক্ষ্মসঙ্গীত

 

বিবেকানন্দের গাওয়া ব্রক্ষ্মসঙ্গীত শোনালেন ইরাবতী বসু। পরে ৬টি রবীন্দ্রসঙ্গীতও শোনালেন তিনি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ‘আমি তারেই জানি’, ‘কবে আমি বাহির হলেম’, ‘তুমি যে সুরের আগুন’ প্রভৃতি। গায়কির গুনে গানগুলি অন্য মাত্রা পায়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন