সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সত্যের সন্ধানে তিনি ডাক দিয়েছিলেন ‘পাড়ি দেও, পাড়ি দেও’

নাট্যকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক শম্ভু মিত্রকে নিয়ে লিখেছেন সুদেষ্ণা বসু

Sombhu Mitra
শম্ভু মিত্র

তিনি চলে গিয়েছিলেন কাউকে কিছু না জানিয়ে। নিঃশব্দে, রাতের অন্ধকারে। তেমনই ইচ্ছে ছিল তাঁর। কন্যা শাঁওলীকে লিখেছিলেন তাঁর ‘ইচ্ছাপত্র’। এক বার নয়, বেশ কয়েক বার। ১৯৯৭ সালের ১৮ মে রাত দুটো বেজে ১৫ মিনিটে শম্ভু মিত্র শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার পর তাঁরই ইচ্ছে অনুযায়ী শাঁওলী গভীর রাতে সিরিটির শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে তাঁর নশ্বর দেহটি দাহ করে ফিরে এসে বাবার মৃত্যুসংবাদ জানিয়েছিলেন। শ্মশানের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারীটি মধ্যরাতের শ্মশানযাত্রীদের দেখে ও মৃত মানুষটির নাম জেনে প্রশ্ন করেছিলেন, “ইনি কি সেই শম্ভু মিত্র? যিনি নাটক করেন?” উত্তর পাননি। পাওয়ার কথা নয়। কারণ, তিনি ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন, “আমি সামান্য মানুষ, জীবনে অনেক জিনিষ এড়িয়ে চলেছি। তাই মরবার পরেও আমার দেহটা যেন তেমনি নীরবে, একটু ভদ্রতার সঙ্গে, সামান্য বেশে, বেশ একটু নির্লিপ্তির সঙ্গে পুড়ে যেতে পারে।”

 

স্বপ্ন তো দেখতেই হবে

তবু এই যাওয়ার ধরনটিকে মেনে নিতে কষ্ট হয়েছিল তাঁর অগণিত শুভানুধ্যায়ীর। শম্ভু মিত্র ছিলেন বাংলার নবনাট্যের জনক। প্রবাদপুরুষ। সেই মানুষটিই যখন জীবনের মঞ্চ থেকে নিজের অন্তিম প্রস্থানকে নিখুঁত ভাবে লিখে দিয়ে যান, তাকে অস্বীকার করার অধিকার কারও থাকে না। শুধু প্রশ্ন থেকে যায়, কেন?

শাঁওলী তাঁর পিতার জীবনী লিখতে গিয়ে জানিয়েছেন, “জীবনভর অনেক মন্দ কথা শুনেও, নাট্যমঞ্চ নির্মাণের ক্ষেত্রে বারংবার অসফল হয়ে এবং বারংবার বিশ্বাসঘাতকতার আঘাত সহ্য করেও, নিজের শিষ্যদের কাছে চরম অপমানিত হয়েও যিনি হতাশা বা নৈরাশ্যে ভোগেননি, জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও যিনি বলেছেন, ‘স্বপ্ন তো দেখতেই হবে। স্বপ্নগুলো সব কাচের মতো ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। আবার সেগুলো তো জড়ো করতে হবে’,’’ প্রশ্নটা থেকেই গিয়েছে...

 

মা আকাশ থেকে সব দেখছেন

শম্ভু মিত্রর জন্ম ১৯১৫ সালের ২২ অগস্ট কলকাতার ডোভার রোডে। বাবা শরৎকুমার, মা শতদলবাসিনী। শম্ভুরা তিন ভাই, পাঁচ বোন। বড় ভাই কাশীনাথ। পাঁচ বোনের মধ্যে একজন শৈশবেই মারা যান। বাকিরা হলেন বনলতা, তরুলতা, পুষ্পলতা ও মাধবীলতা। এদের জন্মের কয়েক বছরের ব্যবধানে মধ্যম পুত্র শম্ভু ও সব থেকে ছোট শঙ্করনাথের জন্ম হয়।

