এমএ পাশ করার পরই প্রমথনাথ বিশীর তত্ত্বাবধানে ‘রেনেসাঁস ও বাঙালি সমাজমন’ বিষয়ে গবেষণা করবেন স্থির করেছিলেন অধ্যাপক অলোক রায়। সেটা অবশ্য এগোয়নি আর। পরে রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্তের পরামর্শে রেনেসাঁসের পটভূমিতে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের কর্মকৃতি নিয়ে গবেষণা করেন। লেখালিখিও চলতে থাকে— বিষয় উনিশ শতক। ১৯৬০-এর যুগ থেকে তা অব্যাহত ছিল প্রায় ছয় দশক— তাঁর সদ্য প্রয়াণের আগে পর্যন্ত। তার মানে অবশ্য এই নয় যে, অলোকবাবু উনিশ শতক ছাড়া অন্য কিছু লেখেননি। বিশ শতক নিয়ে একটি গোটা বই আছে তাঁর। বাংলা গল্প-উপন্যাস-কবিতা নিয়ে তাঁর অজস্র রচনা ও গ্রন্থ রয়েছে। তবে নিঃসন্দেহে উনিশ শতক তাঁর চর্চার প্রধান বিষয় ছিল। 

আলোচ্য বইটিতে পাচ্ছি ষাটটি গুরুত্বময় প্রবন্ধ, ৫৭৬ পৃষ্ঠার আধারে। বিষয় বাংলার রেনেসাঁসের প্রকৃতি থেকে বাঙালির সমাজমন, শাস্ত্রানুশীলন, ভাবনালোক, মানবাধিকার ধারণা ইত্যাদি নানা প্রসঙ্গ। রামমোহন, মৃত্যুঞ্জয়, দ্বারকানাথ, রাসসুন্দরী, ঈশ্বর গুপ্ত, শিবচন্দ্র দেব, ডিরোজিয়ো, কৃষ্ণমোহন, রাজেন্দ্রলাল থেকে শুরু করে বিদ্যাসাগর, মধুসূদন, রঙ্গলাল, বিহারীলাল, বঙ্কিম, হেমচন্দ্র, নবীনচন্দ্র, গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর গদ্যসংগ্রহ পর্যন্ত ছড়ানো তাঁর গবেষণা। ব্রাহ্ম আন্দোলন, ইয়ংবেঙ্গলের আন্দোলন তাঁর বিশ্লেষণে যেমন গুরুত্ব পায়, পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ, ব্রজেন্দ্রনাথ শীল, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বা পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর দৃষ্টির বাইরে থাকেন না।

এই বইয়ে নেই শুধু সরাসরি রবীন্দ্রনাথ। তবে ঘুরেফিরে সব রচনাতেই তিনি আছেন অনিবার্যত। প্রাক্‌-রবীন্দ্র বাংলা কাব্য নিয়ে রয়েছে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা। 

বঙ্গীয় রেনেসাঁস নিয়ে বিতণ্ডার শেষ নেই। যদুনাথ সরকার, রমেশচন্দ্র মজুমদার অসন্দিগ্ধ ভাবে উনিশের জাগরণকে রেনেসাঁস আখ্যা দিয়েছিলেন। একে ইটালির রেনেসাঁসের তুল্য বলেই মনে করেছিলেন তাঁরা। ১৯৪০-এর যুগে মার্ক্সবাদী সুশোভন সরকারও ‘রেনেসাঁস’ শব্দে আপত্তি করেননি, কিন্তু তার অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কথাও বলেছিলেন। ইটালির সঙ্গে তুলনীয় বলেও মনে করেননি। এক সময়ে পাশ্চাত্যের ইতিহাসবিদ বুর্কহার্ট ছিলেন এ দেশের ইতিহাসবিদদেরও একজন মান্য মডেল। পরে অবশ্য তিনিও পরিত্যক্ত। এখন আর কেউ মনে করেন না যে মানবসভ্যতায় মধ্যযুগ নির্নিমেষ অন্ধকারাচ্ছন্ন। অলোক রায় তাঁর গ্রন্থের মুখবন্ধে লিখেছেন, ‘‘ঐতিহাসিকেরা এখন নানা দল-উপদলে বিভক্ত। পূর্বপ্রজন্মের ঐতিহাসিকদের সঙ্গে এই প্রজন্মের ঐতিহাসিকদের মত মেলে না। সুশোভন সরকার ও সুমিত সরকার অথবা নরহরি কবিরাজ ও সুদীপ্ত কবিরাজের নবজাগরণ নিয়ে আলোচনা পাশাপাশি রাখলে পার্থক্য বোঝা যাবে। আবার বিশ শতকের সাতের দশক থেকে ‘মূর্তি ভেঙে ফেল’ আন্দোলনের সঙ্গে চারের দশকের ‘মার্কসবাদী সাহিত্য বিতর্কে’র মিল নেই।’’ এই মন্তব্যের প্রথমাংশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করলেও শেষ বাক্যটি বিষয়ে সংশয় তৈরি হয়। ১৯৪৮-৪৯-এর যুগে ‘মার্কসবাদী সাহিত্য বিতর্কে’ অতি-বামপন্থীদের যে উনিশ শতকের বিশ্লেষণ, তার সঙ্গে সত্তর দশকের নকশাল আন্দোলনে ব্যবহৃত ভাষাভঙ্গির তো যারপরনাই সাদৃশ্য! রেনেসাঁস এক অতিকথা— এ বিষয়ে সে আমলের ভবানী সেনের সঙ্গে সত্তরের সরোজ দত্ত বা বিনয় ঘোষের তো কোনওই পার্থক্য নেই। সত্তরের আন্দোলনে মূর্তি ভাঙার রাজনীতি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কিন্তু উত্তাল সত্তর গবেষক মহলে এক প্রবল অভিঘাত তৈরি করেছিল। এই সত্তরের দশকেই প্রকাশিত হল ইটালির চিন্তানায়ক গ্রামশির ভাবনা-বৃত্ত অনুসরণ করে অশোক সেনের বিদ্যাসাগর চর্চা। অলোক রায় সম্পাদিত ‘নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি স্টাডিজ়’ পত্রিকায় সুমিত সরকারের ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে ভিন্ন স্বাদের চর্চা। পাশাপাশি বরুণ দে, প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্য, বিনয়ভূষণ চৌধুরী, কল্যাণকুমার সেনগুপ্ত বা সৌরীন ভট্টাচার্যদের মতো মার্ক্সবাদী গবেষকের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। আর রণজিৎ গুহের নেতৃত্বে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, গৌতম ভদ্র, শাহিদ আমিন, জ্ঞানেন্দ্র পাণ্ডে, দীপেশ চক্রবর্তীরা শুরু করেছিলেন সাবঅল্টার্ন ইতিহাস চর্চা। মার্ক্সবাদীদের উনিশ শতক চর্চা বিচিত্র ধারায় বিন্যস্ত হয়েছিল। 

অলোক রায়ের উনিশ শতক চর্চা এই আন্দোলনবৃত্তের বাইরে নয়। তবে তিনি উপরিউক্ত কোনও একটি বিশেষ ছক অনুসরণ করেননি। মার্ক্সবাদী বিভিন্ন ধারা তাঁর চিন্তাসূত্র জোগান দিয়েছে। বিশ শতকের জাতীয়তাবাদী ইতিহাসকারদের অনুকরণে তিনি রেনেসাঁস মডেল যেমন গ্রহণ করেননি, আবার বিনয় ঘোষদের ভঙ্গিতে রেনেসাঁস এক অতিকথা— এমন কথা বলে সে-যুগের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার কথাও ভাবেননি। বরং অলোক রায় তাঁর উনিশ শতক চর্চায় সুশোভন সরকারকে মান্যতা দিয়েছেন সর্বাপেক্ষা বেশি। যে-কথাটি বোঝা যায় তাঁর ‘বাংলার নবজাগরণ ও সুশোভন সরকার’ প্রবন্ধটি পড়লে। এখানে তিনি সুশোভন সরকারের রেনেসাঁস-ভাবনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেছেন। এক, পনেরো-ষোলো শতকের ইউরোপীয় রেনেসাঁসের সঙ্গে তুলনীয় নয় বাংলার নবজাগরণ। দুই, ইউরোপ ও বাংলার রাষ্ট্রিক পরিবেষ্টন স্বতন্ত্র। বাংলার জাগরণ ‘বিদেশির পদাশ্রয়ে, অর্ধকলোনিত্বের পত্রপুটে’। তিন, বাংলার রেনেসাঁসের প্রেরণা প্রাচীন ভারত নয়, নবজাগ্রত পশ্চিম। চার, বাংলার রেনেসাঁস খণ্ডিত, আড়ষ্ট, কিন্তু তার মানে এই নয় যে এর মূল্য যৎসামান্য। পাঁচ, আমাদের নবজাগরণের অন্তর্বিরোধ বিশ্লেষণ করতে গেলে দু’টি প্রধান ধারা চোখে পড়ে— পশ্চিমি দৃষ্টি ও প্রাচ্যাভিমান। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন রামমোহন, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ-সহ আরও অনেকে। কিন্তু এই সমন্বয়ে তৃতীয়ের উত্তরণ কোথায়? সেখানে রয়েছে এক বড় অসাফল্য। কেবল সমন্বয়ের ব্যর্থতা নয়, উনিশ শতকের শেষ প্রান্তে এসেছিল সংস্কারগ্রস্ত হিন্দুত্বের পুনরাবর্তনের এক প্রবল ধাক্কাও। অলোক রায় ‘উনিশ শতকের নবজাগরণ: স্বরূপ সন্ধান’ নিবন্ধে লিখেছেন, ‘‘কিন্তু উনিশ শতকে নবজাগরণের সেই প্রথম সূর্যোদয়ে যে-মানবতাবাদ যুক্তিবিচার সমাজচেতনা বিশ্ববোধ বাঙালির চিত্তক্ষেত্রে আশার আলো দেখিয়েছিল, শতকের শেষভাগে বুঝি তার অবলোপ ঘটল—’’। 

