প্রশ্ন: দ্বাদশ শ্রেণির হিউম্যানিটিজ়-এর ছাত্রী। ভবিষ্যতে জিয়োগ্রাফি নিয়ে পড়তে চাই। কোথায় পড়ায়? উচ্চশিক্ষার কী সুযোগ রয়েছে?  

অনুশ্রী ঘোষ, কলকাতা

প্রশ্ন: রাজ্য বা রাজ্যের বাইরে জিয়োগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর পড়ার ভাল বিশ্ববিদ্যালয় কী আছে? আমি বাংলা মাধ্যমে পড়ি। সে ক্ষেত্রে রাজ্যের বাইরে গেলে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে?  

সুদীপ্ত বসু, মেদিনীপুর
 

 

আমাদের এখানে মূলত ফিজ়িকাল এবং হিউম্যান জিয়োগ্রাফি-ই পড়ানো হয়। জিয়োগ্রাফিতে কিন্তু দু’ধরনের ডিগ্রিই পাওয়া যায়— বি এসসি এবং বি এ।   

 

রাজ্যে স্নাতক স্তরে

• আশুতোষ কলেজ 

www.asutoshcollege.in 

• লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ 

www.ladybrabourne.com

• শ্রী শিক্ষায়তন কলেজ

http://shrishikshayatancollege.org

• লোরেটো কলেজ

www.loretocollege.in/loretocollege/index.php 

হেরম্বচন্দ্র কলেজ

www.herambachandracollege.ac.in

• উইমেন’স ক্রিশ্চান কলেজ

http://womenschristiancollege.net

• বিদ্যাসাগর কলেজ 

www.vidyasagarcollege.edu.in 

• বিবেকানন্দ কলেজ ফর উইমেন বড়িশা

www.vivekananda

collegeforwomen.org 

• হলদিয়া গভর্নমেন্ট কলেজ 

www.haldiagovtcollege.org.in

• ভৈরব গাঙ্গুলি কলেজ 

www.bhairabgangulycollege.ac.in 

• মেদিনীপুর কলেজ

www.midnaporecollege.ac.in

• মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ উইমেন্স কলেজ 

www.mucwcburdwan.org

• পাঁশকুড়া বনমালী কলেজ

http://panskurabanamalicollege.org

• চন্দননগর কলেজ 

www.chandernagorecollege.org 

• যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় 

www.jaduniv.edu.in

• বিশ্বভারতী 

www.website.visvabharati.ac.in/VidyaBhavana.html

• আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাস)

www.aliah.ac.in/city-campus-park-circus

 ইত্যাদি।

 

স্নাতকোত্তর স্তরে রাজ্যে

কলকাতা www.caluniv.ac.in, প্রেসিডেন্সি www.presiuniv.ac.in, কল্যাণী www.klyuniv.ac.in, রবীন্দ্রভারতী http://rbu.ac.in, বর্ধমান www.buruniv.ac.in, সিধো-কানহো-বীরসা http://skbu.ac.in, গৌড়বঙ্গ www.ugb.ac.in, উত্তরবঙ্গ www.nbu.ac.in, আলিয়া www.aliah.ac.in/city-campus-park-circus, বিশ্বভারতী, বিদ্যাসাগর www.vidyasagar.ac.in, ডায়মন্ড হারবার উইমেন’স ইউনিভার্সিটি-র মতো রাজ্যের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই জিয়োগ্রাফিতে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়। এ ছাড়া, হাওড়ার বিজয়কৃষ্ণ গার্লস’ কলেজ https://bkgc.in, পাঁশকুড়া বনমালী, হলদিয়া গভর্নমেন্ট, আন্দুলের প্রভু জগদ্বন্ধু কলেজেও এখন স্নাতকোত্তর কোর্স পড়ানো হয়। 

এ ছাড়া, দূরশিক্ষার মাধ্যমে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ও নেতাজি ওপেন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়া যায়। 

 

রাজ্যের বাইরে 

উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়। যেমন, 

• জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়

www.jnu.ac.in 

• দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়

www.du.ac.in 

• বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়

www.bhu.ac.in 

• ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

www.osmania.ac.in

• ম্যাড্রাস বিশ্ববিদ্যালয়

www.unom.ac.in 

• মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়

http://mu.ac.in/portal 

• সাবিত্রীবাই ফুলে পুণে বিশ্ববিদ্যালয়

www.unipune.ac.in

• নর্থ ইস্ট হিল ইউনিভার্সিটি

www.nehu.ac.in

• আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয় 

www.amu.ac.i• ইত্যাদি। 

• ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্সেস

পপুলেশন স্টাডিজ়-এ স্নাতকোত্তর কোর্স ছাড়াও এম ফিল ও পিএইচ ডি করা যায়  

http://iipsindia.org 

• সিইপিটি ইউনিভার্সিটি আমদাবাদ 

আরবান অ্যান্ড রিজিয়োনাল প্ল্যানিং-এ মাস্টার্স পড়তে পারে ছাত্রছাত্রীরা।

http://cept.ac.in 

• টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশাল সায়েন্সেস  

ডেভেলপমেন্ট পলিসি, প্ল্যানিং অ্যান্ড প্র্যাকটিস, ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট-এর মতো বিষয়ে এম এ বা এম এসসি করা যাবে। 

www.tiss.edu

• স্কুল অব প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার

দিল্লি ছাড়াও বিজয়ওয়াড়া এবং ভোপালে এদের ক্যাম্পাস আছে। প্রতিষ্ঠানে মাস্টার অব প্ল্যানিং পড়া যায় এনভায়রনমেন্টাল প্ল্যানিং, রিজিয়োন্যাল প্ল্যানিং বা আর্বান প্ল্যানিং-এ স্পেশালাইজ়েশন সহ। 

http://spa.ac.in

• ন্যাটমো (www.natmo.gov.in), ডিএসটি (www.dst.gov.in), এনআরএসসি (https://nrsc.gov.in) বিভিন্ন ধরনের স্বল্পমেয়াদি কোর্স হয়। এম এ করার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের কোর্স করে রাখলে নিজের বিষয়ের উপরে দক্ষতা যেমন বাড়ে, তেমনই নানা গবেষণাগারের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতেও সুবিধে হয়।

সব আইআইটি-তে ‘হিউম্যানিটিজ় অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস’ বিভাগ রয়েছে। এখানে ইন্টারডিসিপ্লিনারি প্ল্যানিং কোর্সে এম ফিল ও পিএইচ ডি করা যায়। 

তা ছাড়া, জিয়োগ্রাফি-র নতুন দিকগুলির মধ্যে এখন বেশ জনপ্রিয় জিআইএস (জিয়োগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম) অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং, জিয়োইনফরমেটিক্স। দেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে এই সব বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কোর্স পড়ানো হয়। যেমন, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএস-এ এম এসসি ও পিএইচ ডি প়ড়ানো হয়। 

 

স্পেশালাইজ়েশন

মাস্টার্স স্তরে স্পেশালাইজ়েশনের নানান বিষয়। যেমন, পেডোলজি, জিয়োমরফোলজি, ক্লাইমেটোলজি, এনভায়রনমেন্টাল জিয়োগ্রাফি, আরবান অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট জিয়োগ্রাফি, আরবান অ্যান্ড রিজিয়োনাল প্ল্যানিং, কালচারাল জিয়োগ্রাফি, জিয়োগ্রাফি অব ট্যুরিজ়ম ইত্যাদি। 

 

অন্য বিষয়

জিয়োগ্রাফিতে স্নাতক স্তরের পর কেউ যদি অন্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে চায় তা হলে আর্কিয়োলজি, মিউজিয়োলজি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস-এর মতো বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারে। 

 

ফিল্ডওয়ার্ক ছাড়া ভূগোল পড়া অসম্ভব। যদিও থিয়োরিটিক্যাল জিয়োগ্রাফিতে খুব উচ্চতর গবেষণার সময় ফিল্ড ওয়ার্কের দরকার পড়ে না। তবে সে ক্ষেত্রেও কিন্তু আগের স্তরের পড়াশোনায় করে আসা ফিল্ডওয়ার্কের জ্ঞান খুবই কাজে লাগে।  এক জন ভাল ‘জিয়োগ্রাফার’ হতে গেলে কয়েকটা বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরি। যেমন, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, বিভিন্ন জায়গার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বাভাবিক আগ্রহ, ফিল্ডওয়ার্কের জন্য শারীরিক এবং মানসিক শক্তি, ভাল কমিউনিকেশন স্কিল এবং কিছুটা আঁকার হাত। এ ছাড়াও এসপিএসএস-এর মতো কোনও একটা স্ট্যাটিসটিক্যাল সফ্টওয়্যার জানা থাকলে পরে গবেষণা তথা কেরিয়ারে সুবিধে হয়। তা ছাড়া, পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএস শিখে রাখলে আখেরে ছাত্রছাত্রীদের লাভ। কারণ যে স্পেশালাইজ়েশনই করো না কেন, বেশ কিছু বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে রিমোট সেন্সিং/ জিআইএস বা স্ট্যাটিসটিক্যাল সফ্টওয়্যার নিয়ে কাজ করতেই হয়। ফলে কম্পিউটারে সড়গড় হওয়া এবং একই সঙ্গে কোনও স্ট্যাটিসটিক্যাল সফ্টওয়্যারের জ্ঞান রাখলে এই কোর্সে দক্ষতা অর্জনে সুবিধে হবে।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উৎপল রায়ের মতে, অনেক ছেলেমেয়েই বাংলা মিডিয়াম থেকে পড়ে স্নাতক স্তরে জিয়োগ্রাফি পড়তে আসে। প্রথম প্রথম তাদের ইংরেজিতে পড়াশোনায় কিছুটা অসুবিধে হতে পারে। পরে ঠিক মানিয়ে নেয়। যদি কেউ স্নাতক স্তরে বাংলায় পড়াশোনা করে, স্নাতকোত্তর স্তরে সে কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হলেও হতে পারে। কারণ এই স্তরে রাজ্যেই হোক বা বাইরে, সাধারণত ইংরেজি মাধ্যমেই পড়াশোনা করানো হয়। ফলে ইংরেজি না জানলে তার পক্ষে উচ্চ স্তরে পড়াশোনা করাটা বেশ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। এর জন্য তাকে ইংরেজি ভাষায় প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ব্রিটিশ কাউন্সিল বা আরও কিছু জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ইংরেজি কোর্স করানো হয়। সেগুলিতে ভর্তি হয়ে নিজেদের ইংরেজির দক্ষতা বাড়িয়ে নিতে হবে। এই ধরনের কোর্সগুলি পড়াশোনার সঙ্গেই সমান্তরাল ভাবে চালানো যায়।