স্নাতক স্তরে ইতিহাস নিয়ে পড়তে ইচ্ছুক। রাজ্য তথা রাজ্যের বাইরে কোথায় পড়া যায়? দেশে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ কেমন? ইতিহাস পড়ে পরে অন্য বিষয় নিয়ে কেরিয়ার গড়া যায় কি?

ঈপ্সিতা রায়, হরিদেবপুর

 

• রাজ্যে

কলকাতা, বর্ধমান, কল্যাণী, উত্তরবঙ্গ, ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি-র মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্তর্গত বহু কলেজেই ইতিহাস পড়ানো হয়। যেমন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইতিহাস বিভাগ রয়েছে লোরেটো, লেডি ব্রেবোর্ন, বেথুন, সেন্ট জেভিয়ার্স (স্বশাসিত), রামকৃষ্ণ মিশন রেসিডেনশিয়াল কলেজ নরেন্দ্রপুর অটোনমাস (স্বশাসিত), স্কটিশ চার্চ, শ্রীরামপুরের মতো বহু কলেজে। এ ছাড়া প্রেসিডেন্সি, যাদবপুর, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও স্নাতক স্তরে বিষয়টি নিয়ে পড়া যায়।

 

• রাজ্যের বাইরে

বহু প্রতিষ্ঠানেই স্নাতক স্তরে ইতিহাস পড়ানো হয়। এদের মধ্যে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (www.jnu.ac.in), হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় (www.uohyd.ac.in), মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় (www.mu.ac.in), মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় (www.unom.ac.in), গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় (www.gauhati.ac.in), সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ (www.ststephens.edu), লেডি শ্রীরাম কলেজ (www.lsr.edu.in), মিরান্ডা হাউস কলেজ (www.mirandahouse.ac.in/MirandaHouse/), লেডি আরউইন কলেজ (www.ladyirwin.edu.in) ইত্যাদি  উল্লেখযোগ্য।

 

• উচ্চশিক্ষা

পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়েই উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। যাদবপুর, কলকাতা, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দিল্লি  (www.du.ac.in/du), জওহরলাল নেহরু (www.jnu.ac.in), হায়দরাবাদ (www.uohyd.ac.in), আলিগড় মুসলিম (www.amu.ac.in), জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া-র (jmi.ac.in) মতো প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এম এ, এম ফিল, পিএইচ ডি করতে পারে ছেলেমেয়েরা। নামকরা কিছু সোশাল সায়েন্স ইনস্টিটিউটেও হায়ার স্টাডিজ করা যায়। যেমন, কলকাতাতেই রয়েছে সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশাল সায়েন্সেস (www.cssscal.org)। এখানে এম ফিল ও পিএইচ ডি করা যাবে ইতিহাস নিয়ে। টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশাল সায়েন্সেস-এ (www.tiss.edu) উইমেন্স স্টাডিজ, এডুকেশন, সোশাল ওয়ার্ক, লেবার স্টাডিজ অ্যান্ড সোশাল সিকিয়োরিটি-র মতো আরও অনেক বিষয়ে এম এ, ইন্টিগ্রেটেড এম ফিল-পিএইচ ডি বা পিএইচ ডি করা যায়।

পাস কম্বিনেশনে সোশিয়োলজি, সাইকোলজি, পলিটিকাল সায়েন্স, ইকনমিক্স বা ফিলোসফি নেওয়া উচিত। ভাল হয় স্নাতক স্তরে ইতিহাস নিলে সঙ্গে পলিটিকাল সায়েন্স ও ইকনমিক্স পাস নেওয়া। কারণ রাজনীতি ও অর্থনীতি ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে। তবে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এখন ইতিহাসও এমন ইন্টারডিসিপ্লিনারি হয়ে উঠছে যে পাস-এ সোশিয়োলজি, সাইকোলজি, ফিলোসফি বা জিয়োগ্রাফির মতো বিষয় নিলেও অনেক কাজে আসবে।

স্পেশালাইজেশনের ক্ষেত্রেও পরিধিটা এখন অনেক বিস্তৃত। ‘এনভায়রনমেন্টাল হিস্ট্রি’, ‘উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার হিস্ট্রি’, ‘হিস্ট্রি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’, ‘হিস্ট্রি অব মেডিসিন’, ‘কাস্ট অ্যান্ড ট্রাইবাল হিস্ট্রি’, ‘আর্বানাইজেশন’, ‘ইন্ডিয়ান ফরেন পলিসি’, ‘হিস্ট্রি অব আইডিয়া’, ‘মিলিটারি হিস্ট্রি’, ‘বায়োগ্রাফি’-র মতো অনেক কিছুই এখন স্পেশালাইজেশনের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। পড়া যাবে এগুলি নিয়েও।

