প্রশ্ন: স্নাতক স্তরে বটানি নিয়ে পড়ার ইচ্ছে আছে। কোথায় পড়ায়? দ্বাদশ শ্রেণি স্তরে কত নম্বর লাগে? পাস-এ কী বিষয় নেওয়া উচিত? উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ কোথায় রয়েছে? আর কী ধরনের চাকরি মেলে?  

হৈমন্তী সাধুখাঁ, রানিগঞ্জ

 

রাজ্যের অধিকাংশ কলেজেই বটানি পড়ানো হয়। স্নাতক স্তরে নামী কলেজে ভর্তি হতে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় সাধারণত বায়োলজিতে ৭৫-৮০ শতাংশ নম্বর থাকা দরকার। আর অন্যান্য বিজ্ঞান বিষয়ে অন্তত ৬৫-৭০ শতাংশ নম্বর রাখতে হবে। যদিও এটা পুরোটাই নির্ভর করে সেই বছর উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় কী ধরনের নম্বর উঠছে তার উপ। কিছু কিছু কলেজে ভর্তির জন্য এন্ট্রান্স টেস্ট দিতে হয়। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি হওয়া যায়। তাই পরীক্ষায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে ভাল নম্বর রাখতে পারলে অ্যাডমিশনে সুবিধে হয়।

বটানি অনার্সে পাস সাবজেক্ট হিসেবে জুঅলজি বা হিউম্যান ফিজিয়োলজির সঙ্গে কেমিস্ট্রি নিতে পারো। এমনিতেই বটানিতে কেমিস্ট্রি-বিষয়ক বেশ কিছু জিনিস থাকার জন্য পাসে কেমিস্ট্রি নিলে সুবিধে হয়। তা ছাড়া পরবর্তী কালে উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণাতেও সাহায্য মেলে কেমিস্ট্রি থাকার ফলে।

 

রাজ্যে

স্নাতকোত্তর স্তরে বটানি পড়াশোনার জন্য রাজ্য তথা রাজ্যের বাইরে প্রচুর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। 

• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 

www.caluniv.ac.in 

• বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় 

www.buruniv.ac.in 

• কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় 

www.klyuniv.ac.in

• উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

www.nbu.ac.in 

• বিশ্বভারতী

www.visvabharati.ac.in

• বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়

www.vidyasagar.ac.in/departments/Botany 

ইত্যাদি। 

বেশ কিছু কলেজেও এখন এম এসসি পড়ানো হয়। যেমন, 

• বেথুন কলেজ 

www.bethunecollege.ac.in 

• যোগমায়া দেবী কলেজ

www.jogamayadevicollege.org 

• স্কটিশ চার্চ কলেজ

www.scottishchurch.ac.in

• লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ

www.ladybrabourne.com

• রামকৃষ্ণমিশন বিবেকানন্দ সেন্টিনারি কলেজ

http://rkmvccrahara.org 

• বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ

http://bgc.org.in

• শ্রীরামপুর কলেজ

seramporecollege.org 

• হুগলি মোহসিন কলেজ

www.hooghlymohsincollege.org

• রামানন্দ কলেজ

www.ramanandacollege.org

• মেদিনীপুর কলেজ 

www.midnaporecollege.ac.in

• দার্জিলিং গভর্নমেন্ট কলেজ

http://darjeelinggovernmentcollege.com 

ইত্যাদি। 

 

রাজ্যের বাইরে

আবার যাদের ইচ্ছে রাজ্যের বাইরে পড়তে যাওয়ার, তারা 

• জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় 

www.jnu.ac.in 

• দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় 

www.du.ac.in/du/index.php?page=botany 

• বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় 

www.bhu.ac.in 

• এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় 

http://allduniv.ac.in/department/botany 

• পুণে বিশ্ববিদ্যালয় 

www.unipune.ac.in 

• ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় 

www.osmania.ac.in 

• জামিয়া হামদার্দ বিশ্ববিদ্যালয়

http://jamiahamdard.edu 

• পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়

http://puchd.ac.in ইত্যাদি বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারে। 

 

গবেষণা 

এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য— 

• বোস ইনস্টিটিউট

www.jcbose.ac.in/home 

• ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিকাল বায়োলজি

http://iicb.res.in 

• বটানিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া

http://bsi.gov.in

• সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর জুট অ্যান্ড অ্যালায়েড ফাইবার্স, (CRIJAF) ব্যারাকপুর

http://www.crijaf.org.in 

• ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স বেঙ্গালুরু 

www.iisc.ac.in 

• মুম্বই-এর টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ 

www.tifr.res.in

• ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট দেহরাদূন 

www.fri.res.in ইত্যাদি। 

ট্যাক্সোনমি/ সিস্টেমেটিক্স স্পেশাল পেপার থাকলে বটানিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ায় রিসার্চে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়। যদিও অন্যান্য স্পেশাল পেপার থাকলেও গবেষণার সুযোগ মেলে। বায়োকেমিস্ট্রি বা প্লান্ট প্যাথোলজি স্পেশাল পেপার থাকলে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর)-এ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সায়েন্টিসিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। বটানি নিয়ে পড়ে পরে গেট পরীক্ষা দিয়ে বায়োটেকনোলজি নিয়ে এম টেক পড়া যায় বিভিন্ন আইআইটিতেও। 

এ ছাড়া, কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইনডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর, www.csir.res.in), ডিপার্টমেন্ট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ডিএসটি, www.dst.gov.in), ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজি-র (www.dbtindia.nic.in), মতো বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাতেও গবেষণা এবং চাকরি করা যায়।  

 

রোড ম্যাপ

স্পেশালাইজেশন

এম এসসি পড়ার সময় বিভিন্ন বিষয়ে স্পেশালাইজেশন করা যায়, যা পরবর্তী কালে চাকরির ক্ষেত্রে সহযোগী হয়। যেমন, ট্যাক্সোনমি/ সিস্টেমেটিক বটানি, সাইটোলজি বা সেল বায়োলজি, জেনেটিক্স, টিস্যু কালচার, প্লান্ট ফিজিয়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি, মলিকিউলার বায়োলজি, মাইকোলজি অ্যান্ড প্লান্ট প্যাথোলজি, প্যালিওবটানি, ফাইকোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, ইকলজি, ফার্মাকগনোসি বা মেডিকাল বটানি-র ইত্যাদি। 

 

বিদেশে পড়াশোনা

বটানি নিয়ে এম এসসি করার পর জিআরই দিয়ে অনেকে আমেরিকায় পড়তে যায়। এ ছাড়া, ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইৎজারল্যান্ড, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুরেও এখন হায়ার স্টাডিজ করতে যাচ্ছে এখানকার ছেলেমেয়েরা।  

 

অন্য বিষয়ে

বটানি নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়াশোনার পর কেউ যদি অন্য কোনও বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় তারও সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, মেরিন সায়েন্স, বায়োফিজিক্স অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, মলিকিউলার বায়োলজি, মাইক্রোবায়োলজি-র মতো ইন্টারডিসিপ্লিনারি বিষয় নিয়ে পড়তে পারো।

 

চাকরি

চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়লেও প্রকৃত উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েদের দেশে বা বিদেশে অধ্যাপক অথবা বৈজ্ঞানিক পদে চাকরির অভাব হয় না। অনেকেই গবেষণায় ইচ্ছুক থাকে না। সে ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে ইন্ডিয়ান অ্যা়ডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস, ওয়েস্ট বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস, ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস, এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সার্ভিস-এর মতো বেশ কিছু সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া যায়। সুযোগ রয়েছে স্কুলে শিক্ষকতার। এ ছাড়া, বহু বেসরকারি সংস্থায় চাকরির দরজা তো খোলা থাকছেই। 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটানি বিভাগের প্রধান কৃষ্ণেন্দু আচার্যের মতে, আজকের দিনে বায়োলজির গুরুত্ব অপরিসীম। যে কারণে বিজ্ঞানের নানা বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তৈরি হয়েছে বায়োলজি সংক্রান্ত অনেক আনুষঙ্গিক বিষয়ও। যেমন, বায়োফিজিক্স, বায়োকেমিস্ট্রি, বায়োটেকনোলজি, বায়োস্ট্যাটিসটিক্স ইত্যাদি। তা ছাড়া আমাদের দেশ ভূগোলিক অবস্থানসূত্রে জৈববৈচিত্রের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের কাছে গবেষণার অ়ঢেল সুযোগ থাকেই। এবং এই ধরনের গবেষণা শুধু দেশেরই নয়, দশের উপকারেও লাগতে পারে।