শরৎকুমারের পূর্বপুরুষ ছিলেন হুগলি জেলার কলাছড়া গ্রামের জমিদার। যদিও শরৎকুমার কোনও দিনই জমিদারি বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার গ্রন্থাগারে চাকরি করতেন। অবসর নেওয়ার পর সামান্য সঞ্চয় নিয়ে চলে গিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশে। সেখানেই জীবনের শেষ দিন অবধি কাটিয়েছেন। অন্য দিকে মা শতদলবাসিনী ছিলেন ভবানীপুরের স্বনামধন্য ডাক্তার আদ্যনাথ বসুর কন্যা। বিয়ের দিন তাঁর হবু স্বামীর অকালপ্রয়াণে বাবার অনুরোধে তিনি বিয়ে করেছিলেন শরৎকুমারকে। স্ত্রীর ভরণপোষণের ক্ষমতা শরৎকুমারের ছিল না। আদ্যনাথই সে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কলকাতার ডোভার রোডে একটি বাড়ি তিনি যৌতুক দিয়েছিলেন জামাইকে। শতদলবাসিনী খুব বেশি দিন বাঁচেননি। কিন্তু শম্ভুর জীবনে মায়ের প্রভাব এতটাই ছিল যে, খারাপ কাজ করার কথা ভাবতে পারেননি। তাঁর শুধু মনে হত, ‘মা আকাশ থেকে সব দেখছেন।’

‘রক্তকরবী’র দর্শক জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গাঁধী, প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশ

শম্ভু মিত্রর পড়াশোনার শুরু বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে। এখানে পড়ার সময় থেকেই অভিনয় ও আবৃত্তির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হতে শুরু করে। তাঁর সঙ্গে একই ক্লাসে পড়তেন তাঁর ভাগ্নে দুর্গা। এই দুর্গা এক বার ক্লাসের মধ্যে হঠাৎই আবৃত্তি করে উঠেছিলেন ‘রঘুবীর’ নাটক থেকে। শম্ভু বলেছিলেন, “ওই আবৃত্তির সামনে আমার নিজেকে কীরকম তুচ্ছ মনে হল।”

দুর্গার সঙ্গে ছাত্রজীবনে তিনি নাটক করেছেন কখনও স্কুলে, কখনও বকুলবাগানের ‘গোল মাঠে’। হয়তো এই ভাবেই নাট্যমঞ্চে তাঁর প্রথম পদার্পণ। অন্য যে আগ্রহটি ছেলেবেলায় ক্রমশ তাঁর মনের মধ্যে চেপে বসেছিল, তা আবৃত্তি। প্রতিবেশী প্রবোধ মিত্রকে শম্ভু ‘বড়দা’ বলে ডাকতেন। তিনিও অল্প বয়সে তাঁকে আবৃত্তিতে উৎসাহী করে তুলেছিলেন। শাঁওলী জানাচ্ছেন, মুখস্থ করে ফেলার অভ্যেস ছিল তাঁর বাবার। “মুখস্থ করার নেশা এবং ক্ষমতা এতটাই ছিল যে, ‘সঞ্চয়িতা’ কিংবা তারও পূর্বে প্রকাশিত ‘চয়নিকা’, গোটাটাই মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। কোন পৃষ্ঠায় কোন কবিতা আছে তা পর্যন্ত বলে দিতে অসুবিধা ছিল না। যেন এর চেয়ে সহজ কাজ আর নেই পৃথিবীতে।”

‘ডাকঘর’, শম্ভু মিত্র ও চৈতি ঘোষাল

নাটক ছাড়া গত্যন্তর নেই

১৯৩১ সালে শম্ভু প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন। সেই ফল প্রকাশের পর তাঁর বাবা এসেছিলেন ছেলের ঘরে। গলা খাঁকারি দিয়ে একটিই শব্দ মুখ থেকে বার করেছিলেন, “ইয়ে”। তার পর নিজের হাতে ধরা দুটো জিনিস ছেলেকে দিয়ে তিনি চলে গিয়েছিলেন। মোড়ক খুলে শম্ভু আবিষ্কার করেছিলেন বস্তু দুটোর একটি ফাউন্টেন পেন, অন্যটি কালির দোয়াত। ছেলের সাফল্যে শরৎকুমারের খুশি হওয়ার এইটুকুই ছিল বহিঃপ্রকাশ। আসলে এ রকমই এক আশ্চর্য মানুষ ছিলেন তিনি। বাড়িতে দুই ছেলের সঙ্গে প্রায় কথাই বলতেন না। বেশির ভাগ সময় তাঁকে দেখা যেত বইয়ে মুখ ডুবিয়ে আছেন। তিনি যে ঠিক কী পড়তেন তার খোঁজ পেয়েছিলেন শম্ভু বাবার মৃত্যুর পর। দুই ছেলের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ ছিল, “তোমরা পড়াশোনা করবে কী করবে না, কেমন করে বাঁচবে, সে তোমরা নিজেরা ঠিক কোরো।” এই মানুষটির নীরব উপস্থিতি শম্ভু ও শঙ্করের জীবনকে অদৃশ্য এক শাসনে বেঁধে রেখেছিল।

