প্রশ্ন: দ্বাদশ শ্রেণিতে আমি বিজ্ঞান নিয়ে পড়ছি। কিন্তু আমার কম্বিনেশনে সাইকোলজি নেই। আমি কি ভবিষ্যতে সাইকোলজি নিয়ে পড়তে পারব? আমাদের রাজ্যে কোন কোন কলেজে সাইকোলজি পড়ানো হয়? উচ্চশিক্ষা করার ক্ষেত্রেই বা সুযোগ কেমন? পরে কী ধরনের চাকরি পাওয়া যায়?  

রূপরেখা বসু, কলকাতা
 

 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অনিন্দিতা চৌধুরীর মতে, সায়েন্স, আর্টস-এর ছেলেমেয়েরা অনায়াসেই স্নাতক স্তরে বিষয়টি পড়তে পারে। কমার্স থেকে ছেলেমেয়েরা বিষয়টি পড়তে আসে, কিন্তু সংখ্যায় অনেক কম। 

 

রাজ্যে স্নাতক স্তরে

• বঙ্গবাসী কলেজ 

http://bangabasi.org

• গোখেল মেমোরিয়াল গার্লস কলেজ

www.gokhalecollegekolkata.edu.in

• বেথুন কলেজ 

www.bethuneadmissions.ac.in

• লোরেটো কলেজ

www.loretocollege.in

• সুরেন্দ্রনাথ কলেজ

www.surendranathcollege.org

• আশুতোষ কলেজ 

www.asutoshcollege.in

• যোগমায়া দেবী কলেজ 

www.jogamayadevicollege.org

• মুরলীধর গার্লস কলেজ

www.muralidhargirlscollege.org

• স্কটিশচার্চ কলেজ

www.scottishchurch.ac.in

• বিদ্যাসাগর কলেজ

www.vidyasagarcollege.edu.in

• মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ

www.mkc.ac.in

• সাউথ ক্যালকাটা গার্লস’ কলেজ

https://southcalcuttagirlscollege.com

• ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন (কলেজ)

www.victoriacollege.co.in

• ডক্টর এ পি জে আব্দুল কালাম গভর্নমেন্ট কলেজ (ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি-র অন্তর্গত)

https://ntgc.in/psychology

• ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজ (ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি-র অন্তর্গত)

http://www.brsnc.org ইত্যাদি

• এ ছাড়া বর্ধমান এবং কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বেশ কিছু কলেজে সাইকোলজি পড়ানো হয়।

• বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে অ্যামিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেওটিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও সাইকোলজি কোর্স রয়েছে। 

দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও এখন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে বাধ্যতামূলক ভাবে CBCS বা Choice based credit system চালু হয়ে গিয়েছে।

 

পাস-এ বিষয়

কোর্সটি বি এ বা বি এসসি তা নির্ভর করে পাস-এ আর্টস বা সায়েন্স কী বিষয় নিচ্ছ তার উপর।

স্নাতক স্তরে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সময় সাবসিডিয়ারি বিষয় হিসেবে নেওয়া যায় এডুকেশন, সোশিয়োলজি, ফিজিয়োলজি বা স্ট্যাটিসটিক্স। এগুলির সঙ্গে স্নাতক স্তরের সিলেবাসের কিছু অংশ মিলে যাবে। তবে মনোবিজ্ঞানের পরিসর এতটাই বিশাল যে প্রায় যে কোনও বিষয়ের সঙ্গে তাকে যুক্ত করা যায়।  

 

স্নাতকোত্তর

স্নাতক স্তরের পরে পশ্চিমবঙ্গের ভিতরে বা বাইরে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়া যায়। 

• পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে www.caluniv.ac.in মনোবিজ্ঞান ও ফলিত মনোবিজ্ঞানের দুটি বিভাগ আছে। এ ছাড়া কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কিছু কলেজেও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়েছে। 

এ ছাড়াও,

• ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি 

www.wbsubregistration.org 

• আসানসোলের কাজী নজরুল ইউনিভার্সিটি 

www.knu.ac.in 

ও ইন্দিরা গাঁধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি-তে 

www.ignou.ac.in স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ আছে। 

• এনএসএইচএম-এও (www.nshm.com/course/m-sc-clinical-psychology) এখন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি-তে এম এসসি পড়ানো হয়। 

 