কিন্তু অলোক রায় প্রচলিত বিশ্বাসে বঙ্কিমচন্দ্রকে পুনরুত্থানবাদীদের সঙ্গে একাসনে বসাননি। ‘প্রচার’ ও ‘নবজীবন’-এর বঙ্কিমকে বহু গবেষকই ‘রিভাইভালিস্ট’ বলে শনাক্ত করেছেন, অলোক রায় তাঁদের সঙ্গে একমত নন। ‘বঙ্কিম-মনীষা’ রচনায় তিনি স্পষ্টত জানিয়েছেন: ‘‘উনিশ শতকের শেষ পাদে বাঙালির মধ্যে পিছুটান এক ধরনের সঙ্কীর্ণ জাতীয়তাবোধের জন্ম দেয়। বঙ্কিমচন্দ্রের পক্ষে শশধর-কৃষ্ণপ্রসন্ন, এমনকি শ্রীরামকৃষ্ণের অনুগামী হওয়া সম্ভব ছিল না।’’ অলোক রায়ের মতে, বঙ্কিম কৃষ্ণের ঈশ্বরত্বে বিশ্বাস করতেন, কিন্তু ‘কৃষ্ণচরিত্র’-এ তাঁর মানবচরিত্র প্রতিষ্ঠা করাই ছিল প্রধান উদ্দেশ্য। 

আলোচ্য গ্রন্থে একটি বিশিষ্ট নিবন্ধ ‘উনিশ শতকে বাঙালির শাস্ত্রানুশীলন’। রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্রের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে অলোক রায়ের এই বিশ্লেষণ। অক্ষয়কুমার দত্ত, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্যের শাস্ত্রপাঠ ও ব্যাখ্যা নিয়ে অন্যান্য প্রবন্ধে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত মন্তব্যও আমরা এ গ্রন্থে পাই। মূল কথাটা হল, উনিশ শতকের আলোকপ্রাপ্ত (পাশ্চাত্যের আলোকে প্রদীপ্ত) মনীষীরা দেশীয় শাস্ত্রকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। প্রখর বাস্তবকে মেনে নিয়ে তাঁরা তাঁদের চিন্তা ও আন্দোলনে শাস্ত্রের যুক্তিবাদী ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করেছেন, আন্দোলনের আয়ুধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। শাস্ত্রকে প্রগতির কাজে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু প্রসঙ্গত অলোক রায়ের দু’একটি মন্তব্য মনে খটকাও তৈরি করে। যেমন বিদ্যাসাগর ও সহবাস বিল বিষয়ে তিনি লিখেছেন: ‘‘জীবনসায়াহ্নে সহবাস সম্মতি বিল সম্বন্ধে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের মন্তব্যের মধ্যে অনেকে সমাজসংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর পশ্চাদপসরণ লক্ষ্য করেছেন। এখানে যেন তিনি শাস্ত্রসম্মত ধর্মাচারের উপর বেশি জোর দিয়েছেন।... আসলে উনিশ শতকে শাস্ত্র এবং দেশাচারের দ্বন্দ্ব মনে হয় অনতিক্রম্য। ‘হিন্দুবিবাহের সংস্কার একটি সুপ্রাচীন সংস্কার’— এই বিশ্বাস থেকে বিদ্যাসাগর মহাশয় অনেক সময়ে শাস্ত্রকে মেনেছেন, এমনকি শাস্ত্রসম্মত ধর্মাচারকেও মেনেছেন।’’