স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে শম্ভু মিত্র ভর্তি হয়েছিলেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি তিনি আগ্রহ হারান। কলেজ ছেড়ে দেন। ঠিক করেন নিজেই নিজেকে শিক্ষিত করে তুলবেন। এর পরই বাবার সঙ্গে দুই ভাই চলে যান উত্তরপ্রদেশ। তত দিনে শরৎকুমার অবসর নিয়েছেন। প্রথমে লখনউ, তার পর ইলাহাবাদ। ইলাহাবাদে থাকার সময় থেকেই শম্ভু মিত্র শরীর এবং স্বরের চর্চা সমান ভাবে চালাতে থাকেন। সেই সঙ্গে ছিল পাবলিক লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করে নিজেকে তৈরি করার আপ্রাণ চেষ্টা। নাটক, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব, মনস্তত্ত্ব প্রভৃতি নানা বিষয়ের বই তিনি পড়তে শুরু করেন। এক দিন লাইব্রেরি থেকে বাড়ি ফিরছেন সন্ধেবেলা। শুনলেন, পাশের বাড়িতে ‘আলমগীর’ নাটকের রেকর্ড বাজছে। “মনে হল যেন শ্যামের বাঁশি বাজল। নাটক ছাড়া আমার গত্যন্তর নেই।”

 

রঙমহল, মিনার্ভা, নাট্যনিকেতন...

১৯৩৬-৩৭ সালে শম্ভু মিত্র ফিরে এলেন কলকাতায়। প্রথম ঠিকানা, ছেলেবেলার বন্ধু বিশে বা বিশ্বনাথ মিত্রর বাড়ি। সেখান থেকে ল্যান্সডাউন রোডে জ্যোতিনাথ ঘোষের বাড়ি। যাঁকে তিনি ডাকতেন জ্যোতিনাথদা বলে। এইখানে শম্ভু থাকতেন গৃহকর্তার ভাইয়ের মতো। জ্যোতিনাথের ছেলেমেয়েদের পড়াতেন। এই বাড়িই তাঁকে ‘শম্ভু মিত্র’ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল। জ্যোতিনাথ তাঁকে থিয়েটার, সিনেমা দেখাতেন, বিদেশি বই জোগাড় করে দিতেন। শারীরচর্চা, স্বরচর্চা একই ভাবে চলত। তবে তখন থিয়েটারের প্রেমে মগ্ন হলেও কলকাতার থিয়েটার পাড়ায় যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছেই শম্ভু মিত্রর হয়নি। আকস্মিক ভাবে নিছক ‘চ্যালেঞ্জ’ জানিয়ে থিয়েটার পাড়ায় যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা? শম্ভু মিত্রর ভাষায়, “গিয়ে দেখি কোথায় সেই কল্পনার থিয়েটার! একটা পার্ট ধরিয়ে দিলে, এতটুকু একটা কাগজের মধ্যে খুদে খুদে অক্ষরে লেখা। বলল, কাল সন্ধেবেলায় এটা অভিনয় করবেন।” রিহার্সাল হল না, পুরো নাটক সম্পর্কে কিছুই তাঁকে বলা হয়নি। তবু অভিনয় করতে হয়েছিল। এই ভাবেই শম্ভু মিত্র যুক্ত হলেন ‘রঙমহল’ থিয়েটারে, সম্ভবত ১৯৩৯ সালে।

এই রঙমহল থিয়েটারেই তাঁর প্রথম দেখা হয়েছিল ‘গুরু’ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে। যাঁকে তিনি ডাকতেন ‘মহর্ষি’। মহর্ষির প্রজ্ঞা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যেন ওই নামকে সার্থক করেছিল। পরম স্নেহে ও ভালবাসায় তিনি কাছে টেনে নিয়েছিলেন শম্ভুকে। আমৃত্যু অটুট ছিল এই সম্পর্ক।

