চুলের হাজারো সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আমরা নানা রকম উপায় খুঁজি। শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, স্পা ছাড়াও আছে হেয়ার ট্রিটমেন্টের নানা উপায়। কিন্তু ঘরোয়া উপাদান দিয়ে তৈরি নানা মিশ্রণ বা হেয়ার মাস্কের জুড়ি মেলা ভার। তাই সপ্তাহে এক দিনও যদি বাড়িতে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন, তা হলে চুলের স্বাস্থ্যরক্ষা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। চুল পড়া, অতিরিক্ত খুশকি, রুক্ষ হয়ে যাওয়া... এই জাতীয় সমস্যার সমাধানও মিলতে পারে মাস্কের মাধ্যমেই।

 

রুক্ষ চুলের জন্য: রুক্ষ চুলের সমস্যা অনেক। যেমনই স্টাইলিং করুন, চুলের রুক্ষতা ধরা পড়বেই। ঘরোয়া উপাদানেই হোক সমাধান। 

হট অয়েল: দু’টেবিল চামচ করে আমন্ড অয়েল, অলিভ অয়েল, হোহোবা অয়েল, কোকোনাট অয়েল মিশিয়ে অল্প গরম করে নিন। স্কাল্পে ও চুলে ভাল করে হট অয়েল মাসাজ করে তোয়ালে মুড়ে রাখুন। আধ ঘণ্টা পরে চুল ধুয়ে ফেললে রুক্ষতা তো দূর হবেই, একই সঙ্গে হবে নরম ও জেল্লাদার।

ডিমের কুসুম-জল: দুটো ডিমের কুসুম ও তিন টেবিল চামচ জল ভাল করে ফেটিয়ে চুলে মাখিয়ে আধ ঘণ্টা রাখুন। ঠান্ডা জলে চুল ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিলে চুলের হারিয়ে যাওয়া জেল্লা ফিরে আসবে।

ডিম-মধু-দই: দুটো গোটা ডিম, এক টেবিল চামচ মধু আর দু’টেবিল চামচ দই একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে ও স্ক্যাল্পে মাখিয়ে রাখুন। কুড়ি মিনিট পরে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। কম্বিনেশন হেয়ারেও (যাঁদের চুলের গোড়া তৈলাক্ত, অথচ ডগা রুক্ষ) এই মাস্ক দারুণ কাজ করে।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার: এ ক্ষেত্রে আবার চুল আগে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তার পরে দু’কাপ জলে দু’টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে হালকা করে ধুয়ে নিন। চুল হাওয়ায় শুকিয়ে নিলেই দেখবেন, রুক্ষতা উধাও। চুল হয়েছে অনেক নরম, মসৃণ এবং রেশমি। দু’ সপ্তাহে এক বারই এই অ্যাপল সাইডার ভিনিগার ওয়াশ যথেষ্ট।

তৈলাক্ত চুলের জন্য: তেলতেলে ভাবও চুলের বড় সমস্যা। কন্ডিশনিং বা স্পা করলেও তৈলাক্ত ভাব দূর করা সহজ নয়। তাই এ বার ঘরোয়া উপাদানেরই সাহায্য নিয়ে দেখুন।

অ্যালো ভেরা মাস্ক: একটি ডিমের কুসুমের সঙ্গে এক টেবিল চামচ করে পাতিলেবুর রস, মধু এবং অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। স্ক্যাল্প ও চুলে লাগিয়ে কুড়ি মিনিট পরে ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেললেই হল।

বেকিং সোডা মাস্ক: দু’ টেবিল চামচ বেকিং সোডা, চার-পাঁচ টেবিল চামচ জল, পাঁচ-সাত ফোঁটা টি ট্রি অয়েল এবং এক টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। স্ক্যাল্প ও চুলে সেই প্যাক লাগিয়ে কুড়ি মিনিট পরে হার্বাল বা অর্গ্যানিক শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

দই-ভিনিগার-মধু: এক কাপ দইয়ের সঙ্গে দু’-তিন টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার এবং এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। চুলের গো়ড়া থেকে আগায় এই মাস্ক লাগিয়ে অন্তত ৩০-৪০ মিনিট রাখুন। অর্গ্যানিক শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। ভাল ফল পেতে এই মাস্ক সপ্তাহে তিন বারও ব্যবহার করতে পারেন। 

খুশকির সমস্যায়: চুল ঘন হোক বা পাতলা... খুশকির মতো শত্রু বোধহয় আর নেই। যেমন পোশাকই পরুন, খুশকি সগর্ব জানান দেয় নিজের উপস্থিতি। আর খুশকির মোকাবিলাও করা যায় ঘরোয়া হেয়ার মাস্কের মাধ্যমেই।

দই-লেবু-মধু: আধ কাপ দইয়ের সঙ্গে এক টেবিল চামচ করে পাতিলেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে ভাল করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন। আধ ঘণ্টা পরে চুল ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার করে এই হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে ফল পাবেন হাতেনাতে। লেবুর রসে থাকা অ্যাসিড স্ক্যাল্পের পিএইচ ব্যালান্স রক্ষা করে। অন্য দিকে মধু ও দই ময়শ্চারাইজ় করতে সাহায্য করে।

জবাপাতা-মেথি-দই: ১০-১২টি জবাপাতা, এক টেবিল চামচ মধু আর আধ কাপ দই লাগে এ ক্ষেত্রে। এক কাপ জলে মেথি ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত। পরদিন ভেজানো মেথি এবং জবাপাতা একসঙ্গে বেটে নিন। তার মধ্যে দই দিয়ে ফেটিয়ে নিলেই তৈরি মাস্ক। এই মাস্ক লাগিয়ে রেখে, আধ ঘণ্টা পরে সালফেট-ফ্রি শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন সপ্তাহে দু’-তিন বার।

চুল বা ত্বকের সমস্যায় কেনা জিনিসের চেয়ে ঘরোয়া উপকরণ বেশি উপকারী। দরকার শুধু সময়ের। তা হলে ঘরেই করতে পারবেন নানা সমস্যার সমাধান।