ছোটবেলা থেকেই আমার গড়ন মোটার দিকে। ফলে আমার সঙ্গে সঙ্গেই মায়েরও অবস্থা প্রাণান্তকর। সারা সপ্তাহ ধরে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানোর অসীম প্রচেষ্টা মায়ের। কিন্তু যে মেয়ের জিভ ভাজাভুজি, আইসক্রিম, ফাস্ট ফুডে ভীষণ ভাবে অভ্যস্ত, তার আর স্যালাড রুচবে কেন? শত দরাদরির মাঝেই তাই মায়ের নিদান— সপ্তাহে ছ’দিন যদি রাস্তার খাবার বন্ধ করে শুধু তাঁর কথা শুনে চলি, তা হলে একটা দিন মিলতে পারে ছাড়! ফলে সপ্তাহে ছ’দিন নাক টিপে, মুখ বুজে ঘাস-পাতা খাওয়ার পর আসত মহার্ঘ বিরিয়ানির সুযোগ।

• আর ঠিক এখানেই মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন কয়েকটা ভীষণ জরুরি কথা। ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকার ইচ্ছে মাথায় চাপলে অনেকেই কঠিন ডায়েট মেনে চলার চেষ্টা করি। কেউ কেউ নিয়মের বেড়াজালে হাঁপিয়ে মাঝপথেই দেয় ডায়েট। কারও জীবনে খাবারের হাত ধরেই আবার আসে হতাশা। তাই একটা দিন যদি রাশ একটু আলগা করা যায়, মনও ভাল থাকে। আবার পরের সপ্তাহে নতুন উদ্যমে শুরু করা যায় কঠিন ডায়েট। আর এই ছাড়পত্রের দিনটাকেই অনেকে বলেন ‘চিট ডে’। এ দিন যা খাবেন, সবই ‘চিট মিল’।

• কিন্তু যদি সেই ‘চিট মিল’ও একটু বুদ্ধি খাটিয়ে, সচেতন ভাবে বেছে নেওয়া যায়, তা হলে যতই চুরি করুন, ধরা পড়বেন না। অর্থাৎ ছাড়ের দিনে যত খাবারই খান, ওজন বাড়ার ভয় থাকবে না।

• পিৎজা খেতে ইচ্ছে করতেই পারে। তা হলে বাছুন থিন ক্রাস্ট। অর্থাৎ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট থাকবে না। টপিং হিসেবে বেছে নিতে পারেন পালং। চিজ়ে মাখা পালং খেতে মন্দ নয় কিন্তু! সেই সঙ্গে থাকুক সামান্য চেরি টম্যাটো।

• অথবা আপনি ‘চিট ডে’তে রেস্তরাঁয় গিয়ে সচেতন ভাবেই স্যালাড বেছে নিচ্ছেন। যে কোনও স্যালাড খেলেই তার ড্রেসিং কিন্তু নিজের হাতে ঢেলে নিন। ফলে তাতে কত পরিমাণে ক্যালরি থাকছে, তার হিসেবও থাকবে।

•  তেমনই যদি চিকেন উইংস খেতে চান, নির্দ্বিধায় খেতে পারেন। তা হলে খেয়াল রাখুন, সেটা যেন ডুবো তেলে না ভেজে বেক করা হয়।

•  সারা দিন এ দিক ও দিক করার পর কারও সামনে যদি ধোঁয়া ওঠা মিটবল পাস্তা দেওয়া হয়, কেউই ফিরিয়ে দেবেন না বোধ হয়। তবে এ দিন পাস্তা তৈরি হোক কিনোয়া (এক ধরনের শস্য) দিয়ে। সঙ্গের মিটবলটা লো ফ্যাট চলতেই পারে।

• কিংবা সকালে গরম প্যানকেকের উপর আইসক্রিম আর মেপল সিরাপ দিয়ে জমিয়ে প্রাতরাশের কথা ভাবছেন। ভাবতেই পারেন। তা হলে প্যানকেকটা বানান ওট্স দিয়ে। দই খেলে লো ফ্যাট নিন।

•  সন্ধেবেলা বন্ধুদের আড্ডায় মুখ চলতে থাকে বিরামহীন। আয়োজন করুন বেক করা চিপসের। চুরি করতে গিয়ে যদি আরও বেশি সচেতন হতে চান, তা হলে ময়দার বদলে চিপস হোক ভুট্টা দিয়ে। সঙ্গে কিন্তু সস নৈব নৈব চ। বরং ভাল হয় যদি টম্যাটো সালসা বা গুয়াকামোলে জাতীয় অ্যাভোকাডো ডিপ রাখেন।

•  ডেজ়ার্টে চুরি করার ভাল উপায় হল ব্রাউনি। একটা দু’ইঞ্চির ব্রাউনিতে কমবেশি ১১২ ক্যালরি থাকে এবং বাকি ডেজ়ার্টের তুলনায় কম কার্বও থাকে। এ ছাড়া স্বচ্ছন্দে খেতে পারেন একটা ম্যাকারুন।

•  নিয়মভাঙার দিন যতই নিয়ম ভাঙুন, অতিরিক্ত তেল-মশলা এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। ছাড় পেয়েছেন বলেই যে পর পর শিঙাড়া, দানাদার, পান্তুয়া খেয়ে যাবেন— এটা মোটেও কাজের কথা নয়।

•  আবার এমনটাও হতে পারে যে, নিয়ম ছাড়া খাবার খাওয়ার দিনে একটু বেশিই অনিয়ম করে ফেলেছেন। তা হলে পরের দিন শারীরচর্চার বরাদ্দ সময়টা বাড়ানোর দায়িত্বও আপনারই।

•  রাতে কোনও বিয়েবাড়িতে গিয়ে অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, সারা দিন হালকা সুপজাতীয় খাবার খেতে পারেন। যা-ই খান, সেটা আসলে ব্যালান্স করাটা ভীষণ জরুরি। তা সে যতই নিয়মভাঙার দিন হোক না কেন।

কথায় আছে, বজ্র আঁটুনি, ফস্কা গেরো। তাই খুব কঠিন যাপনের মধ্যে না থেকে, মাঝেমধ্যে সীমারেখা লঙ্ঘন করুন। জীবনের মানে তো আসলে নিয়ম ভাঙাতেই লুকিয়ে থাকে।

 

মডেল: মুনমুন; ছবি: অমিত দাস

পোশাক: লাইফস্টাইল, কোয়েস্ট মল

মেকআপ: অভিজিৎ পাল

লোকেশন: দ্য হলিডে ইন, এয়ারপোর্ট কলকাতা