রঙমহলে কয়েকটি পুরনো নাটকে অভিনয় করার পর তিনটি নতুন নাটক ‘মালা রায়’ (বিধায়ক ভট্টাচার্য, নির্দেশনা নরেশ মিত্র), ‘রত্নদীপ’ (প্রভাত মুখোপাধ্যায়) ও ‘ঘূর্ণি’ (নির্দেশনা অহীন্দ্র চৌধুরী) অভিনয় করেন। তার পর বন্ধ হয়ে যায় রঙমহল। প্রখ্যাত অভিনেতা ভূমেন রায় এর পর তাঁকে নিয়ে যান ‘মিনার্ভা’ থিয়েটারে। সেখানে তখন ‘জয়ন্তী’ নাটকটি হচ্ছিল। এখানে তিনি ‘বড় অ্যাক্টর’ হিসেবে মান্য হতেন। কিন্তু এক দিন এখান থেকেও বেরিয়ে আসেন, কারণ মহর্ষিকে অপমানিত হতে দেখেছিলেন। এ বার ভূমেন রায় তাঁকে নিয়ে এলেন ‘নাট্যনিকেতন’-এ। তারাশঙ্করের ‘কালিন্দী’তে শম্ভু মিত্র পেলেন ‘মিস্টার মুখর্জি’র ভূমিকা। কিন্তু নাট্যনিকেতনও উঠে গেল এক দিন। সেই থিয়েটার চলে এল শিশির ভাদুড়ীর হাতে। ‘শ্রীরঙ্গম’ নাম নিয়ে নতুন করে শুরু হল তার যাত্রা। মহর্ষি নিয়ে এলেন শম্ভু মিত্রকে। শিশির ভাদুড়ীর নাটক আর
অভিনয় ধারার সঙ্গে পরিচয় ঘটল শম্ভুর। উইংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে শিশির ভাদুড়ীর অভিনয় দেখতেন আর ভাবতেন, “এতো প্রচণ্ড জীবনীশক্তি একটা মানুষের থাকে কি করে? তিনিই আমাদের প্রথম নির্দেশক। আমার অনুমান সমগ্র ভারতবর্ষের প্রথম নির্দেশক যিনি মঞ্চের ছবি কল্পনা করেছেন। যিনি আলো, দৃশ্যপট, অভিনয় দিয়ে থিয়েটরের একটা সামগ্রিক রূপ প্রথম এই দেশে এনেছিলেন।” যে দিন অভিনয় থাকত না, সে দিন বসত আড্ডা। শিশিরকুমার যদি শেক্সপিয়র থেকে কিছুটা আবৃত্তি করে শোনান, তো শম্ভু মিত্র শোনান টি এস এলিয়টের কবিতা। দুই দিকপালের মধ্যে কথোপকথন হত এই ভাবে, “শিশির, ‘কী হল?’ শম্ভু, ‘কেন? বেশ তো হল!”

কলকাতা প্রায় নাগরিকশূন্য

যত দিন যাচ্ছিল কলকাতার রঙ্গালয়ের পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। ১৯৪০-৪১ সালে শ্রীরঙ্গম ছেড়ে বেরিয়ে এলেন তিনি। এ বার যুক্ত হলেন কালীপ্রসাদ ঘোষ বি এস সি-র টুরিং কোম্পানিতে। কিন্তু এখানেও বেশি দিন থাকেননি। নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ তত দিনে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছেন। যুদ্ধ, ফ্যাসিবাদ, মন্বন্তর, দাঙ্গা চল্লিশের দশককে উত্তাল করে তুলেছিল। এর কিছু আগে তৈরি হয়েছিল ‘অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট রাইটার্স অ্যান্ড আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’। যার থেকে পরে ‘গণনাট্য সংঘ’র জন্ম। এই সংগঠনের ছাতার তলায় বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও সাহিত্যিকরা সমবেত হতেন। ও দিকে যুদ্ধের বোমা পড়ার ভয়ে শহর কলকাতা প্রায় নাগরিকশূন্য। শম্ভু মিত্র লিখছেন, “তখন ১৯৪১ সাল, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কাল। আমি শ্যামবাজারের থিয়েটার ছেড়ে দিয়েছি এবং ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের সঙ্গে পরিচিত হইনি। কিন্তু সাধারণ নাগরিক হিসেবে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে আমাদের নিঃসহায়তায় কষ্ট পেয়েছি।”