অন্যান্য কোর্স ও ডিগ্রি 

যারা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চায় না, তারা রিহ্যাবিলিটেশন সাইকোলজির স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হতে পারে। রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার http://rehabcouncil.nic.in/ অধীন এই কোর্সে রিহ্যাবিলিটেশন সাইকোলজিস্ট হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত মনোবিজ্ঞান বিভাগে এবং ভারতবর্ষের আরও কিছু প্রতিষ্ঠানে এই ডিপ্লোমা কোর্স চলে। রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে এই বিষয়ে খোঁজ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বিভিন্ন কাউন্সেলিং কোর্সও আছে, যদিও তার সবগুলি সমান নয়। 

মানসিক রোগের চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে মনঃসমীক্ষণ (সাইকোঅ্যানালিসিস) অন্যতম। কলকাতার ভারতীয় মনঃসমীক্ষণ সংস্থার (ইন্ডিয়ান সাইকোঅ্যানালিটিকাল সোসাইটি)  অফিসে মনঃসমীক্ষণ শেখার জন্য যোগাযোগ করা যায়। 

ক্লিনিকাল সাইকোলজিতে এম ফিল করলে রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাওয়া যাবে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কয়েকটি প্রধান কেন্দ্র হল— 

• বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেল্‌থ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস 

NIMHANS, www.nimhans.ac.in 

• রাঁচির সেন্টাল ইনস্টিটিউট অব সাইকায়াট্রি 

http://cipranchi.nic.in ও 

• রাঁচি ইনস্টিটিউট অব নিউরো-সাইকায়াট্রি অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস 

RINPAS, http://rinpas.nic.in 

• দিল্লির ইনস্টিটিউট অব হিউম্যান বিহেভিয়র অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস 

IHBAS, www.delhi.gov.in/wps/wcm/connect/DOIT_IHBAS1/ihbas/home ইত্যাদি। 

এ ছাড়া মণিপাল, গাঁধীনগর, রায়পুর, তেজপুর ইত্যাদি জায়গায় ক্লিনিকাল সাইকোলজিতে এম ফিল করা যায়। 

এম ফিল করা যায়— 

• ফরেনসিক সাইকোলজিতে (যেমন গুজরাত ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি, www.gfsu.edu.in)

• রিহ্যাবিলিটেশন সাইকোলজি (যেমন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর দ্য মেন্টালি হ্যান্ডিক্যাপ্‌ড, হায়দরাবাদ, http://niepid.nic.in) অথবা 

• মনঃসমীক্ষণমূলক সাইকোথেরাপিতে (যেমন দিল্লির অম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়ে)।

যারা শিল্প মনোবিজ্ঞান এবং মানবসম্পদ বিকাশের ক্ষেত্রে আগ্রহী, তাদের উচিত স্নাতকোত্তরে শিল্প মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ে কোনও ম্যানেজমেন্ট ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি করা। শিক্ষা মনোবিজ্ঞানের পরিসরও বাড়ছে, যেহেতু আজকাল অনেক স্কুলেই মনোবিদ নিয়োগ করা হচ্ছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কুল সাইকোলজির স্নাতকোত্তর পরবর্তী ডিপ্লোমা কোর্সও আছে। 

এখন সোশ্যাল সাইকোলজি, কগনিটিভ সাইকোলজি, হেলথ সাইকোলজি, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি মতো ক্ষেত্রে দেশে বিদেশে প্রচুর গবেষণা করা যায়। অনেক আইআইটি-তে সাইকোলজি নিয়ে পিএইচ ডি করা যায়। যে সব আইআইএম-এর ছাত্রছাত্রীরা সাইকোলজিতে পিএইচ ডি করতে যায়, সেখানে তাদের বৃত্তিও দেওয়া হয়। আমাদের কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটে সাইকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউট রয়েছে। 

 

কাজ

কাজের সুযোগ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে, হাসপাতালে, কর্পোরেট সেক্টরে। প্রতিরক্ষা বিভাগ আর কারাগারেও মনোবিদদের প্রয়োজন আছে। এ ছাড়া যথাযথ ট্রেনিং নিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে নিজে প্র্যাকটিস করা যেতে পারে। বিদেশে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ও রোবোটিক্স-এর ক্ষেত্রে মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নেওয়া হয়। ডিফেন্স ইনস্টিটিউট অব সাইকোলজিক্যাল রিসার্চ-এ সাইকোলজি ডিগ্রিধারী ছাত্রছাত্রীদের নিয়োগ করা হয়। ডেটা অ্যানালিসিস এবং মার্কেট রিসার্চ-এ মতো কাজেও যোগ দিতে পারে সাইকোলজির ছেলেমেয়েরা। এ ছাড়া, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছেই।