সময়মতো সব কিছু বলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। ছেলে সুব্রত ঠাকুর বিজেপিতে যোগ দিলে তিনি কী করবেন তা নিয়েও চলছিল জল্পনা। বৃহস্পতিবার বিকেলে সব জল্পনার অবসান ঘটালেন তৃণমূলের এই মন্ত্রী নিজেই। ছেলেক পাশে নিয়ে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে, দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন উদ্বাস্তু উন্নয়ন এবং পুনর্বাসনমন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। একই সঙ্গে দাদা কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের মৃত্যুর সিবিআই তদন্তও দাবি করলেন তিনি।

এ দিন বিজেপির রাজ্য দফতরে বসে শাসক দল তৃণমূলের মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণের মন্তব্য: “বিজেপি ঐতিহ্যবাহী দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন বাজপেয়ী, আডবাণীর মতো মনীষী।”

সারদা কাণ্ডে এমনিতেই জর্জরিত শাসক দল। বেশ কিছু দিন ধরেই দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে দলবদল চলছিল। কিন্তু এই দলবদলে মন্ত্রী পর্যায়ের কোনও বড় মুখ ছিল না। বিজেপির তরফ থেকে দাবি করা হয়, তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক, সাংসদ দলবদলে আগ্রহী। কিন্তু সেই ‘তালিকা’র কেউই এত দিন বিজেপিতে যোগ দেননি। এ দিন কিন্তু সেই মন্ত্রিগোষ্ঠীতেও ভাঙন ধরল। মঞ্জুলকৃষ্ণ ছিলেন রাজ্যের উদ্বাস্তু উন্নয়ন এবং পুনর্বাসনের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। বিজেপিতে যোগে দিয়ে মঞ্জুলকৃষ্ণ দাবি করেছেন, মন্ত্রী হিসাবে কোনও কাজই তাঁকে করতে দেওয়া হচ্ছিল না। তাঁর কথায়, “নীতিবিরুদ্ধ কাজ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলে কোনও ভাল মানুষ থাকতে পারে না। রাস্তা দিয়ে গেলে মানুষ টিটকিরি দেয়।” বিজেপি তাঁকে কাজ করার সুযোগ দেবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।” আর মন্ত্রীর যোগদানের পর বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহের দাবি, রাজ্যের আরও একাধিক প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রী দল বদলে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। তাঁর আরও দাবি, তিন দিনের নোটিসে আরও এক মন্ত্রী যোগ দেবেন বিজেপিতে।

গত অক্টোবরে মৃত্যু হয় বনগাঁর তৃণমূল সাংসদ কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের। ওই মাসেই মতুয়া ও উদ্বাস্তুদের ‘অধিকার রক্ষার স্বার্থে’ রাজনৈতিক-প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব  ছাড়েন প্রয়াত সাংসদ কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের ভাইপো এবং রাজ্যের মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছেলে সুব্রত ঠাকুর। তিনি ছিলেন গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে কপিলকৃষ্ণের সঙ্গে সুব্রতও ছিলেন অন্যতম দাবিদার। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে নেন কপিলকৃষ্ণকেই। এর পর থেকেই মতুয়া পরিবারে ভাঙনের শুরু। বনগাঁ আসনে তৃণমূল কাকে প্রার্থী করে সে দিকেই চেখ ছিল মতুয়া পরিবারের। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও সুব্রতকে প্রার্থী না করে কপিলের স্ত্রী মমতাবালাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। এর পর সুব্রতর বিজেপিতে যোগদান ছিল শুধুই সময়ের অপেক্ষা। তবে সুব্রতর সঙ্গে যে তাঁর বাবা এবং রাজ্যের মন্ত্রীও দলবদল করবেন সেটা বোধহয় কেউই আশা করেননি।

বিজেপিতে যোগ দিয়ে এ দিন তৃণমূল প্রার্থী তথা দাদা কপিলকৃষ্ণের স্ত্রী-কেও আক্রমণ করেছেন মঞ্জুলকৃষ্ণ। তাঁর মতে, “মতুয়ারা কেউ মমতাবালার পাশে নেই। আসন্ন ভোটে জামানত জব্দ হবে তাঁর।” তবে বিজেপি কিন্তু আসন্ন উপনির্বাচনে এখনও সুব্রত ঠাকুরকে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। সপুত্র মন্ত্রীর এই দলবদল আসন্ন উপনির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে সেটাই এখন দেখার।