২৬ বছরের যুবক শম্ভু সেই একাকিত্বের মধ্যে বসেই লিখেছিলেন তাঁর প্রথম নাটক ‘উলুখাগড়া’, শ্রীসঞ্জীব নামে। গল্পও লিখতে শুরু করেছিলেন, নাম ‘সংক্রমণ’। তবে তাঁর সেই অসহায় অবস্থা কেটে গিয়েছিল ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘের ডাক পেয়ে। ৪৬ ধর্মতলা স্ট্রিটের বাড়িতে পা রেখে এমন সব মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন, যাঁরা জনতার ‘মুখরিত সখ্যে’ থাকতে চান। এমন ইচ্ছে তাঁরও মনে তখন দানা বাঁধছিল। আজীবন তিনি তাঁর নাটকের মধ্য দিয়ে সেই চেষ্টাই করে গিয়েছেন। ‘গণনাট্য সংঘ’ শম্ভু মিত্রকে প্রথম সেই পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিল।

(উপরে বাঁ দিক থেকে) শম্ভু মিত্র, মহম্মদ জ়াকারিয়া, অশোক মজুমদার, তৃপ্তি মিত্র এবং অমর গঙ্গোপাধ্যায়

‘আগুন’-এ পরিচয় তৃপ্তি-শম্ভুর

১৯৪২-৪৩ সালে বিনয় ঘোষের ‘ল্যাবরেটরি’ ও বিজন ভট্টাচার্যের ‘আগুন’ মঞ্চস্থ হল। তার পর হল ‘জবানবন্দী’ ও ‘নবান্ন’। ‘নবান্ন’র সাফল্য তো মিথে পরিণত হয়েছে। এর পরিচালক ছিলেন বিজন ভট্টাচার্য ও শম্ভু মিত্র। এই নাটকই বাংলা নাটকের ইতিহাসে নবনাট্য আন্দোলনের জন্ম দিয়েছিল। শম্ভুবাবু তাঁর নাট্যচিন্তার প্রথম সার্থক প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন এই ‘নবান্ন’ নাটকে। সেই সঙ্গে তাঁর কণ্ঠে জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রর ‘মধুবংশীর গলি’ গণনাট্য আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়ে উঠেছিল।

বিজন ভট্টাচার্যর সঙ্গে ‘আগুন’ করার সময়ে তৃপ্তি ভাদুড়ির সঙ্গে পরিচয় হয় শম্ভু মিত্রর। তৃপ্তির নিজের মেজমাসিমার ছেলে ‘গোষ্ঠদা’ই হলেন বিজনবাবু। প্রসঙ্গত দু’জনকেই বিজন ভট্টাচার্য নিয়ে এসেছিলেন গণনাট্য সংঘে। পরবর্তী কালে আইপিটিএ-র হয়ে খাজা আহমদ আব্বাস যখন ‘জবানবন্দী’ নাটকের হিন্দি অনুবাদ ‘শেষ অভিলাষা’ অবলম্বনে ‘ধরতী কে লাল’ ছবি পরিচালনায় হাত দিলেন, শম্ভুবাবুকেই ডেকে নিলেন ছবির অভিনেতা এবং সহপরিচালক হিসেবে। এই ছবিতে অভিনয় করতে শম্ভু-তৃপ্তি দু’জনেই মুম্বই যান। এবং এই শহরেই পরিণয় সূত্রে বাঁধা পড়েন। শাঁওলী মিত্রর বর্ণনায় পাই, “মা-বাবার বিয়ে হয়েছিল ১৯৪৫ সালের ১০ ডিসেম্বর মুম্বই শহরে। ওদের বিয়ে হয়েছিল খাজা আহমদ আব্বাসের বাড়িতে। সে বাড়ির নাম ছিল ‘সমুদ্র তরঙ্গ’। আব্বাস সাহেবের স্ত্রী মুঝঝি ও শ্যালিকা ছাদি বিয়ের বিরিয়ানি রান্না করেছিলেন। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন তখনকার কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। কন্যাকর্তা হন মামুজান, তিনি ছিলেন আব্বাসের শ্বশুর এবং মামাও বটে। দস্তুরখান বিছিয়ে ইসলামি কায়দায় বিরিয়ানি খাওয়া হয়েছিল।” ১৯৪৫ সালে যাঁর বিয়ে ছিল ‘গ্র্যান্ড আই পি টি এ ইভেন্ট’, মাত্র তিন বছর পরে ১৯৪৮ সালে সেই শম্ভু মিত্রই গণনাট্য ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। সে দীর্ঘ ইতিহাস অনেকেরই জানা।

 

নাসিরুদ্দিন রোডে বহুরূপীর বাস

১৯৪৮ সালে গণনাট্য থেকে কেবল যে শম্ভু মিত্র একা বেরিয়ে এসেছিলেন, এমন নয়। বিজন ভট্টাচার্য, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রর মতো আরও অনেক শিল্পীই চলে এসেছিলেন। এঁরা সকলেই ছিলেন বাম মনোভাবাপন্ন ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সে দিক থেকে দেখলে মনে হতেই পারে শম্ভুবাবুরা এই সংঘে যে কাজ করতে এসে বাধা পেয়েছিলেন, তারই সার্থক বিকল্প হিসেবে জন্ম হয়েছিল ‘বহুরূপী’র, ওই একই বছরে। যদিও ‘বহুরূপী’ নামকরণ হয় ১ মে ১৯৪৯ (মতান্তরে ১৯৫০) সালে মহর্ষির প্রস্তাব মেনে। প্রথম প্রযোজনা ছিল অবশ্যই ‘নবান্ন’। রঙমহলে তা মঞ্চস্থ হয়েছিল ‘অশোক মজুমদার ও সম্প্রদায়’ নামে। নাটকের প্রায় সকল অভিনেতাই ছিলেন ‘গণনাট্য’র প্রাক্তন সদস্য। প্রাতিষ্ঠানিক বামপন্থী রাজনীতির বাইরে এসেও তাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। শম্ভু মিত্র ছিলেন যাঁর পুরোধা। 

নবান্নর পর দীর্ঘ এক বছর সময় নিয়েছিলেন শম্ভু মিত্র নিজেকে ও দলের বাকিদের প্রস্তুত করতে। অপেশাদার একটি নাট্যদল কী ভাবে এগিয়ে যাবে তার পথনির্দেশ ছিল একান্তই জরুরি। ১১এ, নাসিরুদ্দিন রোডের ফ্ল্যাটে ছিল শম্ভু ও তৃপ্তির সংসার। ওই ফ্ল্যাটে সংসার পেতেছিল বহুরূপীও। এখানে বসেই মিত্র দম্পতি এক দিকে যেমন নিদারুণ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে নবনাট্যের ভিত তৈরি করছিলেন, তেমনই বহুরূপীর সদস্যরাও নিজেদের দলের উপযোগী করে তুলতে চেষ্টা করছিলেন। এই দলের সদস্য হওয়ার সঙ্গে একটি বিশেষ জীবনবোধ ও চর্চার যোগ ছিল। যার কেন্দ্র ছিল দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। আর লক্ষ্য, ‘ভালো নাটক, ভালো করে করে যাওয়া’।

এই ভাবনা থেকেই একে একে মঞ্চস্থ হতে লাগল ‘পথিক’ (১৯৪৯), ‘উলুখাগড়া’ (১৯৫০), ‘ছেঁড়া তার’ (১৯৫০), ‘বিভাব’ (১৯৫১)। বিষয়গত দিক থেকে গণনাট্যের ভাবনার অনুসারী হলেও আঙ্গিকগত দিক থেকে নিরীক্ষার ছাপ ছিল স্পষ্ট। উৎপল দত্ত বলেছেন, “গণনাট্য আন্দোলন থেকে এলেই যে হল না, নাট্য প্রযোজনা বা অভিনয়ের ক্ষেত্রে পেশাদারি সূক্ষ্মতারও বিরাট প্রয়োজন আছে, এই সত্যটি তিনি-ই সকলের চোখের সামনে তুলে ধরলেন।” আর বিভাস চক্রবর্তীর কথায়, “এইভাবেই নবনাট্য আন্দোলন শম্ভু মিত্র ও বহুরূপীর হাত ধরে এগিয়ে গিয়েছিল অনেকখানি। সেই আন্দোলনকেই আজ আমরা গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলন বলে জানি।”

‘চার অধ্যায়’ বহুরূপীর প্রথম রবীন্দ্রনাটক। খালেদ চৌধুরীর ধারণা, বিষয়ের তাগিদেই একটি উপন্যাসকে নাট্যরূপে উপস্থিত করতে চেয়েছিলেন শম্ভু মিত্র। যদিও সেই সময়ে নাটকটি বামপন্থী মহলে তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। দীর্ঘ তিরিশ বছর ধরে অভিনীত হয়েছিল নাটকটি। নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মধ্যেও এর প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তীব্র। শাঁওলী জানিয়েছেন, নকশালপন্থী নাট্যকার, অভিনেতা অমল রায় বলেছিলেন, “প্রত্যেকবার দেখার সময়ে আমি মনে তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষ নিয়ে হলে ঢুকতাম, কিন্তু বেরিয়ে আসতাম বুকের মধ্যে কাউকে না বলতে পারা এক আশ্চর্য যন্ত্রণা নিয়ে।”

