প্রশ্ন: ফিজিয়োলজি নিয়ে উচ্চশিক্ষা করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ছাড়া কোনও কলেজেও কি স্নাতকোত্তর পড়া যায়? এ ছাড়া রাজ্যের বাইরে কোথায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে? স্নাতকোত্তরের সময় কি কোনও পরীক্ষা দিতে হয়? গবেষণা কোথায় করতে পারি? বিদেশে কী ধরনের উচ্চশিক্ষার সুযোগ মেলে? স্নাতকোত্তর না করে যদি অন্য কোনও বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়তে চাই, তার সুযোগ কি আছে? 
অরূপ দত্ত, কলকাতা

 

উচ্চশিক্ষা 

রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া কিছু কলেজেও ফিজিয়োলজিতে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়। যেমন— 

• হুগলি মহসিন কলেজ

www.hooghlymohsincollege.org

• রামমোহন কলেজ

www.rammohancollege.ac.in 

• কে এন কলেজ, বহরমপুর

www.krishnathcollege.com

• শ্রীরামপুর কলেজ

www.seramporecollege.org

• মেদিনীপুর কলেজ

www.midnaporecollege.ac.in

• রাজা নরেন্দ্রলাল খান উইমেন’স কলেজ

www.rnlkwc.ac.in ইত্যাদি।  

রাজ্যে এম এসসি কোর্স দু’বছরের। রাজ্যের বাইরে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিউম্যান ফিজিয়োলজি-তে দু’বছরের এম এসসি পড়ানো হয়। আবার অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানে স্নাতকোত্তর তিন বছরের। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন কলেজে এই কোর্স রয়েছে। এই সব জায়গায় মূলত মেডিকাল ফ্যাকাল্টির অন্তর্গত ফিজিয়োলজি পড়ানো হয়। এদের মধ্যে মণিপালের কস্তুরবা মেডিক্যাল কলেজ, সিকিম মণিপাল বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাড্রাস ইউনিভার্সিটি, এনআরআই মেডিক্যাল কলেজ, পুদুচ্চেরি-র বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ উল্লেখযোগ্য। যারা এখান থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করে, তারা পরে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে ফ্যাকাল্টি হিসেবে যোগ দিতে পারে। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এ একটা 

এম এসসি কোর্স রয়েছে। 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিয়োলজি বিভাগের প্রধান সোমনাথ গঙ্গোপাধ্যায় জানালেন, আমাদের রাজ্যে স্নাতকোত্তরে দু’ভাবে ভর্তি হওয়া যায়। ৬০ শতাংশ ভর্তি হয় সরাসরি। এরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। প্রতিষ্ঠান-নির্ধারিত 

কাট-অফ-এর উপরে নম্বর থাকলে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যায়। আর বাকি চল্লিশ শতাংশ ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয় পরীক্ষা দিয়ে। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরাও এই পরীক্ষা দিতে পারে। পরীক্ষাটা হয় সাধারণত এমসিকিউ ধরনের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর অনলাইন পরীক্ষা নিয়েছে। 

 

স্পেশালাইজেশন

নিউরোফিজিয়োলজি, এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ ফিজিয়োলজি, স্পোর্টস ফিজিয়োলজি, আর্গোনমিক্স অ্যান্ড ওয়ার্ক ফিজিয়োলজি, এনভায়রনমেন্টাল ফিজিয়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োফিজিক্স, মাইক্রোবায়োলজি-ইমিউনোলজি, নিউট্রিশন-এর মতো নানান ক্ষেত্রে মাস্টার্স স্তরে স্পেশালাইজেশনের সুযোগ মেলে।

গবেষণা

অধ্যাপক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, পিএইচ ডি করতে হলে ‘নেট’ বা ‘রেট’ পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। নেট হল ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট আর রেট, রিসার্চ এলিজিবিলিটি টেস্ট। নেট-এ ফিজিয়োলজি বলে আলাদা কোনও বিষয় নেই। আছে লাইফ সায়েন্স। পাশ করলে বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণা করা যায় অনেক প্রথম সারির গবেষণাগার বা তার অন্তর্গত প্রতিষ্ঠানে। যেমন, 

কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইনডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ-এর অন্তর্গত 

• সেন্ট্রাল ড্রাগ রিসার্চ ইনস্টিটিউট 

www.cdri.res.in, 

• ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল বায়োলজি

http://iicb.res.in

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-এর অন্তর্গত 

• ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কলেরা অ্যান্ড এন্টেরিক ডিজিজেস 

www.niced.org.in

ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি-র অন্তর্গত 

• ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেল সায়েন্স 

www.nccs.res.in 

ডিপার্টমেন্ট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-র অন্তর্গত 

• বোস ইনস্টিটিউট 

www.jcbose.ac.in 

ডিপার্টমেন্ট অব অ্যাটমিক এনার্জি-র অন্তর্গত 

• ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ভুবনেশ্বর 

www.niser.ac.in 

• টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ 

www.tifr.res.in ইত্যাদি। 

এ ছাড়া আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে  ফিজিয়োলজি এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা বা গবেষণা করতে পারে ছাত্রছাত্রীরা। যেমন,

• ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স বেঙ্গালুরু 

www.iisc.ac.in 

• ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস 

www.nimhans.ac.in 

• জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় 

www.jnu.ac.in 

• দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় 

www.du.ac.in/du 

• বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় 

www.bhu.ac.in

• হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয় 

www.uohyd.ac.in 

যারা স্নাতকোত্তর স্তরে আর্গোনমিক্স নিয়ে স্পেশালাইজেশন করে, তারা পরে আইআইটি গুয়াহাটি, আইআইটি বম্বে-র মতো প্রতিষ্ঠানে ডিজাইন নিয়ে গবেষণা করতে পারে।

 

বিদেশ 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় অনেকেই যায়। এ ছাড়াও জার্মানি, সুইডেন, ফ্রান্স, স্পেন, ইটালি, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, সুইটজারল্যান্ড-এর মতো ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও এখন উচ্চশিক্ষা করতে যাচ্ছে ছেলেমেয়েরা। আমেরিকা বা কানাডায় যেতে জিআরই, টোয়েফ্‌ল পরীক্ষা দিতে হয়। ইউরোপের প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি হওয়া যায় মূলত অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের ভিত্তিতে। তার পর বায়োডেটা দেখে, ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে সুযোগ মেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে। এখানে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই বৃত্তির সুযোগ থাকে। 

বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োটেকনোলজি, নিউরোবায়োলজি, কগনিটিভ বিহেভিয়র, বিহেভিয়ারাল সায়েন্স, স্পোর্টস ফিজিয়োলজি, আর্গোনমিক্স, ওয়াইল্ড লাইফ, ওয়াইল্ড লাইফ ইকোলজি, জেনেটিক্স, ক্যানসার বায়োলজি-র মতো বিভিন্ন বিষয়ে স্পেশালাইজেশন করা যায়। 

অন্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা 

ফিজিয়োলজিতে বি এসসি পড়ার পর কোনও ছাত্র বা ছাত্রী অন্য বিষয় নিয়েও উচ্চশিক্ষা করতে চাইলে মলিকিউলার বায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, জেনেটিক্স, বায়োটেকনোলজি, নিউরোসায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, মেরিন সায়েন্স ইত্যাদি বিষয় পড়তে পারে।