বিষয় হিসেবে এগ্রিকালচার (কৃষিবিদ্যা) ব্যবহারিক বিজ্ঞান। এখন আমাদের দেশে কৃষিক্ষেত্র আগের তুলনায় অনেক উন্নত। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তাই আজকের দিনে এগ্রিকালচার পড়তে হলে শুধুমাত্র থিয়োরি আর ল্যাবরেটরি প্র্যাকটিক্যালে আটকে থাকলে হবে না। গ্রামে গিয়ে কৃষকের সঙ্গে মাঠভিত্তিক অনুশীলন করলে তবেই বিষয়টা আত্মস্থ করতে পারবে। 

 

স্নাতক স্তরে রাজ্যে 

• উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় 

www.ubkv.ac.in

• বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় 

www.bckv.edu.in

• বিশ্বভারতী 

http://website.visvabharati.ac.in

 

রাজ্যের বাইরে 

প্রতিটি রাজ্যেরই এক বা একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (স্টেট এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি) রয়েছে। সেখানে বা তার অন্তর্গত কলেজে এগ্রিকালচার নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়া যায়। তাদের কয়েকটির নাম এখানে দেওয়া হল। যেমন, 

• অসম এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, জোরহাট 

www.aau.ac.in

• ওড়িশা ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি 

www.ouat.nic.in/collegeofagriculture

• বিহার এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, ভাগলপুর 

www.bausabour.ac.in 

• বিরসা এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, রাঁচি 

www.bauranchi.org

• চন্দ্রশেখর আজাদ ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, কানপুর 

http://csauk.ac.in 

• সর্দার বল্লভভাই পটেল ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার, 

মেরঠ

www.svbpmeerut.ac.in 

• জি বি পন্থ ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি 

www.gbpuat.ac.in

• চৌধুরী চরণ সিংহ হরিয়ানা এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, হিসার

https://eapplicationonline.com/CCSHAUHisar2018/View/Index.aspx 

• ইন্দিরা গাঁধী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রায়পুর 

http://igau.edu.in

• আচার্য এন জি রঙ্গ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি 

www.angrau.ac.in

• তামিলনাড়ু এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি 

www.tnau.ac.in

• পঞ্জাব এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি

www.pau.edu 

• কেরালা এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি 

www.kau.in

• আনন্দ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি 

www.aau.in ইত্যাদি।

এ ছাড়া, বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি (www.bhu.ac.in), রানি লক্ষ্মীবাই সেন্ট্রাল এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি ঝাঁসিতেও www.rlbcau.ac.i• এগ্রিকালচার নিয়ে পড়া যায়।

 

ভর্তি

রাজ্যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিবিদ্যা   এবং উদ্যানবিদ্যায় কোনও ভর্তি পরীক্ষা হয় না। উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বরের ভিত্তিতেই ভর্তি হয়। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানেই অনলাইন কাউন্সেলিং এবং অ্যাডমিশন হয়।  

সব প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস মোটামুটি এক। সেটা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর) নির্ধারিত। 

আর এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভর্তির জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে হয়। তার পর র‌্যাঙ্কিং-এর ভিত্তিতে অ্যাডমিশন হয়।

মোটের উপরে বি এসসি এগ্রিকালচারে ৩৭০, হর্টিকালচারে ৬০ এবং এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ৫০টি আসন রয়েছে আমাদের রাজ্যে।

এগ্রিকালচারে তিনটি প্রধান শাখা রয়েছে। এক, কৃষিবিদ্যা। এর ডিগ্রিটা হল বি এসসি (এগ্রিকালচার) অনার্স। অন্য দু’টি হল— উদ্যানবিদ্যা (বি এসসি (হর্টিকালচার) অনার্স) ও প্রযুক্তিবিদ্যা (বি টেক (এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং)। 

রাজ্যে স্নাতকোত্তর

উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতী  ছাড়াও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (www.caluniv.ac.in/) বিএসসি-র পরে এই বিষয়ে এম এসসি ও পিএইচ ডি করা যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন এগ্রিকালচারাল কেমিস্ট্রি অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স, অ্যাগ্রোনমি, জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং, প্ল্যান্ট ফিজিয়োলজি, হর্টিকালচার, সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা করা যায়। 

এ ছাড়া, বিভিন্ন রাজ্যের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (IARI, www.iari.res.in/) এবং সেন্ট্রাল এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটিগুলিতে (যেমন, সেন্ট্রাল এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, ইম্ফল http://www.cau.ac.in; ডক্টর রাজেন্দ্রপ্রসাদ সেন্ট্রাল এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, www.rpcau.ac.in) উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এই সব জায়গায় ভর্তির জন্যেও আইসিএআর (ICAR) পরিচালিত একটি সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসতে হয়। এবং এই পরীক্ষার মাধ্যমে অন্যান্য রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরাও এখনকার আইসিএআর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলিতে পড়ার সুযোগ পেতে পারে। 

 

স্পেশালাইজেশন

স্নাতকোত্তর স্তরে এগ্রিকালচারে স্পেশালাইজেশন করা যায় এগ্রিকালচারাল কেমিস্ট্রি অ্যান্ড সয়েল সায়েন্স, অ্যাগ্রোনমি, জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং, প্ল্যান্ট ফিজিয়োলজি, হর্টিকালচার, সিড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন, নেমাটোলজি, বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, এগ্রিকালচারাল ইকনমিক্স, প্ল্যান্ট প্যাথোলজি, সয়েল ফিজিক্স, এগ্রিকালচারাল এন্টোমোলজি-র মতো বিভিন্ন বিষয়ে। 

 

গবেষণা

সমস্ত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেন্ট্রাল এগ্রিকালাচারাল ইউনিভার্সিটিতে গবেষণা হয়। এ ছাড়া, আইসিএআর-এর অন্তর্গত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। যেমন,

• ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারাল বায়োটেকনোলজি 

https://iiab.icar.gov.in/?lang=hi

• সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং 

www.ciae.nic.in/Content/index.aspx

• সেন্ট্রাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর ড্রাইল্যান্ড এগ্রিকালচার 

www.crida.in

• ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারাল ইকনমিক্স অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ 

www.ncap.res.in

• সেন্ট্রাল কোস্টাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট 

www.ccari.res.in

• সেন্ট্রাল আইল্যান্ড এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট 

https://ciari.icar.gov.in ইত্যাদি। 

 

কাজের সুযোগ 

এগ্রিকালচার নিয়ে পড়ে হরেক ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ রয়েছে। যেমন, স্নাতকোত্তরের পরে বিভিন্ন সরকারি যেমন (কৃষি উন্নয়ন আধিকারিক) এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কৃষি এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে ফিল্ড অফিসার, রুরাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার এবং এগ্রিকালচার অ্যান্ড প্রোবেশনারি অফিসার হিসেবে কাজ পাওয়া যায়। কাজের সুযোগ রয়েছে বীজ সংস্থায়। এখানে সিড অফিসার ছাড়াও গবেষক হিসেবে কিংবা বিভিন্ন টেকনিক্যাল ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ মেলে। এ ছাড়া অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি, এগ্রিকালচারাল ম্যানেজমেন্ট, পরিষেবা ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে এগ্রিকালচারের ছাত্রছাত্রীদের। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বা সরকারি চাকরি, কলেজে শিক্ষকতারও সুযোগ রয়েছে। আবার, এগ্রিকালচারাল সায়েন্টিস্টস রিক্রুটমেন্ট বোর্ড-এর (এএসআরবি) মাধ্যমে বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংস্থায় কৃষিবিজ্ঞানী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।