অ্যাকাডেমি চত্বরে শম্ভু ও তৃপ্তি মিত্র

‘রক্তকরবী’তে বিশ্বভারতীর হস্তক্ষেপ

১৯৫২ সালে ইবসেনের ‘দশচক্র’র পর ‘রক্তকরবী’ প্রযোজনা হয়েছিল ১৯৫৪ সালে। এই নাটকেই শম্ভু মিত্র ও তাঁর বহুরূপী তাদের পূর্ণ প্রতাপ নিয়ে মঞ্চে আবির্ভূত হয়েছিল। ‘রক্তকরবী’ বাংলা তথা ভারতীয় নাটকে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। এ নাটক নিয়ে মুগ্ধতা আমাদের আজও শেষ হয়নি। তবে মনে রাখা দরকার, তৎকালীন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এই নাটকের প্রথম দু’টি অভিনয়ের পর তা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল।

এর পর ‘পুতুলখেলা’ (১৯৫৮), ‘মুক্তধারা’ (১৯৫৯), ‘কাঞ্চনরঙ্গ’ ও ‘বিসর্জন’ (১৯৬১), ‘রাজা অয়দিপাউস’ ও ‘রাজা’ (১৯৬৪), ‘বাকি ইতিহাস’ (১৯৬৭), ‘বর্বর বাঁশি’ (১৯৬৯), ‘পাগলা ঘোড়া’ ও ‘চোপ আদালত চলছে’ (১৯৭১) অবধি শম্ভু মিত্রর নেতৃত্বে বহুরূপী এগিয়ে ছিল উল্কার গতিতে। ‘রক্তকরবী’ ও ‘পুতুল খেলা’র সাফল্য ছাপ ফেলেছিল মিত্র দম্পতির সাংসারিক জীবনেও। নাটক দু’টির নিয়মিত অভিনয় হত নিউ এম্পায়ার হলে। ১৯৫৯ সালে তৃপ্তি মিত্র বিশ্বরূপায় ‘সেতু’ নাটকে যোগ দিয়েছিলেন। ওই বছরই শম্ভু মিত্র, অমিত মৈত্র ও চিত্রগ্রাহক দেওজীভাই পাদিহার তৈরি করেন একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা। নাম দেওয়া হয় ‘চলচ্চিত্র প্রয়াস সংস্থা’। এই সংস্থা ‘শুভ বিবাহ’, ‘মাণিক’, ‘কাঞ্চনরঙ্গ’, ‘পান্না’র মতো ছবি তৈরি করে। যদিও শম্ভু মিত্র তাঁর চলচ্চিত্র প্রয়াসকে ‘ক্ষুন্নিবৃত্তি’ বলে মনে করতেন। অথচ তাঁর পরিচালিত ‘ধরতী কে লাল’, ‘একদিন রাত্রে, ‘জাগতে রহো’র মতো ছবিকে অনায়াসেই অন্য ধারার ছবি হিসেবে গণ্য করা যায়। যা তৈরি হয়েছিল ‘পথের পাঁচালী’র আগেই। চিত্রপরিচালক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছিলেন। রাজ কপূর তাঁকে দিয়ে আরও ছবি করাতে চেয়েছিলেন।

‘রক্তকরবী’ ও ‘পুতুল খেলা’ নাটকের প্রদর্শন হয়েছে ভারতের বিভিন্ন শহর, এমনকী ঢাকাতেও। শম্ভুবাবু রাশিয়া-সহ পূর্ব ইউরাপের নানা দেশে বহু বার গিয়েছিলেন সাংস্কৃতিক আমন্ত্রণে, আন্তর্জাতিক নাট্যজগতের সঙ্গে পরিচিত হতে। এ দিকে ১৯৬৮ সালে শুরু হয়েছিল ‘জাতীয় নাট্যমঞ্চ’ গড়ার কর্মযজ্ঞ। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তিনি ‘মুদ্রারাক্ষস’ ও ‘তুঘলক’-এর মতো নাটকও করেছিলেন। যদিও সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল।