 

• বিদেশ

শিকাগো, হার্ভার্ড, পেনসিলভেনিয়া, কলাম্বিয়া, বার্কলে, প্রিন্সটন-এর মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হরেক ইউনিভার্সিটিতেও উচ্চশিক্ষা করা যায় ইতিহাস নিয়ে। আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা করতে যেতে জিআরই, টোয়েফ্‌ল পরীক্ষা দিতে হয়। ইংল্যান্ডে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, সোয়াস (স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ‌্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ), সাসেক্স, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটিতে ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়। অনেকে আবার অস্ট্রেলিয়া-র মেলবোর্ন, পার্থ এবং মনাশ, নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলিংটন বা কানাডার ইয়র্ক এবং ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়েও যায় উচ্চশিক্ষার জন্য। ভারতীয় ইতিহাস চর্চা করতে চাইলে মূলত ইংল্যান্ড এবং আমেরিকারও কিছু প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাওয়া যায়। নিউজিল্যান্ডে বা কানাডাতেও ভারতীয় ইতিহাস নিয়ে পড়ার সুযোগ আছে। জার্মানিতে ইন্ডোলজিকাল স্টাডিজ-এর একটা বড় ঐতিহ্য রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব হেইডেলবার্গ আর গটিনগেন এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

ইংল্যান্ডে যাওয়ার জন্য রাধাকৃষ্ণণ, ক্ল্যারেনডন, রোড্‌স, ইনল্যাক্স, নেহরু কেমব্রিজ এবং মনমোহন সিংহ স্কলারশিপ-এর মতো অনেক স্কলারশিপ পাওয়া যায়। যেমন, প্রথম তিনটে স্কলারশিপ বিশেষ ভাবে পাওয়া যাবে অক্সফোর্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রে। ইনল্যাক্স দেওয়া হয় অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ, দুটোর জন্যেই। কেমব্রিজে পড়ার জন্য পাওয়া যায় নেহরু কেমব্রিজ এবং মনমোহন সিংহ স্কলারশিপ। আবার, ইংল্যান্ডের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যেতে মিলবে ফেলিক্স স্কলারশিপ। এ ছাড়াও রয়েছে কমনওয়েল্‌থ স্কলারশিপ। আমেরিকাতে বৃত্তির ক্ষেত্রে মূলত বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তা দেওয়া হয়। আর অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি বা নিউ়জিল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রোপোজাল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ফান্ডিং-এর মধ্যে যদি ছাত্রটির গবেষণাপত্রটা মেলে, তা হলে ছাত্রটি অবশ্যই বৃত্তি পাবে।

 

• অন্য কেরিয়ার

ইতিহাস পড়ে পরে অন্য বিষয় নিয়ে পড়তে চাইলে আর্কিয়োলজি, মিউজিয়োলজি, আর্কাইভাল সায়েন্স, লাইব্রেরি সায়েন্স, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া (মূলত ঐতিহাসিক তথ্যচিত্র বানানো), হিস্টোরিকাল ফোটোগ্রাফি, মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পড়া যেতে পারে। যদি কেউ ইতিহাসের সঙ্গে কম্বিনেশন হিসেবে পলিটিকাল সায়েন্স, ইকনমিক্স এবং কম্পিউটার সায়েন্স নেয়, তা হলে পরে সফ্‌টওয়্যার ডিজাইনিং-এ কেরিয়ার করতে পারে পরে। অনেকে আবার ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম নিয়ে পড়ে। জার্নালিজম বা পাবলিশিং নিয়েও পড়া যায়। এগুলোতেই পরে কেরিয়ার গড়তে পারে তারা। আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস-এর মতো পরীক্ষায় অপশনাল পেপার হিসেবে অনেকে ইতিহাস নেয়। তাতেও অনেক সুবিধে হয়।

 

দেশে-বিদেশে কোথায় কোন বিষয় পড়ানো হচ্ছে, যে বিষয় নিয়ে পড়তে চাইছ, তাতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং চাকরির সুযোগ কতটা, বিভিন্ন কোর্স এবং ট্রেনিংয়ের খোঁজখবর জানতে চাইলে প্রশ্ন পাঠাও আমাদের কাছে। ইমেল: prastuti@abp.in। বিষয়: road map. অথবা, চিঠি পাঠাও এই ঠিকানায়:
রোড ম্যাপ, প্রস্তুতি, আনন্দবাজার পত্রিকা, এ বি পি প্রাঃ লিঃ, ৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০০১