এই প্রসঙ্গটি বহু আলোচিত। তা হলেও দু’একটি কথা জানানো প্রাসঙ্গিক হবে। যে-চিঠির উপর ভিত্তি করে সহবাস-সম্মতি আইন ও বিদ্যাসাগর বিষয়ে গবেষকরা আলোচনা করেন, তার পূর্ণাঙ্গ বয়ান পাওয়া যায়নি। তবে যেটুকু পাওয়া গিয়েছে তা থেকে বিদ্যাসাগরের বাস্তববোধের তীক্ষ্ণতাই প্রমাণিত হয়, প্রতিক্রিয়ার কথা ওঠে না। বিদ্যাসাগর সংশোধনী আইনটির বিরুদ্ধতা করেননি, আইনের বয়ানে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সরকারি আইনে মেয়েদের বিবাহের বয়েস নির্ধারণ করা হয়েছিল বারো বছর। শাস্ত্রে গর্ভাধান অনুষ্ঠানের বিধানে স্ত্রীর প্রথম ঋতুদর্শনের কথা বলা আছে। বিদ্যাসাগর চিঠিতে জানিয়েছিলেন, সহবাস-সম্মতির বয়েস বারোয় বেঁধে দিলে স্ত্রীর বয়েস বারো হলেই, সে রজস্বলা না হলেও, তার উপর অত্যাচার করার বৈধ অনুজ্ঞা দেওয়া হবে। 

অলোক রায় তাঁর এই গ্রন্থে তিনটি গুরুত্বময় নিবন্ধ লিখেছেন বিবেকানন্দের ধর্মবোধ, স্বদেশচিন্তা এবং তাঁর ভাষারীতি বিষয়ে। প্রথম জীবনে তাঁর ব্রাহ্মধর্মপ্রীতি, পরে শিক্ষক হেস্টি-র ‘সমাধি’ বিষয়ক বক্তব্য শুনে রামকৃষ্ণের কাছে যাওয়া ও তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ— ধাপে ধাপে চিন্তা ও দর্শনের পরিবর্তন বিষয়ে অলোক রায়ের অল্প কথায় নিপুণ বিশ্লেষণ প্রণিধানযোগ্য। বিশেষত হিন্দু পুনরুত্থানবাদী আন্দোলনে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের ভূমিকা থাকলেও শশধর তর্কচূড়ামণির ঘরানায় যে তা পড়ে না, বঙ্কিমচন্দ্রের মতো বিবেকানন্দের ধর্মচিন্তাতে যে যুক্তির স্থান ছিল— এই বিষয়টি অলোক রায় চমৎকার অনুধাবন করেছেন। আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি, ‘‘... স্বামী বিবেকানন্দের ‘পরিব্রাজক’ ও ‘বর্তমান ভারত’ পড়লে বোঝা যায় (তাঁর চিঠিপত্রে আরও বেশি) তাঁর মধ্যে ইতিহাসবোধ ও সমাজবোধ প্রবল। তিনি একই সঙ্গে স্বপ্নদ্রষ্টা ভাবুক ও বাস্তবদৃষ্টিসম্পন্ন কর্মী। শ্রীরামকৃষ্ণের বাণীপ্রচার তাঁর জীবনের লক্ষ্য হলেও কখনও তিনি প্রভু ও গুরুকে দেবতা বানাতে চাননি।’’ তিনি সঙ্গত কারণেই সিদ্ধান্ত করেছেন: ‘‘তবে স্বামী বিবেকানন্দের ‘স্বদেশ মন্ত্রে’র মধ্যে শূদ্রজাগরণের কথা যেমন আছে, তেমনি আছে সীতা সাবিত্রী দময়ন্তী, সর্বত্যাগী শঙ্করের আদর্শ অনুসরণের কথা। এই দ্বৈধতা উনিশ শতকের বঙ্গীয় নবজাগরণের মধ্যে যেমন দেখা গেছে, স্বামী বিবেকানন্দের মধ্যেও তা দুর্নিরীক্ষ নয়।’’

যুক্তি ও অযুক্তির এই দ্বন্দ্ব, বাস্তব ও পরাবাস্তবের বৈপরীত্য, বিজ্ঞানবোধ ও কুসংস্কারগ্রস্ত বিশ্বাসের মধ্যে বিবাদ-বিতর্ক কী ভাবে বাংলার উনিশ শতককে চালিত করেছে— তার এক অসামান্য দলিল হয়ে থাকল এই মহার্ঘ গ্রন্থ। এর রচনাগুলি তো দীর্ঘ সময় ধরে লেখা হয়েছে, ভাল হত কবে কোন লেখা তার তারিখ থাকলে। সে ক্ষেত্রে অধ্যাপক অলোক রায়ের দীর্ঘ এই চর্চার বিবর্তনের ইতিহাসটি বোঝা যেত। 

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।

উনিশ শতকে নবজাগরণ/ স্বরূপ সন্ধান
অলোক রায়
৭০০.০০ 
অক্ষর প্রকাশনী

ছবি: সোমনাথ ঘোষ