শম্ভু মিত্রর চলার পথ কখনওই মসৃণ ছিল না। বারে বারে দলেরই সদস্যদের বিশ্বাসঘাতকতা, অপমান, অসম্মান তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। তৃপ্তি মিত্রর সঙ্গে বিচ্ছেদ ও পুনর্মিলনের দিনগুলি তাঁকে যাপন করতে হয়েছে নীরবে। নিজের এই যাত্রাপথের কথা বলতে গিয়ে তিনি রসিকতা করে বলতেন, “একটা কেন্নো অন্ধের মতো কেবলই বাঁচবার চেষ্টা করছে, আর কেউ কাঠি দিয়ে তাকে নর্দমার মধ্যে ফেলে দিতে চাইছে। আবার সে শক্তি সংগ্রহ করে ওপরে উঠে আসছে। আবার কেউ তাকে ফেলে দিচ্ছে। এই রকম করেই তো বাঁচা।” এই রসিকতার মধ্যে কোথাও কি লুকিয়ে আছে অভিমানী, বেদনাতুর এক শিল্পী মন?

 

স্বপ্নের নৌকা বহুরূপীতে ভাঙন

তৃপ্তি মিত্রর পরিচালনায় ‘ডাকঘর’ (দ্বিতীয় বার) নাটকে অমলের ভূমিকায় অভিনয় করতে আসা চৈতি ঘোষাল নাটকের ‘ফকির’ রূপী শম্ভু মিত্রকে জেনেছিলেন শিশুমনের দৃষ্টি দিয়ে। “আমার মনে হত শম্ভু মিত্র ভীষণ অভিমানী, নরম মনের এক জন শিল্পী-মানুষ। প্রকৃত শিক্ষক। বিশ্বাস করতেন, ভাল কাজ করার জন্য আগে এক জন ভাল মানুষ হওয়া দরকার। এই শিক্ষাই আমি পেয়েছিলাম বহুরূপীতে এসে।”

বহুরূপী দলটি চিরকাল এক রকম থাকেনি। কালের নিয়মেই তার ভাঙন শুরু হয়েছিল। একে একে ‘মহর্ষি’, গঙ্গাপদ বসু প্রমুখ বহুরূপীর সদস্য ও স্বজনরা ইহলোক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অনেকে দল ছেড়েছিলেন। ১৯৭৮ সালের ১৬ জুন বহুরূপীর প্রযোজনায় ‘পুতুলখেলা’ নাটকে শম্ভু মিত্রকে শেষ বারের জন্য মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। এর পর বহুরূপীর দফতরে আর তাঁকে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন তাঁর জীবনপঞ্জি রচয়িতা প্রভাতকুমার দাস। যদিও তাঁকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছিল অনেক পরে। বহুরূপী ছেড়ে গেলেও শম্ভু মিত্র কিন্তু নাটক থেকে দূরে যাননি। অন্য নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনায় মঞ্চে এসেছেন কয়েক বার। ১৯৮০ সালের ১৮ নভেম্বর ‘গ্যালিলি গ্যালিলিও’ নাটকে নামভূমিকায় শেষ বারের মতো তিনি মঞ্চে এসেছিলেন।  

১৯৭৮ সালের ১৫ অগস্ট অ্যাকাডেমিতে শম্ভু মিত্র পাঠ করেন ‘চাঁদ বণিকের পালা’। নাটকটিকে অনেকেই তাঁর আত্মজীবনী বলে মনে করেন। এই নাটক পড়তে বসলে হয়তো তা সত্যি মনে হয়। শম্ভু মিত্রর মতো মহান এক শিল্পী তাঁর জীবনের ট্র্যাজেডিকে গেঁথে দেন মানুষের চিরন্তন সংগ্রাম ও এগিয়ে চলার ঐকান্তিকতার সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথের মতোই তিনি মানুষের উপর বিশ্বাস হারাননি কখনও। যদিও তাঁর “নোঙর তো কেটে দেছে শিব।” তবু তিনি ডাক দেন, “প্রস্তুত সবাই? হৈ-ঈ-ঈ-য়াঃ। কতো বাঁও জল দেখ। তল নাই? পাড়ি দেও, এ আন্ধারে চম্পক নগরী তবু পাড়ি দেয় শিবের সন্ধানে। পাড়ি দেও, পাড়ি দেও” সত্যের সন্ধানে শম্ভু মিত্র সারা জীবন পাড়ি দিয়েছিলেন, কারণ চাঁদের মতোই তাঁর চোখেও স্বপ্ন ছিল। আর নৌকার নাম ছিল ‘বহুরূপী’।

ঋণস্বীকার: আনন্দবাজার আর্কাইভ, প্রভাতকুমার দাস, শাঁওলী মিত্র

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন