রোজকার জীবনে টোট ব্যাগ ভীষণ কাজে লাগে। ছোট, মাঝারি বা বড় মাপের টোট ব্যাগ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাড়িতে সেই টোট কী করে বানাবেন, সেটা এ বার জেনে নিন। 

• প্রথমেই টোটের ফ্যাব্রিক বাছতে হবে। খুব ভারী জিনিস ক্যারি করতে চাইলে মোটা কাপড়, ডেনিমের ফ্যাব্রিক ব্যবহার করতে পারেন। বাড়িতে পুরনো জিন্‌সের প্যান্টস বা স্কার্ট থাকলে, তা দিয়েও বানিয়ে ফেলতে পারেন টোট। তার জন্য বেশি পরিশ্রমেরও দরকার নেই। কোমর থেকে ডিভাইডারের আগের অংশ পর্যন্ত কেটে সেলাই করে নিন। ব্যাগের হ্যান্ডেলের জন্য বাকি অংশের জিন্‌স কেটে নিতে পারেন।

• রোজকার হালকা জিনিস নেওয়ার জন্য যে কোনও ধরনের ফ্যাব্রিক বাছতে পারেন। ফ্যাব্রিক বাছার সময়ে ভাল প্রিন্ট দেখে বেছে নিন। তা হলে টোট বানানোর পরে আলাদা করে ডেকরেট করতে হবে না। যেমন ধরুন, আজরাখ, ইক্কত, প্রিন্টেড সিল্ক, বাগরু প্রিন্টের কাপড় নিলে তা এমনিতেই সুন্দর দেখাবে। ডাব্‌ল লেয়ারের টোট বানাতে চাইলে ভিতরের জন্য আদ্দির মতো হালকা ফ্যাব্রিক বেছে নিন। 

• ছোট, মাঝারি, বড়... সাধারণত তিনটি আকারের টোট ব্যাগ হয়। তার আকার যথাক্রমে ১২ বাই ১৪ ইঞ্চি, ১৪ বাই ১৬ ইঞ্চি ও ২৪ বাই ২০ ইঞ্চি। যে আকারের ব্যাগ বানাবেন সেই আকারে কাপড় কেটে নিন। অর্থাৎ সবচেয়ে ছোট ব্যাগের জন্য ১২ বাই ১৪ ইঞ্চি আকারে দুটো কাপড় কেটে নিন।

• সবচেয়ে আগে ব্যাগের নীচের অংশ মুড়ে সেলাই করে নিন। ব্যাগ  ফ্ল্যাট বেস করতে চাইলে ব্যাগের নীচে স্টেবিলাইজ়ার দিয়ে নিতে পারেন। তার জন্য ব্যাগের নীচের অংশ মুড়ে তার উপরে স্টেবিলাইজ়ার বসিয়ে ইস্ত্রি করে নিতে হবে। তার পরে স্টেবিলাইজ়ারের দু’ধার ধরে কাপড়ের সঙ্গে সেলাই করে নিন। নীচের অংশের দু’পাশের কোণ ধরে আড়াআড়ি সেলাই করে তার পরে নীচের দুটো কাপড়ও সেলাই করে ফেলুন। 

• এ বার পাশ সেলাই করতে হবে। দুটো কাপড়ের দু’ধার বরাবর সেলাই করে নিন। ডাব্‌ল লেয়ার টোট বানাতে চাইলে লাইনিংয়ের কাপড়ের আর একটা ছোট টোট বানিয়ে ফেলুন। তার পরে এই ছোট টোট আসল টোটের ভিতরে বসিয়ে ব্যগের খোলা মুখের ধার বরাবর সেলাই করে জুড়ে নিতে হবে।

• ব্যাগের উপরের দিকে হ্যান্ডেল লাগানোর জন্য দু’পাশে মার্কার দিয়ে দাগ দিয়ে নিন। এ বার হ্যান্ডেলের জন্য টোট ব্যাগের কাপড়ের একই ফ্যাব্রিক বা সামঞ্জস্যপূর্ণ কাপড় কেটে নিন। এ বার সেই কাপড় মুড়তে হবে। লম্বায় সমান ভাঁজ করে নিন। ভাঁজ খুলে দু’পাশের কাপড় অর্ধেক ভাঁজ করে মাঝের দাগ বরাবর নিয়ে আসতে হবে। ভাল করে ইস্ত্রি করে সেই ভাঁজ বসিয়ে নিন। তার পরে সেলাই করে নিন, যাতে ভাঁজ খুলে না যায়।

• ব্যাগের এক এক পাশে সম দূরত্বে হ্যান্ডেল লাগানোর দুটো জায়গা দাগ দিয়ে নিন। হ্যান্ডেল বসিয়ে বক্স প্যাটার্নে সেলাই করে নিন। তা হলে হ্যান্ডেল মজবুত হবে। ভারী জিনিস নিলেও ছিঁড়ে যাবে না।

এ বার ব্যাগের ডেকরেশনের পালা। ব্যাগ যদি এক রঙের কাপড়ের হয়, তা হলে তার উপরে হরেক রঙের বোতাম দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। স্প্রে পেন্ট করে নিতে পারেন। বা অন্য রঙের কাপড়ের প্যাচওয়র্কও করে নেওয়া যায়। নিজস্ব ছোঁয়া রাখতে ব্যাগের উপরে পছন্দসই গান বা কবিতার লাইন কিংবা কোটও লিখে ফেলতে পারেন ফ্যাব্রিক কালারে।

এ তো গেল সাধারণ নিয়মাবলি। নিজের ইচ্ছে মতো ব্যাগের কাপড় কাটার সময়ে ও ধার মোড়ার সময়ে গোল, চৌকো, আয়তাকার ইত্যাদি বিভিন্ন আকার দিয়ে দিতে পারেন। হাতে বানানো টোট ব্যাগ কিন্তু প্রিয়জনকে উপহার হিসেবেও দিতে পারেন।