সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অযথা উৎকণ্ঠায় ভুগো না

Anxiety

প্রশ্ন: কলেজে পড়ি। আমার একটা বড় সমস্যা হল, আমি কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে করতে হঠাৎ খুব উত্তেজিত হয়ে পড়ি। আর তখনই মুখ থেকে থুথু বেরিয়ে আসে। ফলে লোকজন আমার সঙ্গে বেশি কথা বলতে চায় না। আমি নিজেকে অনেক সংযত করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারিনি। অদ্ভুত ভাবে বাড়িতে কিন্তু আমার এই সমস্যা প্রায় হয়-ই না। কিন্তু কলেজে একদম একা হয়ে পড়েছি। কী করি?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

উত্তর দিচ্ছেন আবীর মুখোপাধ্যায় 
মন চিকিৎসক

 

তোমার বয়সটা জানতে পারলে ভাল হত। তবে যেহেতু কলেজে পড়ো, সে ক্ষেত্রে ধরে নিচ্ছি তোমার বয়স ১৮ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। তুমি লিখেছ যে কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে করতে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে পড়ো। সেটা কেন? তুমি এ-ও লিখেছ যে বাড়িতে এই সমস্যা হয় না। অর্থাৎ, এটা হতে পারে যে বাড়িতে তুমি কোনও বিষয়ে আলোচনা করলে উত্তেজিত হও না অথবা নিজেকে সংযত করতে পারো। কেউ কেউ থাকে, যারা কোনও আলোচনা করতে গিয়ে এতটাই বিষয়টার ভিতর ঢুকে যায় যে তার উত্তেজনাটা সকলের চোখে পড়ে বা সে নিজেও তা অনুভব করে। কিন্তু সে রকম হলে সেটা ক্ষেত্রবিশেষে হবে আবার ক্ষেত্রবিশেষে হবে না, তা তো সম্ভব নয়।

তাই আমার ধারণা, যখন তুমি বাইরের জগতে বন্ধুবান্ধব বা কোনও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথোপকথন করতে যাও, তখন তুমি খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ো। এটা ‘অ্যাংজ়াইটি’, অর্থাৎ অকারণ ভয় অথবা অহেতুক চিন্তা। কোনও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অর্থাৎ কারও সঙ্গে আলোচনা, অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, লোকজনের সামনে অভিনয় বা বক্তৃতা, রেস্তরাঁ বা বিয়েবাড়িতে খাওয়াদাওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে যদি কারও মনে ভয় বা অস্বস্তি সৃষ্টি হয়, তাকে আমরা ডাক্তারি পরিভাষায় ‘সোশ্যাল অ্যাংজ়াইটি’ বলি। সাধারণত এই সমস্যায় যারা ভোগে, তারা মনে করে লোকজন তাদের কোনও দুর্বলতার জন্য তাদের হেয় করছে। কেউ উৎকণ্ঠায় ভুগলে অতিরিক্ত সজাগ হয়ে যায় এবং তার বহিঃপ্রকাশ হয় উত্তেজনার মাধ্যমে। হয়তো সেই প্রেক্ষিতেই এই সব পরিস্থিতিতে তোমার মুখ থেকে থুথু বেরিয়ে আসে। এটা হয়তো সত্যি, কিন্তু ব্যাপারটাকে তুমি যতটা গুরুত্ব দিচ্ছ, অতটা হয়তো দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তোমার মনে হচ্ছে এই কারণেই লোকজন তোমার সঙ্গে কথা বলছে না। তার জন্যেই তুমি নিজেকে দিন দিন গুটিয়ে নিচ্ছ। যারা স্যোশ্যাল অ্যাংজ়াইটি-তে ভোগে তারা এই ফাঁদের মধ্যে পড়ে যায়। যেহেতু চরিত্রগত দিক থেকে তারা অসামাজিক নয়, তাই এই গুটিয়ে যাওয়াটা তারা মেনে নিতে পারে না। এবং একাকিত্বের শিকার হয়ে পড়ে। তোমার ক্ষেত্রেও এটাই হচ্ছে। 

এই পরিস্থিতি থেকে বেরনোর উপায় কী? কথোপকথনের সময় তোমার উত্তেজিত হয়ে পড়ার কারণ সম্ভবত তোমার হীনম্মন্যতা এবং এই ধারণা যে সবাই তোমাকে সমালোচনা করতে তৈরি। সে জন্যেই তুমি এই সব পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে পারো না। প্রথম ধাপে উত্তেজনা কাটিয়ে শান্ত হতে হবে। সেটা করতে গেলে তোমার মনের নেতিবাচক চিন্তা এবং ভ্রান্ত ধারণাগুলো সরাতে হবে। এটা করার জন্য গঠনমূলক একটা পদ্ধতি আছে, যাকে আমরা CBT অর্থাৎ ‘Cognitive Behavior Therapy’ বলি। এই থেরাপির মাধ্যমে তুমি বুঝতে শিখবে, সত্যিই লোকজন তোমায় হেয় করছে না। যে মুহূর্তে তুমি বুঝবে, সেই মুহূর্তে তোমার লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা বাড়বে। আর তুমি নিজেকে আরও আত্মবিশ্বাসী অনুভব করবে। তুমি আবার স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে শুরু করবে এবং থুথু-র সমস্যা কমে যাবে। 

অনেক সময় উৎকণ্ঠা এতই বেশি থাকে যে কোনও রকম থেরাপিতে যুক্ত হওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হয় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে। কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের সোশ্যাল অ্যাংজ়াইটি অন্য বড় ধরনের মনোরোগের সঙ্গে সহাবস্থানও করতে পারে। সেই ক্ষেত্রেও পরামর্শ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়ে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন